📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে

📄 কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে


মাতাল করবেনা, কিন্তু তাতে তার বুদ্ধি লোপ পেলো এবং সেই অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বসলো, তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা ইতিপূর্বে একটি হাদিসে তিন ব্যক্তিকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যার একজন হচ্ছে পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।
মালেক বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, বালকদের উপর কোনো কিসাস কার্যকর হয়না এবং বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বালকের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে হত্যার শামিল।
৪. হত্যাকারীর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বাধীন অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো। বল প্রয়োগ স্বাধীন বিবেচনা শক্তির বিলোপ ঘটায়। আর যার স্বাধীন বিবেচনা শক্তি নেই, তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কাজেই কোনো পরাক্রমশালী লোক যখন অন্য একজনকে হত্যা করতে কাউকে বাধ্য করে এবং সে কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তখন আদেশদান কারীকে হত্যা করা হবে, আদিষ্টকে নয়। তবে আদিষ্টকেও শাস্তি দেয়া হবে। এটাই আবু হানিফা, দাউদ ও শাফেয়ির মত। হানাফিগণ বলেন, কেউ যদি এমন ব্যক্তির আদেশক্রমে কোনো মুসলমানের সম্পদ বিনষ্ট করতে বাধ্য হয়, যার আদেশ অমান্য করলে তার প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানির আশংকা আছে, তবে তার জন্য ঐ কাজ করা বৈধ। তবে সম্পদের মালিক বলপ্রয়োগকারীকে তার ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবে। আর যদি হত্যার ভয় দেখিয়ে কেউ অন্য একজনকে হত্যা করতে বাধ্য করে, তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো তার জন্য বৈধ নয়।। নিজে নিহত হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে গুনাহগার হবে। হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হলে বল প্রয়োগকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কেউ কেউ বলেন, আদিষ্ট ব্যক্তিকেই হত্যা করা হবে, আদেশকারীকে নয়। এটা ইমাম শাফেয়িরও অন্য একটি মত। ইমাম মালেক ও হাম্বলি ইমামগণসহ একদল বলেন, উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে উভয়কে হত্যা করা হবে। আর যদি সে ক্ষমা করে, তবে দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে। কেননা হত্যাকারী অপর ব্যক্তিকে হত্যা করে নিজে বাঁচতে চেয়েছিল। আর বল প্রয়োগকারী এমন পন্থায় হত্যার কারণে পরিণত হয়েছে, যে পন্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ছাড়ে। আর যখন কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো পাগল বা বালককে অন্য একজনকে হত্যা করার আদেশ দেয়, তখন কিসাস কার্যকর হবে আদেশদাতার উপর। কেননা হত্যাকারী তার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তাই তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কিসাস কার্যকর হবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আদেশদাতার উপর। আর যখন শাসক কোনো অন্যায় হত্যার আদেশ দেয়, তখন দেখতে হবে, আদিষ্ট ব্যক্তি জানে কিনা যে, আদেশটি অন্যায় ও যুলুম। যদি আদেশটি যুলুম জেনেও কার্যকর করে ফেলে, তবে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অবশ্য নিহতের উত্তরাধিকারী যদি মাফ করে দেয়, তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা সে অন্যায় ও যুলুম জেনেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই তাকে দায়মুক্ত করা হবেনা। একথা বলার অবকাশ নেই যে, সে শাসকের পক্ষ থেকে আদিষ্ট। কেননা ইসলামের মূলনীতি হলো, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে সৃষ্টির আদেশ মান্য করা যাবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং একথা ঘোষণা করেছেন। আর যদি হত্যাকারী না জানে যে, নিহত ব্যক্তি হত্যার অযোগ্য এবং তাকে আদেশ অনুসারে হত্যা করে, তাহলে উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে আদেশদাতার উপর কিসাস আর ক্ষমা করলে আদেশদাতার

মাতাল করবেনা, কিন্তু তাতে তার বুদ্ধি লোপ পেলো এবং সেই অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বসলো, তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা ইতিপূর্বে একটি হাদিসে তিন ব্যক্তিকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যার একজন হচ্ছে পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।
মালেক বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, বালকদের উপর কোনো কিসাস কার্যকর হয়না এবং বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বালকের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে হত্যার শামিল।
৪. হত্যাকারীর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বাধীন অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো। বল প্রয়োগ স্বাধীন বিবেচনা শক্তির বিলোপ ঘটায়। আর যার স্বাধীন বিবেচনা শক্তি নেই, তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কাজেই কোনো পরাক্রমশালী লোক যখন অন্য একজনকে হত্যা করতে কাউকে বাধ্য করে এবং সে কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তখন আদেশদান কারীকে হত্যা করা হবে, আদিষ্টকে নয়। তবে আদিষ্টকেও শাস্তি দেয়া হবে। এটাই আবু হানিফা, দাউদ ও শাফেয়ির মত। হানাফিগণ বলেন, কেউ যদি এমন ব্যক্তির আদেশক্রমে কোনো মুসলমানের সম্পদ বিনষ্ট করতে বাধ্য হয়, যার আদেশ অমান্য করলে তার প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানির আশংকা আছে, তবে তার জন্য ঐ কাজ করা বৈধ। তবে সম্পদের মালিক বলপ্রয়োগকারীকে তার ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবে। আর যদি হত্যার ভয় দেখিয়ে কেউ অন্য একজনকে হত্যা করতে বাধ্য করে, তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো তার জন্য বৈধ নয়।। নিজে নিহত হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে গুনাহগার হবে। হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হলে বল প্রয়োগকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কেউ কেউ বলেন, আদিষ্ট ব্যক্তিকেই হত্যা করা হবে, আদেশকারী নয়। এটা ইমাম শাফেয়িরও অন্য একটি মত। ইমাম মালেক ও হাম্বলি ইমামগণসহ একদল বলেন, উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে উভয়কে হত্যা করা হবে। আর যদি সে ক্ষমা করে, তবে দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে। কেননা হত্যাকারী অপর ব্যক্তিকে হত্যা করে নিজে বাঁচতে চেয়েছিল। আর বল প্রয়োগকারী এমন পন্থায় হত্যার কারণে পরিণত হয়েছে, যে পন্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ছাড়ে। আর যখন কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো পাগল বা বালককে অন্য একজনকে হত্যা করার আদেশ দেয়, তখন কিসাস কার্যকর হবে আদেশদাতার উপর। কেননা হত্যাকারী তার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তাই তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কিসাস কার্যকর হবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আদেশদাতার উপর। আর যখন শাসক কোনো অন্যায় হত্যার আদেশ দেয়, তখন দেখতে হবে, আদিষ্ট ব্যক্তি জানে কিনা যে, আদেশটি অন্যায় ও যুলুম। যদি আদেশটি যুলুম জেনেও কার্যকর করে ফেলে, তবে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অবশ্য নিহতের উত্তরাধিকারী যদি মাফ করে দেয়, তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা সে অন্যায় ও যুলুম জেনেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই তাকে দায়মুক্ত করা হবেনা। একথা বলার অবকাশ নেই যে, সে শাসকের পক্ষ থেকে আদিষ্ট। কেননা ইসলামের মূলনীতি হলো, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে সৃষ্টির আদেশ মান্য করা যাবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং একথা ঘোষণা করেছেন। আর যদি হত্যাকারী না জানে যে, নিহত ব্যক্তি হত্যার অযোগ্য এবং তাকে আদেশ অনুসারে হত্যা করে, তাহলে উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে আদেশদাতার উপর কিসাস আর ক্ষমা করলে আদেশদাতার

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অমরাত্মীর উপর কিসাস কার্যকর করার শর্তাবলি

📄 অমরাত্মীর উপর কিসাস কার্যকর করার শর্তাবলি


উপর দিয়াত কার্যকর হবে, হত্যাকারীর উপর নয়। কেননা আল্লাহর নাফরমানী হয় এমন কাজে শাসকের হুকুম পালনের ব্যাপারে সে দায়মুক্ত। আর যে ব্যক্তি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অসুস্থ মস্তিষ্ক ব্যক্তির নিকট হত্যার অস্ত্র সমর্পণ করে এবং হত্যার আদেশ না দেয়, তথাপি সে হত্যা করে, তবে অস্ত্রদাতার উপর কোনো দায় বর্তাবেনা।
৫. হত্যাকারীর নিহতের পিতা বা পিতামহ না হওয়া। সুতরাং পিতাকে সন্তান হত্যা ও দাদাকে পৌত্র-পৌত্রী হত্যার জন্য হত্যা করা হবেনা, চাই তা যে কোনো প্রকারের ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হোক না কেন। পক্ষান্তরে সন্তান যদি মা বা বাবাকে হত্যা করে, তবে সর্বসম্মত মতানুসারে তাকে হত্যা করা হবে। তিরমিযি ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "সন্তান হত্যার জন্য পিতাকে হত্যা করা হবেনা।" ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেন, বনু মুদাল্লাজের কাতাদা নামক এক ব্যক্তি তার ছেলেকে তরবারি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাতের কারণে পরে সে মারা যায়। সুরাকা ইবনে যুশাম উমর রা. এর নিকট গিয়ে এ ঘটনার কথা জানালে তিনি তাকে বললেন, "একশো বিশটি উট প্রস্তুত করে রাখো। আমি আসছি।" পরে তিনি এসে উক্ত একশো বিশটি উট থেকে একশোটা নিয়ে বললেন, নিহতের ভাই কোথায়? সে বললো, এই যে আমি। তিনি বললেন, এগুলো নাও। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, হত্যাকারীর জন্য কিছুই প্রাপ্য নেই। ইমাম মালেক এই মতের বিরোধিতা করে বলেছেন, পিতা যখন সন্তানকে শুইয়ে দিয়ে যবাই করে, তখন তার উপর অবশ্যই কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এটা প্রকৃত ইচ্ছাকৃত হত্যা। অন্য কিছু হবার সম্ভাবনা নেই। হত্যাকাণ্ডের ইচ্ছাকৃতভাবে হওয়া একটা গোপন ব্যাপার। পরিবেশ ও পরিস্থিতি দ্বারা যা প্রকাশ পায়, তা ছাড়া আর কিছু সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়না। তবে হত্যাকাণ্ডটি যদি এমন কোনো পন্থায় সংঘটিত হয়, যা দ্বারা প্রাণ হননের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়, বরং কেবল শাসন করার উদ্দেশ্য ছিল বলে অনুমিত হয়। তবে সন্তান ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে হলে একে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডই গণ্য করা হবে। পিতা ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য করার কারণ হলো, সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ-মমতা থাকা স্বাভাবিক। তাই সে যখন পিতার ক্রোধের উদ্রেককারী কোনো কাজ করে, তখন পিতা তাকে শাসন করতে চাইতে পারে। কাজেই এ ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবেনা। কারণ পিতা ও ছেলের মধ্যে মমতার বন্ধন অত্যন্ত জোরদার।
৬. হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় নিহত ব্যক্তির ধর্ম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিক দিয়ে হত্যাকারীর সমকক্ষ হওয়া। তাই কোনো মুসলমান কোনো কাফেরকে হত্যা করলে সেজন্য উক্ত মুসলমানের উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। অনুরূপ, একজন স্বাধীন ব্যক্তি একজন দাসকে হত্যা করলে সেজন্য স্বাধীন ব্যক্তির উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা এখানে হত্যাকারী ও নিহতের মধ্যে সমকক্ষতা নেই। পক্ষান্তরে কাফের মুসলমানকে কিংবা গোলাম স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করলে হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে।
ইসলাম এক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ রাখেনি। মুসলমানদের মধ্যে উঁচুজাত ও নিচুজাত, সুন্দর ও অসুন্দর, ধনী ও দরিদ্র, লম্বা ও খাটো, সবল ও দুর্বল, সুস্থ ও রোগী, পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ, ছোট ও বড় এবং নারী ও পুরুষে কোনো ভেদাভেদ স্বীকার করা

উপর দিয়াত কার্যকর হবে, হত্যাকারীর উপর নয়। কেননা আল্লাহর নাফরমানী হয় এমন কাজে শাসকের হুকুম পালনের ব্যাপারে সে দায়মুক্ত। আর যে ব্যক্তি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অসুস্থ মস্তিষ্ক ব্যক্তির নিকট হত্যার অস্ত্র সমর্পণ করে এবং হত্যার আদেশ না দেয়, তথাপি সে হত্যা করে, তবে অস্ত্রদাতার উপর কোনো দায় বর্তাবেনা।
৫. হত্যাকারীর নিহতের পিতা বা পিতামহ না হওয়া। সুতরাং পিতাকে সন্তান হত্যা ও দাদাকে পৌত্র-পৌত্রী হত্যার জন্য হত্যা করা হবেনা, চাই তা যে কোনো প্রকারের ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হোক না কেন। পক্ষান্তরে সন্তান যদি মা বা বাবাকে হত্যা করে, তবে সর্বসম্মত মতানুসারে তাকে হত্যা করা হবে। তিরমিযি ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "সন্তান হত্যার জন্য পিতাকে হত্যা করা হবেনা।" ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেন, বনু মুদাল্লাজের কাতাদা নামক এক ব্যক্তি তার ছেলেকে তরবারি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাতের কারণে পরে সে মারা যায়। সুরাকা ইবনে যুশাম উমর রা. এর নিকট গিয়ে এ ঘটনার কথা জানালে তিনি তাকে বললেন, "একশো বিশটি উট প্রস্তুত করে রাখো। আমি আসছি।" পরে তিনি এসে উক্ত একশো বিশটি উট থেকে একশোটা নিয়ে বললেন, নিহতের ভাই কোথায়? সে বললো, এই যে আমি। তিনি বললেন, এগুলো নাও। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, হত্যাকারীর জন্য কিছুই প্রাপ্য নেই। ইমাম মালেক এই মতের বিরোধিতা করে বলেছেন, পিতা যখন সন্তানকে শুইয়ে দিয়ে যবাই করে, তখন তার উপর অবশ্যই কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এটা প্রকৃত ইচ্ছাকৃত হত্যা। অন্য কিছু হবার সম্ভাবনা নেই। হত্যাকাণ্ডের ইচ্ছাকৃতভাবে হওয়া একটা গোপন ব্যাপার। পরিবেশ ও পরিস্থিতি দ্বারা যা প্রকাশ পায়, তা ছাড়া আর কিছু সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়না। তবে হত্যাকাণ্ডটি যদি এমন কোনো পন্থায় সংঘটিত হয়, যা দ্বারা প্রাণ হননের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়, বরং কেবল শাসন করার উদ্দেশ্য ছিল বলে অনুমিত হয়। তবে সন্তান ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে হলে একে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডই গণ্য করা হবে। পিতা ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য করার কারণ হলো, সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ-মমতা থাকা স্বাভাবিক। তাই সে যখন পিতার ক্রোধের উদ্রেককারী কোনো কাজ করে, তখন পিতা তাকে শাসন করতে চাইতে পারে। কাজেই এ ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবেনা। কারণ পিতা ও ছেলের মধ্যে মমতার বন্ধন অত্যন্ত জোরদার।
৬. হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় নিহত ব্যক্তির ধর্ম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিক দিয়ে হত্যাকারীর সমকক্ষ হওয়া। তাই কোনো মুসলমান কোনো কাফেরকে হত্যা করলে সেজন্য উক্ত মুসলমানের উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। অনুরূপ, একজন স্বাধীন ব্যক্তি একজন দাসকে হত্যা করলে সেজন্য স্বাধীন ব্যক্তির উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা এখানে হত্যাকারী ও নিহতের মধ্যে সমকক্ষতা নেই। পক্ষান্তরে কাফের মুসলমানকে কিংবা গোলাম স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করলে হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে।
ইসলাম এক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ রাখেনি। মুসলমানদের মধ্যে উঁচুজাত ও নিচুজাত, সুন্দর ও অসুন্দর, ধনী ও দরিদ্র, লম্বা ও খাটো, সবল ও দুর্বল, সুস্থ ও রোগী, পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ, ছোট ও বড় এবং নারী ও পুরুষে কোনো ভেদাভেদ স্বীকার করা

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাস কার্যকর করার সময়

📄 কিসাস কার্যকর করার সময়


হয়নি। তবে মুসলমান ও কাফেরের মধ্যে এবং দাস ও স্বাধীনের মধ্যে পার্থক্য স্বীকার করা হয়েছে। এই দুই শ্রেণীকে হত্যার শাস্তির ব্যাপারে সমকক্ষ করা হয়নি। তাই কোনো মুসলমান কোনো কাফেরকে অথবা কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসকে হত্যা করলে হত্যাকারীর উপর কisass কার্যকর হবেনা। এই বিধির উৎস হলো আলী রা. এর বর্ণিত হাদিস, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
"মনে রেখো, কোনো কাফেরের বিনিময়ে কোনো মুমিনকে হত্যা করা হবেনা।" -আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী, হাকেম।
বুখারি আলী রা. থেকে আরো বর্ণনা করেছেন, আবু জুহাইফা আলীকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের নিকট কি এমন কোনো ওহি আছে, যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন : না, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কসম, আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে কুরআনের যে জ্ঞান দান করেন তা এবং এই পুস্তকটিতে যা আছে, তা ব্যতীত আর কিছু নেই। আবু জুহাইফা বললেন, ঐ পুস্তিকাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, মুমিনদের প্রাণের বিনিময়ে (কিসাস ও দিয়াতে) সমকক্ষতা, বন্দীর মুক্তি এবং কোনো মুসলমানকে কোনো কাফেরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবেনা।
অবশ্য এখানে যে কাফেরের কথা বলা হলো, সে হচ্ছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের। কোনো মুসলমান তাকে হত্যা করলে তার শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যা করা যাবেনা। এটা সর্বসম্মত মত বা ইজমা। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ ও অনুগত অমুসলিম নাগরিক সম্পর্কে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ফকিহর মতে, এক্ষেত্রে মুসলমানকে উক্ত দুই শ্রেণীর অমুসলিমের বিনিময়ে হত্যা করা হবেনা। কেননা এর স্বপক্ষে বহু সহীহ হাদিস রয়েছে এবং এর বিপক্ষে কিছু নেই।
তবে হানাফি ফকিহগণ ও ইবনে আবি লায়লা বলেছেন, “কোনো মুসলমান যখন কোনো যুদ্ধরত কাফেরেকে হত্যা করবে, তখন তাকে হত্যা করা হবেনা। তবে চুক্তিবদ্ধ ও অনুগত কাফেরের ব্যাপারে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তারা বলেন, কোনো চুক্তিবদ্ধ ও অনুগত (যিম্মি) কাফেরকে সঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন: وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ
"আমি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বদলে প্রাণ...." আল্লাহর এই উক্তি মুসলমান ও কাফের নির্বিশেষে সবার উপর প্রযোজ্য। বায়হাকি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সা. একজন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের বদলে একজন মুসলমানকে হত্যা করিয়েছেন এবং বলেছেন, যে ব্যক্তি তার চুক্তি মেনে চলে আমি তাকে সম্মান করি।
ফকিহগণ আরো বলেছেন, মুসলমানরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছে যে, কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিকের মাল চুরি করলে মুসলমানের হাত কাটা হবে। সুতরাং অমুসলিম নাগরিকের মাল যেমন মুসলিম নাগরিকের মালের ন্যায় পবিত্র ও সম্মানার্হ, তেমনি তার প্রাণও মুসলিম নাগরিকের প্রাণের ন্যায় পবিত্র ও সম্মানার্হ।
একবার বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফেরে নিকট এমন মুসলমানকে ধরে আনা হলো। যে জনৈক অমুসলিম নাগরিককে (যিম্মিকে) হত্যা করেছে। তিনি তৎক্ষণাত তার বিরুদ্ধে কিসাসের রায় দিয়ে দিলেন। সহসা এক ব্যক্তি তার কাছে এসে তাকে এক টুকরো কাগজ দিয়ে গেলো, যাতে লেখা ছিলো: "হে কাফেরের বিনিময়ে মুসলমানকে হত্যাকারী, তুমি যুলুম করেছো, আর জেনে রেখো, যালেম ও সুবিচারক কখনো সমান নয়। বাগদাদে ও

হয়নি। তবে মুসলমান ও কাফেরের মধ্যে এবং দাস ও স্বাধীনের মধ্যে পার্থক্য স্বীকার করা হয়েছে। এই দুই শ্রেণীকে হত্যার শাস্তির ব্যাপারে সমকক্ষ করা হয়নি। তাই কোনো মুসলমান কোনো কাফেরকে অথবা কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসকে হত্যা করলে হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। এই বিধির উৎস হলো আলী রা. এর বর্ণিত হাদিস, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
"মনে রেখো, কোনো কাফেরের বিনিময়ে কোনো মুমিনকে হত্যা করা হবেনা।" -আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী, হাকেম।
বুখারি আলী রা. থেকে আরো বর্ণনা করেছেন, আবু জুহাইফা আলীকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের নিকট কি এমন কোনো ওহি আছে, যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন : না, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কসম, আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে কুরআনের যে জ্ঞান দান করেন তা এবং এই পুস্তকটিতে যা আছে, তা ব্যতীত আর কিছু নেই। আবু জুহাইফা বললেন, ঐ পুস্তিকাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, মুমিনদের প্রাণের বিনিময়ে (কিসাস ও দিয়াতে) সমকক্ষতা, বন্দীর মুক্তি এবং কোনো মুসলমানকে কোনো কাফেরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবেনা।
অবশ্য এখানে যে কাফেরের কথা বলা হলো, সে হচ্ছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের। কোনো মুসলমান তাকে হত্যা করলে তার শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যা করা যাবেনা। এটা সর্বসম্মত মত বা ইজমা। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ ও অনুগত অমুসলিম নাগরিক সম্পর্কে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ফকিহর মতে, এক্ষেত্রে মুসলমানকে উক্ত দুই শ্রেণীর অমুসলিমের বিনিময়ে হত্যা করা হবেনা। কেননা এর স্বপক্ষে বহু সহীহ হাদিস রয়েছে এবং এর বিপক্ষে কিছু নেই।
তবে হানাফি ফকিহগণ ও ইবনে আবি লায়লা বলেছেন, “কোনো মুসলমান যখন কোনো যুদ্ধরত কাফেরেকে হত্যা করবে, তখন তাকে হত্যা করা হবেনা। তবে চুক্তিবদ্ধ ও অনুগত কাফেরের ব্যাপারে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তারা বলেন, কোনো চুক্তিবদ্ধ ও অনুগত (যিম্মি) কাফেরকে সঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন: وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ
"আমি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বদলে প্রাণ...." আল্লাহর এই উক্তি মুসলমান ও কাফের নির্বিশেষে সবার উপর প্রযোজ্য। বায়হাকি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সা. একজন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের বদলে একজন মুসলমানকে হত্যা করিয়েছেন এবং বলেছেন, যে ব্যক্তি তার চুক্তি মেনে চলে আমি তাকে সম্মান করি।
ফকিহগণ আরো বলেছেন, মুসলমানরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছে যে, কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিকের মাল চুরি করলে মুসলমানের হাত কাটা হবে। সুতরাং অমুসলিম নাগরিকের মাল যেমন মুসলিম নাগরিকের মালের ন্যায় পবিত্র ও সম্মানার্হ, তেমনি তার প্রাণও মুসলিম নাগরিকের প্রাণের ন্যায় পবিত্র ও সম্মানার্হ।
একবার বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফেরে নিকট এমন মুসলমানকে ধরে আনা হলো। যে জনৈক অমুসলিম নাগরিককে (যিম্মিকে) হত্যা করেছে। তিনি তৎক্ষণাত তার বিরুদ্ধে কিসাসের রায় দিয়ে দিলেন। সহসা এক ব্যক্তি তার কাছে এসে তাকে এক টুকরো কাগজ দিয়ে গেলো, যাতে লেখা ছিলো: "হে কাফেরের বিনিময়ে মুসলমানকে হত্যাকারী, তুমি যুলুম করেছো, আর জেনে রেখো, যালেম ও সুবিচারক কখনো সমান নয়। বাগদাদে ও

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাসের দ্বারা কাযকর হবে

📄 কিসাসের দ্বারা কাযকর হবে


তার আশেপাশে বসবাসকারী ওহে আলেমগণ ও কবিগণ, তোমরা "ইন্না লিল্লাহ” পড়ো, তোমাদের ধর্মের জন্য কাঁদো ও সবর করো। কারণ সবরকারীর জন্য সওয়াব রয়েছে। আবু ইউসুফ একজন কাফেরের বিনিময়ে মুসলমানকে হত্যা করে ইসলামের উপর যুলুম করেছে।" এটি পড়েই আবু ইউসুফ হারুনুর রশীদের দরবারে গেলেন এবং তাকে কাগজটি পড়ে শোনালেন। তখন হারুনুর রশীদ বললেন, এই অভিযোগ নিরসন করো, যাতে কোনো গোলযোগ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা না হয়।"
আবু ইউসুফ বাইরে গেলেন এবং নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদেরকে বললেন, তোমরা অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ করো। লোকেরা কোনো প্রমাণ আনতে পারলোনা। অগত্যা আবু ইউসুফ কিসাস রহিত করে দিলেন।
মালেক ও লায়েস বলেছেন, "যিম্মির (অমুসলিম নাগরিকের) বিনিময়ে মুসলমানকে হত্যা করা যাবেনা। অবশ্য তাকে শুইয়ে যবাই করে হত্যা করে থাকলে, বিশেষত তার ধনসম্পদের লোভে করে থাকলে সেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার।
এতো গেলো অমুসলিম নাগরিকের কথা। পক্ষান্তরে দাসের বদলে স্বাধীন মানুষকে হত্যা করা হবেনা। অপরদিকে দাস যদি স্বাধীন মানুষকে হত্যা করে, তবে সেই হত্যাকারী দাসকে তার বিনিময়ে হত্যা করা হবে।
দার কুতনিতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি তার দাসকে বন্দী রেখে স্বেচ্ছায় হত্যা করে। রসূলুল্লাহ সা. তাকে (হত্যাকারীকে) একশো কষাঘাত করলেন, এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন এবং মুসলমানদের জন্য আগত সম্পদে তার হিসসা বাতিল করলেন। তবে তার উপর কিসাস কার্যকর করলেন না, রবং তাকে কুরআনের আয়াত অনুযায়ী একজন দাসকে মুক্ত করার আদেশ দিলেন। তাছাড়া আল্লাহর বাণী "স্বাধীন ব্যক্তির বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তি” এর অর্থ হলো, স্বাধীন ব্যক্তিকে শুধু স্বাধীন ব্যক্তির বিনিময়েই হত্যা করা যাবে, অস্বাধীন তথা দাসের বিনিময়ে নয়। তবে হত্যা করা যখন যাবেনা, তখন নিহত দাসের মূল্য অবশ্যই হত্যাকারী স্বাধীন ব্যক্তি দিতে বাধ্য, চাই সে মূল্য স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে দেয় দিয়াতের চেয়েও বেশি হয়ে যাক না কেন। এখানে মনে রাখতে হবে যে, এখানে যে বিধিটি উল্লেখ করা হলো, তা হত্যাকারীর নিজের গোলাম ব্যতীত অন্যের গোলামকে হত্যা বেলায় প্রযোজ্য। কোনো মনিব যদি নিজের গোলাম হত্যা করে তাহলে তার বিধান হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, (মনিবকে তার বিনিময়ে হত্যা করা হবেনা।) এটাই ইমাম মালেক, শাফেয়ি, আহমদ ও হাদবী মাযহাবসহ অধিকাংশ ফকিহর মত। পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফা বলেন, মনিব ব্যতীত আর যে কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে হত্যাকারী স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে। কেননা কুরআনে আল্লাহ যে বলেছেন, "আমি লিখে দিয়েছি, প্রাণের বদলে প্রাণ।" এটা সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যতক্ষণ না হাদিস দ্বারা কোনো ক্ষেত্রকে ব্যতিক্রম ঘোষণা করা হয়।
আর যেহেতু বায়হাকি বর্ণিত রসূলুল্লাহ সা. এর উক্তি: "দাসকে হত্যার কারণে মনিবের এবং সন্তানকে হত্যার কারণে পিতার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা" দ্বারা পিতা ও মনিবের ক্ষেত্র দুটিকে উক্ত সাধারণ ঘোষণা থেকে ব্যতিক্রম ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আবু হানিফার মতানুসারে এই দু'জনকে (পিতাকে সন্তান হত্যার ও মনিবকে নিজের

তার আশেপাশে বসবাসকারী ওহে আলেমগণ ও কবিগণ, তোমরা "ইন্না লিল্লাহ” পড়ো, তোমাদের ধর্মের জন্য কাঁদো ও সবর করো। কারণ সবরকারীর জন্য সওয়াব রয়েছে। আবু ইউসুফ একজন কাফেরের বিনিময়ে মুসলমানকে হত্যা করে ইসলামের উপর যুলুম করেছে।" এটি পড়েই আবু ইউসুফ হারুনুর রশীদের দরবারে গেলেন এবং তাকে কাগজটি পড়ে শোনালেন। তখন হারুনুর রশীদ বললেন, এই অভিযোগ নিরসন করো, যাতে কোনো গোলযোগ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা না হয়।"
আবু ইউসুফ বাইরে গেলেন এবং নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদেরকে বললেন, তোমরা অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ করো। লোকেরা কোনো প্রমাণ আনতে পারলোনা। অগত্যা আবু ইউসুফ কিসাস রহিত করে দিলেন।
মালেক ও লায়েস বলেছেন, "যিম্মির (অমুসলিম নাগরিকের) বিনিময়ে মুসলমানকে হত্যা করা যাবেনা। অবশ্য তাকে শুইয়ে যবাই করে হত্যা করে থাকলে, বিশেষত তার ধনসম্পদের লোভে করে থাকলে সেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার।
এতো গেলো অমুসলিম নাগরিকের কথা। পক্ষান্তরে দাসের বদলে স্বাধীন মানুষকে হত্যা করা হবেনা। অপরদিকে দাস যদি স্বাধীন মানুষকে হত্যা করে, তবে সেই হত্যাকারী দাসকে তার বিনিময়ে হত্যা করা হবে।
দার কুতনিতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি তার দাসকে বন্দী রেখে স্বেচ্ছায় হত্যা করে। রসূলুল্লাহ সা. তাকে (হত্যাকারীকে) একশো কষাঘাত করলেন, এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন এবং মুসলমানদের জন্য আগত সম্পদে তার হিসসা বাতিল করলেন। তবে তার উপর কিসাস কার্যকর করলেন না, রবং তাকে কুরআনের আয়াত অনুযায়ী একজন দাসকে মুক্ত করার আদেশ দিলেন। তাছাড়া আল্লাহর বাণী "স্বাধীন ব্যক্তির বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তি” এর অর্থ হলো, স্বাধীন ব্যক্তিকে শুধু স্বাধীন ব্যক্তির বিনিময়েই হত্যা করা যাবে, অস্বাধীন তথা দাসের বিনিময়ে নয়। তবে হত্যা করা যখন যাবেনা, তখন নিহত দাসের মূল্য অবশ্যই হত্যাকারী স্বাধীন ব্যক্তি দিতে বাধ্য, চাই সে মূল্য স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে দেয় দিয়াতের চেয়েও বেশি হয়ে যাক না কেন। এখানে মনে রাখতে হবে যে, এখানে যে বিধিটি উল্লেখ করা হলো, তা হত্যাকারীর নিজের গোলাম ব্যতীত অন্যের গোলামকে হত্যা বেলায় প্রযোজ্য। কোনো মনিব যদি নিজের গোলাম হত্যা করে তাহলে তার বিধান হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, (মনিবকে তার বিনিময়ে হত্যা করা হবেনা।) এটাই ইমাম মালেক, শাফেয়ি, আহমদ ও হাদবী মাযহাবসহ অধিকাংশ ফকিহর মত। পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফা বলেন, মনিব ব্যতীত আর যে কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে হত্যাকারী স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে। কেননা কুরআনে আল্লাহ যে বলেছেন, "আমি লিখে দিয়েছি, প্রাণের বদলে প্রাণ।" এটা সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যতক্ষণ না হাদিস দ্বারা কোনো ক্ষেত্রকে ব্যতিক্রম ঘোষণা করা হয়।
আর যেহেতু বায়হাকি বর্ণিত রসূলুল্লাহ সা. এর উক্তি: "দাসকে হত্যার কারণে মনিবের এবং সন্তানকে হত্যার কারণে পিতার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা" দ্বারা পিতা ও মনিবের ক্ষেত্র দুটিকে উক্ত সাধারণ ঘোষণা থেকে ব্যতিক্রম ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আবু হানিফার মতানুসারে এই দু'জনকে (পিতাকে সন্তান হত্যার ও মনিবকে নিজের

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00