📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইচ্ছাকৃত জখমের কিসাস

📄 ইচ্ছাকৃত জখমের কিসাস


ইচ্ছাকৃত জখমে কোনো কিসাস ওয়াজিব হয়না। তবে যথার্থ সমানুপাতির কিসাস যদি সম্ভব হয়, তাহলে ওয়াজিব হবে। আক্রমণকারীর দেহে আক্রান্তের জখমের সমান জখম করেই কিসাস আদায় করতে হবে, কমও করা যাবেনা, বেশিও নয়। নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কিছু বেশি করা, অথবা বেশি করার ঝুঁকি নেয়া অথবা প্রতিপক্ষের কোনো ক্ষতিসাধন করা ছাড়া সম্পূর্ণ সমান কিসাস কার্যকর করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কিসাস ওয়াজিব হবেনা, বরং দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. মাথার হাড়ের মধ্য ভাগের ও পেটের জখমে কিসাস রহিত করেছেন। যে সকল জখমের প্রাণঘাতি হওয়ার আশংকা প্রবল, যেমন ঘাড়ের হাড় ভাঙ্গা, পিঠের হাড় ভাঙ্গা, উরুর হাড় ভাঙ্গা বা অনুরূপ জখমসমূহও মাথার হাড় ও পেটের জখমের বিধিভুক্ত। মাথার হাড় বের হয়ে যায় এমন ইচ্ছাকৃত জখম ব্যতীত মাথা ও মুখমণ্ডলের কোনো জখমেই কিসাস নেই। মাথা ও মুখমণ্ডলের অন্যান্য জখমের বিধান দিয়াত সংক্রান্ত আলোচনায় আসবে।
জিহ্বার জখমে এবং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গায় কিসাস ওয়াজিব হবেনা। কেননা যুলুম ব্যতীত কিসাস আদায় করা এসব ক্ষেত্রে অসম্ভব।
যদি কেউ কারো পেটে জখম করে, অতপর আক্রান্ত ব্যক্তি তা থেকে নিরাময় লাভ করে। অথবা হাতের বাহুর মাঝখান থেকে কেটে ফেলে, তবে তাকে কিসাস দিতে হবেনা। আক্রান্তের জন্য আক্রমণকারীর হাতের সেই স্থান থেকে কেটে দেয়া বৈধ হবেনা। তবে সে কব্জি থেকে কেটে দিতে পারে। আর অর্ধেক বাহু কাটার বিচার শালিশির মাধ্যমে আদায় করতে পারে। দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গলে, অবশ হাত কেটে দিলে, আংগুলবিহীন পা কেটে দিলে, বোবার জিভ কেটে দিলে, চোখ উপড়ে দিলে অথবা হাতের অতিরিক্ত আংগুল কেটে দিলে একজন সৎ ব্যক্তির শালিশীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।

ইচ্ছাকৃত জখমে কোনো কিসাস ওয়াজিব হয়না। তবে যথার্থ সমানুপাতির কিসাস যদি সম্ভব হয়, তাহলে ওয়াজিব হবে। আক্রমণকারীর দেহে আক্রান্তের জখমের সমান জখম করেই কিসাস আদায় করতে হবে, কমও করা যাবেনা, বেশিও নয়। নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কিছু বেশি করা, অথবা বেশি করার ঝুঁকি নেয়া অথবা প্রতিপক্ষের কোনো ক্ষতিসাধন করা ছাড়া সম্পূর্ণ সমান কিসাস কার্যকর করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কিসাস ওয়াজিব হবেনা, বরং দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. মাথার হাড়ের মধ্য ভাগের ও পেটের জখমে কিসাস রহিত করেছেন। যে সকল জখমের প্রাণঘাতি হওয়ার আশংকা প্রবল, যেমন ঘাড়ের হাড় ভাঙ্গা, পিঠের হাড় ভাঙ্গা, উরুর হাড় ভাঙ্গা বা অনুরূপ জখমসমূহও মাথার হাড় ও পেটের জখমের বিধিভুক্ত। মাথার হাড় বের হয়ে যায় এমন ইচ্ছাকৃত জখম ব্যতীত মাথা ও মুখমণ্ডলের কোনো জখমেই কিসাস নেই। মাথা ও মুখমণ্ডলের অন্যান্য জখমের বিধান দিয়াত সংক্রান্ত আলোচনায় আসবে।
জিহ্বার জখমে এবং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গায় কিসাস ওয়াজিব হবেনা। কেননা যুলুম ব্যতীত কিসাস আদায় করা এসব ক্ষেত্রে অসম্ভব।
যদি কেউ কারো পেটে জখম করে, অতপর আক্রান্ত ব্যক্তি তা থেকে নিরাময় লাভ করে। অথবা হাতের বাহুর মাঝখান থেকে কেটে ফেলে, তবে তাকে কিসাস দিতে হবেনা। আক্রান্তের জন্য আক্রমণকারীর হাতের সেই স্থান থেকে কেটে দেয়া বৈধ হবেনা। তবে সে কব্জি থেকে কেটে দিতে পারে। আর অর্ধেক বাহু কাটার বিচার শালিশির মাধ্যমে আদায় করতে পারে। দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গলে, অবশ হাত কেটে দিলে, আংগুলবিহীন পা কেটে দিলে, বোবার জিভ কেটে দিলে, চোখ উপড়ে দিলে অথবা হাতের অতিরিক্ত আংগুল কেটে দিলে একজন সৎ ব্যক্তির শালিশীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কল্পনে বা জখমে দলগতভাবে অংশগ্রহণ করলে

📄 কল্পনে বা জখমে দলগতভাবে অংশগ্রহণ করলে


এক দল লোক যদি কারো এমন কোনো অঙ্গ কর্তনে বা এমন কোনো জখম করায় অংশ নেয়, যা কিসাসযোগ্য, তাহলে হাম্বলিদের মতে, কে কতটুকু জখম বা কর্তন করলো তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলে তাদের সকলের উপর কিসাস ওয়াজিব হবে। কেননা আলী রা. এর নিকট দু'জন সাক্ষী এক ব্যক্তি চুরি করেছে বলে সাক্ষ্য দিলো। অমনি তার হাত কেটে দেয়া হলো। এরপর অপর এক ব্যক্তি এলো। তাকে দেখে সাক্ষীদ্বয় বললো, এই লোকই চোর। ইতিপূর্বে আমরা যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছি, তার ব্যাপারে আমরা ভুল করেছি। আলী রা. দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করলেন এবং প্রথম জনের হাত কাটার জন্য তাদের উভয়ের উপর দিয়াত ধার্য করলেন। আলী রা. আরো বললেন, আমি যদি জানতাম যে তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ রকম সাক্ষ্য দিয়েছ, তাহলে তোমাদের উভয়ের হাত কেটে দিতাম। আর যদি দলের প্রত্যেকের আঘাত ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়, অথবা তাদের প্রত্যেকে পৃথক পৃথক অঙ্গ কাটে, তাহলে তাদের উপর কোনো কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। তবে ইমাম মালেক ও শাফেয়ি বলেন, যখন সম্ভব হবে তাদের কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। তাদের অঙ্গগুলো কাটা হবে এবং প্রত্যেক জখমের কিসাস তাদের কাছ থেকে নেয়া হবে, যেমন একটি দল যখন কারো হত্যায় দলগতভাবে অংশ নেবে, তখন তার বদলে তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে। হানাফি ও যাহেরি মযহাব

এক দল লোক যদি কারো এমন কোনো অঙ্গ কর্তনে বা এমন কোনো জখম করায় অংশ নেয়, যা কিসাসযোগ্য, তাহলে হাম্বলিদের মতে, কে কতটুকু জখম বা কর্তন করলো তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলে তাদের সকলের উপর কিসাস ওয়াজিব হবে। কেননা আলী রা. এর নিকট দু'জন সাক্ষী এক ব্যক্তি চুরি করেছে বলে সাক্ষ্য দিলো। অমনি তার হাত কেটে দেয়া হলো। এরপর অপর এক ব্যক্তি এলো। তাকে দেখে সাক্ষীদ্বয় বললো, এই লোকই চোর। ইতিপূর্বে আমরা যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছি, তার ব্যাপারে আমরা ভুল করেছি। আলী রা. দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করলেন এবং প্রথম জনের হাত কাটার জন্য তাদের উভয়ের উপর দিয়াত ধার্য করলেন। আলী রা. আরো বললেন, আমি যদি জানতাম যে তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ রকম সাক্ষ্য দিয়েছ, তাহলে তোমাদের উভয়ের হাত কেটে দিতাম। আর যদি দলের প্রত্যেকের আঘাত ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়, অথবা তাদের প্রত্যেকে পৃথক পৃথক অঙ্গ কাটে, তাহলে তাদের উপর কোনো কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। তবে ইমাম মালেক ও শাফেয়ি বলেন, যখন সম্ভব হবে তাদের কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। তাদের অঙ্গগুলো কাটা হবে এবং প্রত্যেক জখমের কিসাস তাদের কাছ থেকে নেয়া হবে, যেমন একটি দল যখন কারো হত্যায় দলগতভাবে অংশ নেবে, তখন তার বদলে তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে। হানাফি ও যাহেরি মযহাব

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রহার, থাপ্পড়, লাথি ও গালির কিসাস

📄 প্রহার, থাপ্পড়, লাথি ও গালির কিসাস


অনুসারে এক হাতের বদলে দু'হাত কাটা হবেনা। সুতরাং দুই ব্যক্তি যখন একজনের হাত কেটে দিবে, তখন তাদের কারো উপর কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। বরং উভয়ের উপর অর্ধেক অর্ধেক দিয়াত প্রযোজ্য হবে।
প্রহার, থাপ্পড়, লাথি ও গালির কিসাস
কেউ যদি অপর কাউকে থাপ্পড়, লাথি বা ঘুষি মারে, অথবা প্রহার করে বা গালি দেয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আক্রমণকারীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া বৈধ হবে।:
فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ مِ وَاتَّقُوا اللَّهَ .
"যে ব্যক্তি তোমাদের উপর আক্রমণ চালায়, তার উপর ঠিক অনুরূপ আক্রমণ চালাও, যে রূপ সে আক্রমণ চালিয়েছে এবং আল্লাহকে ভয় করো” (সূরা বাকারা: ১৯৪) এবং "মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ।" (সূরা শূরা: ৪০) এভাবেই কিসাসের বিধান চালু রয়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি কিসাসস্বরূপ যে থাপ্পড়, ঘুষি, প্রহার বা গালি দেবে, তা আক্রমণকারীর দেয়া থাপ্পড়, ঘুষি, প্রহার বা গালির সমান হওয়া শর্ত। কেননা এটাই ন্যায়বিচারের দাবি, যা কায়েম করার জন্য কিসাস প্রবর্তিত হয়েছে। অনুরূপ এটাও শর্ত যে থাপ্পড় যেন চোখে বা এমন কোনো স্থানে না পড়ে, যার কারণে অঙ্গহানির আশংকা থাকে।
গালির কিসাসে বিশেষভাবে এ শর্ত আরোপিত যে, তা যেন নিষিদ্ধ ধরনের গালি না হয়। উদাহরণস্বরূপ, গালিদাতা যদি তাকে কাফের বলে গালি দিয়ে থাকে, তবে তার বদলে কাফের বলে গালি দেয়া যাবেনা। যে মিথ্যাবাদী বলে গালি দেয় তাকে মিথ্যাবাদী বলে গালি দেয়া যাবেনা। যে তার পিতাকে বা মাতাকে অভিশাপ দেয়, তার পিতা বা মাতাকে অভিশাপ দেয়া যাবেনা। কেননা কোনো মুসলমানকে কাফের বা মিথ্যাবাদী বলা ইসলামে প্রথম থেকেই নিষিদ্ধ। তাছাড়া যেহেতু গালিদাতার মা ও বাবা তাকে অভিশাপ দেয়নি বা তিরস্কার করেনি, যার বদলে তার মা ও বাবাকে সে অভিশাপ দেবে বা গালি দেবে। অভিশাপকারীকে কিসাসস্বরূপ অভিশাপ দেয়া যাবে ভর্ৎসনা করা যাবে এবং রূঢ় ভাষা ব্যবহারকারীকে অনুরূপ রূঢ় ভাষায় জবাব দেয়া যাবে।
কুরতুবি বলেছেন: "যে বক্তি তোমার উপর যুলুম করেছে, তাকে তোমার উপর কৃত যুলুমের সমান ফেরতে দেয়ার অধিকার তুমি গ্রহণ করো। যে ব্যক্তি তোমাকে তিরস্কার করে, তাকে তার বলা কথার সমান তিরস্কার করো। যে তোমাকে অপমান করে, তুমিও তাকে অপমান করো। গালি দিতে গিয়ে সীমা লঙ্ঘন করে তার পিতামাতা, ছেলে বা আত্মীয়-স্বজনকেও জড়িত করোনা। তবে সে যদি তোমার বিরুদ্ধে মিথ্য অপবাদ আরোপ করে, তাহলে তার উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করোনা। কেননা একটা গুনাহের বিনিময়ে গুনাহ করা যায়না। উদাহরণস্বরূপ, সে যদি তোমাকে বলে: হে কাফের, তাহলে তাকে তুমি "তুমি কাফের" বলতে পারো। আর যদি সে তোমাকে বলে, "হে ব্যভিচারী”, তাহলে তুমি তাকে "হে মিথ্যাবাদী” “হে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা" বলে কিসাস বা প্রতিশোধ নিতে পারো। তুমি যদি তাকে বলো, "হে ব্যভিচারী, তাহলে তুমি মিথ্যাবাদী হয়ে যাবে এবং বলার জন্য গুনাহগার হবে। আর ধনী হয়েও সে যদি বিনা ওযরে তোমার ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করে, তাহলে তাকে বলতে পারো হে যুলুমকারী, হে জনগণের

অনুসারে এক হাতের বদলে দু'হাত কাটা হবেনা। সুতরাং দুই ব্যক্তি যখন একজনের হাত কেটে দিবে, তখন তাদের কারো উপর কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। বরং উভয়ের উপর অর্ধেক অর্ধেক দিয়াত প্রযোজ্য হবে।
প্রহার, থাপ্পড়, লাথি ও গালির কিসাস
কেউ যদি অপর কাউকে থাপ্পড়, লাথি বা ঘুষি মারে, অথবা প্রহার করে বা গালি দেয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আক্রমণকারীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া বৈধ হবে।:
ফَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ مِ وَاتَّقُوا اللَّهَ .
"যে ব্যক্তি তোমাদের উপর আক্রমণ চালায়, তার উপর ঠিক অনুরূপ আক্রমণ চালাও, যে রূপ সে আক্রমণ চালিয়েছে এবং আল্লাহকে ভয় করো” (সূরা বাকারা: ১৯৪) এবং "মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ।" (সূরা শূরা: ৪০) এভাবেই কিসাসের বিধান চালু রয়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি কিসাসস্বরূপ যে থাপ্পড়, ঘুষি, প্রহার বা গালি দেবে, তা আক্রমণকারীর দেয়া থাপ্পড়, ঘুষি, প্রহার বা গালির সমান হওয়া শর্ত। কেননা এটাই ন্যায়বিচারের দাবি, যা কায়েম করার জন্য কিসাস প্রবর্তিত হয়েছে। অনুরূপ এটাও শর্ত যে থাপ্পড় যেন চোখে বা এমন কোনো স্থানে না পড়ে, যার কারণে অঙ্গহানির আশংকা থাকে।
গালির কিসাসে বিশেষভাবে এ শর্ত আরোপিত যে, তা যেন নিষিদ্ধ ধরনের গালি না হয়। উদাহরণস্বরূপ, গালিদাতা যদি তাকে কাফের বলে গালি দিয়ে থাকে, তবে তার বদলে কাফের বলে গালি দেয়া যাবেনা। যে মিথ্যাবাদী বলে গালি দেয় তাকে মিথ্যাবাদী বলে গালি দেয়া যাবেনা। যে তার পিতাকে বা মাতাকে অভিশাপ দেয়, তার পিতা বা মাতাকে অভিশাপ দেয়া যাবেনা। কেননা কোনো মুসলমানকে কাফের বা মিথ্যাবাদী বলা ইসলামে প্রথম থেকেই নিষিদ্ধ। তাছাড়া যেহেতু গালিদাতার মা ও বাবা তাকে অভিশাপ দেয়নি বা তিরস্কার করেনি, যার বদলে তার মা ও বাবাকে সে অভিশাপ দেবে বা গালি দেবে। অভিশাপকারীকে কিসাসস্বরূপ অভিশাপ দেয়া যাবে ভর্ৎসনা করা যাবে এবং রূঢ় ভাষা ব্যবহারকারীকে অনুরূপ রূঢ় ভাষায় জবাব দেয়া যাবে।
কুরতুবি বলেছেন: "যে বক্তি তোমার উপর যুলুম করেছে, তাকে তোমার উপর কৃত যুলুমের সমান ফেরতে দেয়ার অধিকার তুমি গ্রহণ করো। যে ব্যক্তি তোমাকে তিরস্কার করে, তাকে তার বলা কথার সমান তিরস্কার করো। যে তোমাকে অপমান করে, তুমিও তাকে অপমান করো। গালি দিতে গিয়ে সীমা লঙ্ঘন করে তার পিতামাতা, ছেলে বা আত্মীয়-স্বজনকেও জড়িত করোনা। তবে সে যদি তোমার বিরুদ্ধে মিথ্য অপবাদ আরোপ করে, তাহলে তার উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করোনা। কেননা একটা গুনাহের বিনিময়ে গুনাহ করা যায়না। উদাহরণস্বরূপ, সে যদি তোমাকে বলে: হে কাফের, তাহলে তাকে তুমি "তুমি কাফের" বলতে পারো। আর যদি সে তোমাকে বলে, "হে ব্যভিচারী”, তাহলে তুমি তাকে "হে মিথ্যাবাদী” “হে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা" বলে কিসাস বা প্রতিশোধ নিতে পারো। তুমি যদি তাকে বলো, "হে ব্যভিচারী, তাহলে তুমি মিথ্যাবাদী হয়ে যাবে এবং বলার জন্য গুনাহগার হবে। আর ধনী হয়েও সে যদি বিনা ওযরে তোমার ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করে, তাহলে তাকে বলতে পারো হে যুলুমকারী, হে জনগণের

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সম্পদ বিনাশে কিসাস

📄 সম্পদ বিনাশে কিসাস


সম্পদ গ্রাসকারী।" রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: ধনীর গড়িমসি তাকে অপমান করা ও শাস্তি দেয়াকে বৈধ করে দেয়। তার অপমানের ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে দিয়েছি। আর তার শাস্তি হলো, কারাগারে বন্দী হওয়া। (কুরতুবি, ২য় খণ্ড, পৃ: ৩৬০)
কিল, ঘুষি, থাপ্পড়, প্রহার ও গালিতে কিসাস খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের আমলে চালু ছিলো। বুখারি আবু বকর রা, আলী রা, ইবনুয যুবাইর ও সুয়াইয়দ বিন মুকররন থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তারা বড় থাপ্পড় ইত্যাদির কিসাস আদায় করেছেন।
ইবনুল মুনযির বলেছেন: বেত, লাঠি বা পাথরের আঘাত ইচ্ছাকৃত হলে তাতে কিসাস আছে। বুখারিতে আছে: উমর রা. একটি বেত্রাঘাতের কিসাস আদায় করেছেন। আর আলী রা, তিনটে বেত্রাঘাতের কিসাস আদায় করেছেন। শুরাইহ একটি বেত্রাঘাত ও চিমটির পর্যন্ত কিসাস আদায় করেছেন। তবে এ ধরনের কোনো কিছুতেই আঞ্চলিক ফকিহগণ কিসাস শরিয়তসম্মত মনে করেন না। কেননা এগুলোতে সমতা বজায় রাখা প্রায়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর কিসাস প্রয়োগ যখন প্রযোজ্য হয় না, তখন তাযীর ওয়াজিব। অবশ্য ইমাম ইবনে তাইমিয়া প্রথম মতটিকে অগ্রগণ্য মনে করেছেন। তিনি বলেন: 'যারা বলেন যে, এসব ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা অসম্ভব, তাদের জবাব এই যে, যেহেতু এগুলোও অপরাধ, তাই এর কোনো না কোনো শাস্তি থাকা চাই। হয় কিসাস না হয় তাযীর। যখন তাযীরের প্রকৃতি ও পরিমাণ কোনোটাই নির্দিষ্ট নেই, তখন তার চেয়ে অধিকতর নির্দিষ্ট হওয়ার কাছাকাছি কিসাসই অগ্রগণ্য। আর কিসাসেই সাধ্যমত সুবিচার প্রতিষ্ঠিত। এ কথা সুবিদিত যে, প্রহারকারীকে যখন তার প্রহারের মতো বা তার কাছাকাছি পর্যায়ে প্রহার করা হবে, তখন তাকে বেত্রাঘাত দিয়ে যে তাযীর করা হবে তার চেয়ে সুবিচারের নিকটতর হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি যুলুমের ভয়ে এসব ব্যাপারে কিসাস নিষিদ্ধ করে, সে তার চেয়ে বৃহত্তর যুলুমকে ঠিক মনে করে। সুতরাং শরিয়ত যে কিসাস প্রবর্তন করেছে, সেটাই অধিকতর সুবিচার সম্মত এবং আদর্শ স্থানীয়।
সম্পদ বিনাশে কিসাস
যখন কোনো মানুষ অন্যের সম্পদ ধ্বংস করে, যথা- গাছ কাটে, ফসল নষ্ট করে বা ঘরবাড়ি ধ্বংস করে, বা কাপড় পুড়িয়ে দেয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত আক্রান্ত ব্যক্তি কি আক্রমণকারীর নিকট থেকে হুবহু এই সব কাজের মাধ্যমে কিসাস নিতে পারবে? এ বিষয়ে আলেমদের দুটো মত রয়েছে:
১. এ ক্ষেত্রে কিসাসের কোনো অবকাশ নেই। কারণ এটা একটা ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কাজ, যা শরিয়তে মূলতই নিষিদ্ধ। জমি ও কাপড়ের মধ্যে কোনো সমতা নেই।
২. দ্বিতীয় মত হলো, কিসাস নেয়া বৈধ ও শরিয়ত সম্মত। কেননা প্রাণহানি ও অঙ্গহানি সম্পদ নাশের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ব্যাপার। সেসব ক্ষেত্রে যখন কিসাস চালু রয়েছে। তখন তার চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সম্পদ বিনাশে কিসাস অগ্রগণ্যতার দাবিদার। তাই আগ্রাসী শক্তি যখন আমাদের সম্পদ যথা ফলবান বৃক্ষ ও ফসল ইত্যাদি ধ্বংস করে, তখন তাদের সম্পদ ধ্বংস করাও আমাদের জন্য বৈধ। অবশ্য বিনা প্রয়োজনে এরূপ করা অনুচিত বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন।
ইবনুল কাইয়েম শেষোক্ত মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন: সম্পদ বিনাশের ঘটনায় যদি দেখা যায়, প্রতিপক্ষ এমন সম্পদ নষ্ট করেছে, যার ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ, যেমন গবাদি

সম্পদ গ্রাসকারী।" রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: ধনীর গড়িমসি তাকে অপমান করা ও শাস্তি দেয়াকে বৈধ করে দেয়। তার অপমানের ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে দিয়েছি। আর তার শাস্তি হলো, কারাগারে বন্দী হওয়া। (কুরতুবি, ২য় খণ্ড, পৃ: ৩৬০)
কিল, ঘুষি, থাপ্পড়, প্রহার ও গালিতে কিসাস খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের আমলে চালু ছিলো। বুখারি আবু বকর রা, আলী রা, ইবনুয যুবাইর ও সুয়াইয়দ বিন মুকররন থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তারা বড় থাপ্পড় ইত্যাদির কিসাস আদায় করেছেন।
ইবনুল মুনযির বলেছেন: বেত, লাঠি বা পাথরের আঘাত ইচ্ছাকৃত হলে তাতে কিসাস আছে। বুখারিতে আছে: উমর রা. একটি বেত্রাঘাতের কিসাস আদায় করেছেন। আর আলী রা, তিনটে বেত্রাঘাতের কিসাস আদায় করেছেন। শুরাইহ একটি বেত্রাঘাত ও চিমটির পর্যন্ত কিসাস আদায় করেছেন। তবে এ ধরনের কোনো কিছুতেই আঞ্চলিক ফকিহগণ কিসাস শরিয়তসম্মত মনে করেন না। কেননা এগুলোতে সমতা বজায় রাখা প্রায়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর কিসাস প্রয়োগ যখন প্রযোজ্য হয় না, তখন তাযীর ওয়াজিব। অবশ্য ইমাম ইবনে তাইমিয়া প্রথম মতটিকে অগ্রগণ্য মনে করেছেন। তিনি বলেন: 'যারা বলেন যে, এসব ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা অসম্ভব, তাদের জবাব এই যে, যেহেতু এগুলোও অপরাধ, তাই এর কোনো না কোনো শাস্তি থাকা চাই। হয় কিসাস না হয় তাযীর। যখন তাযীরের প্রকৃতি ও পরিমাণ কোনোটাই নির্দিষ্ট নেই, তখন তার চেয়ে অধিকতর নির্দিষ্ট হওয়ার কাছাকাছি কিসাসই অগ্রগণ্য। আর কিসাসেই সাধ্যমত সুবিচার প্রতিষ্ঠিত। এ কথা সুবিদিত যে, প্রহারকারীকে যখন তার প্রহারের মতো বা তার কাছাকাছি পর্যায়ে প্রহার করা হবে, তখন তাকে বেত্রাঘাত দিয়ে যে তাযীর করা হবে তার চেয়ে সুবিচারের নিকটতর হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি যুলুমের ভয়ে এসব ব্যাপারে কিসাস নিষিদ্ধ করে, সে তার চেয়ে বৃহত্তর যুলুমকে ঠিক মনে করে। সুতরাং শরিয়ত যে কিসাস প্রবর্তন করেছে, সেটাই অধিকতর সুবিচার সম্মত এবং আদর্শ স্থানীয়।
সম্পদ বিনাশে কিসাস
যখন কোনো মানুষ অন্যের সম্পদ ধ্বংস করে, যথা- গাছ কাটে, ফসল নষ্ট করে বা ঘরবাড়ি ধ্বংস করে, বা কাপড় পুড়িয়ে দেয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত আক্রান্ত ব্যক্তি কি আক্রমণকারীর নিকট থেকে হুবহু এই সব কাজের মাধ্যমে কিসাস নিতে পারবে? এ বিষয়ে আলেমদের দুটো মত রয়েছে:
১. এ ক্ষেত্রে কিসাসের কোনো অবকাশ নেই। কারণ এটা একটা ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কাজ, যা শরিয়তে মূলতই নিষিদ্ধ। জমি ও কাপড়ের মধ্যে কোনো সমতা নেই।
২. দ্বিতীয় মত হলো, কিসাস নেয়া বৈধ ও শরিয়ত সম্মত। কেননা প্রাণহানি ও অঙ্গহানি সম্পদ নাশের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ব্যাপার। সেসব ক্ষেত্রে যখন কিসাস চালু রয়েছে। তখন তার চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সম্পদ বিনাশে কিসাস অগ্রগণ্যতার দাবিদার। তাই আগ্রাসী শক্তি যখন আমাদের সম্পদ যথা ফলবান বৃক্ষ ও ফসল ইত্যাদি ধ্বংস করে, তখন তাদের সম্পদ ধ্বংস করাও আমাদের জন্য বৈধ। অবশ্য বিনা প্রয়োজনে এরূপ করা অনুচিত বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন।
ইবনুল কাইয়েম শেষোক্ত মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন: সম্পদ বিনাশের ঘটনায় যদি দেখা যায়, প্রতিপক্ষ এমন সম্পদ নষ্ট করেছে, যার ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ, যেমন গবাদি

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00