📄 মসজিদ সুরক্ষিত স্থান
মসজিদের বিছানা, বাতি, চাটাই ইত্যাদি সাধারণত: মসজিদেই রাখা হয়। সেগুলোর জন্য মসজিদ সুরক্ষিত স্থান গণ্য হয়। মসজিদে মহিলাদের নামাযের জায়গায় রক্ষিত তিন দিরহাম মূল্যের একটা ঢাল চুরি করার দায়ে রসূলুল্লাহ সা. চোরের হাত কেটে দিয়েছিলেন। (আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী) অনুরূপ যে চোর মসজিদের দরজা বা শোভা বর্ধক কোনো মূল্যবান উপকরণ চুরি করে, তারও হাত কাটা হবে। কেননা এগুলো যে সুরক্ষিত জিনিস, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শাফেয়ি আলেমগণ মসজিদের বাতি ও চাটাই চুরির দায়ে হাত কাটার বিরোধী। কারণ এগুলো মুসলমানদের সুবিধার জন্যই রাখা হয়। চোরেরও অধিকার রয়েছে এই সুবিধা ভোগ করার। তবে চোর অমুসলিম হলে ভিন্ন কথা। তখন তার হাত কাটা হবে। কেননা তার এতে কোনো অধিকার নেই।
📄 বাড়ি থেকে চুরি
বাড়ির দরজা বন্ধ না থাকলে বাড়ি সুরক্ষিত স্থান নয়- এটা সকল ফকিহর সর্বসম্মত মত। অনুরূপ এ ব্যাপারেও ফকিহগণ একমত যে, চোর একক মালিকানাধীন কোনো বাড়ি থেকে চুরি করে, সে ঐ বাড়ি থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত তার হাত কাটা হবেনা। কিন্তু যখন দুই ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো বাড়িতে সিধ কাটে বা ছিদ্র করে অতপর একজন ঢুকে ভেতর থেকে কোনো জিনিস নিয়ে অপর জনের নিকট হস্তান্তর করে এবং শেষোক্ত জন বাড়ির বাইরে থাকে অথবা বাড়ির ভেতর থেকে একজন ছুড়ে দেয় এবং বাহির থেকে অপর জন নিয়ে নেয়। তবে সেই ক্ষেত্রে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আহমদের মতে, ভেতরের চোরের হাত কাটা হবে, বাইরের চোরের নয়। আবু হানিফার মতে, কারোই নয়। আর যখন একটি দল বাড়িতে প্রবেশের জন্য সিধ কাটে বা ছিদ্র করে এবং সবাই ভেতরে প্রবেশ করে, অতপর কয়েকজন নেসাব পরিমাণ মাল হস্তগত করে আর অপর কয়েকজন কিছুই হস্তগত করতে পারেনা এবং তাদের পক্ষ থেকে হস্তগতকারীদের কোনো সহযোগিতাও করা হয়না, তখন আবু হানিফা ও মুহাম্মদের মতে গোটা দলের হাত কাটা হবে। মালেক ও শাফেয়ির মতে কেবল যারা মাল হস্তগত করতে পেরেছে তাদেরই হাত কাটা হবে। পক্ষান্তরে যে ভেতরে ঢুকেছে, সে যদি মাল ছিদ্রের কাছে এনে রেখে দেয় এবং বাইরের জন হাত ঢুকিয়ে দিয়ে তা বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে। তবে আবু হানিফার মতে দু'জনের কারোই হাত কাটা হবেনা। ইমাম মালেকের মতে যেজন মাল বাইরে এনেছে তার হাত কাটা হবে। আর ভেতরের যেজন ছিদ্রের কাছে এনে রেখেছে তার সম্পর্কে ইমাম মালেকের শিষ্যদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কত লোক বলেন, তার হাত কাটা হবে। কত লোক বলেন, কাটা হবেনা। শাফেয়ির মতে, শুধু যেজন মাল বাইরে এনেছে তার হাত কাটা হবে। আহমদের মতে, উভয়েরই হাত কাটা হবে।
শেখ আবু ইসহাক বলেন: যদি দুই ব্যক্তি সিঁধ কেটে বাড়িতে ঢোকে অতপর তাদের একজন মাল ধরে এনে ছিদ্রের কাছে রাখে এবং অপরজন তা ধরে বাইরে আনে তাহলে এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে : একটি হলো দু'জনেরই হাত কাটা হবে। কারণ এ দু'জনের হাত যদি না কাটা হয়, তাহলে এটা হাত কাটা রহিত করার একটি স্থায়ী কৌশলে রূপ নেবে। অপর মতটি হলো, দু'জনের কারোই হাত কাটা হবেনা। এই শেষোক্ত মতটি আবু হানিফার এবং এটাই সঠিক। কেননা দু'জনের কেউ সুরক্ষিত স্থান থেকে মাল বাইরে নিয়ে আসেনি। আর যদি একজন সিঁধ কাটে এবং অপরজন ভেতরে ঢোকে ও মাল বের করে, তবে এ সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে। একটি পূর্বোক্ত মতের ন্যায় : অর্থাৎ একদল বলেন দু'জনেরই হাত কাটা হবে, আর আবু হানিফা বলেন দুজনকেই হাত কাটা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। অপর মতটি হলো, দু'জনের কারোই হাত কাটা হবেনা। কেননা একজন সিঁধ কেটেছে কিন্তু মাল বাইরে আনেনি। আর অপরজন মাল বাইরে এনেছে বটে, তবে সুরক্ষিত স্থান থেকে নয়।
📄 চুরির শাস্তির জন্য মালিকের নালিশ কি অপরিহার্য?
চোরাই মালের মালিক যতক্ষণ চোরের উপর হদ কার্যকর করার দাবি না জানাবে, ততোক্ষণ আহমদ, শাফেয়ি ও আবু হানিফার মতানুসারে দণ্ড কার্যকর করা যাবেনা। ইমাম মালেকের মতে মালিক দাবি না করলেও কার্যকর করতে হবে। আবু হানিফা, শাফেয়ি ও আহমদের মতে, চোরাই মালের দাবি জানানো ও চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা দণ্ডের পূর্বশর্ত। দু'জন সৎ লোকের সাক্ষ্য দ্বারা অথবা অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি দ্বারা দণ্ড সাব্যস্ত হবে। সাক্ষ্য বা স্বীকারোক্তি একবার দেয়াই মালেক শাফেয়ি ও হানাফিদের মতে যথেষ্ট। কেননা রসূলুল্লাহ সা. ঢালের চোরকে ও সাফওয়ানের চাদরের চোরকে স্বীকারোক্তি একাধিকবার করার আদেশ না দিয়েই তাদের হাত কেটেছিলেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে পুনরাবৃত্তি করতে দেখা যায়, তা নিছক বিষয়টির দৃঢ়তা নিশ্চিত করার জন্য। তবে ইমাম আহমদ, ইসহাক ও ইবনে আবি লায়লার মতে অন্তত: দু'বার পুনরাবৃত্তি করা জরুরি।
📄 চোর যদি চোরাই মাল নিজের বলে দাবি করে
সুরক্ষিত স্থান থেকে নেসাব পরিমাণ মাল চুরি করেছে একথা সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর চোর যদি দাবি করে যে, চোরাই মাল তার নিজের মালিকানাধীন দ্রব্য, তাহলে ইমাম মালেকের মতে, তার দাবি মানা হবেনা এবং তার হাত কেটে দেয়া হবে। আবু হানিফা, শাফেয়ী বলেছেন: হাত কাটা হবেনা। শাফেয়ি এ ধরনের চোরকে "রসিক চোর" নামে আখ্যায়িত করেছেন।