📄 প্রত্যক্ষদর্শী হত্যা, গুপ্ত হত্যা ও অপহরণকারী হত্যা
(শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী হত্যার কাফফারাদাতা যদি বার্ধক্য, অসুস্থতা অথবা কঠিন পরিশ্রম হওয়ার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম হয়, তবে তার জন্য ষাটজন দরিদ্রকে আহার করানো বৈধ। প্রত্যেককে এক ওয়াক্তের খাবার দিলেও চলবে। অন্যান্য ফকিহগণ এ ব্যাপারে শাফেয়ি মাযহাবের বিরোধিতা করেছেন। কেননা তাদের মতের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।) আর যখন একটি দল কোনো এক ব্যক্তিকে ভুলক্রমে হত্যা করে, তখন অধিকাংশ আলেমের মতে, প্রত্যেককে স্বতন্ত্রভাবে পূর্ণ কাফফারা দিতে হবে। অন্য একদল ফকিহ বলেন, সকলে মিলে একটি কাফফারা দিলে চলবে।
কাফফারার উদ্দেশ্য: কুরতুবি বলেছেন: কেউ কেউ বলেছেন, হত্যাকারীর গুনাহ মোচনের লক্ষ্যে এই কাফফারা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তার গুনাহ এই যে, সে যথোপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেনি, যার ফলে তার হাতে একজন নিরপরাধ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, নিহত ব্যক্তির নিকট আল্লাহর যে সকল হক ছিলো, তা অকার্যকর করার প্রতিফলস্বরূপ কাফফারা ওয়াজিব করা হয়েছে। নিহতের নিকট আল্লাহর যে হক প্রাপ্য ছিলো, তা হলো, সে বেঁচে থাকবে এবং তার জন্য আল্লাহ যা কিছু হালাল করেছেন, তা ভোগ দখল করবে। হত্যাকারীর নিকটও আল্লাহর একটা হক পাওনা ছিলো। সেটি হলো, সে আল্লাহর একজন বান্দা ছিলো। সে ছোট হোক বা বড় হোক, স্বাধীন হোক বা দাস হোক, মুসলমান হোক বা অমুসলিম হোক, বান্দা হিসেবে তার মধ্যে যেন এমন গুণাবলী থাকে, যা দ্বারা সে পশু থেকে পৃথক হয়, আর সেই সাথে এরূপ আশাও করা হয়, যেন তার পরবর্তী প্রজন্মে আল্লাহর অনুগত ও তার হুকুম পালনকারী লোক জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু হত্যাকারী এই দুটো হকই অকার্যকর করে দিয়েছে। এজন্যই তার উপর কাফফারার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তবে এই দুটি হকের যেটিই বিবেচনায় নেয়া হোক। এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, আয়াতটি যদিও ভুলক্রমে হত্যাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারীও একই বিধির আওতাভুক্ত। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারীর উপর কাফফারা ওয়াজিব হওয়া আরো বেশি যৌক্তিক। পরবর্তীতে এর বিস্তারিত বিবরণ আসছে।
আধা-ইচ্ছাকৃত হত্যার পরিণতি: আধা-ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড দুটি পরিণতিকে অনিবার্য করে তোলে:
১. গুনাহ, কারণ এটা এমন প্রাণ হনন, যা ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত হত্যা করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন।
২. হত্যাকারীর উপর আরোপিত পরিপূর্ণ রক্তপণ বা দিয়াত, যার বিশদ বিবরণ সামনে আসছে।
ইচ্ছাকৃত হত্যার পরিণতি: ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অনিবার্য ফল চারটি:
১. গুনাহ।
২. নিহতের ওসিয়ত ও উত্তরাধিকার থেকে হত্যাকারীর বঞ্চনা।
৩. কাফফারা
৪. ক্ষমা অথবা কিসাস।
সুতরাং হত্যাকারী যদি নিহতের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে তবে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির কিছুই সে পাবেনা। তার নিজস্ব সম্পত্তি থেকেও নয়, দিয়াত থেকেও নয়, চাই হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হোক বা আধা-ইচ্ছাকৃত হোক। এ ব্যাপারে ফকিহদের অনুসৃত মূলনীতি হচ্ছে:
"যে ব্যক্তি কোনো জিনিস নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করেই শাস্তি দেয়া হয়।" বায়হাকি বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি একটা পাথর ছুঁড়ে মারলে তা তার মায়ের গায়ে লাগলো এবং তাতেই তার মা মারা গেলো। তখন সে মায়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে নিজের অংশ দাবি করলে তার ভাইরা বললো, "তোর কিছুই প্রাপ্য নেই।" অতপর তারা ফায়সালার জন্য আলী রা. এর নিকট গেলো। আলী রা. বললেন, "তোমার মায়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে শুধু ঐ পাথরটাই তোমার প্রাপ্য।" অতপর তিনি তার উপর জরিমানাস্বরূপ দিয়াত ধার্য করলেন এবং তার উত্তরাধিকার থেকে কিছুই তাকে দিলেননা। আমর বিন শুয়াইব বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "নিহতের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে হত্যাকারীর কিছুই পাওনা নেই।
আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "হত্যাকারী কিছুই পাবেনা। নিহতের যদি আর কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তার নিকটতম আত্মীয়ই তার উত্তরাধিকারী। হত্যাকারী কিছুই পাবেনা।" (অর্থাৎ হত্যাকারী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং যে বা যারা এ অপরাধে জড়িত হয়নি, তারা উত্তরাধিকার পাবে, হত্যাকারী ছাড়া তার যদি আর কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলেও হত্যাকারীর একটি ছেলে আছে। এরূপ ক্ষেত্রে নিহতের উত্তরাধিকার হত্যাকারীর ছেলে পাবে এবং হত্যাকারী বঞ্চিতই থাকবে। মায়ালিমুস্ সুনান, খাত্তাবি) এটাই হানাফি ও শাফেয়ি মাযহাবসহ অধিকাংশ আলেমের অভিমত। তবে ইমাম মালেক ও হাদোবী মাযহাবের মতে, হত্যাকারী দিয়াত ব্যতিরেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অংশ পাবে। যুহরি ও সাঈদ ইবনুল জুবাইর প্রমুখ বলেছেন, হত্যাকারী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা।
অনুরূপ ওসিয়তকারী যার পক্ষে ওসিয়ত করে, সে যদি ওসিয়তকারীকে হত্যা করে, তবে ওসিয়ত বাতিল গণ্য হবে। বাদায়ে গ্রন্থে বলা হয়েছে: "বিনা অপরাধে হতা করা একটা ভয়ংকর অপরাধ, যার বিরুদ্ধে কঠোরতম ধিক্কার প্রয়োজন। উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চনার মতো ওসিয়ত থেকে বঞ্চনা একটা সমুচিত ধিক্কার। হত্যাকাণ্ড চাই ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলক্রমে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক, তার বিরুদ্ধে ধিক্কার ও তিরস্কার অপরিহার্য। কেননা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলক্রমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডও হত্যাকাণ্ডই এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ও বিচার দাবি করা সঙ্গতভাবেই বৈধ, চাই নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর জন্য হত্যার পূর্বে ওসিয়ত করুক বা পরে করুক।
নিহতের উত্তরাধিকারী ক্ষমা করলে বা দিয়াতে রাযী হলে কাফফারা হত্যাকারীর উপর যখন কিসাস কার্যকর করা হবে, তখন তার উপর আর কাফফারা ওয়াজিব হবেনা।
ইমাম আহমদ ওয়াসেলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেন: বনু সুলাইম গোত্র থেকে একদল লোক রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এসে বললো আমাদের গোত্রের এক ব্যক্তি একজনকে হত্যা করে নিজের উপর দোযখ ওয়াজিব করে নিয়েছে। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাহলে সে যেনো একটি দাস মুক্ত করে দেয়। তাহলে আল্লাহ মুক্ত দাসের প্রতিটি অংগের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গকে দোযখ থেকে অব্যাহতি দেবেন।" হাদিসটি সামান্য শাব্দিক হেরফেরসহ আবু দাউদ ও নাসায়িতেও বর্ণিত হয়েছে।
(শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী হত্যার কাফফারাদাতা যদি বার্ধক্য, অসুস্থতা অথবা কঠিন পরিশ্রম হওয়ার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম হয়, তবে তার জন্য ষাটজন দরিদ্রকে আহার করানো বৈধ। প্রত্যেককে এক ওয়াক্তের খাবার দিলেও চলবে। অন্যান্য ফকিহগণ এ ব্যাপারে শাফেয়ি মাযহাবের বিরোধিতা করেছেন। কেননা তাদের মতের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।) আর যখন একটি দল কোনো এক ব্যক্তিকে ভুলক্রমে হত্যা করে, তখন অধিকাংশ আলেমের মতে, প্রত্যেককে স্বতন্ত্রভাবে পূর্ণ কাফফারা দিতে হবে। অন্য একদল ফকিহ বলেন, সকলে মিলে একটি কাফফারা দিলে চলবে।
কাফফারার উদ্দেশ্য: কুরতুবি বলেছেন: কেউ কেউ বলেছেন, হত্যাকারীর গুনাহ মোচনের লক্ষ্যে এই কাফফারা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তার গুনাহ এই যে, সে যথোপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেনি, যার ফলে তার হাতে একজন নিরপরাধ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, নিহত ব্যক্তির নিকট আল্লাহর যে সকল হক ছিলো, তা অকার্যকর করার প্রতিফলস্বরূপ কাফফারা ওয়াজিব করা হয়েছে। নিহতের নিকট আল্লাহর যে হক প্রাপ্য ছিলো, তা হলো, সে বেঁচে থাকবে এবং তার জন্য আল্লাহ যা কিছু হালাল করেছেন, তা ভোগ দখল করবে। হত্যাকারীর নিকটও আল্লাহর একটা হক পাওনা ছিলো। সেটি হলো, সে আল্লাহর একজন বান্দা ছিলো। সে ছোট হোক বা বড় হোক, স্বাধীন হোক বা দাস হোক, মুসলমান হোক বা অমুসলিম হোক, বান্দা হিসেবে তার মধ্যে যেন এমন গুণাবলী থাকে, যা দ্বারা সে পশু থেকে পৃথক হয়, আর সেই সাথে এরূপ আশাও করা হয়, যেন তার পরবর্তী প্রজন্মে আল্লাহর অনুগত ও তার হুকুম পালনকারী লোক জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু হত্যাকারী এই দুটো হকই অকার্যকর করে দিয়েছে। এজন্যই তার উপর কাফফারার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তবে এই দুটি হকের যেটিই বিবেচনায় নেয়া হোক। এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, আয়াতটি যদিও ভুলক্রমে হত্যাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারীও একই বিধির আওতাভুক্ত। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারীর উপর কাফফারা ওয়াজিব হওয়া আরো বেশি যৌক্তিক। পরবর্তীতে এর বিস্তারিত বিবরণ আসছে।
আধা-ইচ্ছাকৃত হত্যার পরিণতি: আধা-ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড দুটি পরিণতিকে অনিবার্য করে তোলে:
১. গুনাহ, কারণ এটা এমন প্রাণ হনন, যা ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত হত্যা করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন।
২. হত্যাকারীর উপর আরোপিত পরিপূর্ণ রক্তপণ বা দিয়াত, যার বিশদ বিবরণ সামনে আসছে।
ইচ্ছাকৃত হত্যার পরিণতি: ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অনিবার্য ফল চারটি:
১. গুনাহ।
২. নিহতের ওসিয়ত ও উত্তরাধিকার থেকে হত্যাকারীর বঞ্চনা।
৩. কাফফারা
৪. ক্ষমা অথবা কিসাস।
সুতরাং হত্যাকারী যদি নিহতের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে তবে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির কিছুই সে পাবেনা। তার নিজস্ব সম্পত্তি থেকেও নয়, দিয়াত থেকেও নয়, চাই হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হোক বা আধা-ইচ্ছাকৃত হোক। এ ব্যাপারে ফকিহদের অনুসৃত মূলনীতি হচ্ছে:
"যে ব্যক্তি কোনো জিনিস নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করেই শাস্তি দেয়া হয়।" বায়হাকি বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি একটা পাথর ছুঁড়ে মারলে তা তার মায়ের গায়ে লাগলো এবং তাতেই তার মা মারা গেলো। তখন সে মায়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে নিজের অংশ দাবি করলে তার ভাইরা বললো, "তোর কিছুই প্রাপ্য নেই।" অতপর তারা ফায়সালার জন্য আলী রা. এর নিকট গেলো। আলী রা. বললেন, "তোমার মায়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে শুধু ঐ পাথরটাই তোমার প্রাপ্য।" অতপর তিনি তার উপর জরিমানাস্বরূপ দিয়াত ধার্য করলেন এবং তার উত্তরাধিকার থেকে কিছুই তাকে দিলেননা। আমর বিন শুয়াইব বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "নিহতের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে হত্যাকারীর কিছুই পাওনা নেই।
আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "হত্যাকারী কিছুই পাবেনা। নিহতের যদি আর কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তার নিকটতম আত্মীয়ই তার উত্তরাধিকারী। হত্যাকারী কিছুই পাবেনা।" (অর্থাৎ হত্যাকারী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং যে বা যারা এ অপরাধে জড়িত হয়নি, তারা উত্তরাধিকার পাবে, হত্যাকারী ছাড়া তার যদি আর কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলেও হত্যাকারীর একটি ছেলে আছে। এরূপ ক্ষেত্রে নিহতের উত্তরাধিকার হত্যাকারীর ছেলে পাবে এবং হত্যাকারী বঞ্চিতই থাকবে। মায়ালিমুস্ সুনান, খাত্তাবি) এটাই হানাফি ও শাফেয়ি মাযহাবসহ অধিকাংশ আলেমের অভিমত। তবে ইমাম মালেক ও হাদোবী মাযহাবের মতে, হত্যাকারী দিয়াত ব্যতিরেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অংশ পাবে। যুহরি ও সাঈদ ইবনুল জুবাইর প্রমুখ বলেছেন, হত্যাকারী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা।
অনুরূপ ওসিয়তকারী যার পক্ষে ওসিয়ত করে, সে যদি ওসিয়তকারীকে হত্যা করে, তবে ওসিয়ত বাতিল গণ্য হবে। বাদায়ে গ্রন্থে বলা হয়েছে: "বিনা অপরাধে হতা করা একটা ভয়ংকর অপরাধ, যার বিরুদ্ধে কঠোরতম ধিক্কার প্রয়োজন। উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চনার মতো ওসিয়ত থেকে বঞ্চনা একটা সমুচিত ধিক্কার। হত্যাকাণ্ড চাই ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলক্রমে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক, তার বিরুদ্ধে ধিক্কার ও তিরস্কার অপরিহার্য। কেননা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলক্রমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডও হত্যাকাণ্ডই এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ও বিচার দাবি করা সঙ্গতভাবেই বৈধ, চাই নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর জন্য হত্যার পূর্বে ওসিয়ত করুক বা পরে করুক।
নিহতের উত্তরাধিকারী ক্ষমা করলে বা দিয়াতে রাযী হলে কাফফারা হত্যাকারীর উপর যখন কিসাস কার্যকর করা হবে, তখন তার উপর আর কাফফারা ওয়াজিব হবেনা।
ইমাম আহমদ ওয়াসেলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেন: বনু সুলাইম গোত্র থেকে একদল লোক রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এসে বললো আমাদের গোত্রের এক ব্যক্তি একজনকে হত্যা করে নিজের উপর দোযখ ওয়াজিব করে নিয়েছে। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাহলে সে যেনো একটি দাস মুক্ত করে দেয়। তাহলে আল্লাহ মুক্ত দাসের প্রতিটি অংগের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গকে দোযখ থেকে অব্যাহতি দেবেন।" হাদিসটি সামান্য শাব্দিক হেরফেরসহ আবু দাউদ ও নাসায়িতেও বর্ণিত হয়েছে।
📄 একজনের বিনিময়ে গোটা দলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া
শওকানি নায়লুল আওতার গ্রন্থে বলেছেন: "ওয়াসেলার হাদিসে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের কাফফারার বিধান প্রমাণিত। তবে এটা শুধু তখনই, যখন হত্যাকারীকে নিহতের উত্তরাধিকারী ক্ষমা করে দেয় কিংবা দিয়াতে রাযী হয়ে যায়। তবে তার উপর কিসাস কার্যকরী হলে কাফফারা দিতে হবেনা। বরং কিসাসই তার জন্য কাফফারা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "হত্যাই (অর্থাৎ কিসাসই) কাফফারা।"
কিসাস বা ক্ষমা: কিসাস, দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা অথবা দিয়াত ছাড়াই সন্ধি এর সব কটাই বৈধ। এমনকি সন্ধির বিনিময়ে যদি দিয়াতের চেয়ে বেশি কিছুও ব্যয় হয়, তবে তাও বৈধ।। নিহতের উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ বিনা ব্যয়েও ক্ষমা করার অধিকার রাখে এবং সেটাই সর্বোত্তম পন্থা। আল্লাহ বলেন:
وَإِن تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوى وَلَا تَنْسَوا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ .
অর্থ: তোমরা যদি ক্ষমা করে দাও তবে সেটাই তাকওয়ার নিকটতম। নিজেদের মধ্যে বদান্যতা ভুলে যেওনা।" (আল বাকারা: আয়াত ২৩০)
আর যখন নিহতের উত্তরাধিকারী হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়, তখন শাসক তার উপর আর (কোনো তাযীর কার্যকর করার অধিকার রাখেনা। তবে ইমাম মালেক ও লায়েস বলেন, তাকে তাযীরস্বরূপ এক বছরের কারাদণ্ড ও একশো কষাঘাত করা হবে। (ফকিহগণ বলেন, হত্যাকারী যদি কোনো দাগী অপরাধী বা চিহ্নিত দুর্বৃত্ত হয়, অথবা শাসকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তাকে শাস্তি দেয়া জনস্বার্থের দাবি, তবে যেভাবে জনস্বার্থের দাবি পূরণ হবে বলে প্রতীয়মান হয়, সেভাবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে, চাই জেল বা হত্যা যেভাবেই হোক।)
কিসাস বা ক্ষমা সংক্রান্ত বিধির উৎস হচ্ছে সূরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াত:
"হে মুমিনগণ, নিহতের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হলো। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস ও নারীর বদলে নারী। কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা প্রদর্শন করা হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও সততার সাথে তার দেয় আদায় করা বাঞ্ছনীয়। এটা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে লাঘব ও অনুগ্রহ। এর পরও যে সীমালংঘন করে, তার জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।"
বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার কেউ নিহত হয়, সে হয় তার রক্তপণ নেবে, না হয় হত্যাকারীকে হত্যা করবে।" এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, নিহতের উত্তরাধিকারীর স্বাধীনতা রয়েছে, হয় কিসাস না হয় দিয়াত আদায় করবে, চাই হত্যাকারী রাযী থাক বা না থাক। কেউ কেউ বলেন, কিসাস ছাড়া আর কিছু আদায় করার অধিকার তার নেই। হত্যাকারীর সম্পত্তি ব্যতিরেকে দিয়াত নিতে পারবেনা। তবে প্রথমোক্ত মতটাই সঠিক। সুতরাং ক্ষমা ও কিসাসের মধ্য হতে কোন্টি গ্রহণ করা হবে, সেটি ফায়সালা করার একক অধিকার নিহতের উত্তরাধিকারীদের। তারা চাইলে কিসাস দাবি করবে, চাইলে ক্ষমা করে দেবে। এমনকি একজন উত্তরাধিকারীও যদি ক্ষমা করে দেয়, তবে কিসাস রহিত হয়ে যাবে। কেননা কিসাস খণ্ডিত হয়না। ইমাম আবু হানিফার শিষ্য মুহাম্মাদ বিন হাসান বর্ণনা করেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো, যে ইচ্ছাকৃতভাবে একজনকে হত্যা করেছিল। উমর রা.
শওকানি নায়লুল আওতার গ্রন্থে বলেছেন: "ওয়াসেলার হাদিসে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের কাফফারার বিধান প্রমাণিত। তবে এটা শুধু তখনই, যখন হত্যাকারীকে নিহতের উত্তরাধিকারী ক্ষমা করে দেয় কিংবা দিয়াতে রাযী হয়ে যায়। তবে তার উপর কিসাস কার্যকরী হলে কাফফারা দিতে হবেনা। বরং কিসাসই তার জন্য কাফফারা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "হত্যাই (অর্থাৎ কিসাসই) কাফফারা।"
কিসাস বা ক্ষমা: কিসাস, দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা অথবা দিয়াত ছাড়াই সন্ধি এর সব কটাই বৈধ। এমনকি সন্ধির বিনিময়ে যদি দিয়াতের চেয়ে বেশি কিছুও ব্যয় হয়, তবে তাও বৈধ।। নিহতের উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ বিনা ব্যয়েও ক্ষমা করার অধিকার রাখে এবং সেটাই সর্বোত্তম পন্থা। আল্লাহ বলেন:
وَإِن تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوى وَلَا تَنْسَوا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ .
অর্থ: তোমরা যদি ক্ষমা করে দাও তবে সেটাই তাকওয়ার নিকটতম। নিজেদের মধ্যে বদান্যতা ভুলে যেওনা।" (আল বাকারা: আয়াত ২৩০)
আর যখন নিহতের উত্তরাধিকারী হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়, তখন শাসক তার উপর আর (কোনো তাযীর কার্যকর করার অধিকার রাখেনা। তবে ইমাম মালেক ও লায়েস বলেন, তাকে তাযীরস্বরূপ এক বছরের কারাদণ্ড ও একশো কষাঘাত করা হবে। (ফকিহগণ বলেন, হত্যাকারী যদি কোনো দাগী অপরাধী বা চিহ্নিত দুর্বৃত্ত হয়, অথবা শাসকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তাকে শাস্তি দেয়া জনস্বার্থের দাবি, তবে যেভাবে জনস্বার্থের দাবি পূরণ হবে বলে প্রতীয়মান হয়, সেভাবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে, চাই জেল বা হত্যা যেভাবেই হোক।)
কিসাস বা ক্ষমা সংক্রান্ত বিধির উৎস হচ্ছে সূরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াত:
"হে মুমিনগণ, নিহতের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হলো। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস ও নারীর বদলে নারী। কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা প্রদর্শন করা হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও সততার সাথে তার দেয় আদায় করা বাঞ্ছনীয়। এটা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে লাঘব ও অনুগ্রহ। এর পরও যে সীমালংঘন করে, তার জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।"
বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার কেউ নিহত হয়, সে হয় তার রক্তপণ নেবে, না হয় হত্যাকারীকে হত্যা করবে।" এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, নিহতের উত্তরাধিকারীর স্বাধীনতা রয়েছে, হয় কিসাস না হয় দিয়াত আদায় করবে, চাই হত্যাকারী রাযী থাক বা না থাক। কেউ কেউ বলেন, কিসাস ছাড়া আর কিছু আদায় করার অধিকার তার নেই। হত্যাকারীর সম্পত্তি ব্যতিরেকে দিয়াত নিতে পারবেনা। তবে প্রথমোক্ত মতটাই সঠিক। সুতরাং ক্ষমা ও কিসাসের মধ্য হতে কোন্টি গ্রহণ করা হবে, সেটি ফায়সালা করার একক অধিকার নিহতের উত্তরাধিকারীদের। তারা চাইলে কিসাস দাবি করবে, চাইলে ক্ষমা করে দেবে। এমনকি একজন উত্তরাধিকারীও যদি ক্ষমা করে দেয়, তবে কিসাস রহিত হয়ে যাবে। কেননা কিসাস অবিভাজ্য। ইমাম আবু হানিফার শিষ্য মুহাম্মাদ বিন হাসান বর্ণনা করেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো, যে ইচ্ছাকৃতভাবে একজনকে হত্যা করেছিল। উমর রা.
📄 যখন যখন কাউকে ডাকতে ধরে এবং অপরজন হত্যা করে
তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। ইতিমধ্যে উত্তরাধিকারীদের কেউ কেউ তাকে মাফ করে দিলো। তথাপি উমর রা. তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন: নিহত ব্যক্তির বদলে হত্যাকারীর প্রাণ হননের অধিকার ওদের সকলের ছিলো। কিন্তু একজন যখন তাকে ক্ষমা করলো, তখন সে তাকে বাঁচিয়ে দিলো। কিন্তু যে ক্ষমা করেনি, তার অধিকার সে হরণ করতে পারে না। উমর রা. বললেন, তাহলে কী করা উচিত মনে করো? তিনি বললেন, "আমি মনে করি, হত্যাকারীর সম্পদ থেকে দিয়াত দেয়া হোক এবং যে জন হত্যাকারীকে ক্ষমা করেছে, দিয়াতের তার অংশ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হোক। উমর রা. বললেন, আমিও তাই মনে করি। মুহাম্মদ বলেন, আমারও এটাই সঠিক মনে হয়, এটা ইমাম আবু হানিফারও মত।
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকলে তার বয়োপ্রাপ্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, যাতে সে স্বাধীনভাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। কারণ কিসাস সকল উত্তরাধিকারীর অধিকার। অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তির পূর্বে কোনো ক্ষমতা থাকেনা। আর যখন সকল উত্তরাধিকারী বা তাদের কেউ কেউ দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেয়, তখন হত্যাকারীর উপর নিজের সম্পদ থেকে পূর্ণ দিয়াত দেয়া অপরিহার্য হবে।
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিসাস ওয়াজিব হবেনা:
১. নিহত ব্যক্তির এমন কোনো অপরাধে দায়ী না হওয়া, যার জন্য সে হত্যার যোগ্য সাব্যস্ত হয়। সে যদি কোনো যুদ্ধরত কাফের হয়, বিবাহিত ব্যভিচারী হয়, কিংবা মুরতাদ হয়, তাহলে হত্যাকারীর উপর কোনো ধরনের বিনিময় প্রদান করার দায়িত্ব থাকবেনা, কিসাসও নয়, দিয়াতও নয়। কেননা এদের সবাইকে হত্যা করা বৈধ।
বুখারি ও মুসলিম ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল এই সাক্ষ্য দানকারী কোনো মুসলমানকে হত্যা করা তিনটি কারণের যে কোনো একটি ব্যতীত বৈধ নয়:
১. বিবাহিত হয়েও ব্যভিচার করা, কাউকে হত্যা করা এবং ইসলাম ত্যাগ করে মুসলমানদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাওয়া। ২. হত্যাকারীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. হত্যাকারীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
অতএব, অপ্রাপ্তবয়স্ক, পাগল ও অসুস্থ মস্তিষ্ক এদের কারো উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা শরিয়তের বিধান পালনের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত নয়, তাদের কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও নেই এবং স্বাধীন ইচ্ছাও নেই। তবে যদি কোনো পাগল এমন হয় যে, মাঝে মাঝে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় কাউকে হত্যা করে। তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অনুরূপ যে ব্যক্তির অতি মাত্রায় মদ পান করে মাতাল হওয়ার কারণে বুদ্ধি-বিবেক লোপ পায়, সে কাউকে হত্যা করলে তার উপরও কিসাস কার্যকর হবে। মালেক থেকে বর্ণিত, মারওয়ান ইবনুল হাকাম মুয়াবিয়াকে লিখে জানালেন যে, তার কাছে একজন মাতাল লোককে আনা হয়েছে, যে একজনকে হত্যা করেছে। মুয়াবিয়া তার জবাবে তাকে লিখলেন, ওকে ঐ হত্যার বদলে হত্যা করো। তবে যদি কেউ এমন কোনো পানীয় পান করে, যার সম্পর্কে তার ধারণা ছিলো যে, তা
তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। ইতিমধ্যে উত্তরাধিকারীদের কেউ কেউ তাকে মাফ করে দিলো। তথাপি উমর রা. তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন: নিহত ব্যক্তির বদলে হত্যাকারীর প্রাণ হননের অধিকার ওদের সকলের ছিলো। কিন্তু একজন যখন তাকে ক্ষমা করলো, তখন সে তাকে বাঁচিয়ে দিলো। কিন্তু যে ক্ষমা করেনি, তার অধিকার সে হরণ করতে পারে না। উমর রা. বললেন, তাহলে কী করা উচিত মনে করো? তিনি বললেন, "আমি মনে করি, হত্যাকারীর সম্পদ থেকে দিয়াত দেয়া হোক এবং যে জন হত্যাকারীকে ক্ষমা করেছে, দিয়াতের তার অংশ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হোক। উমর রা. বললেন, আমিও তাই মনে করি। মুহাম্মদ বলেন, আমারও এটাই সঠিক মনে হয়, এটা ইমাম আবু হানিফারও মত।
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকলে তার বয়োপ্রাপ্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, যাতে সে স্বাধীনভাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। কারণ কিসাস সকল উত্তরাধিকারীর অধিকার। অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়োপ্রাপ্তির পূর্বে কোনো ক্ষমতা থাকেনা। আর যখন সকল উত্তরাধিকারী বা তাদের কেউ কেউ দিয়াতের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেয়, তখন হত্যাকারীর উপর নিজের সম্পদ থেকে পূর্ণ দিয়াত দেয়া অপরিহার্য হবে।
কিসাস ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিসাস ওয়াজিব হবেনা:
১. নিহত ব্যক্তির এমন কোনো অপরাধে দায়ী না হওয়া, যার জন্য সে হত্যার যোগ্য সাব্যস্ত হয়। সে যদি কোনো যুদ্ধরত কাফের হয়, বিবাহিত ব্যভিচারী হয়, কিংবা মুরতাদ হয়, তাহলে হত্যাকারীর উপর কোনো ধরনের বিনিময় প্রদান করার দায়িত্ব থাকবেনা, কিসাসও নয়, দিয়াতও নয়। কেননা এদের সবাইকে হত্যা করা বৈধ।
বুখারি ও মুসলিম ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল এই সাক্ষ্য দানকারী কোনো মুসলমানকে হত্যা করা তিনটি কারণের যে কোনো একটি ব্যতীত বৈধ নয়:
১. বিবাহিত হয়েও ব্যভিচার করা, কাউকে হত্যা করা এবং ইসলাম ত্যাগ করে মুসলমানদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাওয়া। ২. হত্যাকারীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. হত্যাকারীর সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া।
অতএব, অপ্রাপ্তবয়স্ক, পাগল ও অসুস্থ মস্তিষ্ক এদের কারো উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা শরিয়তের বিধান পালনের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত নয়, তাদের কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও নেই এবং স্বাধীন ইচ্ছাও নেই। তবে যদি কোনো পাগল এমন হয় যে, মাঝে মাঝে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় কাউকে হত্যা করে। তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অনুরূপ যে ব্যক্তির অতি মাত্রায় মদ পান করে মাতাল হওয়ার কারণে বুদ্ধি-বিবেক লোপ পায়, সে কাউকে হত্যা করলে তার উপরও কিসাস কার্যকর হবে। মালেক থেকে বর্ণিত, মারওয়ান ইবনুল হাকাম মুয়াবিয়াকে লিখে জানালেন যে, তার কাছে একজন মাতাল লোককে আনা হয়েছে, যে একজনকে হত্যা করেছে। মুয়াবিয়া তার জবাবে তাকে লিখলেন, ওকে ঐ হত্যার বদলে হত্যা করো। তবে যদি কেউ এমন কোনো পানীয় পান করে, যার সম্পর্কে তার ধারণা ছিলো যে, তা
📄 কিসাস কিভাবে সাব্যস্ত হবে
মাতাল করবেনা, কিন্তু তাতে তার বুদ্ধি লোপ পেলো এবং সেই অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বসলো, তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা ইতিপূর্বে একটি হাদিসে তিন ব্যক্তিকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যার একজন হচ্ছে পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।
মালেক বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, বালকদের উপর কোনো কিসাস কার্যকর হয়না এবং বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বালকের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে হত্যার শামিল।
৪. হত্যাকারীর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বাধীন অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো। বল প্রয়োগ স্বাধীন বিবেচনা শক্তির বিলোপ ঘটায়। আর যার স্বাধীন বিবেচনা শক্তি নেই, তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কাজেই কোনো পরাক্রমশালী লোক যখন অন্য একজনকে হত্যা করতে কাউকে বাধ্য করে এবং সে কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তখন আদেশদান কারীকে হত্যা করা হবে, আদিষ্টকে নয়। তবে আদিষ্টকেও শাস্তি দেয়া হবে। এটাই আবু হানিফা, দাউদ ও শাফেয়ির মত। হানাফিগণ বলেন, কেউ যদি এমন ব্যক্তির আদেশক্রমে কোনো মুসলমানের সম্পদ বিনষ্ট করতে বাধ্য হয়, যার আদেশ অমান্য করলে তার প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানির আশংকা আছে, তবে তার জন্য ঐ কাজ করা বৈধ। তবে সম্পদের মালিক বলপ্রয়োগকারীকে তার ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবে। আর যদি হত্যার ভয় দেখিয়ে কেউ অন্য একজনকে হত্যা করতে বাধ্য করে, তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো তার জন্য বৈধ নয়।। নিজে নিহত হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে গুনাহগার হবে। হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হলে বল প্রয়োগকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কেউ কেউ বলেন, আদিষ্ট ব্যক্তিকেই হত্যা করা হবে, আদেশকারীকে নয়। এটা ইমাম শাফেয়িরও অন্য একটি মত। ইমাম মালেক ও হাম্বলি ইমামগণসহ একদল বলেন, উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে উভয়কে হত্যা করা হবে। আর যদি সে ক্ষমা করে, তবে দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে। কেননা হত্যাকারী অপর ব্যক্তিকে হত্যা করে নিজে বাঁচতে চেয়েছিল। আর বল প্রয়োগকারী এমন পন্থায় হত্যার কারণে পরিণত হয়েছে, যে পন্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ছাড়ে। আর যখন কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো পাগল বা বালককে অন্য একজনকে হত্যা করার আদেশ দেয়, তখন কিসাস কার্যকর হবে আদেশদাতার উপর। কেননা হত্যাকারী তার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তাই তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কিসাস কার্যকর হবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আদেশদাতার উপর। আর যখন শাসক কোনো অন্যায় হত্যার আদেশ দেয়, তখন দেখতে হবে, আদিষ্ট ব্যক্তি জানে কিনা যে, আদেশটি অন্যায় ও যুলুম। যদি আদেশটি যুলুম জেনেও কার্যকর করে ফেলে, তবে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অবশ্য নিহতের উত্তরাধিকারী যদি মাফ করে দেয়, তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা সে অন্যায় ও যুলুম জেনেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই তাকে দায়মুক্ত করা হবেনা। একথা বলার অবকাশ নেই যে, সে শাসকের পক্ষ থেকে আদিষ্ট। কেননা ইসলামের মূলনীতি হলো, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে সৃষ্টির আদেশ মান্য করা যাবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং একথা ঘোষণা করেছেন। আর যদি হত্যাকারী না জানে যে, নিহত ব্যক্তি হত্যার অযোগ্য এবং তাকে আদেশ অনুসারে হত্যা করে, তাহলে উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে আদেশদাতার উপর কিসাস আর ক্ষমা করলে আদেশদাতার
মাতাল করবেনা, কিন্তু তাতে তার বুদ্ধি লোপ পেলো এবং সেই অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বসলো, তাহলে তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কেননা ইতিপূর্বে একটি হাদিসে তিন ব্যক্তিকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যার একজন হচ্ছে পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।
মালেক বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, বালকদের উপর কোনো কিসাস কার্যকর হয়না এবং বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বালকের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে হত্যার শামিল।
৪. হত্যাকারীর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বাধীন অবস্থায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো। বল প্রয়োগ স্বাধীন বিবেচনা শক্তির বিলোপ ঘটায়। আর যার স্বাধীন বিবেচনা শক্তি নেই, তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কাজেই কোনো পরাক্রমশালী লোক যখন অন্য একজনকে হত্যা করতে কাউকে বাধ্য করে এবং সে কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তখন আদেশদান কারীকে হত্যা করা হবে, আদিষ্টকে নয়। তবে আদিষ্টকেও শাস্তি দেয়া হবে। এটাই আবু হানিফা, দাউদ ও শাফেয়ির মত। হানাফিগণ বলেন, কেউ যদি এমন ব্যক্তির আদেশক্রমে কোনো মুসলমানের সম্পদ বিনষ্ট করতে বাধ্য হয়, যার আদেশ অমান্য করলে তার প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানির আশংকা আছে, তবে তার জন্য ঐ কাজ করা বৈধ। তবে সম্পদের মালিক বলপ্রয়োগকারীকে তার ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবে। আর যদি হত্যার ভয় দেখিয়ে কেউ অন্য একজনকে হত্যা করতে বাধ্য করে, তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো তার জন্য বৈধ নয়।। নিজে নিহত হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে গুনাহগার হবে। হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃত হলে বল প্রয়োগকারীর উপর কিসাস কার্যকর হবে। কেউ কেউ বলেন, আদিষ্ট ব্যক্তিকেই হত্যা করা হবে, আদেশকারী নয়। এটা ইমাম শাফেয়িরও অন্য একটি মত। ইমাম মালেক ও হাম্বলি ইমামগণসহ একদল বলেন, উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে উভয়কে হত্যা করা হবে। আর যদি সে ক্ষমা করে, তবে দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে। কেননা হত্যাকারী অপর ব্যক্তিকে হত্যা করে নিজে বাঁচতে চেয়েছিল। আর বল প্রয়োগকারী এমন পন্থায় হত্যার কারণে পরিণত হয়েছে, যে পন্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ছাড়ে। আর যখন কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো পাগল বা বালককে অন্য একজনকে হত্যা করার আদেশ দেয়, তখন কিসাস কার্যকর হবে আদেশদাতার উপর। কেননা হত্যাকারী তার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তাই তার উপর কিসাস কার্যকর হবেনা। কিসাস কার্যকর হবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আদেশদাতার উপর। আর যখন শাসক কোনো অন্যায় হত্যার আদেশ দেয়, তখন দেখতে হবে, আদিষ্ট ব্যক্তি জানে কিনা যে, আদেশটি অন্যায় ও যুলুম। যদি আদেশটি যুলুম জেনেও কার্যকর করে ফেলে, তবে তার উপর কিসাস কার্যকর হবে। অবশ্য নিহতের উত্তরাধিকারী যদি মাফ করে দেয়, তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা সে অন্যায় ও যুলুম জেনেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই তাকে দায়মুক্ত করা হবেনা। একথা বলার অবকাশ নেই যে, সে শাসকের পক্ষ থেকে আদিষ্ট। কেননা ইসলামের মূলনীতি হলো, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে সৃষ্টির আদেশ মান্য করা যাবেনা।" রসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং একথা ঘোষণা করেছেন। আর যদি হত্যাকারী না জানে যে, নিহত ব্যক্তি হত্যার অযোগ্য এবং তাকে আদেশ অনুসারে হত্যা করে, তাহলে উত্তরাধিকারী ক্ষমা না করলে আদেশদাতার উপর কিসাস আর ক্ষমা করলে আদেশদাতার