📄 চুরির গত
চুরির অপরাধ যখন প্রমাণিত হয়ে যাবে, তখন চোরের উপর দণ্ড কার্যকর করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। তার ডান হাত কবজি থেকে কেটে ফেলা হবে। আল্লাহ বলেছেন:
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا .
"পুরুষ কিংবা নারী যেই হোক, চুরি করলে তার হাত কেটে দাও।" জাহেলি যুগেও চোরের হাত কাটার রেওয়াজ চালু ছিলো। ইসলাম এই রেওয়াজকে কিছু শর্ত যোগ করে বহাল রেখেছে। কথিত আছে, জাহেলি যুগে কুরাইশই সর্বপ্রথম বনু খোজায়া গোত্রের মুলাইহ নামক এক ব্যক্তির মুক্ত গোলাম দুরাইকের হাত কেটেছিল। সে কাবার ভেতর থেকে মূল্যবান ধনরত্ন চুরি করেছিল। কেউ কেউ বলেন, এটা অন্য এক দল চুরি করে তার কাছে রেখে তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। কুরতুবি নিশ্চিত করে বলেছেন যে জাহেলি যুগে চোরের হাত কাটা হতো। জাহেলি যুগে সর্বপ্রথম ওলিদ বিন মুগিরার হাত কাটা হয়েছিল। পরে আল্লাহ ইসলামের অভ্যুদয়ের পরও পুনরায় তার হাত কাটার আদেশ দেন। ইসলামের অভ্যুদয়ের পর সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ সা. পুরুষদের মধ্য থেকে খিয়ার বিন আদির হাত এবং মহিলাদের মধ্য থেকে মুরা বিনতে সুফিয়ানের হাত কাটেন। আবু বকর জনৈক ইয়ামানী নাগরিকের ডান হাত এক গাছা হার চুরির জন্য কেটে দিয়েছিলেন। আর উমর রা. ইবনে সামুরার হাত কেটে দিয়েছিলেন। চোরাই মালের মালিক বা শাসক কারো জন্যই চোরের দণ্ড মাফ করা জায়েয নেই। এমনকি অন্য কোনো লঘুতর দণ্ডে পরিবর্তিত করা, স্থগিত রাখা বা বিলম্বিত করাও জায়েয নেই। কিন্তু শিয়াদের মতে, যার মাল চুরি হয়েছে সে মাফ করে দিলে দণ্ড মাফ হয়ে যাবে। তাদের মতে, শাসকও কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো কোনো ব্যক্তির দণ্ড রহিত বা বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু আহলে সুন্নত এই মতের ঘোর বিরোধী। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমরা নিজেদের ভেতরে দণ্ড এড়িয়ে চলতে থাকো। কিন্তু যখন মামলা শাসক পর্যন্ত গড়াবে, তখন শাসক মাফ করলেও আল্লাহ মাফ করবেন না।" দ্বিতীয়বার চুরি করলে পা কাটা হবে। তৃতীয়বার চুরি করলে আবু হানিফার মতে, লঘু শাস্তি কারাগারে আটক রাখা হবে। শাফেয়ি ও অন্যান্যদের মতে, বাম হাত কাটা হবে। পুনরায় চুরি করলে লঘু শাস্তি দিয়ে কারাবন্দী করা হবে।
📄 চোরের হাত কাটার পর রক্ত বন্ধ ও ক্ষতস্থান নিরাময় করতে হবে
চোরের হাত কাটার পর এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে রক্ত বন্ধ হয় এবং সে মারা না যায়। দার কুতনি, হাকেম, বায়হাকি ও ইবনে হিব্বান আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন:
একটা চাদর চুরির দায়ে এক ব্যক্তিকে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট আনা হলো। তিনি বললেন, আমার মনে হয়না সে চুরি করেছে (যাতে সে স্বীকারোক্তি না করে ও স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে)। চোর বললো, হে রসূলুল্লাহ সা., আমি সত্যিই চুরি করেছি। তখন তিনি বললেন, তোমরা ওকে নিয়ে যাও, হাত কেটে দাও ও রক্ত বন্ধ করার ব্যবস্থা করো। এ দ্বারা প্রমাণিত হয়, রক্ত বন্ধের ব্যবস্থা করার ব্যয় নির্বাহ চোরের নয়, সরকারের দায়িত্ব। তারপর তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। অতপর তার হাত কাটা হলো এবং রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট আনা হলো। তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে তওবা করো। সে বললো, তওবা করেছি। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন।"
📄 চোরের কাটা হাত তার ঘাড়ে ঝুলানো
চোরকে শায়েস্তা করা ও অন্যদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে শরিয়ত চোরের কাটা হাত তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে রাখার আদেশ দিয়েছে। আবু দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযি বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহায়রিব বলেছেন, আমি ফুযালাকে জিজ্ঞাসা করলাম, চোরের হাত কেটে তা তার ঘাড়ে ঝুলানো কি সুন্নত? তিনি বললেন, হাঁ, জনৈক চোরকে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট আনা হয়েছিল। তার হাত কাটা হলো। অতপর সে হাত তার ঘাড়ে ঝুলানোর আদেশ দেয়া হলো। (সম্ভবত এটা কোনো পাক্কা চোরের বিষয় ছিলো)।
📄 ক্ষতি পূরণ ও হদ উভয়টির প্রয়োজনীয়তা
চোরাই মাল যখন অক্ষত থাকে তবে তা তার মালিকের নিকট ফেরত দিতে হবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "চোর যা চুরি করেছে, তাকে তা ফেরত দিতে হবে।” এটা শাফেয়ী ও ইসহাকের মত। চোরের কাছ থেকে যখন চুরি করা মাল নষ্ট হয় বা খোয়া যায়, তখন তাকে তার বদলা দিতে হবে এবং হাতও কাটা হবে। এ ব্যাপারে একজন অপরজনকে বাধা দিতে পারবেনা। কেননা ক্ষতিপূরণ মানুষের হক। আর হাত কাটা আল্লাহর হক। তাই কেউ কাউকে বাধা দিতে পারেনা যেমন বাধা দিতে পারেনা দিয়ত ও কাফফারা দিতে। আবু হানিফার মতে, চোরাই মাল খোয়া গেলে চোরকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবেনা। শুধু হাত কাটা হবে। ইমাম মালেকের মতে, চোর সচ্ছল হলে ক্ষতিপূরণ দেবে, নচেত শুধু হাত কাটা হবে।