📄 একজনের বিনিময়ে গোটা দলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া
শওকানি নায়লুল আওতার গ্রন্থে বলেছেন: "ওয়াসেলার হাদিসে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের কাফফারার বিধান প্রমাণিত। তবে এটা শুধু তখনই, যখন হত্যাকারীকে নিহতের উত্তরাধিকারী ক্ষমা করে দেয় কিংবা দিয়াতে রাযী হয়ে যায়। তবে তার উপর কিসাস কার্যকরী হলে কাফফারা দিতে হবেনা। বরং কিসাসই তার জন্য কাফফারা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "হত্যাই (অর্থাৎ কিসাসই) কাফফারা।"
কিসাস বা ক্ষমা: কিসাস, দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা অথবা দিয়াত ছাড়াই সন্ধি এর সব কটাই বৈধ। এমনকি সন্ধির বিনিময়ে যদি দিয়াতের চেয়ে বেশি কিছুও ব্যয় হয়, তবে তাও বৈধ।। নিহতের উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ বিনা ব্যয়েও ক্ষমা করার অধিকার রাখে এবং সেটাই সর্বোত্তম পন্থা। আল্লাহ বলেন:
وَإِن تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوى وَلَا تَنْسَوا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ .
অর্থ: তোমরা যদি ক্ষমা করে দাও তবে সেটাই তাকওয়ার নিকটতম। নিজেদের মধ্যে বদান্যতা ভুলে যেওনা।" (আল বাকারা: আয়াত ২৩০)
আর যখন নিহতের উত্তরাধিকারী হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়, তখন শাসক তার উপর আর (কোনো তাযীর কার্যকর করার অধিকার রাখেনা। তবে ইমাম মালেক ও লায়েস বলেন, তাকে তাযীরস্বরূপ এক বছরের কারাদণ্ড ও একশো কষাঘাত করা হবে। (ফকিহগণ বলেন, হত্যাকারী যদি কোনো দাগী অপরাধী বা চিহ্নিত দুর্বৃত্ত হয়, অথবা শাসকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তাকে শাস্তি দেয়া জনস্বার্থের দাবি, তবে যেভাবে জনস্বার্থের দাবি পূরণ হবে বলে প্রতীয়মান হয়, সেভাবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে, চাই জেল বা হত্যা যেভাবেই হোক।)
কিসাস বা ক্ষমা সংক্রান্ত বিধির উৎস হচ্ছে সূরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াত:
"হে মুমিনগণ, নিহতের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হলো। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস ও নারীর বদলে নারী। কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা প্রদর্শন করা হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও সততার সাথে তার দেয় আদায় করা বাঞ্ছনীয়। এটা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে লাঘব ও অনুগ্রহ। এর পরও যে সীমালংঘন করে, তার জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।"
বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার কেউ নিহত হয়, সে হয় তার রক্তপণ নেবে, না হয় হত্যাকারীকে হত্যা করবে।" এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, নিহতের উত্তরাধিকারীর স্বাধীনতা রয়েছে, হয় কিসাস না হয় দিয়াত আদায় করবে, চাই হত্যাকারী রাযী থাক বা না থাক। কেউ কেউ বলেন, কিসাস ছাড়া আর কিছু আদায় করার অধিকার তার নেই। হত্যাকারীর সম্পত্তি ব্যতিরেকে দিয়াত নিতে পারবেনা। তবে প্রথমোক্ত মতটাই সঠিক। সুতরাং ক্ষমা ও কিসাসের মধ্য হতে কোন্টি গ্রহণ করা হবে, সেটি ফায়সালা করার একক অধিকার নিহতের উত্তরাধিকারীদের। তারা চাইলে কিসাস দাবি করবে, চাইলে ক্ষমা করে দেবে। এমনকি একজন উত্তরাধিকারীও যদি ক্ষমা করে দেয়, তবে কিসাস রহিত হয়ে যাবে। কেননা কিসাস খণ্ডিত হয়না। ইমাম আবু হানিফার শিষ্য মুহাম্মাদ বিন হাসান বর্ণনা করেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো, যে ইচ্ছাকৃতভাবে একজনকে হত্যা করেছিল। উমর রা.
শওকানি নায়লুল আওতার গ্রন্থে বলেছেন: "ওয়াসেলার হাদিসে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের কাফফারার বিধান প্রমাণিত। তবে এটা শুধু তখনই, যখন হত্যাকারীকে নিহতের উত্তরাধিকারী ক্ষমা করে দেয় কিংবা দিয়াতে রাযী হয়ে যায়। তবে তার উপর কিসাস কার্যকরী হলে কাফফারা দিতে হবেনা। বরং কিসাসই তার জন্য কাফফারা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "হত্যাই (অর্থাৎ কিসাসই) কাফফারা।"
কিসাস বা ক্ষমা: কিসাস, দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা অথবা দিয়াত ছাড়াই সন্ধি এর সব কটাই বৈধ। এমনকি সন্ধির বিনিময়ে যদি দিয়াতের চেয়ে বেশি কিছুও ব্যয় হয়, তবে তাও বৈধ।। নিহতের উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ বিনা ব্যয়েও ক্ষমা করার অধিকার রাখে এবং সেটাই সর্বোত্তম পন্থা। আল্লাহ বলেন:
وَإِن تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوى وَلَا تَنْسَوا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ .
অর্থ: তোমরা যদি ক্ষমা করে দাও তবে সেটাই তাকওয়ার নিকটতম। নিজেদের মধ্যে বদান্যতা ভুলে যেওনা।" (আল বাকারা: আয়াত ২৩০)
আর যখন নিহতের উত্তরাধিকারী হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়, তখন শাসক তার উপর আর (কোনো তাযীর কার্যকর করার অধিকার রাখেনা। তবে ইমাম মালেক ও লায়েস বলেন, তাকে তাযীরস্বরূপ এক বছরের কারাদণ্ড ও একশো কষাঘাত করা হবে। (ফকিহগণ বলেন, হত্যাকারী যদি কোনো দাগী অপরাধী বা চিহ্নিত দুর্বৃত্ত হয়, অথবা শাসকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তাকে শাস্তি দেয়া জনস্বার্থের দাবি, তবে যেভাবে জনস্বার্থের দাবি পূরণ হবে বলে প্রতীয়মান হয়, সেভাবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে, চাই জেল বা হত্যা যেভাবেই হোক।)
কিসাস বা ক্ষমা সংক্রান্ত বিধির উৎস হচ্ছে সূরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াত:
"হে মুমিনগণ, নিহতের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হলো। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস ও নারীর বদলে নারী। কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা প্রদর্শন করা হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও সততার সাথে তার দেয় আদায় করা বাঞ্ছনীয়। এটা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে লাঘব ও অনুগ্রহ। এর পরও যে সীমালংঘন করে, তার জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।"
বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার কেউ নিহত হয়, সে হয় তার রক্তপণ নেবে, না হয় হত্যাকারীকে হত্যা করবে।" এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, নিহতের উত্তরাধিকারীর স্বাধীনতা রয়েছে, হয় কিসাস না হয় দিয়াত আদায় করবে, চাই হত্যাকারী রাযী থাক বা না থাক। কেউ কেউ বলেন, কিসাস ছাড়া আর কিছু আদায় করার অধিকার তার নেই। হত্যাকারীর সম্পত্তি ব্যতিরেকে দিয়াত নিতে পারবেনা। তবে প্রথমোক্ত মতটাই সঠিক। সুতরাং ক্ষমা ও কিসাসের মধ্য হতে কোন্টি গ্রহণ করা হবে, সেটি ফায়সালা করার একক অধিকার নিহতের উত্তরাধিকারীদের। তারা চাইলে কিসাস দাবি করবে, চাইলে ক্ষমা করে দেবে। এমনকি একজন উত্তরাধিকারীও যদি ক্ষমা করে দেয়, তবে কিসাস রহিত হয়ে যাবে। কেননা কিসাস অবিভাজ্য। ইমাম আবু হানিফার শিষ্য মুহাম্মাদ বিন হাসান বর্ণনা করেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো, যে ইচ্ছাকৃতভাবে একজনকে হত্যা করেছিল। উমর রা.
📄 যখন যখন কাউকে ডাকতে ধরে এবং অপরজন হত্যা করে
তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। ইতিমধ্যে উত্তরাধিকারীদের কেউ কেউ তাকে মাফ করে দিলো। তথাপি উমর রা. তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন: নিহত ব্যক্তির বদলে হত্যাকারীর প্রাণ হননের অধিকার ওদের সকলের ছিলো। কিন্তু একজন যখন তাকে ক্ষমা করলো, তখন সে তাকে বাঁচিয়ে দিলো। কিন্তু যে ক্ষমা করেনি, তার অধিকার সে হরণ করতে পারে না। উমর রা. বললেন, তাহলে কী করা উচিত মনে করো? তিনি বললেন, "আমি মনে করি, হত্যাকারীর সম্পদ থেকে দিয়াত দেয়া হোক এবং যে জন হত্যাকারীকে ক্ষমা করেছে, দিয়াতের তার অংশ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হোক। উমর রা. বললেন, আমিও তাই মনে করি। মুহাম্মদ বলেন, আমারও এটাই সঠিক মনে হয়, এটা ইমাম আবু হানিফারও মত।
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকলে তার বয়োপ্রাপ্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, যাতে সে স্বাধীনভাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। কারণ কিসাস সকল উত্তরাধিকারীর অধিকার। অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তির পূর্বে কোনো ক্ষমতা থাকেনা। আর যখন সকল উত্তরাধিকারী বা তাদের কেউ কেউ দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেয়, তখন হত্যাকারীর উপর নিজের সম্পদ থেকে পূর্ণ দিয়াত দেয়া অপরিহার্য হবে।
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিসাস ওয়াজিব হবেনা:
১. নিহত ব্যক্তির এমন কোনো অপরাধে দায়ী না হওয়া, যার জন্য সে হত্যার যোগ্য সাব্যস্ত হয়। সে যদি কোনো যুদ্ধরত কাফের হয়, বিবাহিত ব্যভিচারী হয়, কিংবা মুরতাদ হয়, তাহলে হত্যাকারীর উপর কোনো ধরনের বিনিময় প্রদান করার দায়িত্ব থাকবেনা, কিসাসও নয়, দিয়াতও নয়। কেননা এদের সবাইকে হত্যা করা বৈধ।
বুখারি ও মুসলিম ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল এই সাক্ষ্য দানকারী কোনো মুসলমানকে হত্যা করা তিনটি কারণের যে কোনো একটি ব্যতীত বৈধ নয়:
১. বিবাহিত হয়েও ব্যভিচার করা, কাউকে হত্যা করা এবং ইসলাম ত্যাগ করে মুসলমানদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাওয়া। ২. হত্যাকারীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. হত্যাকারীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
অতএব, অপ্রাপ্তবয়স্ক, পাগল ও অসুস্থ মস্তিষ্ক এদের কারো উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা শরিয়তের বিধান পালনের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত নয়, তাদের কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও নেই এবং স্বাধীন ইচ্ছাও নেই। তবে যদি কোনো পাগল এমন হয় যে, মাঝে মাঝে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় কাউকে হত্যা করে। তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অনুরূপ যে ব্যক্তির অতি মাত্রায় মদ পান করে মাতাল হওয়ার কারণে বুদ্ধি-বিবেক লোপ পায়, সে কাউকে হত্যা করলে তার উপরও কিসাস কার্যকর হবে। মালেক থেকে বর্ণিত, মারওয়ান ইবনুল হাকাম মুয়াবিয়াকে লিখে জানালেন যে, তার কাছে একজন মাতাল লোককে আনা হয়েছে, যে একজনকে হত্যা করেছে। মুয়াবিয়া তার জবাবে তাকে লিখলেন, ওকে ঐ হত্যার বদলে হত্যা করো। তবে যদি কেউ এমন কোনো পানীয় পান করে, যার সম্পর্কে তার ধারণা ছিলো যে, তা
তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। ইতিমধ্যে উত্তরাধিকারীদের কেউ কেউ তাকে মাফ করে দিলো। তথাপি উমর রা. তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন: নিহত ব্যক্তির বদলে হত্যাকারীর প্রাণ হননের অধিকার ওদের সকলের ছিলো। কিন্তু একজন যখন তাকে ক্ষমা করলো, তখন সে তাকে বাঁচিয়ে দিলো। কিন্তু যে ক্ষমা করেনি, তার অধিকার সে হরণ করতে পারে না। উমর রা. বললেন, তাহলে কী করা উচিত মনে করো? তিনি বললেন, "আমি মনে করি, হত্যাকারীর সম্পদ থেকে দিয়াত দেয়া হোক এবং যে জন হত্যাকারীকে ক্ষমা করেছে, দিয়াতের তার অংশ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হোক। উমর রা. বললেন, আমিও তাই মনে করি। মুহাম্মদ বলেন, আমারও এটাই সঠিক মনে হয়, এটা ইমাম আবু হানিফারও মত।
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকলে তার বয়োপ্রাপ্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, যাতে সে স্বাধীনভাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। কারণ কিসাস সকল উত্তরাধিকারীর অধিকার। অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তির পূর্বে কোনো ক্ষমতা থাকেনা। আর যখন সকল উত্তরাধিকারী বা তাদের কেউ কেউ দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেয়, তখন হত্যাকারীর উপর নিজের সম্পদ থেকে পূর্ণ দিয়াত দেয়া অপরিহার্য হবে।
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিসাস ওয়াজিব হবেনা:
১. নিহত ব্যক্তির এমন কোনো অপরাধে দায়ী না হওয়া, যার জন্য সে হত্যার যোগ্য সাব্যস্ত হয়। সে যদি কোনো যুদ্ধরত কাফের হয়, বিবাহিত ব্যভিচারী হয়, কিংবা মুরতাদ হয়, তাহলে হত্যাকারীর উপর কোনো ধরনের বিনিময় প্রদান করার দায়িত্ব থাকবেনা, কিসাসও নয়, দিয়াতও নয়। কেননা এদের সবাইকে হত্যা করা বৈধ।
বুখারি ও মুসলিম ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল এই সাক্ষ্য দানকারী কোনো মুসলমানকে হত্যা করা তিনটি কারণের যে কোনো একটি ব্যতীত বৈধ নয়:
১. বিবাহিত হয়েও ব্যভিচার করা, কাউকে হত্যা করা এবং ইসলাম ত্যাগ করে মুসলমানদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাওয়া। ২. হত্যাকারীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. হত্যাকারীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
অতএব, অপ্রাপ্তবয়স্ক, পাগল ও অসুস্থ মস্তিষ্ক এদের কারো উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা শরিয়তের বিধান পালনের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত নয়, তাদের কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও নেই এবং স্বাধীন ইচ্ছাও নেই। তবে যদি কোনো পাগল এমন হয় যে, মাঝে মাঝে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় কাউকে হত্যা করে। তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অনুরূপ যে ব্যক্তির অতি মাত্রায় মদ পান করে মাতাল হওয়ার কারণে বুদ্ধি-বিবেক লোপ পায়, সে কাউকে হত্যা করলে তার উপরও কিসাস কার্যকর হবে। মালেক থেকে বর্ণিত, মারওয়ান ইবনুল হাকাম মুয়াবিয়াকে লিখে জানালেন যে, তার কাছে একজন মাতাল লোককে আনা হয়েছে, যে একজনকে হত্যা করেছে। মুয়াবিয়া তার জবাবে তাকে লিখলেন, ওকে ঐ হত্যার বদলে হত্যা করো। তবে যদি কেউ এমন কোনো পানীয় পান করে, যার সম্পর্কে তার ধারণা ছিলো যে, তা
📄 কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে
মাতাল করবেনা, কিন্তু তাতে তার বুদ্ধি লোপ পেলো এবং সেই অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বসলো, তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা ইতিপূর্বে একটি হাদিসে তিন ব্যক্তিকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যার একজন হচ্ছে পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।
মালেক বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, বালকদের উপর কোনো কিসাস কার্যকর হয়না এবং বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বালকের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে হত্যার শামিল।
৪. হত্যাকারীর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বাধীন অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো। বল প্রয়োগ স্বাধীন বিবেচনা শক্তির বিলোপ ঘটায়। আর যার স্বাধীন বিবেচনা শক্তি নেই, তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কাজেই কোনো পরাক্রমশালী লোক যখন অন্য একজনকে হত্যা করতে কাউকে বাধ্য করে এবং সে কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তখন আদেশদান কারীকে হত্যা করা হবে, আদিষ্টকে নয়। তবে আদিষ্টকেও শাস্তি দেয়া হবে। এটাই আবু হানিফা, দাউদ ও শাফেয়ির মত। হানাফিগণ বলেন, কেউ যদি এমন ব্যক্তির আদেশক্রমে কোনো মুসলমানের সম্পদ বিনষ্ট করতে বাধ্য হয়, যার আদেশ অমান্য করলে তার প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানির আশংকা আছে, তবে তার জন্য ঐ কাজ করা বৈধ। তবে সম্পদের মালিক বলপ্রয়োগকারীকে তার ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবে। আর যদি হত্যার ভয় দেখিয়ে কেউ অন্য একজনকে হত্যা করতে বাধ্য করে, তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো তার জন্য বৈধ নয়।। নিজে নিহত হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে গুনাহগার হবে। হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হলে বল প্রয়োগকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কেউ কেউ বলেন, আদিষ্ট ব্যক্তিকেই হত্যা করা হবে, আদেশকারীকে নয়। এটা ইমাম শাফেয়িরও অন্য একটি মত। ইমাম মালেক ও হাম্বলি ইমামগণসহ একদল বলেন, উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে উভয়কে হত্যা করা হবে। আর যদি সে ক্ষমা করে, তবে দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে। কেননা হত্যাকারী অপর ব্যক্তিকে হত্যা করে নিজে বাঁচতে চেয়েছিল। আর বল প্রয়োগকারী এমন পন্থায় হত্যার কারণে পরিণত হয়েছে, যে পন্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ছাড়ে। আর যখন কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো পাগল বা বালককে অন্য একজনকে হত্যা করার আদেশ দেয়, তখন কিসাস কার্যকর হবে আদেশদাতার উপর। কেননা হত্যাকারী তার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তাই তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কিসাস কার্যকর হবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আদেশদাতার উপর। আর যখন শাসক কোনো অন্যায় হত্যার আদেশ দেয়, তখন দেখতে হবে, আদিষ্ট ব্যক্তি জানে কিনা যে, আদেশটি অন্যায় ও যুলুম। যদি আদেশটি যুলুম জেনেও কার্যকর করে ফেলে, তবে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অবশ্য নিহতের উত্তরাধিকারী যদি মাফ করে দেয়, তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা সে অন্যায় ও যুলুম জেনেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই তাকে দায়মুক্ত করা হবেনা। একথা বলার অবকাশ নেই যে, সে শাসকের পক্ষ থেকে আদিষ্ট। কেননা ইসলামের মূলনীতি হলো, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে সৃষ্টির আদেশ মান্য করা যাবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং একথা ঘোষণা করেছেন। আর যদি হত্যাকারী না জানে যে, নিহত ব্যক্তি হত্যার অযোগ্য এবং তাকে আদেশ অনুসারে হত্যা করে, তাহলে উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে আদেশদাতার উপর কিসাস আর ক্ষমা করলে আদেশদাতার
মাতাল করবেনা, কিন্তু তাতে তার বুদ্ধি লোপ পেলো এবং সেই অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বসলো, তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা ইতিপূর্বে একটি হাদিসে তিন ব্যক্তিকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যার একজন হচ্ছে পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।
মালেক বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, বালকদের উপর কোনো কিসাস কার্যকর হয়না এবং বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বালকের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে হত্যার শামিল।
৪. হত্যাকারীর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বাধীন অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো। বল প্রয়োগ স্বাধীন বিবেচনা শক্তির বিলোপ ঘটায়। আর যার স্বাধীন বিবেচনা শক্তি নেই, তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কাজেই কোনো পরাক্রমশালী লোক যখন অন্য একজনকে হত্যা করতে কাউকে বাধ্য করে এবং সে কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তখন আদেশদান কারীকে হত্যা করা হবে, আদিষ্টকে নয়। তবে আদিষ্টকেও শাস্তি দেয়া হবে। এটাই আবু হানিফা, দাউদ ও শাফেয়ির মত। হানাফিগণ বলেন, কেউ যদি এমন ব্যক্তির আদেশক্রমে কোনো মুসলমানের সম্পদ বিনষ্ট করতে বাধ্য হয়, যার আদেশ অমান্য করলে তার প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানির আশংকা আছে, তবে তার জন্য ঐ কাজ করা বৈধ। তবে সম্পদের মালিক বলপ্রয়োগকারীকে তার ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবে। আর যদি হত্যার ভয় দেখিয়ে কেউ অন্য একজনকে হত্যা করতে বাধ্য করে, তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো তার জন্য বৈধ নয়।। নিজে নিহত হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে গুনাহগার হবে। হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হলে বল প্রয়োগকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কেউ কেউ বলেন, আদিষ্ট ব্যক্তিকেই হত্যা করা হবে, আদেশকারী নয়। এটা ইমাম শাফেয়িরও অন্য একটি মত। ইমাম মালেক ও হাম্বলি ইমামগণসহ একদল বলেন, উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে উভয়কে হত্যা করা হবে। আর যদি সে ক্ষমা করে, তবে দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে। কেননা হত্যাকারী অপর ব্যক্তিকে হত্যা করে নিজে বাঁচতে চেয়েছিল। আর বল প্রয়োগকারী এমন পন্থায় হত্যার কারণে পরিণত হয়েছে, যে পন্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ছাড়ে। আর যখন কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো পাগল বা বালককে অন্য একজনকে হত্যা করার আদেশ দেয়, তখন কিসাস কার্যকর হবে আদেশদাতার উপর। কেননা হত্যাকারী তার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তাই তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কিসাস কার্যকর হবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আদেশদাতার উপর। আর যখন শাসক কোনো অন্যায় হত্যার আদেশ দেয়, তখন দেখতে হবে, আদিষ্ট ব্যক্তি জানে কিনা যে, আদেশটি অন্যায় ও যুলুম। যদি আদেশটি যুলুম জেনেও কার্যকর করে ফেলে, তবে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অবশ্য নিহতের উত্তরাধিকারী যদি মাফ করে দেয়, তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা সে অন্যায় ও যুলুম জেনেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই তাকে দায়মুক্ত করা হবেনা। একথা বলার অবকাশ নেই যে, সে শাসকের পক্ষ থেকে আদিষ্ট। কেননা ইসলামের মূলনীতি হলো, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে সৃষ্টির আদেশ মান্য করা যাবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং একথা ঘোষণা করেছেন। আর যদি হত্যাকারী না জানে যে, নিহত ব্যক্তি হত্যার অযোগ্য এবং তাকে আদেশ অনুসারে হত্যা করে, তাহলে উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে আদেশদাতার উপর কিসাস আর ক্ষমা করলে আদেশদাতার
📄 অমরাত্মীর উপর কিসাস কার্যকর করার শর্তাবলি
উপর দিয়াত কার্যকর হবে, হত্যাকারীর উপর নয়। কেননা আল্লাহর নাফরমানী হয় এমন কাজে শাসকের হুকুম পালনের ব্যাপারে সে দায়মুক্ত। আর যে ব্যক্তি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অসুস্থ মস্তিষ্ক ব্যক্তির নিকট হত্যার অস্ত্র সমর্পণ করে এবং হত্যার আদেশ না দেয়, তথাপি সে হত্যা করে, তবে অস্ত্রদাতার উপর কোনো দায় বর্তাবেনা।
৫. হত্যাকারীর নিহতের পিতা বা পিতামহ না হওয়া। সুতরাং পিতাকে সন্তান হত্যা ও দাদাকে পৌত্র-পৌত্রী হত্যার জন্য হত্যা করা হবেনা, চাই তা যে কোনো প্রকারের ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হোক না কেন। পক্ষান্তরে সন্তান যদি মা বা বাবাকে হত্যা করে, তবে সর্বসম্মত মতানুসারে তাকে হত্যা করা হবে। তিরমিযি ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "সন্তান হত্যার জন্য পিতাকে হত্যা করা হবেনা।" ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেন, বনু মুদাল্লাজের কাতাদা নামক এক ব্যক্তি তার ছেলেকে তরবারি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাতের কারণে পরে সে মারা যায়। সুরাকা ইবনে যুশাম উমর রা. এর নিকট গিয়ে এ ঘটনার কথা জানালে তিনি তাকে বললেন, "একশো বিশটি উট প্রস্তুত করে রাখো। আমি আসছি।" পরে তিনি এসে উক্ত একশো বিশটি উট থেকে একশোটা নিয়ে বললেন, নিহতের ভাই কোথায়? সে বললো, এই যে আমি। তিনি বললেন, এগুলো নাও। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, হত্যাকারীর জন্য কিছুই প্রাপ্য নেই। ইমাম মালেক এই মতের বিরোধিতা করে বলেছেন, পিতা যখন সন্তানকে শুইয়ে দিয়ে যবাই করে, তখন তার উপর অবশ্যই কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এটা প্রকৃত ইচ্ছাকৃত হত্যা। অন্য কিছু হবার সম্ভাবনা নেই। হত্যাকাণ্ডের ইচ্ছাকৃতভাবে হওয়া একটা গোপন ব্যাপার। পরিবেশ ও পরিস্থিতি দ্বারা যা প্রকাশ পায়, তা ছাড়া আর কিছু সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়না। তবে হত্যাকাণ্ডটি যদি এমন কোনো পন্থায় সংঘটিত হয়, যা দ্বারা প্রাণ হননের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়, বরং কেবল শাসন করার উদ্দেশ্য ছিল বলে অনুমিত হয়। তবে সন্তান ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে হলে একে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডই গণ্য করা হবে। পিতা ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য করার কারণ হলো, সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ-মমতা থাকা স্বাভাবিক। তাই সে যখন পিতার ক্রোধের উদ্রেককারী কোনো কাজ করে, তখন পিতা তাকে শাসন করতে চাইতে পারে। কাজেই এ ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবেনা। কারণ পিতা ও ছেলের মধ্যে মমতার বন্ধন অত্যন্ত জোরদার।
৬. হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় নিহত ব্যক্তির ধর্ম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিক দিয়ে হত্যাকারীর সমকক্ষ হওয়া। তাই কোনো মুসলমান কোনো কাফেরকে হত্যা করলে সেজন্য উক্ত মুসলমানের উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। অনুরূপ, একজন স্বাধীন ব্যক্তি একজন দাসকে হত্যা করলে সেজন্য স্বাধীন ব্যক্তির উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা এখানে হত্যাকারী ও নিহতের মধ্যে সমকক্ষতা নেই। পক্ষান্তরে কাফের মুসলমানকে কিংবা গোলাম স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করলে হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে।
ইসলাম এক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ রাখেনি। মুসলমানদের মধ্যে উঁচুজাত ও নিচুজাত, সুন্দর ও অসুন্দর, ধনী ও দরিদ্র, লম্বা ও খাটো, সবল ও দুর্বল, সুস্থ ও রোগী, পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ, ছোট ও বড় এবং নারী ও পুরুষে কোনো ভেদাভেদ স্বীকার করা
উপর দিয়াত কার্যকর হবে, হত্যাকারীর উপর নয়। কেননা আল্লাহর নাফরমানী হয় এমন কাজে শাসকের হুকুম পালনের ব্যাপারে সে দায়মুক্ত। আর যে ব্যক্তি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অসুস্থ মস্তিষ্ক ব্যক্তির নিকট হত্যার অস্ত্র সমর্পণ করে এবং হত্যার আদেশ না দেয়, তথাপি সে হত্যা করে, তবে অস্ত্রদাতার উপর কোনো দায় বর্তাবেনা।
৫. হত্যাকারীর নিহতের পিতা বা পিতামহ না হওয়া। সুতরাং পিতাকে সন্তান হত্যা ও দাদাকে পৌত্র-পৌত্রী হত্যার জন্য হত্যা করা হবেনা, চাই তা যে কোনো প্রকারের ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হোক না কেন। পক্ষান্তরে সন্তান যদি মা বা বাবাকে হত্যা করে, তবে সর্বসম্মত মতানুসারে তাকে হত্যা করা হবে। তিরমিযি ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "সন্তান হত্যার জন্য পিতাকে হত্যা করা হবেনা।" ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেন, বনু মুদাল্লাজের কাতাদা নামক এক ব্যক্তি তার ছেলেকে তরবারি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাতের কারণে পরে সে মারা যায়। সুরাকা ইবনে যুশাম উমর রা. এর নিকট গিয়ে এ ঘটনার কথা জানালে তিনি তাকে বললেন, "একশো বিশটি উট প্রস্তুত করে রাখো। আমি আসছি।" পরে তিনি এসে উক্ত একশো বিশটি উট থেকে একশোটা নিয়ে বললেন, নিহতের ভাই কোথায়? সে বললো, এই যে আমি। তিনি বললেন, এগুলো নাও। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, হত্যাকারীর জন্য কিছুই প্রাপ্য নেই। ইমাম মালেক এই মতের বিরোধিতা করে বলেছেন, পিতা যখন সন্তানকে শুইয়ে দিয়ে যবাই করে, তখন তার উপর অবশ্যই কিসাস কার্যকর করা হবে। কেননা এটা প্রকৃত ইচ্ছাকৃত হত্যা। অন্য কিছু হবার সম্ভাবনা নেই। হত্যাকাণ্ডের ইচ্ছাকৃতভাবে হওয়া একটা গোপন ব্যাপার। পরিবেশ ও পরিস্থিতি দ্বারা যা প্রকাশ পায়, তা ছাড়া আর কিছু সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়না। তবে হত্যাকাণ্ডটি যদি এমন কোনো পন্থায় সংঘটিত হয়, যা দ্বারা প্রাণ হননের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়, বরং কেবল শাসন করার উদ্দেশ্য ছিল বলে অনুমিত হয়। তবে সন্তান ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে হলে একে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডই গণ্য করা হবে। পিতা ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য করার কারণ হলো, সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ-মমতা থাকা স্বাভাবিক। তাই সে যখন পিতার ক্রোধের উদ্রেককারী কোনো কাজ করে, তখন পিতা তাকে শাসন করতে চাইতে পারে। কাজেই এ ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবেনা। কারণ পিতা ও ছেলের মধ্যে মমতার বন্ধন অত্যন্ত জোরদার।
৬. হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় নিহত ব্যক্তির ধর্ম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিক দিয়ে হত্যাকারীর সমকক্ষ হওয়া। তাই কোনো মুসলমান কোনো কাফেরকে হত্যা করলে সেজন্য উক্ত মুসলমানের উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। অনুরূপ, একজন স্বাধীন ব্যক্তি একজন দাসকে হত্যা করলে সেজন্য স্বাধীন ব্যক্তির উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা এখানে হত্যাকারী ও নিহতের মধ্যে সমকক্ষতা নেই। পক্ষান্তরে কাফের মুসলমানকে কিংবা গোলাম স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করলে হত্যাকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে।
ইসলাম এক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ রাখেনি। মুসলমানদের মধ্যে উঁচুজাত ও নিচুজাত, সুন্দর ও অসুন্দর, ধনী ও দরিদ্র, লম্বা ও খাটো, সবল ও দুর্বল, সুস্থ ও রোগী, পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ, ছোট ও বড় এবং নারী ও পুরুষে কোনো ভেদাভেদ স্বীকার করা