📄 কিসাস বাস্তবায়নে আদালত এর অধিকার
ও হানাফিগণ এ মতের বিরোধী। তারা বলেন, হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। আর যে নিহতকে ধরে রেখেছিল, তাকে ধরে রাখার শাস্তিস্বরূপ আমৃত্যু বন্দী করে রাখা হবে। কেননা দার কুতনিতে উবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে জাপটে ধরে রাখে এবং অপর একজন তাকে হত্যা করে, তখন যে হত্যা করেছে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে ধরে রেখেছে তাকে আটক করে রাখা হবে।"
ইমাম শাফেয়ি বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি একজনকে ধরে রেখেছিল এবং অপর একজন তাকে হত্যা করেছিল। এই হত্যার ঘটনায় আলী রা. ফায়সালা ঘোষণা করেন: "হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে এবং অপরজনকে তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে বন্দী রাখা হবে।"
কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে
কিসাস সাব্যস্ত হবে নিম্নোক্ত উপায়সমূহের যে কোনো একটি দ্বারা-
এক. স্বীকারোক্তি দ্বারা, কেননা স্বীকারোক্তিকে শ্রেষ্ঠতম প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়। ওয়ায়েল বিন হাজার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বসেছিলাম। সহসা এক ব্যক্তি অপর একজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ধরে নিয়ে এলো। সে বললো, হে রসূলুল্লাহ সা., এই ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে।" সে আরো বললো, সে যদি স্বীকার না করে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি কি তাকে হত্যা করেছো? সে বললো, হ্যাঁ, আমি তাকে হত্যা করেছি।".... -মুসলিম, নাসায়ী।
দুই. দু'জন সত্যবাদী পুরুষের সাক্ষ্য দ্বারা কিসাস সাব্যস্ত হবে। রাফে বিন খাদীজ রা. বর্ণনা করেন, খয়বরে জনৈক আনসারী নিহত হলো। তখন তার উত্তরাধিকারীরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট গিয়ে ঘটনা জানালো। তিনি বললেন, তোমাদের সাথীর নিহত হওয়ার ব্যাপারে দু'জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে পাওয়া যাবে কি?.... -আবু দাউদ।
উবনে কুদামা আল মুগনিতে বলেছেন, হত্যার মামলায় একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলার সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা, একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বাদীর শপথও গৃহীত হবেনা। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই। কেননা কিসাস হচ্ছে একটা অপরাধের শাস্তিস্বরূপ একজন মানুষকে মৃত্যু দণ্ড দেয়ার নাম। তাই হদের ন্যায় এতেও দু'জন সৎ মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণের শর্ত পূরণ করে সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে, চাই কিসাস কোনো মুসলমান, কাফের, গোলাম বা স্বাধীন যার উপরই কার্যকর হোক না কেন। কেননা শাস্তি যাতে রহিত বা বাতিল না হয়, সেই জন্যই সতর্কতা প্রয়োজন।
অপরাধীর উপর কিসাস কার্যকর করার শর্তাবলি
কিসাস কার্যকর করার জন্য তিনটে শর্ত রয়েছে-
১. কিসাসের দাবিদারের বাদীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
২. দাবিদার যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগল হয় এবং তার পিতা, অভিভাবক বা শাসক তার প্রতিনিধি না হয়, তাহলে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবিদার প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল দাবিদার সুস্থ মস্তিস্ক না হওয়া পর্যন্ত অপরাধীকে আটক রাখা হবে। মুয়াবিয়া রা. হাদবা
ও হানাফিগণ এ মতের বিরোধী। তারা বলেন, হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। আর যে নিহতকে ধরে রেখেছিল, তাকে ধরে রাখার শাস্তিস্বরূপ আমৃত্যু বন্দী করে রাখা হবে। কেননা দার কুতনিতে উবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে জাপটে ধরে রাখে এবং অপর একজন তাকে হত্যা করে, তখন যে হত্যা করেছে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে ধরে রেখেছে তাকে আটক করে রাখা হবে।"
ইমাম শাফেয়ি বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি একজনকে ধরে রেখেছিল এবং অপর একজন তাকে হত্যা করেছিল। এই হত্যার ঘটনায় আলী রা. ফায়সালা ঘোষণা করেন: "হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে এবং অপরজনকে তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে বন্দী রাখা হবে।"
কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে
কিসাস সাব্যস্ত হবে নিম্নোক্ত উপায়সমূহের যে কোনো একটি দ্বারা-
এক. স্বীকারোক্তি দ্বারা, কেননা স্বীকারোক্তিকে শ্রেষ্ঠতম প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়। ওয়ায়েল বিন হাজার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বসেছিলাম। সহসা এক ব্যক্তি অপর একজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ধরে নিয়ে এলো। সে বললো, হে রসূলুল্লাহ সা., এই ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে।" সে আরো বললো, সে যদি স্বীকার না করে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি কি তাকে হত্যা করেছো? সে বললো, হ্যাঁ, আমি তাকে হত্যা করেছি।".... -মুসলিম, নাসায়ী।
দুই. দু'জন সত্যবাদী পুরুষের সাক্ষ্য দ্বারা কিসাস সাব্যস্ত হবে। রাফে বিন খাদীজ রা. বর্ণনা করেন, খয়বরে জনৈক আনসারী নিহত হলো। তখন তার উত্তরাধিকারীরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট গিয়ে ঘটনা জানালো। তিনি বললেন, তোমাদের সাথীর নিহত হওয়ার ব্যাপারে দু'জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে পাওয়া যাবে কি?.... -আবু দাউদ।
উবনে কুদামা আল মুগনিতে বলেছেন, হত্যার মামলায় একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলার সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা, একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বাদীর শপথও গৃহীত হবেনা। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই। কেননা কিসাস হচ্ছে একটা অপরাধের শাস্তিস্বরূপ একজন মানুষকে মৃত্যু দণ্ড দেয়ার নাম। তাই হদের ন্যায় এতেও দু'জন সৎ মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণের শর্ত পূরণ করে সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে, চাই কিসাস কোনো মুসলমান, কাফের, গোলাম বা স্বাধীন যার উপরই কার্যকর হোক না কেন। কেননা শাস্তি যাতে রহিত বা বাতিল না হয়, সেই জন্যই সতর্কতা প্রয়োজন।
অপরাধীর উপর কিসাস কার্যকর করার শর্তাবলি
কিসাস কার্যকর করার জন্য তিনটে শর্ত রয়েছে-
১. কিসাসের দাবিদারের বাদীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
২. দাবিদার যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগল হয় এবং তার পিতা, অভিভাবক বা শাসক তার প্রতিনিধি না হয়, তাহলে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবিদার প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল দাবিদার সুস্থ মস্তিস্ক না হওয়া পর্যন্ত অপরাধীকে আটক রাখা হবে। মুয়াবিয়া রা. হাদবা
📄 নিহতের উত্তরাধিকারী যখন নিখোঁজ থাকে
ইবনে খাসরামকে নিহত ব্যক্তির ছেলে বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আটক রেখেছিলেন। এ ঘটনা সাহাবীদের জীবদ্দশায় ঘটেছিল এবং কেউ তাতে আপত্তি তোলেনি।
২. নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের সকলের কিসাস আদায়ে একমত হওয়া জরুরি। তাদের কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে চলবেনা। তাদের কেউ যদি অনুপস্থিত, অপ্রাপ্তবয়স্ক, কিংবা পাগল হয়, তাহলে অনুপস্থিতের প্রত্যাবর্তন, অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তি এবং পাগলের মস্তিষ্ক সুস্থ হওয়া ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা যার কোনো ব্যাপারে স্বাধীনতা রয়েছে, তার মত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার অন্য কারো নেই। কেননা তাতে তার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
আবু হানিফা বলেন, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা কিসাস আদায় করার অধিকারী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়োপ্রাপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন তাদের নেই। উত্তরাধিকারীদের কোনো একজনও ক্ষমা করে দিলে কিসাস রহিত হবে। কেননা কিসাস অবিভাজ্য।
৩. কিসাস অপরাধীকে অতিক্রম করে অন্য কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে আক্রান্ত না করে এমনভাবে কার্যকর করতে হবে। সুতরাং কিসাস যদি কোনো গর্ভবতী মহিলার উপর প্রযোজ্য হয়, তবে তার সন্তান প্রসব করা ও সন্তানকে দুধ পান করানো শেষ করার পূর্বে তাকে হত্যা করা যাবেনা। কেননা তাকে প্রসবের পূর্বে হত্যা করা হলে তার গর্ভস্থ সন্তানও মারা যাবে, আর তাকে দুধ পান করানোর পূর্বে হত্যা করা হলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতপর দুধ পান করানোর পর যদি কোনো ধাত্রী পাওয়া যায় তবে সন্তানকে তার কাছে সোপর্দ করে মহিলার উপর কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এখানে সন্তানের লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তার বিকল্প বিদ্যমান। আর দুধ পান করানো ও লালন পালনের জন্য বিকল্প যদি না পাওয়া যায়, তাহলে পুরো দু'বছর দুধ পান করানো পর্যন্ত তাকে সুযোগ দেয়া হবে।
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো মহিলা কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তখন সে গর্ভবতী হয়ে থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হবেনা। আর যখন কোনো মহিলা ব্যভিচার করে, তখন সে গর্ভবতী হয় থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে রজম (প্রস্তরাঘাত হত্যা) করা হবে না।" একইভাবে কোনো মহিলা কারো অঙ্গহানি ঘটালে তার উপরও সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত অঙ্গহানির কিসাস কার্যকর করা হবেনা। তবে এক্ষেত্রে দুধ পান করানো শর্ত নয়।
কিসাস কার্যকর করার সময়
কিসাস যদি উল্লিখিত উপায়গুলোর মধ্য হতে যে কোনো একটি উপায়ে সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং নিহতের উত্তরাধিকারীরা বয়োপ্রাপ্ত হয় ও কিসাসের দাবিদার হয়, তাহলে নিহতের উত্তরাধিকারীরা উপস্থিত হওয়া মাত্রই কিসাস কার্যকর করা হবে। তবে ইতোপূর্বেই যেমন বলেছি, গর্ভবতী মহিলার কিসাস তার সন্তান প্রসব পর্যন্ত বিলম্বিত করা হবে।
কিসাস কিসের দ্বারা কার্যকর করা হবে
কিসাসের মূল কথা হলো, হত্যাকারী যে পন্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, ঠিক সেই পন্থায় তাকেও হত্যা করতে হবে, কেননা ওটাই সাম্যের দাবি। তবে এ পন্থায় নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী
ইবনে খাসরামকে নিহত ব্যক্তির ছেলে বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আটক রেখেছিলেন। এ ঘটনা সাহাবীদের জীবদ্দশায় ঘটেছিল এবং কেউ তাতে আপত্তি তোলেনি।
২. নিহতের উত্তরাধিকারীদের সকলের কিসাস আদায়ে একমত হওয়া জরুরি। তাদের কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে চলবেনা। তাদের কেউ যদি অনুপস্থিত, অপ্রাপ্তবয়স্ক, কিংবা পাগল হয়, তাহলে অনুপস্থিতের প্রত্যাবর্তন, অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তি এবং পাগলের মস্তিষ্ক সুস্থ হওয়া ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা যার কোনো ব্যাপারে স্বাধীনতা রয়েছে, তার মত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার অন্য কারো নেই। কেননা তাতে তার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
আবু হানিফা বলেন, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা কিসাস আদায় করার অধিকারী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়োপ্রাপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন তাদের নেই। উত্তরাধিকারীদের কোনো একজনও ক্ষমা করে দিলে কিসাস রহিত হবে। কেননা কিসাস অবিভাজ্য।
৩. কিসাস অপরাধীকে অতিক্রম করে অন্য কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে আক্রান্ত না করে এমনভাবে কার্যকর করতে হবে। সুতরাং কিসাস যদি কোনো গর্ভবতী মহিলার উপর প্রযোজ্য হয়, তবে তার সন্তান প্রসব করা ও সন্তানকে দুধ পান করানো শেষ করার পূর্বে তাকে হত্যা করা যাবেনা। কেননা তাকে প্রসবের পূর্বে হত্যা করা হলে তার গর্ভস্থ সন্তানও মারা যাবে, আর তাকে দুধ পান করানোর পূর্বে হত্যা করা হলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতপর দুধ পান করানোর পর যদি কোনো ধাত্রী পাওয়া যায় তবে সন্তানকে তার কাছে সোপর্দ করে মহিলার উপর কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এখানে সন্তানের লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তার বিকল্প বিদ্যমান। আর দুধ পান করানো ও লালন পালনের জন্য বিকল্প যদি না পাওয়া যায়, তাহলে পুরো দু'বছর দুধ পান করানো পর্যন্ত তাকে সুযোগ দেয়া হবে।
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো মহিলা কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তখন সে গর্ভবতী হয়ে থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হবেনা। আর যখন কোনো মহিলা ব্যভিচার করে, তখন সে গর্ভবতী হয় থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে রজম (প্রস্তরাঘাত হত্যা) করা হবে না।" একইভাবে কোনো মহিলা কারো অঙ্গহানি ঘটালে তার উপরও সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত অঙ্গহানির কিসাস কার্যকর করা হবেনা। তবে এক্ষেত্রে দুধ পান করানো শর্ত নয়।
কিসাস কার্যকর করার সময়
কিসাস যদি উল্লিখিত উপায়গুলোর মধ্য হতে যে কোনো একটি উপায়ে সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং নিহতের উত্তরাধিকারীরা বয়োপ্রাপ্ত হয় ও কিসাসের দাবিদার হয়, তাহলে নিহতের উত্তরাধিকারীরা উপস্থিত হওয়া মাত্রই কিসাস কার্যকর করা হবে। তবে ইতোপূর্বেই যেমন বলেছি, গর্ভবতী মহিলার কিসাস তার সন্তান প্রসব পর্যন্ত বিলম্বিত করা হবে।
কিসাস কিসের দ্বারা কার্যকর করা হবে
কিসাসের মূল কথা হলো, হত্যাকারী যে পন্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, ঠিক সেই পন্থায় তাকেও হত্যা করতে হবে, কেননা ওটাই সাম্যের দাবি। তবে এ পন্থায় নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী
📄 কিসাস নিয়ে বিতর্ক
হলে তরবারীই (অর্থাৎ তরবারীর এক আঘাতে হত্যাই) তার জন্য অপেক্ষাকৃত কম কষ্টদায়ক। আল্লাহ বলেন: ফَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ ، وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ 6 অর্থ: যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো, তবে ঠিক ততখানি গ্রহণ করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের উপর করা হয়েছে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৯৪)
বায়হাকি বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "যে আমাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবে, আমরাও তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবো। যে আমাদেরকে আগুনে পোড়াবে আমরাও তাদেরকে আগুনে পোড়াবো। আর যে আমাদেরকে পানিতে ডোবাবে, আমরাও তাদেরকে পানিতে ডোবাবো।" যে ইহুদি জনৈকা মুসলিম মহিলার মাথা পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল রসূলুল্লাহ সা. সেই ইহুদির মাথাও পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তবে আলেমগণ এখানে এরূপ শর্ত আরোপ করেছেন যে, যে পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়েছে, সেই পদ্ধতি ইসলামী শরিয়তে বৈধ হওয়া চাই। যদি সে পদ্ধতি অবলম্বন করা বৈধ না হয়, তাহলে সেই পদ্ধতিতে হত্যা করা যাবেনা। যেমন জাদুর বাণ দ্বারা হত্যা করা চলবেনা। কেননা ওটা হারাম। শাফেয়ি মাযহাবের কেউ কেউ বলেছেন, কাউকে যদি মদ দিয়ে হত্যা করা হয়, তাহলে তাকে সেটা দিয়ে হত্যা করা হবে। কেউ কেউ বলেন, সমপদ্ধতিতে শাস্তি প্রদানের নীতি অনুসরণ করা জরুরি নয়। হানাফি ও হাদবীদের মতে, তরবারী দ্বারা ব্যতীত কিসাস কার্যকর করা যাবেনা। কেননা আবু বকরা থেকে বাযযার বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তরবারী দ্বারা ব্যতীত কোনো কিসাস কার্যকর করা হবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. লাশ বিকৃত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পন্থায় হত্যা করো। যখন যবাই করবে, তখন উত্তম পন্থায় যবাই করো।" আবু বকরার বর্ণিত হাদিসের জবাবে হানাফিগণ বলেন, ঐ হাদিসের সব কটি সূত্র দুর্বল। আর লাশ বিকৃত করার নিষেধাজ্ঞা যে হাদিসে এসেছে তা সূরা নাহলের আয়াত "যদি তোরা প্রতিশোধ নাও, তবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে, ততখানিই প্রতিশোধ নাও” এবং সূরা বাকারার আয়াত: "যে তোমার প্রতি আক্রমণ চালিয়েছে, তার প্রতি ঠিক সেই রূপ আক্রমণ চালাও যেরূপ সে চালিয়েছে।" এই দুই আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট।
হত্যাকারীকে কি হারাম শরিফে হত্যা করা যাবে?
আলেমগণ একমত যে, যে ব্যক্তি হারাম শরিফে হত্যা করেছে, তাকে হারাম শরিফে হত্যা করা বৈধ। আর যদি হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করে, তারপর হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, অথবা অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হয়ে গিয়ে থাকে, যেমন মুরতাদ হওয়া অতপর সে হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, তাহলে ইমাম মালেক বলেন, তাকে হারাম শরিফের মধ্যেই হত্যা করা হবে। আর ইমাম আহমদ ও আবু হানিফার মতে হারাম শরিফের অভ্যন্তরে হত্যা করা চলবেনা। তবে তাকে চাপের মধ্যে রাখতে হবে।
হলে তরবারীই (অর্থাৎ তরবারীর এক আঘাতে হত্যাই) তার জন্য অপেক্ষাকৃত কম কষ্টদায়ক। আল্লাহ বলেন: فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ ، وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ 6 অর্থ: যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো, তবে ঠিক ততখানি গ্রহণ করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের উপর করা হয়েছে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৯৪)
বায়হাকি বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "যে আমাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবে, আমরাও তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবো। যে আমাদেরকে আগুনে পোড়াবে আমরাও তাদেরকে আগুনে পোড়াবো। আর যে আমাদেরকে পানিতে ডোবাবে, আমরাও তাদেরকে পানিতে ডোবাবো।" যে ইহুদি জনৈকা মুসলিম মহিলার মাথা পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল রসূলুল্লাহ সা. সেই ইহুদির মাথাও পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তবে আলেমগণ এখানে এরূপ শর্ত আরোপ করেছেন যে, যে পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়েছে, সেই পদ্ধতি ইসলামী শরিয়তে বৈধ হওয়া চাই। যদি সে পদ্ধতি অবলম্বন করা বৈধ না হয়, তাহলে সেই পদ্ধতিতে হত্যা করা যাবেনা। যেমন জাদুর বাণ দ্বারা হত্যা করা চলবেনা। কেননা ওটা হারাম। শাফেয়ি মাযহাবের কেউ কেউ বলেছেন, কাউকে যদি মদ দিয়ে হত্যা করা হয়, তাহলে তাকে সেটা দিয়ে হত্যা করা হবে। কেউ কেউ বলেন, সমপদ্ধতিতে শাস্তি প্রদানের নীতি অনুসরণ করা জরুরি নয়। হানাফি ও হাদবীদের মতে, তরবারী দ্বারা ব্যতীত কিসাস কার্যকর করা যাবেনা। কেননা আবু বকরা থেকে বাযযার বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তরবারী দ্বারা ব্যতীত কোনো কিসাস কার্যকর করা হবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. লাশ বিকৃত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পন্থায় হত্যা করো। যখন যবাই করবে, তখন উত্তম পন্থায় যবাই করো।" আবু বকরার বর্ণিত হাদিসের জবাবে হানাফিগণ বলেন, ঐ হাদিসের সব কটি সূত্র দুর্বল। আর লাশ বিকৃত করার নিষেধাজ্ঞা যে হাদিসে এসেছে তা সূরা নাহলের আয়াত "যদি তোরা প্রতিশোধ নাও, তবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে, ততখানিই প্রতিশোধ নাও” এবং সূরা বাকারার আয়াত: "যে তোমার প্রতি আক্রমণ চালিয়েছে, তার প্রতি ঠিক সেই রূপ আক্রমণ চালাও যেরূপ সে চালিয়েছে।" এই দুই আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট।
হত্যাকারীকে কি হারাম শরিফে হত্যা করা যাবে?
আলেমগণ একমত যে, যে ব্যক্তি হারাম শরিফে হত্যা করেছে, তাকে হারাম শরিফে হত্যা করা বৈধ। আর যদি হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করে, তারপর হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, অথবা অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হয়ে গিয়ে থাকে, যেমন মুরতাদ হওয়া অতপর সে হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, তাহলে ইমাম মালেক বলেন, তাকে হারাম শরিফের মধ্যেই হত্যা করা হবে। আর ইমাম আহমদ ও আবু হানিফার মতে হারাম শরিফের অভ্যন্তরে হত্যা করা চলবেনা। তবে তাকে চাপের মধ্যে রাখতে হবে।
📄 প্রাণহানির চেয়ে লঘুস্তর আঘাতে কিসাস
তার কাছে কিছু বিক্রি করা হবেনা। তার কাছ থেকে কিছু ক্রয় করাও হবেনা। ফলে এক সময় সে বের হতে বাধ্য হবে। আর বের হলেই তাকে হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করা হবে।
কিসাস রহিত হওয়া
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার পরও নিম্নোক্ত কারণসমূহের যে কোনো একটি পাওয়া গেলে কিসাস রহিত হবে:
১. নিহতের উত্তরাধিকারীদের সবাই বা কোনো একজন ক্ষমা করে দিলে। তবে শর্ত হলো, ক্ষমাকারী সুস্থ মস্তিষ্ক ও ন্যায় অন্যায় বাছবিচারের ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়া চাই। কেননা এটা এমন একটা একচেটিয়া ক্ষমতা, যা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগলের থাকেনা। (নিহতের উত্তরাধিকারীরা ক্ষমা করে দিলে শাসক সেখানে ক্ষমা করতে বাধা দিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। অনুরূপ, উত্তরাধিকারীরা কিসাস চাইলে শাসক একাই তাতে বাধা দিতে পারেনা।)
২. অপরাধীর মৃত্যু হলে বা অপরাধী পক্ষ হাতছাড়া হয়ে গেলে। যার উপর কিসাস কার্যকরী করা হবে সে যদি আগেই মারা যায় বা যে অঙ্গ কিসাস প্রযোজ্য, সেই অঙ্গ হারিয়ে বসে, তাহলে কিসাস কার্যকর করা অসম্ভব হওয়ার কারণে তা রহিত হবে। আর কিসাস যখন রহিত হয়, তখন তার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের জন্য দিয়াত প্রাপ্য হবে। এটা হাম্বলি ও শাফেয়িদের মত। পক্ষান্তরে মালেক ও হানাফিগণ বলেন, দিয়াত দেয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা তাদের প্রাপ্য ছিলো প্রাণের বদলে প্রাণ, যা হাতছাড়া হয়ে গেছে। কাজেই খুনীর উত্তরাধিকারীদের কাছে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিকানা চলে যাওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের কোনো অধিকার নেই। হাম্বলি ও শাফেয়িদের মতের পক্ষে যুক্তি এই যে, নিহতের উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য তার প্রাণে অথবা তার সম্পত্তিতে ঝুলন্ত রয়েছে। এই দুটোর যে কোনোটিই গ্রহণের তাদের স্বাধীনতা রয়েছে। কাজেই যখন এই দুটির একটি হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন অপরটি নিশ্চিতভাবে প্রাপ্য হবে।
৩. অপরাধী ও অপরাধের শিকার বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কোনো আপোষ হলে।
কিসাস বাস্তবয়নে আদালতের অধিকার
আগেই বলা হয়েছে যে, কিসাস দাবি করা নিহতের উত্তরাধিকারীর অধিকার। তবে উত্তরাধিকারীর সেই অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা বা তাকে সেই অধিকার পাওয়ার সুযোগ দেয়া আদালতের অধিকার।
কুরতুবি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে কিসাস যে শাসক ব্যতীত কেউ কার্যকর করতে পারেনা, তাতে কোনোই মতভেদ নেই। তার উপর কিসাস কার্যকর করার ও হুদুদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ সকল মুমিনের কাছ থেকে কিসাস দাবি করেছেন। তাছাড়া সকল মুমিন কিসাসের উপর একমত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে, এটাও সম্ভব নয়। তাই কিসাস ও হুদুদ বাস্তবায়নে তারা শাসককে নিজেদের স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছে। এর কারণ আল্লামা সাওরি তাফসীরে জালালাইনের টীকায় লিখেছেন। সেটি হলো: "অতপর যখন প্রমাণিত হলো যে, ইচ্ছাকৃত হত্যা একটা আগ্রাসন, তখন শরিয়ত সম্মত শাসকের কর্তব্য নিহতের উত্তরাধিকারীকে হত্যাকারীর উপর ক্ষমতা প্রদান করা, যাতে সে হত্যাকারীকে হত্যা করা, ক্ষমা করা বা দিয়াত আদায় করা- এই তিনটের যেটি চাইবে,
তার কাছে কিছু বিক্রি করা হবেনা। তার কাছ থেকে কিছু ক্রয় করাও হবেনা। ফলে এক সময় সে বের হতে বাধ্য হবে। আর বের হলেই তাকে হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করা হবে।
কিসাস রহিত হওয়া
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার পরও নিম্নোক্ত কারণসমূহের যে কোনো একটি পাওয়া গেলে কিসাস রহিত হবে:
১. নিহতের উত্তরাধিকারীদের সবাই বা কোনো একজন ক্ষমা করে দিলে। তবে শর্ত হলো, ক্ষমাকারী সুস্থ মস্তিষ্ক ও ন্যায় অন্যায় বাছবিচারের ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়া চাই। কেননা এটা এমন একটা একচেটিয়া ক্ষমতা, যা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগলের থাকেনা। (নিহতের উত্তরাধিকারীরা ক্ষমা করে দিলে শাসক সেখানে ক্ষমা করতে বাধা দিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। অনুরূপ, উত্তরাধিকারীরা কিসাস চাইলে শাসক একাই তাতে বাধা দিতে পারেনা।)
২. অপরাধীর মৃত্যু হলে বা অপরাধী পক্ষ হাতছাড়া হয়ে গেলে। যার উপর কisass কার্যকরী করা হবে সে যদি আগেই মারা যায় বা যে অঙ্গ কিসাস প্রযোজ্য, সেই অঙ্গ হারিয়ে বসে, তাহলে কিসাস কার্যকর করা অসম্ভব হওয়ার কারণে তা রহিত হবে। আর কিসাস যখন রহিত হয়, তখন তার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের জন্য দিয়াত প্রাপ্য হবে। এটা হাম্বলি ও শাফেয়িদের মত। পক্ষান্তরে মালেক ও হানাফিগণ বলেন, দিয়াত দেয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা তাদের প্রাপ্য ছিলো প্রাণের বদলে প্রাণ, যা হাতছাড়া হয়ে গেছে। কাজেই খুনীর উত্তরাধিকারীদের কাছে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিকানা চলে যাওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে নিহতের উত্তরাধিকারীদের কোনো অধিকার নেই। হাম্বলি ও শাফেয়িদের মতের পক্ষে যুক্তি এই যে, নিহতের উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য তার প্রাণে অথবা তার সম্পত্তিতে ঝুলন্ত রয়েছে। এই দুটোর যে কোনোটিই গ্রহণের তাদের স্বাধীনতা রয়েছে। কাজেই যখন এই দুটির একটি হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন অপরটি নিশ্চিতভাবে প্রাপ্য হবে।
৩. অপরাধী ও অপরাধের শিকার বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কোনো আপোষ হলে।
কিসাস বাস্তবয়নে আদালতের অধিকার
আগেই বলা হয়েছে যে, কিসাস দাবি করা নিহতের উত্তরাধিকারীর অধিকার। তবে উত্তরাধিকারীর সেই অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা বা তাকে সেই অধিকার পাওয়ার সুযোগ দেয়া আদালতের অধিকার।
কুরতুবি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে কিসাস যে শাসক ব্যতীত কেউ কার্যকর করতে পারেনা, তাতে কোনোই মতভেদ নেই। তার উপর কিসাস কার্যকর করার ও হুদুদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ সকল মুমিনের কাছ থেকে কিসাস দাবি করেছেন। তাছাড়া সকল মুমিন কিসাসের উপর একমত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে, এটাও সম্ভব নয়। তাই কিসাস ও হুদুদ বাস্তবায়নে তারা শাসককে নিজেদের স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছে। এর কারণ আল্লামা সাওরি তাফসীরে জালালাইনের টীকায় লিখেছেন। সেটি হলো: "অতপর যখন প্রমাণিত হলো যে, ইচ্ছাকৃত হত্যা একটা আগ্রাসন, তখন শরিয়ত সম্মত শাসকের কর্তব্য নিহতের উত্তরাধিকারীকে হত্যাকারীর উপর ক্ষমতা প্রদান করা, যাতে সে হত্যাকারীকে হত্যা করা, ক্ষমা করা বা দিয়াত আদায় করা- এই তিনটের যেটি চাইবে,