📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সম্পদকে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্নতা

📄 সম্পদকে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্নতা


সম্পদের বিভিন্নতার কারণে সংরক্ষণ ব্যবস্থাও ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। প্রচলিত রীতি নীতিই এর চূড়ান্ত মানদণ্ড। বস্তুত: একই জিনিস কখনো সংরক্ষিত গণ্য হয়, আবার কখনো হয়না। যেমন বাড়ি তার ভেতরকার ফার্নিচার ইত্যাদির জন্য সুরক্ষিত স্থান, সুরক্ষিত ঘর ফলমূলের জন্য সুরক্ষিত স্থান, আস্তাবল পশুর জন্য সুরক্ষিত স্থান এবং খোয়াড় ছাগল ভেড়ার জন্য সুরক্ষিত স্থান।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মানুষের নিজের জন্য নির্দিষ্ট সুরক্ষিত স্থান

📄 মানুষের নিজের জন্য নির্দিষ্ট সুরক্ষিত স্থান


মানুষ তার পোশাক পরিচ্ছদ ও ঘুমানোর খাট পালং ও ঘর বিছানার জন্য নিজেই সুরক্ষিত স্থান অর্থাৎ রক্ষক, চাই সে মসজিদের ভেতরে থাকুক বা অন্য কোথাও। যদি কেউ পথিমধ্যে বিশ্রাম নেয় এবং তার সাথে তার যাবতীয় দ্রব্যসামগ্রী থাকে, তবে সে নিজেই সেসব দ্রব্য সামগ্রীর রক্ষক, চাই সে ঘুমিয়ে থাকুক বা জেগে থাকুক। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো মানুষের কাছ থেকে তার নগদ অর্থ বা দ্রব্যসামগ্রী চুরি করে, তবে সে তা হস্তগত করা মাত্রই তার হাত কাটা যাবে। কেননা জিনিসগুলো তার মালিকের হাতছাড়া হয়ে গেছে। ফকিহগণ ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তির ব্যাপারে শর্ত আরোপ করেছেন যে, চুরি হওয়া দ্রব্যটি তার দেহের নিচে বা মাথার নিচে থাকা চাই। এই শর্তের পক্ষে তারা প্রমাণ দর্শান। আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসায়ী ও হাকেম কর্তৃক বর্ণিত এই হাদিস থেকে: "সাফওয়ান বিন উমাইয়া বলেন: আমি মসজিদে আমার একটা চাদর বিছিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। সেই চাদর চুরি হয়ে গেলো। আমরা চোরকে ধরে রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি তার হাত কাটার আদেশ দিলেন। আমি বলমাল: হে রসূলুল্লাহ্ মাত্র ত্রিশ দিরহাম মূল্যের একটা চাদরের জন্য? ওটা আমি ওকে দান করলাম। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তুমি এই কাজটি ওকে আমার কাছে নিয়ে আমার আগে করলেনা কেন? অর্থাৎ আমার কাছে নিয়ে আসার আগে তাকে ক্ষমা করলেনা কেন এবং চাদরটি দান করলেনা কেন?
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, চুরি হওয়া দ্রব্যটির দাবি জানানো ও অভিযোগ দায়ের করা হাত কাটার পূর্বশর্ত। মালিক যদি দ্রব্যটি চোরকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার আগে দিয়ে দেয় বা তার কাছে বিক্রি করে, তাহলে চোরের হাত কাটার শাস্তি রহিত হবে। এটা স্বয়ং রসূলুল্লাহ সা. এর এই উক্তি থেকেই জানা যায় যে, আমার কাছে ওকে নিয়ে আসার আগে দান করলেনা কেন?

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পকেটমার

📄 পকেটমার


পকেটমার সম্পর্কে ফকিহদের মতভেদ রয়েছে। একদল বলেন: পকেটমারের হাত কাটা হবে। চাই পকেটে হাত দিয়ে পকেটে যা আছে তুলে নিক অথবা পকেট কেটে যা আছে তা পড়ে যাওয়ার পর তুলে নিক। এটা ইমাম মালেক, আওযায়ি, আবু সাওর, ইয়াকুব, হাসান ও ইবনুল মুনযিরের মত। কিন্তু আবু হানিফা, মুহাম্মদ ও ইসহাকের মতে, পকেটে থাকা টাকা যদি বাহির থেকে দেখা যায় এবং তা কেটে চুরি করে, তবে হাত কাটা হবেনা। আর যদি পকেটের ভেতরে অদৃশ্য থাকে এবং তার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে নেয়, তাহলে হাত কাটা হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মসজিদ সুরক্ষিত স্থান

📄 মসজিদ সুরক্ষিত স্থান


মসজিদের বিছানা, বাতি, চাটাই ইত্যাদি সাধারণত: মসজিদেই রাখা হয়। সেগুলোর জন্য মসজিদ সুরক্ষিত স্থান গণ্য হয়। মসজিদে মহিলাদের নামাযের জায়গায় রক্ষিত তিন দিরহাম মূল্যের একটা ঢাল চুরি করার দায়ে রসূলুল্লাহ সা. চোরের হাত কেটে দিয়েছিলেন। (আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ী) অনুরূপ যে চোর মসজিদের দরজা বা শোভা বর্ধক কোনো মূল্যবান উপকরণ চুরি করে, তারও হাত কাটা হবে। কেননা এগুলো যে সুরক্ষিত জিনিস, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শাফেয়ি আলেমগণ মসজিদের বাতি ও চাটাই চুরির দায়ে হাত কাটার বিরোধী। কারণ এগুলো মুসলমানদের সুবিধার জন্যই রাখা হয়। চোরেরও অধিকার রয়েছে এই সুবিধা ভোগ করার। তবে চোর অমুসলিম হলে ভিন্ন কথা। তখন তার হাত কাটা হবে। কেননা তার এতে কোনো অধিকার নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00