📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাস রহিত হওয়া

📄 কিসাস রহিত হওয়া


ইমাম শাফেয়ির মতে নিহতের উত্তরাধিকারী দলের সকল সদস্যকে নিহতের বিনিময়ে হত্যা করতে পারবে, আবার তাদের মধ্য হতে যাকে চায় তাকেও হত্যা করতে পারবে এবং অন্যদের নিকট থেকে আনুপাতিক হারে দিয়াত নিতে পারবে। হত্যাকারী দলে যদি দুজন থাকে এবং তাদের একজনের উপর কিসাস কার্যকর করা হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে অবশিষ্ট জনের কাছ থেকে অর্ধেক দিয়াত আদায় করা যাবে। আর দলের সদস্য যদি তিনজন হয় এবং দুজনের উপরে কিসাস কার্যকর করা হয়ে থাকে, তাহলে তৃতীয় জনের কাছ থেকে দিয়াতের এক তৃতীয়াংশ আদায় করতে পারবে।
একজনের বিনিময়ে গোটা দলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া
যখন কোনো একটি দল কোনো একজনকে হত্যা করতে সংঘবদ্ধ হয়, তখন তার বিনিময়ে তাদের সকলকে হত্যা করা হবে, চাই দলের সদস্য সংখ্যা বেশি হোক বা কম হোক এবং চাই তাদের সবাই হত্যায় সরাসরি জড়িত থাক বা না থাক। কেননা ইমাম মালেক মুয়াত্তায় বর্ণনা করেন, একটি দল এক ব্যক্তিকে প্রতারণাপূর্বক হত্যা করেছিল। উমর রা. নিহতের বিনিময়ে দলটির সকল সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি আরো বললেন, এই এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে যদি সমগ্র সানাবাসী সংঘবদ্ধ হতো তাহলে আমি সানার সব অধিবাসীকে হত্যা করতাম।
শাফেয়ি ও হাম্বলিগণ এই শর্ত আরোপ করেছেন যে, হত্যায় জড়িত প্রত্যেকের কাজ এমন হওয়া চাই যে, সে একা হলেও তার হাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো। প্রত্যেকের একার কাজ যদি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য যথেষ্ট না হয়, তাহলে কারো উপরই কিসাস প্রয়োগ করা হবেনা। ইমাম মালেক বলেন, ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে নিহত একজন স্বাধীন মানুষের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত একাধিক স্বাধীন মানুষকে হত্যা করা হবে। নারী ও গোলামের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।
আল মুসাওয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে, অধিকাংশ আলেমের মতে, যখন কোনো দল এক ব্যক্তিকে হত্যার জন্য সংঘবদ্ধ হয়, তখন কিসাসস্বরূপ তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এই ফকিহরা মনে করেন, জনস্বার্থেই এরূপ হওয়া প্রয়োজন। কেননা কিসাস হচ্ছে মানুষের প্রাণের রক্ষাকবচ। একটা দল সম্মিলিতভাবে কোনো একজনকে হত্যা করলে যদি কিসাস থেকে রক্ষা পেতো, তাহলে যে ব্যক্তিই কাউকে হত্যা করতে চাইত, সে একদল সহযোগী জুটিয়ে নিয়ে তাদের সাহায্য নিয়ে তাকে হত্যা করতো, যাতে কিসাস থেকে রক্ষা পায়। এভাবে কিসাসের আইনগত বাধ্যবাধকতার পেছনে কোনো যুক্তি থাকতোনা। ইবনুয যুবাইর, যুহরি, দাউদ ও যাহেরি মাযহাবের ফকিহগণের মতে, একজনের হত্যার জন্য একটি দলকে হত্যা করা হবেনা। কেননা আল্লাহ বলেছেন, "প্রাণের বদলে প্রাণ।" (প্রাণের বদলে প্রাণগুলো বলেননি)।
একজন যখন কাউকে জাপটে ধরে এবং অপরজন হত্যা করে
যখন কোনো ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে জাপটে ধরে এবং অপরজন তাকে হত্যা করে, তখন যদি দেখা যায় যে, জাপটে ধরা ছাড়া হত্যাকারী তাকে হত্যা করতে পারতোনা এবং জাপটে ধরার পর নিহত ব্যক্তি পালাতে সক্ষম ছিলো না, তাহলে যে ব্যক্তি জাপটে ধরেছে এবং যে ব্যক্তি হত্যা করেছে, তাদের উভয়কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। কেননা তারা উভয়ে এই হত্যাকাণ্ডে অংশীদার। এটা লায়েস, মালেক ও ইবরাহিম নাখয়ির অভিমত। শাফেয়ি

ইমাম শাফেয়ির মতে নিহতের উত্তরাধিকারী দলের সকল সদস্যকে নিহতের বিনিময়ে হত্যা করতে পারবে, আবার তাদের মধ্য হতে যাকে চায় তাকেও হত্যা করতে পারবে এবং অন্যদের নিকট থেকে আনুপাতিক হারে দিয়াত নিতে পারবে। হত্যাকারী দলে যদি দুজন থাকে এবং তাদের একজনের উপর কিসাস কার্যকর করা হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে অবশিষ্ট জনের কাছ থেকে অর্ধেক দিয়াত আদায় করা যাবে। আর দলের সদস্য যদি তিনজন হয় এবং দুজনের উপরে কিসাস কার্যকর করা হয়ে থাকে, তাহলে তৃতীয় জনের কাছ থেকে দিয়াতের এক তৃতীয়াংশ আদায় করতে পারবে।
একজনের বিনিময়ে গোটা দলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া
যখন কোনো একটি দল কোনো একজনকে হত্যা করতে সংঘবদ্ধ হয়, তখন তার বিনিময়ে তাদের সকলকে হত্যা করা হবে, চাই দলের সদস্য সংখ্যা বেশি হোক বা কম হোক এবং চাই তাদের সবাই হত্যায় সরাসরি জড়িত থাক বা না থাক। কেননা ইমাম মালেক মুয়াত্তায় বর্ণনা করেন, একটি দল এক ব্যক্তিকে প্রতারণাপূর্বক হত্যা করেছিল। উমর রা. নিহতের বিনিময়ে দলটির সকল সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি আরো বললেন, এই এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে যদি সমগ্র সানাবাসী সংঘবদ্ধ হতো তাহলে আমি সানার সব অধিবাসীকে হত্যা করতাম।
শাফেয়ি ও হাম্বলিগণ এই শর্ত আরোপ করেছেন যে, হত্যায় জড়িত প্রত্যেকের কাজ এমন হওয়া চাই যে, সে একা হলেও তার হাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো। প্রত্যেকের একার কাজ যদি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য যথেষ্ট না হয়, তাহলে কারো উপরই কিসাস প্রয়োগ করা হবেনা। ইমাম মালেক বলেন, ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে নিহত একজন স্বাধীন মানুষের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত একাধিক স্বাধীন মানুষকে হত্যা করা হবে। নারী ও গোলামের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।
আল মুসাওয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে, অধিকাংশ আলেমের মতে, যখন কোনো দল এক ব্যক্তিকে হত্যার জন্য সংঘবদ্ধ হয়, তখন কিসাসস্বরূপ তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এই ফকিহরা মনে করেন, জনস্বার্থেই এরূপ হওয়া প্রয়োজন। কেননা কিসাস হচ্ছে মানুষের প্রাণের রক্ষাকবচ। একটা দল সম্মিলিতভাবে কোনো একজনকে হত্যা করলে যদি কিসাস থেকে রক্ষা পেতো, তাহলে যে ব্যক্তিই কাউকে হত্যা করতে চাইত, সে একদল সহযোগী জুটিয়ে নিয়ে তাদের সাহায্য নিয়ে তাকে হত্যা করতো, যাতে কিসাস থেকে রক্ষা পায়। এভাবে কিসাসের আইনগত বাধ্যবাধকতার পেছনে কোনো যুক্তি থাকতোনা। ইবনুয যুবাইর, যুহরি, দাউদ ও যাহেরি মাযহাবের ফকিহগণের মতে, একজনের হত্যার জন্য একটি দলকে হত্যা করা হবেনা। কেননা আল্লাহ বলেছেন, "প্রাণের বদলে প্রাণ।" (প্রাণের বদলে প্রাণগুলো বলেননি)।
একজন যখন কাউকে জাপটে ধরে এবং অপরজন হত্যা করে
যখন কোনো ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে জাপটে ধরে এবং অপরজন তাকে হত্যা করে, তখন যদি দেখা যায় যে, জাপটে ধরা ছাড়া হত্যাকারী তাকে হত্যা করতে পারতোনা এবং জাপটে ধরার পর নিহত ব্যক্তি পালাতে সক্ষম ছিলো না, তাহলে যে ব্যক্তি জাপটে ধরেছে এবং যে ব্যক্তি হত্যা করেছে, তাদের উভয়কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। কেননা তারা উভয়ে এই হত্যাকাণ্ডে অংশীদার। এটা লায়েস, মালেক ও ইবরাহিম নাখয়ির অভিমত। শাফেয়ি

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাস বাস্তবায়নে আদালত এর অধিকার

📄 কিসাস বাস্তবায়নে আদালত এর অধিকার


ও হানাফিগণ এ মতের বিরোধী। তারা বলেন, হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। আর যে নিহতকে ধরে রেখেছিল, তাকে ধরে রাখার শাস্তিস্বরূপ আমৃত্যু বন্দী করে রাখা হবে। কেননা দার কুতনিতে উবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে জাপটে ধরে রাখে এবং অপর একজন তাকে হত্যা করে, তখন যে হত্যা করেছে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে ধরে রেখেছে তাকে আটক করে রাখা হবে।"
ইমাম শাফেয়ি বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি একজনকে ধরে রেখেছিল এবং অপর একজন তাকে হত্যা করেছিল। এই হত্যার ঘটনায় আলী রা. ফায়সালা ঘোষণা করেন: "হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে এবং অপরজনকে তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে বন্দী রাখা হবে।"
কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে
কিসাস সাব্যস্ত হবে নিম্নোক্ত উপায়সমূহের যে কোনো একটি দ্বারা-
এক. স্বীকারোক্তি দ্বারা, কেননা স্বীকারোক্তিকে শ্রেষ্ঠতম প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়। ওয়ায়েল বিন হাজার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বসেছিলাম। সহসা এক ব্যক্তি অপর একজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ধরে নিয়ে এলো। সে বললো, হে রসূলুল্লাহ সা., এই ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে।" সে আরো বললো, সে যদি স্বীকার না করে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি কি তাকে হত্যা করেছো? সে বললো, হ্যাঁ, আমি তাকে হত্যা করেছি।".... -মুসলিম, নাসায়ী।
দুই. দু'জন সত্যবাদী পুরুষের সাক্ষ্য দ্বারা কিসাস সাব্যস্ত হবে। রাফে বিন খাদীজ রা. বর্ণনা করেন, খয়বরে জনৈক আনসারী নিহত হলো। তখন তার উত্তরাধিকারীরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট গিয়ে ঘটনা জানালো। তিনি বললেন, তোমাদের সাথীর নিহত হওয়ার ব্যাপারে দু'জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে পাওয়া যাবে কি?.... -আবু দাউদ।
উবনে কুদামা আল মুগনিতে বলেছেন, হত্যার মামলায় একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলার সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা, একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বাদীর শপথও গৃহীত হবেনা। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই। কেননা কিসাস হচ্ছে একটা অপরাধের শাস্তিস্বরূপ একজন মানুষকে মৃত্যু দণ্ড দেয়ার নাম। তাই হদের ন্যায় এতেও দু'জন সৎ মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণের শর্ত পূরণ করে সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে, চাই কিসাস কোনো মুসলমান, কাফের, গোলাম বা স্বাধীন যার উপরই কার্যকর হোক না কেন। কেননা শাস্তি যাতে রহিত বা বাতিল না হয়, সেই জন্যই সতর্কতা প্রয়োজন।
অপরাধীর উপর কিসাস কার্যকর করার শর্তাবলি
কিসাস কার্যকর করার জন্য তিনটে শর্ত রয়েছে-
১. কিসাসের দাবিদারের বাদীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
২. দাবিদার যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগল হয় এবং তার পিতা, অভিভাবক বা শাসক তার প্রতিনিধি না হয়, তাহলে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবিদার প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল দাবিদার সুস্থ মস্তিস্ক না হওয়া পর্যন্ত অপরাধীকে আটক রাখা হবে। মুয়াবিয়া রা. হাদবা

ও হানাফিগণ এ মতের বিরোধী। তারা বলেন, হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। আর যে নিহতকে ধরে রেখেছিল, তাকে ধরে রাখার শাস্তিস্বরূপ আমৃত্যু বন্দী করে রাখা হবে। কেননা দার কুতনিতে উবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে জাপটে ধরে রাখে এবং অপর একজন তাকে হত্যা করে, তখন যে হত্যা করেছে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে ধরে রেখেছে তাকে আটক করে রাখা হবে।"
ইমাম শাফেয়ি বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি একজনকে ধরে রেখেছিল এবং অপর একজন তাকে হত্যা করেছিল। এই হত্যার ঘটনায় আলী রা. ফায়সালা ঘোষণা করেন: "হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে এবং অপরজনকে তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে বন্দী রাখা হবে।"
কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে
কিসাস সাব্যস্ত হবে নিম্নোক্ত উপায়সমূহের যে কোনো একটি দ্বারা-
এক. স্বীকারোক্তি দ্বারা, কেননা স্বীকারোক্তিকে শ্রেষ্ঠতম প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়। ওয়ায়েল বিন হাজার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বসেছিলাম। সহসা এক ব্যক্তি অপর একজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ধরে নিয়ে এলো। সে বললো, হে রসূলুল্লাহ সা., এই ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে।" সে আরো বললো, সে যদি স্বীকার না করে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি কি তাকে হত্যা করেছো? সে বললো, হ্যাঁ, আমি তাকে হত্যা করেছি।".... -মুসলিম, নাসায়ী।
দুই. দু'জন সত্যবাদী পুরুষের সাক্ষ্য দ্বারা কিসাস সাব্যস্ত হবে। রাফে বিন খাদীজ রা. বর্ণনা করেন, খয়বরে জনৈক আনসারী নিহত হলো। তখন তার উত্তরাধিকারীরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট গিয়ে ঘটনা জানালো। তিনি বললেন, তোমাদের সাথীর নিহত হওয়ার ব্যাপারে দু'জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে পাওয়া যাবে কি?.... -আবু দাউদ।
উবনে কুদামা আল মুগনিতে বলেছেন, হত্যার মামলায় একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলার সাক্ষ্য গৃহীত হবেনা, একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বাদীর শপথও গৃহীত হবেনা। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই। কেননা কিসাস হচ্ছে একটা অপরাধের শাস্তিস্বরূপ একজন মানুষকে মৃত্যু দণ্ড দেয়ার নাম। তাই হদের ন্যায় এতেও দু'জন সৎ মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণের শর্ত পূরণ করে সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে, চাই কিসাস কোনো মুসলমান, কাফের, গোলাম বা স্বাধীন যার উপরই কার্যকর হোক না কেন। কেননা শাস্তি যাতে রহিত বা বাতিল না হয়, সেই জন্যই সতর্কতা প্রয়োজন।
অপরাধীর উপর কিসাস কার্যকর করার শর্তাবলি
কিসাস কার্যকর করার জন্য তিনটে শর্ত রয়েছে-
১. কিসাসের দাবিদারের বাদীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
২. দাবিদার যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাগল হয় এবং তার পিতা, অভিভাবক বা শাসক তার প্রতিনিধি না হয়, তাহলে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবিদার প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল দাবিদার সুস্থ মস্তিস্ক না হওয়া পর্যন্ত অপরাধীকে আটক রাখা হবে। মুয়াবিয়া রা. হাদবা

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিহতের উত্তরাধিকারী যখন নিখোঁজ থাকে

📄 নিহতের উত্তরাধিকারী যখন নিখোঁজ থাকে


ইবনে খাসরামকে নিহত ব্যক্তির ছেলে বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আটক রেখেছিলেন। এ ঘটনা সাহাবীদের জীবদ্দশায় ঘটেছিল এবং কেউ তাতে আপত্তি তোলেনি।
২. নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের সকলের কিসাস আদায়ে একমত হওয়া জরুরি। তাদের কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে চলবেনা। তাদের কেউ যদি অনুপস্থিত, অপ্রাপ্তবয়স্ক, কিংবা পাগল হয়, তাহলে অনুপস্থিতের প্রত্যাবর্তন, অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তি এবং পাগলের মস্তিষ্ক সুস্থ হওয়া ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা যার কোনো ব্যাপারে স্বাধীনতা রয়েছে, তার মত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার অন্য কারো নেই। কেননা তাতে তার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
আবু হানিফা বলেন, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা কিসাস আদায় করার অধিকারী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়োপ্রাপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন তাদের নেই। উত্তরাধিকারীদের কোনো একজনও ক্ষমা করে দিলে কিসাস রহিত হবে। কেননা কিসাস অবিভাজ্য।
৩. কিসাস অপরাধীকে অতিক্রম করে অন্য কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে আক্রান্ত না করে এমনভাবে কার্যকর করতে হবে। সুতরাং কিসাস যদি কোনো গর্ভবতী মহিলার উপর প্রযোজ্য হয়, তবে তার সন্তান প্রসব করা ও সন্তানকে দুধ পান করানো শেষ করার পূর্বে তাকে হত্যা করা যাবেনা। কেননা তাকে প্রসবের পূর্বে হত্যা করা হলে তার গর্ভস্থ সন্তানও মারা যাবে, আর তাকে দুধ পান করানোর পূর্বে হত্যা করা হলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতপর দুধ পান করানোর পর যদি কোনো ধাত্রী পাওয়া যায় তবে সন্তানকে তার কাছে সোপর্দ করে মহিলার উপর কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এখানে সন্তানের লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তার বিকল্প বিদ্যমান। আর দুধ পান করানো ও লালন পালনের জন্য বিকল্প যদি না পাওয়া যায়, তাহলে পুরো দু'বছর দুধ পান করানো পর্যন্ত তাকে সুযোগ দেয়া হবে।
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো মহিলা কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তখন সে গর্ভবতী হয়ে থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হবেনা। আর যখন কোনো মহিলা ব্যভিচার করে, তখন সে গর্ভবতী হয় থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে রজম (প্রস্তরাঘাত হত্যা) করা হবে না।" একইভাবে কোনো মহিলা কারো অঙ্গহানি ঘটালে তার উপরও সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত অঙ্গহানির কিসাস কার্যকর করা হবেনা। তবে এক্ষেত্রে দুধ পান করানো শর্ত নয়।
কিসাস কার্যকর করার সময়
কিসাস যদি উল্লিখিত উপায়গুলোর মধ্য হতে যে কোনো একটি উপায়ে সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং নিহতের উত্তরাধিকারীরা বয়োপ্রাপ্ত হয় ও কিসাসের দাবিদার হয়, তাহলে নিহতের উত্তরাধিকারীরা উপস্থিত হওয়া মাত্রই কিসাস কার্যকর করা হবে। তবে ইতোপূর্বেই যেমন বলেছি, গর্ভবতী মহিলার কিসাস তার সন্তান প্রসব পর্যন্ত বিলম্বিত করা হবে।
কিসাস কিসের দ্বারা কার্যকর করা হবে
কিসাসের মূল কথা হলো, হত্যাকারী যে পন্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, ঠিক সেই পন্থায় তাকেও হত্যা করতে হবে, কেননা ওটাই সাম্যের দাবি। তবে এ পন্থায় নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী

ইবনে খাসরামকে নিহত ব্যক্তির ছেলে বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আটক রেখেছিলেন। এ ঘটনা সাহাবীদের জীবদ্দশায় ঘটেছিল এবং কেউ তাতে আপত্তি তোলেনি।
২. নিহতের উত্তরাধিকারীদের সকলের কিসাস আদায়ে একমত হওয়া জরুরি। তাদের কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে চলবেনা। তাদের কেউ যদি অনুপস্থিত, অপ্রাপ্তবয়স্ক, কিংবা পাগল হয়, তাহলে অনুপস্থিতের প্রত্যাবর্তন, অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তি এবং পাগলের মস্তিষ্ক সুস্থ হওয়া ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা যার কোনো ব্যাপারে স্বাধীনতা রয়েছে, তার মত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার অন্য কারো নেই। কেননা তাতে তার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
আবু হানিফা বলেন, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা কিসাস আদায় করার অধিকারী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়োপ্রাপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন তাদের নেই। উত্তরাধিকারীদের কোনো একজনও ক্ষমা করে দিলে কিসাস রহিত হবে। কেননা কিসাস অবিভাজ্য।
৩. কিসাস অপরাধীকে অতিক্রম করে অন্য কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে আক্রান্ত না করে এমনভাবে কার্যকর করতে হবে। সুতরাং কিসাস যদি কোনো গর্ভবতী মহিলার উপর প্রযোজ্য হয়, তবে তার সন্তান প্রসব করা ও সন্তানকে দুধ পান করানো শেষ করার পূর্বে তাকে হত্যা করা যাবেনা। কেননা তাকে প্রসবের পূর্বে হত্যা করা হলে তার গর্ভস্থ সন্তানও মারা যাবে, আর তাকে দুধ পান করানোর পূর্বে হত্যা করা হলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতপর দুধ পান করানোর পর যদি কোনো ধাত্রী পাওয়া যায় তবে সন্তানকে তার কাছে সোপর্দ করে মহিলার উপর কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এখানে সন্তানের লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তার বিকল্প বিদ্যমান। আর দুধ পান করানো ও লালন পালনের জন্য বিকল্প যদি না পাওয়া যায়, তাহলে পুরো দু'বছর দুধ পান করানো পর্যন্ত তাকে সুযোগ দেয়া হবে।
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যখন কোনো মহিলা কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তখন সে গর্ভবতী হয়ে থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হবেনা। আর যখন কোনো মহিলা ব্যভিচার করে, তখন সে গর্ভবতী হয় থাকলে সন্তান প্রসব না করা ও সন্তান পালন না করা পর্যন্ত তাকে রজম (প্রস্তরাঘাত হত্যা) করা হবে না।" একইভাবে কোনো মহিলা কারো অঙ্গহানি ঘটালে তার উপরও সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত অঙ্গহানির কিসাস কার্যকর করা হবেনা। তবে এক্ষেত্রে দুধ পান করানো শর্ত নয়।
কিসাস কার্যকর করার সময়
কিসাস যদি উল্লিখিত উপায়গুলোর মধ্য হতে যে কোনো একটি উপায়ে সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং নিহতের উত্তরাধিকারীরা বয়োপ্রাপ্ত হয় ও কিসাসের দাবিদার হয়, তাহলে নিহতের উত্তরাধিকারীরা উপস্থিত হওয়া মাত্রই কিসাস কার্যকর করা হবে। তবে ইতোপূর্বেই যেমন বলেছি, গর্ভবতী মহিলার কিসাস তার সন্তান প্রসব পর্যন্ত বিলম্বিত করা হবে।
কিসাস কিসের দ্বারা কার্যকর করা হবে
কিসাসের মূল কথা হলো, হত্যাকারী যে পন্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, ঠিক সেই পন্থায় তাকেও হত্যা করতে হবে, কেননা ওটাই সাম্যের দাবি। তবে এ পন্থায় নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাস নিয়ে বিতর্ক

📄 কিসাস নিয়ে বিতর্ক


হলে তরবারীই (অর্থাৎ তরবারীর এক আঘাতে হত্যাই) তার জন্য অপেক্ষাকৃত কম কষ্টদায়ক। আল্লাহ বলেন: ফَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ ، وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ 6 অর্থ: যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো, তবে ঠিক ততখানি গ্রহণ করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের উপর করা হয়েছে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৯৪)
বায়হাকি বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "যে আমাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবে, আমরাও তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবো। যে আমাদেরকে আগুনে পোড়াবে আমরাও তাদেরকে আগুনে পোড়াবো। আর যে আমাদেরকে পানিতে ডোবাবে, আমরাও তাদেরকে পানিতে ডোবাবো।" যে ইহুদি জনৈকা মুসলিম মহিলার মাথা পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল রসূলুল্লাহ সা. সেই ইহুদির মাথাও পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তবে আলেমগণ এখানে এরূপ শর্ত আরোপ করেছেন যে, যে পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়েছে, সেই পদ্ধতি ইসলামী শরিয়তে বৈধ হওয়া চাই। যদি সে পদ্ধতি অবলম্বন করা বৈধ না হয়, তাহলে সেই পদ্ধতিতে হত্যা করা যাবেনা। যেমন জাদুর বাণ দ্বারা হত্যা করা চলবেনা। কেননা ওটা হারাম। শাফেয়ি মাযহাবের কেউ কেউ বলেছেন, কাউকে যদি মদ দিয়ে হত্যা করা হয়, তাহলে তাকে সেটা দিয়ে হত্যা করা হবে। কেউ কেউ বলেন, সমপদ্ধতিতে শাস্তি প্রদানের নীতি অনুসরণ করা জরুরি নয়। হানাফি ও হাদবীদের মতে, তরবারী দ্বারা ব্যতীত কিসাস কার্যকর করা যাবেনা। কেননা আবু বকরা থেকে বাযযার বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তরবারী দ্বারা ব্যতীত কোনো কিসাস কার্যকর করা হবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. লাশ বিকৃত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পন্থায় হত্যা করো। যখন যবাই করবে, তখন উত্তম পন্থায় যবাই করো।" আবু বকরার বর্ণিত হাদিসের জবাবে হানাফিগণ বলেন, ঐ হাদিসের সব কটি সূত্র দুর্বল। আর লাশ বিকৃত করার নিষেধাজ্ঞা যে হাদিসে এসেছে তা সূরা নাহলের আয়াত "যদি তোরা প্রতিশোধ নাও, তবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে, ততখানিই প্রতিশোধ নাও” এবং সূরা বাকারার আয়াত: "যে তোমার প্রতি আক্রমণ চালিয়েছে, তার প্রতি ঠিক সেই রূপ আক্রমণ চালাও যেরূপ সে চালিয়েছে।" এই দুই আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট।
হত্যাকারীকে কি হারাম শরিফে হত্যা করা যাবে?
আলেমগণ একমত যে, যে ব্যক্তি হারাম শরিফে হত্যা করেছে, তাকে হারাম শরিফে হত্যা করা বৈধ। আর যদি হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করে, তারপর হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, অথবা অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হয়ে গিয়ে থাকে, যেমন মুরতাদ হওয়া অতপর সে হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, তাহলে ইমাম মালেক বলেন, তাকে হারাম শরিফের মধ্যেই হত্যা করা হবে। আর ইমাম আহমদ ও আবু হানিফার মতে হারাম শরিফের অভ্যন্তরে হত্যা করা চলবেনা। তবে তাকে চাপের মধ্যে রাখতে হবে।

হলে তরবারীই (অর্থাৎ তরবারীর এক আঘাতে হত্যাই) তার জন্য অপেক্ষাকৃত কম কষ্টদায়ক। আল্লাহ বলেন: فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ ، وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ 6 অর্থ: যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো, তবে ঠিক ততখানি গ্রহণ করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের উপর করা হয়েছে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৯৪)
বায়হাকি বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "যে আমাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবে, আমরাও তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করবো। যে আমাদেরকে আগুনে পোড়াবে আমরাও তাদেরকে আগুনে পোড়াবো। আর যে আমাদেরকে পানিতে ডোবাবে, আমরাও তাদেরকে পানিতে ডোবাবো।" যে ইহুদি জনৈকা মুসলিম মহিলার মাথা পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল রসূলুল্লাহ সা. সেই ইহুদির মাথাও পাথর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তবে আলেমগণ এখানে এরূপ শর্ত আরোপ করেছেন যে, যে পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়েছে, সেই পদ্ধতি ইসলামী শরিয়তে বৈধ হওয়া চাই। যদি সে পদ্ধতি অবলম্বন করা বৈধ না হয়, তাহলে সেই পদ্ধতিতে হত্যা করা যাবেনা। যেমন জাদুর বাণ দ্বারা হত্যা করা চলবেনা। কেননা ওটা হারাম। শাফেয়ি মাযহাবের কেউ কেউ বলেছেন, কাউকে যদি মদ দিয়ে হত্যা করা হয়, তাহলে তাকে সেটা দিয়ে হত্যা করা হবে। কেউ কেউ বলেন, সমপদ্ধতিতে শাস্তি প্রদানের নীতি অনুসরণ করা জরুরি নয়। হানাফি ও হাদবীদের মতে, তরবারী দ্বারা ব্যতীত কিসাস কার্যকর করা যাবেনা। কেননা আবু বকরা থেকে বাযযার বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তরবারী দ্বারা ব্যতীত কোনো কিসাস কার্যকর করা হবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. লাশ বিকৃত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পন্থায় হত্যা করো। যখন যবাই করবে, তখন উত্তম পন্থায় যবাই করো।" আবু বকরার বর্ণিত হাদিসের জবাবে হানাফিগণ বলেন, ঐ হাদিসের সব কটি সূত্র দুর্বল। আর লাশ বিকৃত করার নিষেধাজ্ঞা যে হাদিসে এসেছে তা সূরা নাহলের আয়াত "যদি তোরা প্রতিশোধ নাও, তবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে, ততখানিই প্রতিশোধ নাও” এবং সূরা বাকারার আয়াত: "যে তোমার প্রতি আক্রমণ চালিয়েছে, তার প্রতি ঠিক সেই রূপ আক্রমণ চালাও যেরূপ সে চালিয়েছে।" এই দুই আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট।
হত্যাকারীকে কি হারাম শরিফে হত্যা করা যাবে?
আলেমগণ একমত যে, যে ব্যক্তি হারাম শরিফে হত্যা করেছে, তাকে হারাম শরিফে হত্যা করা বৈধ। আর যদি হারাম শরিফের বাইরে হত্যা করে, তারপর হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, অথবা অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হয়ে গিয়ে থাকে, যেমন মুরতাদ হওয়া অতপর সে হারাম শরিফে আশ্রয় নেয়, তাহলে ইমাম মালেক বলেন, তাকে হারাম শরিফের মধ্যেই হত্যা করা হবে। আর ইমাম আহমদ ও আবু হানিফার মতে হারাম শরিফের অভ্যন্তরে হত্যা করা চলবেনা। তবে তাকে চাপের মধ্যে রাখতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00