📄 প্রাণহানির চেয়ে লঘুস্তর আঘাতে কিসাস
তার কাছে কিছু বিক্রি করা হবেনা। তার কাছ থেকে কিছু ক্রয় করাও হবেনা। ফলে এক সময় সে বের হতে বাধ্য হবে। আর বের হলেই তাকে হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করা হবে।
কিসাস রহিত হওয়া
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার পরও নিম্নোক্ত কারণসমূহের যে কোনো একটি পাওয়া গেলে কিসাস রহিত হবে:
১. নিহতের উত্তরাধিকারীদের সবাই বা কোনো একজন ক্ষমা করে দিলে। তবে শর্ত হলো, ক্ষমাকারী সুস্থ মস্তিষ্ক ও ন্যায় অন্যায় বাছবিচারের ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়া চাই। কেননা এটা এমন একটা একচেটিয়া ক্ষমতা, যা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগলের থাকেনা। (নিহতের উত্তরাধিকারীরা ক্ষমা করে দিলে শাসক সেখানে ক্ষমা করতে বাধা দিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। অনুরূপ, উত্তরাধিকারীরা কিসাস চাইলে শাসক একাই তাতে বাধা দিতে পারেনা।)
২. অপরাধীর মৃত্যু হলে বা অপরাধী পক্ষ হাতছাড়া হয়ে গেলে। যার উপর কিসাস কার্যকরী করা হবে সে যদি আগেই মারা যায় বা যে অঙ্গ কিসাস প্রযোজ্য, সেই অঙ্গ হারিয়ে বসে, তাহলে কিসাস কার্যকর করা অসম্ভব হওয়ার কারণে তা রহিত হবে। আর কিসাস যখন রহিত হয়, তখন তার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের জন্য দিয়াত প্রাপ্য হবে। এটা হাম্বলি ও শাফেয়িদের মত। পক্ষান্তরে মালেক ও হানাফিগণ বলেন, দিয়াত দেয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা তাদের প্রাপ্য ছিলো প্রাণের বদলে প্রাণ, যা হাতছাড়া হয়ে গেছে। কাজেই খুনীর উত্তরাধিকারীদের কাছে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিকানা চলে যাওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের কোনো অধিকার নেই। হাম্বলি ও শাফেয়িদের মতের পক্ষে যুক্তি এই যে, নিহতের উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য তার প্রাণে অথবা তার সম্পত্তিতে ঝুলন্ত রয়েছে। এই দুটোর যে কোনোটিই গ্রহণের তাদের স্বাধীনতা রয়েছে। কাজেই যখন এই দুটির একটি হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন অপরটি নিশ্চিতভাবে প্রাপ্য হবে।
৩. অপরাধী ও অপরাধের শিকার বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কোনো আপোষ হলে।
কিসাস বাস্তবয়নে আদালতের অধিকার
আগেই বলা হয়েছে যে, কিসাস দাবি করা নিহতের উত্তরাধিকারীর অধিকার। তবে উত্তরাধিকারীর সেই অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা বা তাকে সেই অধিকার পাওয়ার সুযোগ দেয়া আদালতের অধিকার।
কুরতুবি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে কিসাস যে শাসক ব্যতীত কেউ কার্যকর করতে পারেনা, তাতে কোনোই মতভেদ নেই। তার উপর কিসাস কার্যকর করার ও হুদুদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ সকল মুমিনের কাছ থেকে কিসাস দাবি করেছেন। তাছাড়া সকল মুমিন কিসাসের উপর একমত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে, এটাও সম্ভব নয়। তাই কিসাস ও হুদুদ বাস্তবায়নে তারা শাসককে নিজেদের স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছে। এর কারণ আল্লামা সাওরি তাফসীরে জালালাইনের টীকায় লিখেছেন। সেটি হলো: "অতপর যখন প্রমাণিত হলো যে, ইচ্ছাকৃত হত্যা একটা আগ্রাসন, তখন শরিয়ত সম্মত শাসকের কর্তব্য নিহতের উত্তরাধিকারীকে হত্যাকারীর উপর ক্ষমতা প্রদান করা, যাতে সে হত্যাকারীকে হত্যা করা, ক্ষমা করা বা দিয়াত আদায় করা- এই তিনটের যেটি চাইবে,
তার কাছে কিছু বিক্রি করা হবেনা। তার কাছ থেকে কিছু ক্রয় করাও হবেনা। ফলে এক সময় সে বের হতে বাধ্য হবে। আর বের হলেই তাকে হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করা হবে।
কিসাস রহিত হওয়া
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার পরও নিম্নোক্ত কারণসমূহের যে কোনো একটি পাওয়া গেলে কিসাস রহিত হবে:
১. নিহতের উত্তরাধিকারীদের সবাই বা কোনো একজন ক্ষমা করে দিলে। তবে শর্ত হলো, ক্ষমাকারী সুস্থ মস্তিষ্ক ও ন্যায় অন্যায় বাছবিচারের ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়া চাই। কেননা এটা এমন একটা একচেটিয়া ক্ষমতা, যা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগলের থাকেনা। (নিহতের উত্তরাধিকারীরা ক্ষমা করে দিলে শাসক সেখানে ক্ষমা করতে বাধা দিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। অনুরূপ, উত্তরাধিকারীরা কিসাস চাইলে শাসক একাই তাতে বাধা দিতে পারেনা।)
২. অপরাধীর মৃত্যু হলে বা অপরাধী পক্ষ হাতছাড়া হয়ে গেলে। যার উপর কisass কার্যকরী করা হবে সে যদি আগেই মারা যায় বা যে অঙ্গ কিসাস প্রযোজ্য, সেই অঙ্গ হারিয়ে বসে, তাহলে কিসাস কার্যকর করা অসম্ভব হওয়ার কারণে তা রহিত হবে। আর কিসাস যখন রহিত হয়, তখন তার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের জন্য দিয়াত প্রাপ্য হবে। এটা হাম্বলি ও শাফেয়িদের মত। পক্ষান্তরে মালেক ও হানাফিগণ বলেন, দিয়াত দেয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা তাদের প্রাপ্য ছিলো প্রাণের বদলে প্রাণ, যা হাতছাড়া হয়ে গেছে। কাজেই খুনীর উত্তরাধিকারীদের কাছে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিকানা চলে যাওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের কোনো অধিকার নেই। হাম্বলি ও শাফেয়িদের মতের পক্ষে যুক্তি এই যে, নিহতের উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য তার প্রাণে অথবা তার সম্পত্তিতে ঝুলন্ত রয়েছে। এই দুটোর যে কোনোটিই গ্রহণের তাদের স্বাধীনতা রয়েছে। কাজেই যখন এই দুটির একটি হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন অপরটি নিশ্চিতভাবে প্রাপ্য হবে।
৩. অপরাধী ও অপরাধের শিকার বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কোনো আপোষ হলে।
কিসাস বাস্তবয়নে আদালতের অধিকার
আগেই বলা হয়েছে যে, কিসাস দাবি করা নিহতের উত্তরাধিকারীর অধিকার। তবে উত্তরাধিকারীর সেই অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা বা তাকে সেই অধিকার পাওয়ার সুযোগ দেয়া আদালতের অধিকার।
কুরতুবি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে কিসাস যে শাসক ব্যতীত কেউ কার্যকর করতে পারেনা, তাতে কোনোই মতভেদ নেই। তার উপর কিসাস কার্যকর করার ও হুদুদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ সকল মুমিনের কাছ থেকে কিসাস দাবি করেছেন। তাছাড়া সকল মুমিন কিসাসের উপর একমত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে, এটাও সম্ভব নয়। তাই কিসাস ও হুদুদ বাস্তবায়নে তারা শাসককে নিজেদের স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছে। এর কারণ আল্লামা সাওরি তাফসীরে জালালাইনের টীকায় লিখেছেন। সেটি হলো: "অতপর যখন প্রমাণিত হলো যে, ইচ্ছাকৃত হত্যা একটা আগ্রাসন, তখন শরিয়ত সম্মত শাসকের কর্তব্য নিহতের উত্তরাধিকারীকে হত্যাকারীর উপর ক্ষমতা প্রদান করা, যাতে সে হত্যাকারীকে হত্যা করা, ক্ষমা করা বা দিয়াত আদায় করা- এই তিনটের যেটি চাইবে,
📄 প্রাণহানির চেয়ে লঘুস্তর অপরাধে কিসাসের শর্তাবলি
শাসক তাই করবে। তবে শাসকের অনুমতি ব্যতিরেকে হত্যাকারীর উপর সর্বময় কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা নিহতের উত্তরাধিকারীর জন্য বৈধ নয়। কেননা তাতে সমাজে বিশৃংখলা ও বিপর্যয় ঘটে যাবে।"
শাসক ফায়সালা প্রদানের আগে সে যদি হত্যাকারীকে হত্যা করে, তবে তাকে তাযীর করা হবে। যে অস্ত্র দ্বারা কিসাস কার্যকর করা হবে, তা পরিদর্শন করা শাসকের কর্তব্য। যাতে তাকে মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট দেয়া না হয়। সুষ্ঠুভাবে কিসাস কার্যকর করতে পারে, এমন কাউকে নিয়োগ দেয়া তার কর্তব্য। এজন্য প্রদেয় পারিশ্রমিক বাইতুল মাল (সরকারি কোষাগার) থেকে দেয়া হবে। (নিহতের যদি কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে কিসাসের বিষয়টি শাসকের দায়িত্বে ন্যস্ত হবে। তিনি বিষয়টির এমনভাবে নিষ্পত্তি করবেন, যাতে মুসলমানদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়। তিনি চাইলে কিসাস নিবেন, নচেত অর্থের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেবেন। অর্থ ব্যতিরেকে ক্ষমা করার অধিকার তার নেই। কেননা এ অধিকার তার নয়, এটা মুসলমানদের।)
নিহতের উত্তরাধিকারী যখন নিখোঁজ থাকে ইবনে কুদামা বলেন, নিহতের উত্তরাধিকারী ব্যতীত অন্য কেউ যদি হত্যাকারীকে হত্যা করে, তাহলে তার হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে এবং প্রথম হত্যাকারীর উত্তরাধিকারীরা দিয়াত পাবে। এটা ইমাম শাফেয়ির মত। আর হাসান ও মালেক বলেন হত্যাকারীর হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে এবং প্রথম নিহতের বাবদে দিয়াত বাতিল হবে। কেননা তার আর প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ নেই। কাতাদা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, দ্বিতীয় হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকরী হবেনা। কেননা সে যাকে হত্যা করেছে, তাকে হত্যা করা বৈধ। কাজেই তাকে হত্যার কারণে কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। কিন্তু অধিকাংশ আলেমের মতে, হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কারণ তার হত্যার কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়নি।' আর নিহতের উত্তরাধিকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। তাই তাকে হত্যার জন্য কিসাস প্রযোজ্য হবে।
কিসাস নিয়ে বিতর্ক মৃতুদণ্ড নিয়ে ইদানিং বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। বহু লেখক, দার্শনিক ও আইনবিদ এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে রুশো, বেন্টম বোকারিয়া প্রমুখ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। কেউ কেউ একে সমর্থন করেছেন। আবার কেউবা এর বিরোধিতা করেছেন ও বাতিল করার দাবি তুলেছেন। যারা একে বাতিল করার দাবি তুলেছেন তাদের যুক্তি হলো:
এক. শাস্তি হলো এমন একটি অধিকার যা রাষ্ট্র তার লালিত সমাজের স্বার্থে ও তার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে সংরক্ষণ করে। আর সমাজ ব্যক্তিকে জীবন দান করেনি যে, তার বাজেয়াপ্ত করার হুকুম জারি করতে পারবে।
দুই. কখনো কখনো দুর্ভাগ্যবশত এবং পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিও ভুলক্রমে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকে। তখন এই ভুল সংশোধনের কোনো উপায় থাকেনা। যাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে, তাকে আয়ু ফিরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ থাকেনা।
তিন. এটা একটা নিষ্ঠুর অবিচারমূলক দণ্ড।
চার. এটা জরুরি বা অপরিহার্য নয়। কেননা যেসব অপরাধের জন্য এ দণ্ড দেয়া হয়, তা এ দণ্ডের প্রভাবে হ্রাস পায় এমন কোনো প্রমাণ নেই।
শাসক তাই করবে। তবে শাসকের অনুমতি ব্যতিরেকে হত্যাকারীর উপর সর্বময় কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা নিহতের উত্তরাধিকারীর জন্য বৈধ নয়। কেননা তাতে সমাজে বিশৃংখলা ও বিপর্যয় ঘটে যাবে।"
শাসক ফায়সালা প্রদানের আগে সে যদি হত্যাকারীকে হত্যা করে, তবে তাকে তাযীর করা হবে। যে অস্ত্র দ্বারা কিসাস কার্যকর করা হবে, তা পরিদর্শন করা শাসকের কর্তব্য। যাতে তাকে মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট দেয়া না হয়। সুষ্ঠুভাবে কিসাস কার্যকর করতে পারে, এমন কাউকে নিয়োগ দেয়া তার কর্তব্য। এজন্য প্রদেয় পারিশ্রমিক বাইতুল মাল (সরকারি কোষাগার) থেকে দেয়া হবে। (নিহতের যদি কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে কিসাসের বিষয়টি শাসকের দায়িত্বে ন্যস্ত হবে। তিনি বিষয়টির এমনভাবে নিষ্পত্তি করবেন, যাতে মুসলমানদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়। তিনি চাইলে কিসাস নিবেন, নচেত অর্থের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেবেন। অর্থ ব্যতিরেকে ক্ষমা করার অধিকার তার নেই। কেননা এ অধিকার তার নয়, এটা মুসলমানদের।)
নিহতের উত্তরাধিকারী যখন নিখোঁজ থাকে ইবনে কুদামা বলেন, নিহতের উত্তরাধিকারী ব্যতীত অন্য কেউ যদি হত্যাকারীকে হত্যা করে, তাহলে তার হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে এবং প্রথম হত্যাকারীর উত্তরাধিকারীরা দিয়াত পাবে। এটা ইমাম শাফেয়ির মত। আর হাসান ও মালেক বলেন হত্যাকারীর হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে এবং প্রথম নিহতের বাবদে দিয়াত বাতিল হবে। কেননা তার আর প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ নেই। কাতাদা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, দ্বিতীয় হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকরী হবেনা। কেননা সে যাকে হত্যা করেছে, তাকে হত্যা করা বৈধ। কাজেই তাকে হত্যার কারণে কিসাস প্রযোজ্য হবেনা। কিন্তু অধিকাংশ আলেমের মতে, হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কারণ তার হত্যার কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়নি।' আর নিহতের উত্তরাধিকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। তাই তাকে হত্যার জন্য কিসাস প্রযোজ্য হবে।
কিসাস নিয়ে বিতর্ক মৃতুদণ্ড নিয়ে ইদানিং বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। বহু লেখক, দার্শনিক ও আইনবিদ এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে রুশো, বেন্টম বোকারিয়া প্রমুখ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। কেউ কেউ একে সমর্থন করেছেন। আবার কেউবা এর বিরোধিতা করেছেন ও বাতিল করার দাবি তুলেছেন। যারা একে বাতিল করার দাবি তুলেছেন তাদের যুক্তি হলো:
এক. শাস্তি হলো এমন একটি অধিকার যা রাষ্ট্র তার লালিত সমাজের স্বার্থে ও তার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে সংরক্ষণ করে। আর সমাজ ব্যক্তিকে জীবন দান করেনি যে, তার বাজেয়াপ্ত করার হুকুম জারি করতে পারবে।
দুই. কখনো কখনো দুর্ভাগ্যবশত এবং পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিও ভুলক্রমে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকে। তখন এই ভুল সংশোধনের কোনো উপায় থাকেনা। যাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে, তাকে আয়ু ফিরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ থাকেনা।
তিন. এটা একটা নিষ্ঠুর অবিচারমূলক দণ্ড।
চার. এটা জরুরি বা অপরিহার্য নয়। কেননা যেসব অপরাধের জন্য এ দণ্ড দেয়া হয়, তা এ দণ্ডের প্রভাবে হ্রাস পায় এমন কোনো প্রমাণ নেই।
📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাস
পক্ষান্তরে যারা মৃত্যুদণ্ড চালু রাখার পক্ষপাতি, তারা এসব যুক্তির জবাব দিয়েছেন:
প্রথম যুক্তি: "সমাজ ব্যক্তিকে জীবন দান করেনি বিধায় জীবন হরণের অধিকার তার নেই।” এর জবাবে তারা বলেন, সমাজ মানুষের স্বাধীনতা সৃষ্টি করে দেয়নি, তথাপি সে অন্যান্য শাস্তিতে এই স্বাধীনতা হরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাছাড়া মৃত্যুদণ্ড শুধু যে, অপরাধীর অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত তা নয়, উপরন্তু তা সমাজের বেঁচে থাকার অধিকারের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করে। সমাজের অস্তিত্ব ও শান্তি শৃংখলা বিপন্নকারী প্রতিটি সদস্যকে ছাঁটাই ও নির্মূল করার মাধ্যমে সমাজের শান্তি শৃংখলা ও অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মানুষের প্রাণ রক্ষা ও সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য।
দ্বিতীয় যুক্তি: "মৃত্যুদণ্ড যখন অন্যায় ও অবিচারমূলকভাবে দেয়া হয় তখন তা মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। অথচ তার প্রতিকার বা সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকেনা।" এর জবাবে তারা বলেন, অন্যান্য শাস্তিতেও ভুলভ্রান্তির আশংকা থাকে ভুলক্রম যা কার্যকর হয়ে যায়, তার প্রতিকারের কোনো উপায় থাকেনা। অবশ্য একথাও সত্য যে, ভুলক্রমে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল। কেননা বিচারকগণ সচরাচর এই শাস্তি প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন। অভিযোগের পক্ষে অকাট্য সাক্ষ প্রমাণ না থাকলে এই চরম শাস্তি দেয়া থেকে তারা বিরত থাকেন।
তৃতীয়ত: "মৃত্যুদণ্ড অবিচারমূলক” এ বক্তব্যের জবাবে তারা বলেন, কর্ম ও কর্মফল একই প্রকৃতির আর মৃত্যুদণ্ড নিষ্প্রয়োজন-এ যুক্তি আদৌ ধোপে টেকেনা। কারণ অপরাধ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শাস্তি অপরাধ দমনের একটি হিতকর উপকরণ। অন্য কথায়, সমাজকে অপরাধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করাই শাস্তির উদ্দেশ্য। আর এ উদ্দেশ্যের সফলতার জন্য শাস্তি অপরাধের ভয়াবহতার সমানুপাতিক হোক-এটাই কাঙ্ক্ষিত। কেননা অপরাধ অপরাধীর মনের একটা কদর্য বাসনা চরিতার্থ করে। একমাত্র শাস্তির ভীতিই তাকে এই বাসনা চরিতার্থ করা থেকে ফিরিয়ে রাখে। শাস্তি যখন অপরাধের সমানুপাতিক হয়, তখনই তা অপরাধীকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে।। কেননা এটা তার সামনে দুটো জিনিস পাশাপাশি তুলে ধরে: ঈপ্সিত অপরাধ ঘটাতে পা বাড়ানো এবং তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি মাথা পেতে নেয়া। শাস্তি যখন অপরাধ থেকে বিরত রাখার যোগ্য হয়, কেবল তখনই শাস্তির ভীতি তার অপরাধের দিকে পা বাড়ানো প্রতিহত করতে পারে। এই দু'টি মতামতের আলোকেই পৃথিবীর অধিকাংশ আইন মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতের কিসাস
প্রাণহানিতে যেমন কিসাস প্রতিষ্ঠিত, তেমনি প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতেও কিসাস রয়েছে। এটা দুই ধরনের: ১. অঙ্গ প্রতঙ্গের উপর আঘাত, ২. ক্ষত বা জখম।
তাওরাতে কিসাসের যে ব্যাপক বিধান দেয়া ছিলো, কুরআন তা পুরোপুরিভাবে উদ্ধৃত করেছে। আল্লাহ সূরা মায়েদার ৪৫ নং আয়াতে বলেন; وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنْفَ بِالْأَنْفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ
পক্ষান্তরে যারা মৃত্যুদণ্ড চালু রাখার পক্ষপাতি, তারা এসব যুক্তির জবাব দিয়েছেন:
প্রথম যুক্তি: "সমাজ ব্যক্তিকে জীবন দান করেনি বিধায় জীবন হরণের অধিকার তার নেই।” এর জবাবে তারা বলেন, সমাজ মানুষের স্বাধীনতা সৃষ্টি করে দেয়নি, তথাপি সে অন্যান্য শাস্তিতে এই স্বাধীনতা হরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাছাড়া মৃত্যুদণ্ড শুধু যে, অপরাধীর অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত তা নয়, উপরন্তু তা সমাজের বেঁচে থাকার অধিকারের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করে। সমাজের অস্তিত্ব ও শান্তি শৃংখলা বিপন্নকারী প্রতিটি সদস্যকে ছাঁটাই ও নির্মূল করার মাধ্যমে সমাজের শান্তি শৃংখলা ও অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মানুষের প্রাণ রক্ষা ও সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য।
দ্বিতীয় যুক্তি: "মৃত্যুদণ্ড যখন অন্যায় ও অবিচারমূলকভাবে দেয়া হয় তখন তা মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। অথচ তার প্রতিকার বা সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকেনা।" এর জবাবে তারা বলেন, অন্যান্য শাস্তিতেও ভুলভ্রান্তির আশংকা থাকে ভুলক্রম যা কার্যকর হয়ে যায়, তার প্রতিকারের কোনো উপায় থাকেনা। অবশ্য একথাও সত্য যে, ভুলক্রমে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল। কেননা বিচারকগণ সচরাচর এই শাস্তি প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন। অভিযোগের পক্ষে অকাট্য সাক্ষ প্রমাণ না থাকলে এই চরম শাস্তি দেয়া থেকে তারা বিরত থাকেন।
তৃতীয়ত: "মৃত্যুদণ্ড অবিচারমূলক” এ বক্তব্যের জবাবে তারা বলেন, কর্ম ও কর্মফল একই প্রকৃতির আর মৃত্যুদণ্ড নিষ্প্রয়োজন-এ যুক্তি আদৌ ধোপে টেকেনা। কারণ অপরাধ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শাস্তি অপরাধ দমনের একটি হিতকর উপকরণ। অন্য কথায়, সমাজকে অপরাধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করাই শাস্তির উদ্দেশ্য। আর এ উদ্দেশ্যের সফলতার জন্য শাস্তি অপরাধের ভয়াবহতার সমানুপাতিক হোক-এটাই কাঙ্ক্ষিত। কেননা অপরাধ অপরাধীর মনের একটা কদর্য বাসনা চরিতার্থ করে। একমাত্র শাস্তির ভীতিই তাকে এই বাসনা চরিতার্থ করা থেকে ফিরিয়ে রাখে। শাস্তি যখন অপরাধের সমানুপাতিক হয়, তখনই তা অপরাধীকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে।। কেননা এটা তার সামনে দুটো জিনিস পাশাপাশি তুলে ধরে: ঈপ্সিত অপরাধ ঘটাতে পা বাড়ানো এবং তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি মাথা পেতে নেয়া। শাস্তি যখন অপরাধ থেকে বিরত রাখার যোগ্য হয়, কেবল তখনই শাস্তির ভীতি তার অপরাধের দিকে পা বাড়ানো প্রতিহত করতে পারে। এই দু'টি মতামতের আলোকেই পৃথিবীর অধিকাংশ আইন মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতের কিসাস
প্রাণহানিতে যেমন কিসাস প্রতিষ্ঠিত, তেমনি প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর আঘাতেও কিসাস রয়েছে। এটা দুই ধরনের: ১. অঙ্গ প্রতঙ্গের উপর আঘাত, ২. ক্ষত বা জখম।
তাওরাতে কিসাসের যে ব্যাপক বিধান দেয়া ছিলো, কুরআন তা পুরোপুরিভাবে উদ্ধৃত করেছে। আল্লাহ সূরা মায়েদার ৪৫ নং আয়াতে বলেন; وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنْفَ بِالْأَنْفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ
📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাসের শর্তাবলি
فوجদারী অপরাধ (হত্যা জখম) ৪৩১ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۖ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
"তাদের জন্য তাতে (তাওরাতে) বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং অনুরূপভাবে সকল জখমের বদলে জখম। তবে কেউ তা মাফ করে দিলে তা তার জন্য গুনাহর কাফফারা হবে। যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তদনুযায়ী বিধান দেয় না তারা যালিম।"
অর্থাৎ আল্লাহ তাওরাতে ইহুদীদের উপর বিধান দিয়েছিলেন যে, কেউ যখন কাউকে হত্যা করে, তখন তাকে হত্যা করে প্রাণের বদলে প্রাণ সংহার করা হবে। আর কেউ কারো চোখ নষ্ট করে দিয়ে থাকলে তার চোখ নষ্ট করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ছোট চোখ ও বড় চোখ এবং শিশুর চোখ ও বুড়োর চোখে কোনো ভোদাভেদ করা হবেনা। আর নাকের বদলে নাক ও কানের বদলে কান কাটা হবে। আর দাঁত ভাঙ্গ বা উপড়ানোর শাস্তিস্বরূপ অপরাধীর দাঁত ভাঙ্গা বা উপড়ানো হবে। অপরাধীর দাঁত আহতের দাঁতের চেয়ে ছোট হোক বা বড় হোক, তাতে কিছু এসে যায়না। আর অন্যান্য যাবতীয় জখমের কিসাসও যতটা সম্ভব সমভাবে আদায় করা হবে।
বস্তুত তাওরাতের এই বিধান যদিও আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য নির্ধারিত ছিলো, তবুও তা আমাদের জন্যও বহাল রয়েছে। কেননা কুরআনে এটা উদ্ধৃত করা ছাড়াও রসূলুল্লাহ সা. নিজেও এটা বহাল বলে ঘোষণা করেছেন। বুখারি ও মুসলিম আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: "রুবাই বিনতে নাদার তার এক দাসীর দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিল। তখন তাদের উপর জরিমানা ধার্য করা হলো। কিন্তু দাসীটির পরিবার পরিজন জরিমানা প্রত্যাখ্যান করে কিসাস না নিয়ে ছাড়বেনা বলে জানালো। রুবাই এর ভাই আনাস রসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললো, "হে রসূলুল্লাহ সা., রুবাইয়ের দাঁত ভাঙ্গা হবে নাকি? আল্লাহর কসম, ওর দাঁত ভাঙ্গবেন না।" রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে আনাস, কিসাস হলো আল্লাহর বিধান। এ পর্যায়ে দাসীর পরিবার ক্ষমা ঘোষণা করলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: আল্লাহর কোনো কোনো বান্দা এমন রয়েছে, যারা আল্লাহর নামে কসম খেলে আল্লাহ নিজেই কসম পূরণ করেন।"
কিসাসের এই গোটা বিধান ইচ্ছাকৃত অপরাধেই প্রযোজ্য। ভুলবশত বা অনিচ্ছাবশত ঘটে যাওয়া জখমে দিয়াতই নির্ধারিত।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কিসাসের শর্তাবলি
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে অপরাধীর জন্যে নিম্নোক্ত শর্তাবলি প্রযোজ্য-
১. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। (সর্বনিম্ন পনেরো বা আঠারো বছর বয়স হওয়া অথবা স্বপ্নদোষ হওয়াই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। গোঁফ-দাড়ি ও নিম্নাঙ্গের পশম গজানো নিয়ে মতভেদ আছে।)
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করা।
৪. অপরাধের শিকার ব্যক্তির আভিজাত্য ও সামাজিক মর্যাদায় অপরাধীর সমকক্ষ হওয়া। দাসত্ব বা স্বাধীনতা এবং ইসলাম বা কুফরীর মাপকাঠি দিয়েই এই সমকক্ষতা নির্ণয় করা হবে। কাজেই কোনো স্বাধীন মানুষ কোনো গোলামকে এবং কোনো মুসলমান অমুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করলে কিসাস আদায় করা হবেনা। কেননা উভয়ের মধ্যে সমকক্ষতা অনুপস্থিত। কারণ গোলামের রক্ত স্বাধীনের রক্ত অপেক্ষা এবং অমুসলিমের রক্ত মুসলমানের রক্ত অপেক্ষা নিম্নমানের। এসব ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব নয় বলে এর বিকল্প দিয়াত ওয়াজিব। আর যখন গোলাম স্বাধীনকে ও অমুসলিম মুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করে, তখন অপরাধীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে। হানাফিদের মতে, অঙ্গহানির ক্ষেত্রে মুসলমান ও কাফেরের মাঝে কিসাস ওয়াজিব হওয়ায় কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা আরো বলেন, নারী ও পুরুষের মাঝে সংঘটিত অপরাধে প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কোনো কিসাস নেই।
অংগ-প্রত্যংগের কিসাস
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাস সংক্রান্ত মূলনীতি হলো, যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি আছে, তাতে কিসাস আছে, যেমন হাতের কনুই ও কবজি। আর যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি নেই, তাতে কিসাস নেই। কেননা যে অঙ্গে গ্রন্থি আছে, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব। আর যে অঙ্গে গ্রন্থি নেই, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব নয়। যেমন কোনো অপরাধী গোড়া থেকে কারো আঙ্গুল ও কব্জি বা কনুই থেকে হাত কেটে নিলে, কিংবা গিরা থেকে পা কেটে নিলে বা চোখ উপড়ে নিলে, কান বা নাক কেটে নিলে, দাঁত উপড়ে নিলে, পুরুষাঙ্গ কেটে নিলে বা অণ্ডকোষদ্বয় কেটে নিলে, ঠিক সমপরিমাণে কিসাস তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।
অংগ-প্রত্যংগের কিসাসের শর্তাবলি
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাসের জন্য তিনটে শর্ত পূরণ জরুরি-
১. অবিচারের আশংকা থেকে নিরাপদ হওয়া। যেমন গ্রন্থি বা সন্ধিস্থল থেকে কাটা কিংবা এমন অঙ্গ থেকে কাটা, যার নির্দিষ্ট সীমা আছে, ইতিপূর্বে এর একাধিক উদাহরণ দেয়া হয়েছে। সুতরাং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভেঙ্গে দিলে, বা পেট ফেড়ে দিলে বা হাতের বাহুর একাংশ আহত করলে কিসাস হবেনা। কেননা এসব জিনিসে কিসাস আদায় করলে অবিচার ও অসমতা থেকে নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা নেই।
২. নাম ও অবস্থানে সাদৃশ্য: এ কারণে বাম হাতের বদলে ডান হাত, ডান হাতের বদলে বাম হাত, বুড়ো আঙ্গুলের বদলে শাহাদাত আঙ্গুল, বা শাহাদাত আঙ্গুলের বদলে বুড়ো আঙ্গুল কাটা হবেনা। কেননা এতে নামের ক্ষেত্রে সমতা বজায় থাকেনা। উভয় পক্ষ সম্মত হলেও অতিরিক্ত অংশের বদলে মূল অংশ নেয়া যাবেনা। কেননা এতে অঙ্গের অবস্থান ও উপকারিতার দিক দিয়ে সমতা বজায় থাকবেনা। তবে অবস্থান ও প্রকৃতিগতভাবে সমতা থাকলে অতিরিক্ত গ্রহণযোগ্য হবে।
৩. আক্রমণকারী ও আক্রান্তের অঙ্গের পূর্ণতা ও সুস্থতার দিক দিয়ে সমতা। তাই অবশ অঙ্গের বদলে সচেতন অঙ্গ কিংবা যে হাতে সবক'টা আঙ্গুল নেই, তার বদলে পূর্ণাঙ্গ হাত কাটা যাবেনা। তবে এর বিপরীত করা যাবে। সুস্থ হাতের বদলে অবশ হাত কাটা যাবে।
فوجদারী অপরাধ (হত্যা জখম) ৪৩১ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۖ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
"তাদের জন্য তাতে (তাওরাতে) বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং অনুরূপভাবে সকল জখমের বদলে জখম। তবে কেউ তা মাফ করে দিলে তা তার জন্য গুনাহর কাফফারা হবে। যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তদনুযায়ী বিধান দেয় না তারা যালিম।"
অর্থাৎ আল্লাহ তাওরাতে ইহুদীদের উপর বিধান দিয়েছিলেন যে, কেউ যখন কাউকে হত্যা করে, তখন তাকে হত্যা করে প্রাণের বদলে প্রাণ সংহার করা হবে। আর কেউ কারো চোখ নষ্ট করে দিয়ে থাকলে তার চোখ নষ্ট করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ছোট চোখ ও বড় চোখ এবং শিশুর চোখ ও বুড়োর চোখে কোনো ভোদাভেদ করা হবেনা। আর নাকের বদলে নাক ও কানের বদলে কান কাটা হবে। আর দাঁত ভাঙ্গ বা উপড়ানোর শাস্তিস্বরূপ অপরাধীর দাঁত ভাঙ্গা বা উপড়ানো হবে। অপরাধীর দাঁত আহতের দাঁতের চেয়ে ছোট হোক বা বড় হোক, তাতে কিছু এসে যায়না। আর অন্যান্য যাবতীয় জখমের কিসাসও যতটা সম্ভব সমভাবে আদায় করা হবে।
বস্তুত তাওরাতের এই বিধান যদিও আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য নির্ধারিত ছিলো, তবুও তা আমাদের জন্যও বহাল রয়েছে। কেননা কুরআনে এটা উদ্ধৃত করা ছাড়াও রসূলুল্লাহ সা. নিজেও এটা বহাল বলে ঘোষণা করেছেন। বুখারি ও মুসলিম আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: "রুবাই বিনতে নাদার তার এক দাসীর দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিল। তখন তাদের উপর জরিমানা ধার্য করা হলো। কিন্তু দাসীটির পরিবার পরিজন জরিমানা প্রত্যাখ্যান করে কিসাস না নিয়ে ছাড়বেনা বলে জানালো। রুবাই এর ভাই আনাস রসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললো, "হে রসূলুল্লাহ সা., রুবাইয়ের দাঁত ভাঙ্গা হবে নাকি? আল্লাহর কসম, ওর দাঁত ভাঙ্গবেন না।" রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে আনাস, কিসাস হলো আল্লাহর বিধান। এ পর্যায়ে দাসীর পরিবার ক্ষমা ঘোষণা করলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: আল্লাহর কোনো কোনো বান্দা এমন রয়েছে, যারা আল্লাহর নামে কসম খেলে আল্লাহ নিজেই কসম পূরণ করেন।"
কিসাসের এই গোটা বিধান ইচ্ছাকৃত অপরাধেই প্রযোজ্য। ভুলবশত বা অনিচ্ছাবশত ঘটে যাওয়া জখমে দিয়াতই নির্ধারিত।
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কিসাসের শর্তাবলি
প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে অপরাধীর জন্যে নিম্নোক্ত শর্তাবলি প্রযোজ্য-
১. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। (সর্বনিম্ন পনেরো বা আঠারো বছর বয়স হওয়া অথবা স্বপ্নদোষ হওয়াই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। গোঁফ-দাড়ি ও নিম্নাঙ্গের পশম গজানো নিয়ে মতভেদ আছে।)
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করা।
৪. অপরাধের শিকার ব্যক্তির আভিজাত্য ও সামাজিক মর্যাদায় অপরাধীর সমকক্ষ হওয়া। দাসত্ব বা স্বাধীনতা এবং ইসলাম বা কুফরীর মাপকাঠি দিয়েই এই সমকক্ষতা নির্ণয় করা হবে। কাজেই কোনো স্বাধীন মানুষ কোনো গোলামকে এবং কোনো মুসলমান অমুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করলে কিসাস আদায় করা হবেনা। কেননা উভয়ের মধ্যে সমকক্ষতা অনুপস্থিত। কারণ গোলামের রক্ত স্বাধীনের রক্ত অপেক্ষা এবং অমুসলিমের রক্ত মুসলমানের রক্ত অপেক্ষা নিম্নমানের। এসব ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব নয় বলে এর বিকল্প দিয়াত ওয়াজিব। আর যখন গোলাম স্বাধীনকে ও অমুসলিম মুসলমানকে আহত বা অঙ্গহানি করে, তখন অপরাধীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে। হানাফিদের মতে, অঙ্গহানির ক্ষেত্রে মুসলমান ও কাফেরের মাঝে কিসাস ওয়াজিব হওয়ায় কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা আরো বলেন, নারী ও পুরুষের মাঝে সংঘটিত অপরাধে প্রাণহানির চেয়ে লঘুতর অপরাধে কোনো কিসাস নেই।
অংগ-প্রত্যংগের কisass
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাস সংক্রান্ত মূলনীতি হলো, যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি আছে, তাতে কিসাস আছে, যেমন হাতের কনুই ও কবজি। আর যে অঙ্গের সন্ধি বা গ্রন্থি নেই, তাতে কিসাস নেই। কেননা যে অঙ্গে গ্রন্থি আছে, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব। আর যে অঙ্গে গ্রন্থি নেই, তাতে সমতা রক্ষা সম্ভব নয়। যেমন কোনো অপরাধী গোড়া থেকে কারো আঙ্গুল ও কব্জি বা কনুই থেকে হাত কেটে নিলে, কিংবা গিরা থেকে পা কেটে নিলে বা চোখ উপড়ে নিলে, কান বা নাক কেটে নিলে, দাঁত উপড়ে নিলে, পুরুষাঙ্গ কেটে নিলে বা অণ্ডকোষদ্বয় কেটে নিলে, ঠিক সমপরিমাণে কিসাস তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।
অংগ-প্রত্যংগের কিসাসের শর্তাবলি
অঙ্গ-প্রতঙ্গের কিসাসের জন্য তিনটে শর্ত পূরণ জরুরি-
১. অবিচারের আশংকা থেকে নিরাপদ হওয়া। যেমন গ্রন্থি বা সন্ধিস্থল থেকে কাটা কিংবা এমন অঙ্গ থেকে কাটা, যার নির্দিষ্ট সীমা আছে, ইতিপূর্বে এর একাধিক উদাহরণ দেয়া হয়েছে। সুতরাং দাঁত ব্যতীত অন্য কোনো হাড় ভেঙ্গে দিলে, বা পেট ফেড়ে দিলে বা হাতের বাহুর একাংশ আহত করলে কিসাস হবেনা। কেননা এসব জিনিসে কিসাস আদায় করলে অবিচার ও অসমতা থেকে নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা নেই।
২. নাম ও অবস্থানে সাদৃশ্য: এ কারণে বাম হাতের বদলে ডান হাত, ডান হাতের বদলে বাম হাত, বুড়ো আঙ্গুলের বদলে শাহাদাত আঙ্গুল, বা শাহাদাত আঙ্গুলের বদলে বুড়ো আঙ্গুল কাটা হবেনা। কেননা এতে নামের ক্ষেত্রে সমতা বজায় থাকেনা। উভয় পক্ষ সম্মত হলেও অতিরিক্ত অংশের বদলে মূল অংশ নেয়া যাবেনা। কেননা এতে অঙ্গের অবস্থান ও উপকারিতার দিক দিয়ে সমতা বজায় থাকবেনা। তবে অবস্থান ও প্রকৃতিগতভাবে সমতা থাকলে অতিরিক্ত গ্রহণযোগ্য হবে।
৩. আক্রমণকারী ও আক্রান্তের অঙ্গের পূর্ণতা ও সুস্থতার দিক দিয়ে সমতা। তাই অবশ অঙ্গের বদলে সচেতন অঙ্গ কিংবা যে হাতে সবক'টা আঙ্গুল নেই, তার বদলে পূর্ণাঙ্গ হাত কাটা যাবেনা। তবে এর বিপরীত করা যাবে। সুস্থ হাতের বদলে অবশ হাত কাটা যাবে।