📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাস

📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাস


পক্ষান্তরে যারা মৃত্যুদণ্ড চালু রাখার পক্ষপাতি, তারা এসব যুক্তির জবাব দিয়েছেন:
প্রথম যুক্তি: "সমাজ ব্যক্তিকে জীবন দান করেনি বিধায় জীবন হরণের অধিকার তার নেই।” এর জবাবে তারা বলেন, সমাজ মানুষের স্বাধীনতা সৃষ্টি করে দেয়নি, তথাপি সে অন্যান্য শাস্তিতে এই স্বাধীনতা হরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাছাড়া মৃত্যুদণ্ড শুধু যে, অপরাধীর অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত তা নয়, উপরন্তু তা সমাজের বেঁচে থাকার অধিকারের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করে। সমাজের অস্তিত্ব ও শান্তি শৃংখলা বিপন্নকারী প্রতিটি সদস্যকে ছাঁটাই ও নির্মূল করার মাধ্যমে সমাজের শান্তি শৃংখলা ও অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মানুষের প্রাণ রক্ষা ও সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য।
দ্বিতীয় যুক্তি: "মৃত্যুদণ্ড যখন অন্যায় ও অবিচারমূলকভাবে দেয়া হয় তখন তা মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। অথচ তার প্রতিকার বা সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকেনা।" এর জবাবে তারা বলেন, অন্যান্য শাস্তিতেও ভুলভ্রান্তির আশংকা থাকে ভুলক্রম যা কার্যকর হয়ে যায়, তার প্রতিকারের কোনো উপায় থাকেনা। অবশ্য একথাও সত্য যে, ভুলক্রমে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল। কেননা বিচারকগণ সচরাচর এই শাস্তি প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন। অভিযোগের পক্ষে অকাট্য সাক্ষ প্রমাণ না থাকলে এই চরম শাস্তি দেয়া থেকে তারা বিরত থাকেন।
তৃতীয়ত: "মৃত্যুদণ্ড অবিচারমূলক” এ বক্তব্যের জবাবে তারা বলেন, কর্ম ও কর্মফল একই প্রকৃতির আর মৃত্যুদণ্ড নিষ্প্রয়োজন-এ যুক্তি আদৌ ধোপে টেকেনা। কারণ অপরাধ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শাস্তি অপরাধ দমনের একটি হিতকর উপকরণ। অন্য কথায়, সমাজকে অপরাধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করাই শাস্তির উদ্দেশ্য। আর এ উদ্দেশ্যের সফলতার জন্য শাস্তি অপরাধের ভয়াবহতার সমানুপাতিক হোক-এটাই কাঙ্ক্ষিত। কেননা অপরাধ অপরাধীর মনের একটা কদর্য বাসনা চরিতার্থ করে। একমাত্র শাস্তির ভীতিই তাকে এই বাসনা চরিতার্থ করা থেকে ফিরিয়ে রাখে। শাস্তি যখন অপরাধের সমানুপাতিক হয়, তখনই তা অপরাধীকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে।। কেননা এটা তার সামনে দুটো জিনিস পাশাপাশি তুলে ধরে: ঈপ্সিত অপরাধ ঘটাতে পা বাড়ানো এবং তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি মাথা পেতে নেয়া। শাস্তি যখন অপরাধ থেকে বিরত রাখার যোগ্য হয়, কেবল তখনই শাস্তির ভীতি তার অপরাধের দিকে পা বাড়ানো প্রতিহত করতে পারে। এই দু'টি মতামতের আলোকেই পৃথিবীর অধিকাংশ আইন মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতের কিসাস
প্রাণহানিতে যেমন কিসাস প্রতিষ্ঠিত, তেমনি প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতেও কিসাস রয়েছে। এটা দুই ধরনের: ১. অঙ্গ প্রতঙ্গের উপর আঘাত, ২. ক্ষত বা জখম।
তাওরাতে কিসাসের যে ব্যাপক বিধান দেয়া ছিলো, কুরআন তা পুরোপুরিভাবে উদ্ধৃত করেছে। আল্লাহ সূরা মায়েদার ৪৫ নং আয়াতে বলেন; وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنْفَ بِالْأَنْفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ

পক্ষান্তরে যারা মৃত্যুদণ্ড চালু রাখার পক্ষপাতি, তারা এসব যুক্তির জবাব দিয়েছেন:
প্রথম যুক্তি: "সমাজ ব্যক্তিকে জীবন দান করেনি বিধায় জীবন হরণের অধিকার তার নেই।” এর জবাবে তারা বলেন, সমাজ মানুষের স্বাধীনতা সৃষ্টি করে দেয়নি, তথাপি সে অন্যান্য শাস্তিতে এই স্বাধীনতা হরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাছাড়া মৃত্যুদণ্ড শুধু যে, অপরাধীর অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত তা নয়, উপরন্তু তা সমাজের বেঁচে থাকার অধিকারের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করে। সমাজের অস্তিত্ব ও শান্তি শৃংখলা বিপন্নকারী প্রতিটি সদস্যকে ছাঁটাই ও নির্মূল করার মাধ্যমে সমাজের শান্তি শৃংখলা ও অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মানুষের প্রাণ রক্ষা ও সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য।
দ্বিতীয় যুক্তি: "মৃত্যুদণ্ড যখন অন্যায় ও অবিচারমূলকভাবে দেয়া হয় তখন তা মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। অথচ তার প্রতিকার বা সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকেনা।" এর জবাবে তারা বলেন, অন্যান্য শাস্তিতেও ভুলভ্রান্তির আশংকা থাকে ভুলক্রম যা কার্যকর হয়ে যায়, তার প্রতিকারের কোনো উপায় থাকেনা। অবশ্য একথাও সত্য যে, ভুলক্রমে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল। কেননা বিচারকগণ সচরাচর এই শাস্তি প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন। অভিযোগের পক্ষে অকাট্য সাক্ষ প্রমাণ না থাকলে এই চরম শাস্তি দেয়া থেকে তারা বিরত থাকেন।
তৃতীয়ত: "মৃত্যুদণ্ড অবিচারমূলক” এ বক্তব্যের জবাবে তারা বলেন, কর্ম ও কর্মফল একই প্রকৃতির আর মৃত্যুদণ্ড নিষ্প্রয়োজন-এ যুক্তি আদৌ ধোপে টেকেনা। কারণ অপরাধ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শাস্তি অপরাধ দমনের একটি হিতকর উপকরণ। অন্য কথায়, সমাজকে অপরাধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করাই শাস্তির উদ্দেশ্য। আর এ উদ্দেশ্যের সফলতার জন্য শাস্তি অপরাধের ভয়াবহতার সমানুপাতিক হোক-এটাই কাঙ্ক্ষিত। কেননা অপরাধ অপরাধীর মনের একটা কদর্য বাসনা চরিতার্থ করে। একমাত্র শাস্তির ভীতিই তাকে এই বাসনা চরিতার্থ করা থেকে ফিরিয়ে রাখে। শাস্তি যখন অপরাধের সমানুপাতিক হয়, তখনই তা অপরাধীকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে।। কেননা এটা তার সামনে দুটো জিনিস পাশাপাশি তুলে ধরে: ঈপ্সিত অপরাধ ঘটাতে পা বাড়ানো এবং তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি মাথা পেতে নেয়া। শাস্তি যখন অপরাধ থেকে বিরত রাখার যোগ্য হয়, কেবল তখনই শাস্তির ভীতি তার অপরাধের দিকে পা বাড়ানো প্রতিহত করতে পারে। এই দু'টি মতামতের আলোকেই পৃথিবীর অধিকাংশ আইন মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতের কিসাস
প্রাণহানিতে যেমন কিসাস প্রতিষ্ঠিত, তেমনি প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতেও কিসাস রয়েছে। এটা দুই ধরনের: ১. অঙ্গ প্রতঙ্গের উপর আঘাত, ২. ক্ষত বা জখম।
তাওরাতে কিসাসের যে ব্যাপক বিধান দেয়া ছিলো, কুরআন তা পুরোপুরিভাবে উদ্ধৃত করেছে। আল্লাহ সূরা মায়েদার ৪৫ নং আয়াতে বলেন; وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنْفَ بِالْأَنْفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাসের শর্তাবলি

📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাসের শর্তাবলি


فوجদারী অপরাধ (হত্যা জখম) ৪৩১ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۖ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
"তাদের জন্য তাতে (তাওরাতে) বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং অনুরূপভাবে সকল জখমের বদলে জখম। তবে কেউ তা মাফ করে দিলে তা তার জন্য গুনাহর কাফফারা হবে। যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তদনুযায়ী বিধান দেয় না তারা যালিম।"
অর্থাৎ আল্লাহ তাওরাতে ইহুদীদের উপর বিধান দিয়েছিলেন যে, কেউ যখন কাউকে হত্যা করে, তখন তাকে হত্যা করে প্রাণের বদলে প্রাণ সংহার করা হবে। আর কেউ কারো চোখ নষ্ট করে দিয়ে থাকলে তার চোখ নষ্ট করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ছোট চোখ ও বড় চোখ এবং শিশুর চোখ ও বুড়োর চোখে কোনো ভোদাভেদ করা হবেনা। আর নাকের বদলে নাক ও কানের বদলে কান কাটা হবে। আর দাঁত ভাঙ্গ বা উপড়ানোর শাস্তিস্বরূপ অপরাধীর দাঁত ভাঙ্গা বা উপড়ানো হবে। অপরাধীর দাঁত আহতের দাঁতের চেয়ে ছোট হোক বা বড় হোক, তাতে কিছু এসে যায়না। আর অন্যান্য যাবতীয় জখমের কিসাসও যতটা সম্ভব সমভাবে আদায় করা হবে।
বস্তুত তাওরাতের এই বিধান যদিও আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য নির্ধারিত ছিলো, তবুও তা আমাদের জন্যও বহাল রয়েছে। কেননা কুরআনে এটা উদ্ধৃত করা ছাড়াও রসূলুল্লাহ সা. নিজেও এটা বহাল বলে ঘোষণা করেছেন। বুখারি ও মুসলিম আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: "রুবাই বিনতে নাদার তার এক দাসীর দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিল। তখন তাদের উপর জরিমানা ধার্য করা হলো। কিন্তু দাসীটির পরিবার পরিজন জরিমানা প্রত্যাখ্যান করে কিসাস না নিয়ে ছাড়বেনা বলে জানালো। রুবাই এর ভাই আনাস রসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললো, "হে রসূলুল্লাহ সা., রুবাইয়ের দাঁত ভাঙ্গা হবে নাকি? আল্লাহর কসম, ওর দাঁত ভাঙ্গবেন না।" রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে আনাস, কিসাস হলো আল্লাহর বিধান। এ পর্যায়ে দাসীর পরিবার ক্ষমা ঘোষণা করলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: আল্লাহর কোনো কোনো বান্দা এমন রয়েছে, যারা আল্লাহর নামে কসম খেলে আল্লাহ নিজেই কসম পূরণ করেন।"
কিসাসের এই গোটা বিধান ইচ্ছাকৃত অপরাধেই প্রযোজ্য। ভুলবশত বা অনিচ্ছাবশত ঘটে যাওয়া জখমে দিয়াতই নির্ধারিত।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কিসাসের শর্তাবলি
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে অপরাধীর জন্যে নিম্নোক্ত শর্তাবলি প্রযোজ্য-
১. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। (সর্বনিম্ন পনেরো বা আঠারো বছর বয়স হওয়া অথবা স্বপ্নদোষ হওয়াই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। গোঁফ-দাড়ি ও নিম্নাঙ্গের পশম গজানো নিয়ে মতভেদ আছে।)
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করা।
৪. অপরাধের শিকার ব্যক্তির আভিজাত্য ও সামাজিক মর্যাদায় অপরাধীর সমকক্ষ হওয়া। দাসত্ব বা স্বাধীনতা এবং ইসলাম বা কুফরীর মাপকাঠি দিয়েই এই সমকক্ষতা নির্ণয় করা হবে। কাজেই কোনো স্বাধীন মানুষ কোনো গোলামকে এবং কোনো মুসলমান অমুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করলে কিসাস আদায় করা হবেনা। কেননা উভয়ের মধ্যে সমকক্ষতা অনুপস্থিত। কারণ গোলামের রক্ত স্বাধীনের রক্ত অপেক্ষা এবং অমুসলিমের রক্ত মুসলমানের রক্ত অপেক্ষা নিম্নমানের। এসব ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব নয় বলে এর বিকল্প দিয়াত ওয়াজিব। আর যখন গোলাম স্বাধীনকে ও অমুসলিম মুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করে, তখন অপরাধীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে। হানাফিদের মতে, অঙ্গহানির ক্ষেত্রে মুসলমান ও কাফেরের মাঝে কিসাস ওয়াজিব হওয়ায় কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা আরো বলেন, নারী ও পুরুষের মাঝে সংঘটিত অপরাধে প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কোনো কিসাস নেই।
অংগ-প্রত্যংগের কিসাস
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাস সংক্রান্ত মূলনীতি হলো, যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি আছে, তাতে কিসাস আছে, যেমন হাতের কনুই ও কবজি। আর যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি নেই, তাতে কিসাস নেই। কেননা যে অঙ্গে গ্রন্থি আছে, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব। আর যে অঙ্গে গ্রন্থি নেই, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব নয়। যেমন কোনো অপরাধী গোড়া থেকে কারো আঙ্গুল ও কব্জি বা কনুই থেকে হাত কেটে নিলে, কিংবা গিরা থেকে পা কেটে নিলে বা চোখ উপড়ে নিলে, কান বা নাক কেটে নিলে, দাঁত উপড়ে নিলে, পুরুষাঙ্গ কেটে নিলে বা অণ্ডকোষদ্বয় কেটে নিলে, ঠিক সমপরিমাণে কিসাস তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।
অংগ-প্রত্যংগের কিসাসের শর্তাবলি
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাসের জন্য তিনটে শর্ত পূরণ জরুরি-
১. অবিচারের আশংকা থেকে নিরাপদ হওয়া। যেমন গ্রন্থি বা সন্ধিস্থল থেকে কাটা কিংবা এমন অঙ্গ থেকে কাটা, যার নির্দিষ্ট সীমা আছে, ইতিপূর্বে এর একাধিক উদাহরণ দেয়া হয়েছে। সুতরাং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভেঙ্গে দিলে, বা পেট ফেড়ে দিলে বা হাতের বাহুর একাংশ আহত করলে কিসাস হবেনা। কেননা এসব জিনিসে কিসাস আদায় করলে অবিচার ও অসমতা থেকে নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা নেই।
২. নাম ও অবস্থানে সাদৃশ্য: এ কারণে বাম হাতের বদলে ডান হাত, ডান হাতের বদলে বাম হাত, বুড়ো আঙ্গুলের বদলে শাহাদাত আঙ্গুল, বা শাহাদাত আঙ্গুলের বদলে বুড়ো আঙ্গুল কাটা হবেনা। কেননা এতে নামের ক্ষেত্রে সমতা বজায় থাকেনা। উভয় পক্ষ সম্মত হলেও অতিরিক্ত অংশের বদলে মূল অংশ নেয়া যাবেনা। কেননা এতে অঙ্গের অবস্থান ও উপকারিতার দিক দিয়ে সমতা বজায় থাকবেনা। তবে অবস্থান ও প্রকৃতিগতভাবে সমতা থাকলে অতিরিক্ত গ্রহণযোগ্য হবে।
৩. আক্রমণকারী ও আক্রান্তের অঙ্গের পূর্ণতা ও সুস্থতার দিক দিয়ে সমতা। তাই অবশ অঙ্গের বদলে সচেতন অঙ্গ কিংবা যে হাতে সবক'টা আঙ্গুল নেই, তার বদলে পূর্ণাঙ্গ হাত কাটা যাবেনা। তবে এর বিপরীত করা যাবে। সুস্থ হাতের বদলে অবশ হাত কাটা যাবে।

فوجদারী অপরাধ (হত্যা জখম) ৪৩১ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۖ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
"তাদের জন্য তাতে (তাওরাতে) বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং অনুরূপভাবে সকল জখমের বদলে জখম। তবে কেউ তা মাফ করে দিলে তা তার জন্য গুনাহর কাফফারা হবে। যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তদনুযায়ী বিধান দেয় না তারা যালিম।"
অর্থাৎ আল্লাহ তাওরাতে ইহুদীদের উপর বিধান দিয়েছিলেন যে, কেউ যখন কাউকে হত্যা করে, তখন তাকে হত্যা করে প্রাণের বদলে প্রাণ সংহার করা হবে। আর কেউ কারো চোখ নষ্ট করে দিয়ে থাকলে তার চোখ নষ্ট করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ছোট চোখ ও বড় চোখ এবং শিশুর চোখ ও বুড়োর চোখে কোনো ভোদাভেদ করা হবেনা। আর নাকের বদলে নাক ও কানের বদলে কান কাটা হবে। আর দাঁত ভাঙ্গ বা উপড়ানোর শাস্তিস্বরূপ অপরাধীর দাঁত ভাঙ্গা বা উপড়ানো হবে। অপরাধীর দাঁত আহতের দাঁতের চেয়ে ছোট হোক বা বড় হোক, তাতে কিছু এসে যায়না। আর অন্যান্য যাবতীয় জখমের কিসাসও যতটা সম্ভব সমভাবে আদায় করা হবে।
বস্তুত তাওরাতের এই বিধান যদিও আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য নির্ধারিত ছিলো, তবুও তা আমাদের জন্যও বহাল রয়েছে। কেননা কুরআনে এটা উদ্ধৃত করা ছাড়াও রসূলুল্লাহ সা. নিজেও এটা বহাল বলে ঘোষণা করেছেন। বুখারি ও মুসলিম আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: "রুবাই বিনতে নাদার তার এক দাসীর দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিল। তখন তাদের উপর জরিমানা ধার্য করা হলো। কিন্তু দাসীটির পরিবার পরিজন জরিমানা প্রত্যাখ্যান করে কিসাস না নিয়ে ছাড়বেনা বলে জানালো। রুবাই এর ভাই আনাস রসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললো, "হে রসূলুল্লাহ সা., রুবাইয়ের দাঁত ভাঙ্গা হবে নাকি? আল্লাহর কসম, ওর দাঁত ভাঙ্গবেন না।" রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে আনাস, কিসাস হলো আল্লাহর বিধান। এ পর্যায়ে দাসীর পরিবার ক্ষমা ঘোষণা করলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: আল্লাহর কোনো কোনো বান্দা এমন রয়েছে, যারা আল্লাহর নামে কসম খেলে আল্লাহ নিজেই কসম পূরণ করেন।"
কিসাসের এই গোটা বিধান ইচ্ছাকৃত অপরাধেই প্রযোজ্য। ভুলবশত বা অনিচ্ছাবশত ঘটে যাওয়া জখমে দিয়াতই নির্ধারিত।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কিসাসের শর্তাবলি
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে অপরাধীর জন্যে নিম্নোক্ত শর্তাবলি প্রযোজ্য-
১. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। (সর্বনিম্ন পনেরো বা আঠারো বছর বয়স হওয়া অথবা স্বপ্নদোষ হওয়াই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। গোঁফ-দাড়ি ও নিম্নাঙ্গের পশম গজানো নিয়ে মতভেদ আছে।)
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করা।
৪. অপরাধের শিকার ব্যক্তির আভিজাত্য ও সামাজিক মর্যাদায় অপরাধীর সমকক্ষ হওয়া। দাসত্ব বা স্বাধীনতা এবং ইসলাম বা কুফরীর মাপকাঠি দিয়েই এই সমকক্ষতা নির্ণয় করা হবে। কাজেই কোনো স্বাধীন মানুষ কোনো গোলামকে এবং কোনো মুসলমান অমুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করলে কিসাস আদায় করা হবেনা। কেননা উভয়ের মধ্যে সমকক্ষতা অনুপস্থিত। কারণ গোলামের রক্ত স্বাধীনের রক্ত অপেক্ষা এবং অমুসলিমের রক্ত মুসলমানের রক্ত অপেক্ষা নিম্নমানের। এসব ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব নয় বলে এর বিকল্প দিয়াত ওয়াজিব। আর যখন গোলাম স্বাধীনকে ও অমুসলিম মুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করে, তখন অপরাধীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে। হানাফিদের মতে, অঙ্গহানির ক্ষেত্রে মুসলমান ও কাফেরের মাঝে কিসাস ওয়াজিব হওয়ায় কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা আরো বলেন, নারী ও পুরুষের মাঝে সংঘটিত অপরাধে প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কোনো কিসাস নেই।
অংগ-প্রত্যংগের কisass
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাস সংক্রান্ত মূলনীতি হলো, যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি আছে, তাতে কিসাস আছে, যেমন হাতের কনুই ও কবজি। আর যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি নেই, তাতে কিসাস নেই। কেননা যে অঙ্গে গ্রন্থি আছে, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব। আর যে অঙ্গে গ্রন্থি নেই, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব নয়। যেমন কোনো অপরাধী গোড়া থেকে কারো আঙ্গুল ও কব্জি বা কনুই থেকে হাত কেটে নিলে, কিংবা গিরা থেকে পা কেটে নিলে বা চোখ উপড়ে নিলে, কান বা নাক কেটে নিলে, দাঁত উপড়ে নিলে, পুরুষাঙ্গ কেটে নিলে বা অণ্ডকোষদ্বয় কেটে নিলে, ঠিক সমপরিমাণে কিসাস তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।
অংগ-প্রত্যংগের কিসাসের শর্তাবলি
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাসের জন্য তিনটে শর্ত পূরণ জরুরি-
১. অবিচারের আশংকা থেকে নিরাপদ হওয়া। যেমন গ্রন্থি বা সন্ধিস্থল থেকে কাটা কিংবা এমন অঙ্গ থেকে কাটা, যার নির্দিষ্ট সীমা আছে, ইতিপূর্বে এর একাধিক উদাহরণ দেয়া হয়েছে। সুতরাং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভেঙ্গে দিলে, বা পেট ফেড়ে দিলে বা হাতের বাহুর একাংশ আহত করলে কিসাস হবেনা। কেননা এসব জিনিসে কিসাস আদায় করলে অবিচার ও অসমতা থেকে নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা নেই।
২. নাম ও অবস্থানে সাদৃশ্য: এ কারণে বাম হাতের বদলে ডান হাত, ডান হাতের বদলে বাম হাত, বুড়ো আঙ্গুলের বদলে শাহাদাত আঙ্গুল, বা শাহাদাত আঙ্গুলের বদলে বুড়ো আঙ্গুল কাটা হবেনা। কেননা এতে নামের ক্ষেত্রে সমতা বজায় থাকেনা। উভয় পক্ষ সম্মত হলেও অতিরিক্ত অংশের বদলে মূল অংশ নেয়া যাবেনা। কেননা এতে অঙ্গের অবস্থান ও উপকারিতার দিক দিয়ে সমতা বজায় থাকবেনা। তবে অবস্থান ও প্রকৃতিগতভাবে সমতা থাকলে অতিরিক্ত গ্রহণযোগ্য হবে।
৩. আক্রমণকারী ও আক্রান্তের অঙ্গের পূর্ণতা ও সুস্থতার দিক দিয়ে সমতা। তাই অবশ অঙ্গের বদলে সচেতন অঙ্গ কিংবা যে হাতে সবক'টা আঙ্গুল নেই, তার বদলে পূর্ণাঙ্গ হাত কাটা যাবেনা। তবে এর বিপরীত করা যাবে। সুস্থ হাতের বদলে অবশ হাত কাটা যাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইচ্ছাকৃত জখমের কিসাস

📄 ইচ্ছাকৃত জখমের কিসাস


ইচ্ছাকৃত জখমে কোনো কিসাস ওয়াজিব হয়না। তবে যথার্থ সমানুপাতির কিসাস যদি সম্ভব হয়, তাহলে ওয়াজিব হবে। আক্রমণকারীর দেহে আক্রান্তের জখমের সমান জখম করেই কিসাস আদায় করতে হবে, কমও করা যাবেনা, বেশিও নয়। নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কিছু বেশি করা, অথবা বেশি করার ঝুঁকি নেয়া অথবা প্রতিপক্ষের কোনো ক্ষতিসাধন করা ছাড়া সম্পূর্ণ সমান কিসাস কার্যকর করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কিসাস ওয়াজিব হবেনা, বরং দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. মাথার হাড়ের মধ্য ভাগের ও পেটের জখমে কিসাস রহিত করেছেন। যে সকল জখমের প্রাণঘাতি হওয়ার আশংকা প্রবল, যেমন ঘাড়ের হাড় ভাঙ্গা, পিঠের হাড় ভাঙ্গা, উরুর হাড় ভাঙ্গা বা অনুরূপ জখমসমূহও মাথার হাড় ও পেটের জখমের বিধিভুক্ত। মাথার হাড় বের হয়ে যায় এমন ইচ্ছাকৃত জখম ব্যতীত মাথা ও মুখমণ্ডলের কোনো জখমেই কিসাস নেই। মাথা ও মুখমণ্ডলের অন্যান্য জখমের বিধান দিয়াত সংক্রান্ত আলোচনায় আসবে।
জিহ্বার জখমে এবং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গায় কিসাস ওয়াজিব হবেনা। কেননা যুলুম ব্যতীত কিসাস আদায় করা এসব ক্ষেত্রে অসম্ভব।
যদি কেউ কারো পেটে জখম করে, অতপর আক্রান্ত ব্যক্তি তা থেকে নিরাময় লাভ করে। অথবা হাতের বাহুর মাঝখান থেকে কেটে ফেলে, তবে তাকে কিসাস দিতে হবেনা। আক্রান্তের জন্য আক্রমণকারীর হাতের সেই স্থান থেকে কেটে দেয়া বৈধ হবেনা। তবে সে কব্জি থেকে কেটে দিতে পারে। আর অর্ধেক বাহু কাটার বিচার শালিশির মাধ্যমে আদায় করতে পারে। দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গলে, অবশ হাত কেটে দিলে, আংগুলবিহীন পা কেটে দিলে, বোবার জিভ কেটে দিলে, চোখ উপড়ে দিলে অথবা হাতের অতিরিক্ত আংগুল কেটে দিলে একজন সৎ ব্যক্তির শালিশীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।

ইচ্ছাকৃত জখমে কোনো কিসাস ওয়াজিব হয়না। তবে যথার্থ সমানুপাতির কিসাস যদি সম্ভব হয়, তাহলে ওয়াজিব হবে। আক্রমণকারীর দেহে আক্রান্তের জখমের সমান জখম করেই কিসাস আদায় করতে হবে, কমও করা যাবেনা, বেশিও নয়। নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কিছু বেশি করা, অথবা বেশি করার ঝুঁকি নেয়া অথবা প্রতিপক্ষের কোনো ক্ষতিসাধন করা ছাড়া সম্পূর্ণ সমান কিসাস কার্যকর করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কিসাস ওয়াজিব হবেনা, বরং দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. মাথার হাড়ের মধ্য ভাগের ও পেটের জখমে কিসাস রহিত করেছেন। যে সকল জখমের প্রাণঘাতি হওয়ার আশংকা প্রবল, যেমন ঘাড়ের হাড় ভাঙ্গা, পিঠের হাড় ভাঙ্গা, উরুর হাড় ভাঙ্গা বা অনুরূপ জখমসমূহও মাথার হাড় ও পেটের জখমের বিধিভুক্ত। মাথার হাড় বের হয়ে যায় এমন ইচ্ছাকৃত জখম ব্যতীত মাথা ও মুখমণ্ডলের কোনো জখমেই কিসাস নেই। মাথা ও মুখমণ্ডলের অন্যান্য জখমের বিধান দিয়াত সংক্রান্ত আলোচনায় আসবে।
জিহ্বার জখমে এবং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গায় কিসাস ওয়াজিব হবেনা। কেননা যুলুম ব্যতীত কিসাস আদায় করা এসব ক্ষেত্রে অসম্ভব।
যদি কেউ কারো পেটে জখম করে, অতপর আক্রান্ত ব্যক্তি তা থেকে নিরাময় লাভ করে। অথবা হাতের বাহুর মাঝখান থেকে কেটে ফেলে, তবে তাকে কিসাস দিতে হবেনা। আক্রান্তের জন্য আক্রমণকারীর হাতের সেই স্থান থেকে কেটে দেয়া বৈধ হবেনা। তবে সে কব্জি থেকে কেটে দিতে পারে। আর অর্ধেক বাহু কাটার বিচার শালিশির মাধ্যমে আদায় করতে পারে। দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভাঙ্গলে, অবশ হাত কেটে দিলে, আংগুলবিহীন পা কেটে দিলে, বোবার জিভ কেটে দিলে, চোখ উপড়ে দিলে অথবা হাতের অতিরিক্ত আংগুল কেটে দিলে একজন সৎ ব্যক্তির শালিশীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কল্পনে বা জখমে দলগতভাবে অংশগ্রহণ করলে

📄 কল্পনে বা জখমে দলগতভাবে অংশগ্রহণ করলে


এক দল লোক যদি কারো এমন কোনো অঙ্গ কর্তনে বা এমন কোনো জখম করায় অংশ নেয়, যা কিসাসযোগ্য, তাহলে হাম্বলিদের মতে, কে কতটুকু জখম বা কর্তন করলো তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলে তাদের সকলের উপর কিসাস ওয়াজিব হবে। কেননা আলী রা. এর নিকট দু'জন সাক্ষী এক ব্যক্তি চুরি করেছে বলে সাক্ষ্য দিলো। অমনি তার হাত কেটে দেয়া হলো। এরপর অপর এক ব্যক্তি এলো। তাকে দেখে সাক্ষীদ্বয় বললো, এই লোকই চোর। ইতিপূর্বে আমরা যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছি, তার ব্যাপারে আমরা ভুল করেছি। আলী রা. দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করলেন এবং প্রথম জনের হাত কাটার জন্য তাদের উভয়ের উপর দিয়াত ধার্য করলেন। আলী রা. আরো বললেন, আমি যদি জানতাম যে তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ রকম সাক্ষ্য দিয়েছ, তাহলে তোমাদের উভয়ের হাত কেটে দিতাম। আর যদি দলের প্রত্যেকের আঘাত ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়, অথবা তাদের প্রত্যেকে পৃথক পৃথক অঙ্গ কাটে, তাহলে তাদের উপর কোনো কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। তবে ইমাম মালেক ও শাফেয়ি বলেন, যখন সম্ভব হবে তাদের কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। তাদের অঙ্গগুলো কাটা হবে এবং প্রত্যেক জখমের কিসাস তাদের কাছ থেকে নেয়া হবে, যেমন একটি দল যখন কারো হত্যায় দলগতভাবে অংশ নেবে, তখন তার বদলে তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে। হানাফি ও যাহেরি মযহাব

এক দল লোক যদি কারো এমন কোনো অঙ্গ কর্তনে বা এমন কোনো জখম করায় অংশ নেয়, যা কিসাসযোগ্য, তাহলে হাম্বলিদের মতে, কে কতটুকু জখম বা কর্তন করলো তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলে তাদের সকলের উপর কিসাস ওয়াজিব হবে। কেননা আলী রা. এর নিকট দু'জন সাক্ষী এক ব্যক্তি চুরি করেছে বলে সাক্ষ্য দিলো। অমনি তার হাত কেটে দেয়া হলো। এরপর অপর এক ব্যক্তি এলো। তাকে দেখে সাক্ষীদ্বয় বললো, এই লোকই চোর। ইতিপূর্বে আমরা যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছি, তার ব্যাপারে আমরা ভুল করেছি। আলী রা. দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করলেন এবং প্রথম জনের হাত কাটার জন্য তাদের উভয়ের উপর দিয়াত ধার্য করলেন। আলী রা. আরো বললেন, আমি যদি জানতাম যে তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ রকম সাক্ষ্য দিয়েছ, তাহলে তোমাদের উভয়ের হাত কেটে দিতাম। আর যদি দলের প্রত্যেকের আঘাত ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়, অথবা তাদের প্রত্যেকে পৃথক পৃথক অঙ্গ কাটে, তাহলে তাদের উপর কোনো কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। তবে ইমাম মালেক ও শাফেয়ি বলেন, যখন সম্ভব হবে তাদের কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। তাদের অঙ্গগুলো কাটা হবে এবং প্রত্যেক জখমের কিসাস তাদের কাছ থেকে নেয়া হবে, যেমন একটি দল যখন কারো হত্যায় দলগতভাবে অংশ নেবে, তখন তার বদলে তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে। হানাফি ও যাহেরি মযহাব

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00