📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চুরির শাস্তির জন্য মালিকের নালিশ কি অপরিহার্য?

📄 চুরির শাস্তির জন্য মালিকের নালিশ কি অপরিহার্য?


চোরাই মালের মালিক যতক্ষণ চোরের উপর হদ কার্যকর করার দাবি না জানাবে, ততোক্ষণ আহমদ, শাফেয়ি ও আবু হানিফার মতানুসারে দণ্ড কার্যকর করা যাবেনা। ইমাম মালেকের মতে মালিক দাবি না করলেও কার্যকর করতে হবে। আবু হানিফা, শাফেয়ি ও আহমদের মতে, চোরাই মালের দাবি জানানো ও চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা দণ্ডের পূর্বশর্ত। দু'জন সৎ লোকের সাক্ষ্য দ্বারা অথবা অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি দ্বারা দণ্ড সাব্যস্ত হবে। সাক্ষ্য বা স্বীকারোক্তি একবার দেয়াই মালেক শাফেয়ি ও হানাফিদের মতে যথেষ্ট। কেননা রসূলুল্লাহ সা. ঢালের চোরকে ও সাফওয়ানের চাদরের চোরকে স্বীকারোক্তি একাধিকবার করার আদেশ না দিয়েই তাদের হাত কেটেছিলেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে পুনরাবৃত্তি করতে দেখা যায়, তা নিছক বিষয়টির দৃঢ়তা নিশ্চিত করার জন্য। তবে ইমাম আহমদ, ইসহাক ও ইবনে আবি লায়লার মতে অন্তত: দু'বার পুনরাবৃত্তি করা জরুরি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চোর যদি চোরাই মাল নিজের বলে দাবি করে

📄 চোর যদি চোরাই মাল নিজের বলে দাবি করে


সুরক্ষিত স্থান থেকে নেসাব পরিমাণ মাল চুরি করেছে একথা সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর চোর যদি দাবি করে যে, চোরাই মাল তার নিজের মালিকানাধীন দ্রব্য, তাহলে ইমাম মালেকের মতে, তার দাবি মানা হবেনা এবং তার হাত কেটে দেয়া হবে। আবু হানিফা, শাফেয়ী বলেছেন: হাত কাটা হবেনা। শাফেয়ি এ ধরনের চোরকে "রসিক চোর" নামে আখ্যায়িত করেছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দণ্ড রহিত হয় এমন কৌশল চোরকে শেখানো

📄 দণ্ড রহিত হয় এমন কৌশল চোরকে শেখানো


বিচারকের জন্য চোরকে এমন কলাকৌশল শিক্ষা দেয়া মুস্তাহাব, যাতে সে দণ্ড থেকে রেহাই পায়। আহমদ, আবু দাউদ ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন: রসূলুল্লাহ সা. নিকট জনৈক চোরকে আনা হলে সে স্বীকার করলো, কিন্তু তার কাছে চোরাই মাল পাওয়া গেল না। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি চুরি করেছ বলে আমার তো মনে হয়না। তখন লোকটি দুবার বা তিনবার বললো, হ্যাঁ, আমি অবশ্যই চুরি করেছি।"
আতা বলেছেন, বিচারকদের নিকট চোরকে আনা হলে বিচারক বলতেন: তুমি কি চুরি করেছ? বলো, না।' আতা আবু বকর ও ওমরের নামোল্লেখ করে বলেছেন যে, তারা উভয়ে বিচারক থাকাকালে এ রকম করতেন। আবু দারদার নিকট একটি দাসীকে আনা হলো, যে চুরি করেছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুই কি চুরি করেছিস? বল: না।' তখন দাসীটি বললো, না। তখন তাকে মুক্ত করে দিলেন। উমর রা.-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো। সে চুরি করেছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি চুরি করেছ? সঙ্গে সঙ্গে তাকে শিখিয়ে দিলেন: বলো, চুরি করিনি। সে বললো, চুরি করিনি। অমনি তাকে ছেড়ে দেয়া হলো।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চুরির গত

📄 চুরির গত


চুরির অপরাধ যখন প্রমাণিত হয়ে যাবে, তখন চোরের উপর দণ্ড কার্যকর করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। তার ডান হাত কবজি থেকে কেটে ফেলা হবে। আল্লাহ বলেছেন:
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا .
"পুরুষ কিংবা নারী যেই হোক, চুরি করলে তার হাত কেটে দাও।" জাহেলি যুগেও চোরের হাত কাটার রেওয়াজ চালু ছিলো। ইসলাম এই রেওয়াজকে কিছু শর্ত যোগ করে বহাল রেখেছে। কথিত আছে, জাহেলি যুগে কুরাইশই সর্বপ্রথম বনু খোজায়া গোত্রের মুলাইহ নামক এক ব্যক্তির মুক্ত গোলাম দুরাইকের হাত কেটেছিল। সে কাবার ভেতর থেকে মূল্যবান ধনরত্ন চুরি করেছিল। কেউ কেউ বলেন, এটা অন্য এক দল চুরি করে তার কাছে রেখে তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। কুরতুবি নিশ্চিত করে বলেছেন যে জাহেলি যুগে চোরের হাত কাটা হতো। জাহেলি যুগে সর্বপ্রথম ওলিদ বিন মুগিরার হাত কাটা হয়েছিল। পরে আল্লাহ ইসলামের অভ্যুদয়ের পরও পুনরায় তার হাত কাটার আদেশ দেন। ইসলামের অভ্যুদয়ের পর সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ সা. পুরুষদের মধ্য থেকে খিয়ার বিন আদির হাত এবং মহিলাদের মধ্য থেকে মুরা বিনতে সুফিয়ানের হাত কাটেন। আবু বকর জনৈক ইয়ামানী নাগরিকের ডান হাত এক গাছা হার চুরির জন্য কেটে দিয়েছিলেন। আর উমর রা. ইবনে সামুরার হাত কেটে দিয়েছিলেন। চোরাই মালের মালিক বা শাসক কারো জন্যই চোরের দণ্ড মাফ করা জায়েয নেই। এমনকি অন্য কোনো লঘুতর দণ্ডে পরিবর্তিত করা, স্থগিত রাখা বা বিলম্বিত করাও জায়েয নেই। কিন্তু শিয়াদের মতে, যার মাল চুরি হয়েছে সে মাফ করে দিলে দণ্ড মাফ হয়ে যাবে। তাদের মতে, শাসকও কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো কোনো ব্যক্তির দণ্ড রহিত বা বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু আহলে সুন্নত এই মতের ঘোর বিরোধী। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমরা নিজেদের ভেতরে দণ্ড এড়িয়ে চলতে থাকো। কিন্তু যখন মামলা শাসক পর্যন্ত গড়াবে, তখন শাসক মাফ করলেও আল্লাহ মাফ করবেন না।" দ্বিতীয়বার চুরি করলে পা কাটা হবে। তৃতীয়বার চুরি করলে আবু হানিফার মতে, লঘু শাস্তি কারাগারে আটক রাখা হবে। শাফেয়ি ও অন্যান্যদের মতে, বাম হাত কাটা হবে। পুনরায় চুরি করলে লঘু শাস্তি দিয়ে কারাবন্দী করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00