📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চোরাই মালের মূল্য নির্ধারণ কখন করা হবে?

📄 চোরাই মালের মূল্য নির্ধারণ কখন করা হবে?


মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাব অনুসারে চোরাই মালের মূল্য নির্ধারণ করা হবে যেদিন চুরি হয়েছে সেই দিনের বাজার দর অনুসারে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দলগত চুরি

📄 দলগত চুরি


যখন এক দল চোর এতটা সম্পদ চুরি করে যে, তা দলের সকল সদস্যের মধ্যে বণ্টন করলে প্রত্যেকের অংশে যা পড়ে, তাতে হাত কাটা অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন ফকিহদের সর্বসম্মত মতানুসারে সকলের হাত কাটা হবে। কিন্তু যদি চোরাই মালের পরিমাণ এমন হয় যে, তা একত্রে হাত কাটার নেসাবের সমান হয়, কিন্তু বন্ট করে দিলে নেসাবের সমান হয়না, তখন ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ফকিহর মতানুসারে সকলের হাত কাটা হবে। আবু হানিফা বলেন: প্রত্যেকের অংশ নেসাব পরিমাণ না হলে হাত কাটা হবেনা। ইবনে রুশদ বলেন: যারা মনে করেন সবার হাত কাটা হবে, তাদের দৃষ্টিতে শাস্তিটা চোরাই মালের পরিমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ মানুষের সম্পদের সুরক্ষার স্বার্থে এই পরিমাণ সম্পদই চুরিতে হাত কাটাকে অপরিহার্য করে। আর যারা মনে করেন শুধু এই পরিমাণের উপরই হাত কাটা নির্ভরশীল, এর কমে হাত কাটা যাবেনা হাতের সম্মানের খাতিরে, তারা বলেন : শরিয়ত যে পরিমাণ সম্পদ চুরিতে হাত কাটা বাধ্যতামূলক করেছে, তাতে অধিক সংখ্যক হাত কাটা যাবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে জায়গা থেকে চুরি হয়েছে তার জন্য যে শর্তাবলী পূরণ জরুরি

📄 যে জায়গা থেকে চুরি হয়েছে তার জন্য যে শর্তাবলী পূরণ জরুরি


যে স্থান থেকে চুরি হয়, তার জন্য অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে সুরক্ষিত হওয়া, যেমন বাড়ি, দোকান, আস্তাবল, খোয়াড় বা গোয়াল ঘর, শস্য মাড়ানো ও শুকানোর খোলান ইত্যাদি। এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা শরিয়তের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়নি, অভিধানের দিক থেকেও দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে একমাত্র প্রচলিত পরিভাষার উপরই নির্ভর করা হয়। শরিয়ত সে স্থানকেই সংরক্ষিত মনে করে, যা প্রমাণ করে যে, জিনিসটির মালিক জিনিসটিকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষায় যথাসাধ্য সচেষ্ট ও যত্নবান। এর প্রমাণ হলো, আমর বিন শুয়াইবের দাদা কর্তৃক বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন : এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সা. কে তার চারণভূমিতে বিচরণশীল পশুর চুরি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাব দিলেন : এ ধরনের পশু চুরি করলে তার দ্বিগুণ মূল্য আদায় করা হবে ও অপমানসূচক পিটুনি দেয়া হবে। আর গোয়াল থেকে যা নেয়া হবে তা যদি ঢালের সমমূল্যের হয়, তবে তার হাত কাটিা হবে। (অর্থাৎ গোয়াল থেকে ছাগল বা ভেড়া চুরি করলে চোরের হাত কাটা হবে। কেননা গোয়াল তার রক্ষণাবেক্ষণের স্থান। আর চারণভূমি থেকে চুরি করলে হাত কাটা হবেনা।) লোকটি বললো: হে রসূলুল্লাহ, যে কাপড়ের আঁচলে করে কিছু নিয়ে যায়? তিনি বললেন : যে ব্যক্তি তার মুখে করে কিছু নিয়ে যায় এবং কাপড়ের আঁচলে বেঁধে নেয়না, তার কোনো সাজা নেই। আর যে ব্যক্তি বহন করে কিছু নিয়ে যায়, তার কাছ থেকে তার মূল্যের দ্বিগুণ জরিমানা আদায় করা হবে ও অপমানসূচক প্রহার করা হবে। আর ফসল সংরক্ষণের জায়গা থেকে যা কিছু নেয়া হবে, তা ঢালের সমমূল্যের হলে হাত কাটা হবে। -আহমদ, নাসায়ী, হাকেম, তিরমিযি।
অপর হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেন: গাছে ঝুলন্ত খেজুর ও পাহাড়ে বিচরণরত পশু চুরিতে হাত কাটা হবেনা। তবে যদি তা খোয়াড়ে বা সংরক্ষিত চাতালে রক্ষিত হয়, তা হলে ঢালের সমমূল্যের হলে হাত কাটা হবে। এ দুটো হাদিস থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে হাত কাটার জন্য সংরক্ষিত স্থান থেকে চুরি হওয়া চাই। ইবনুল কাইয়েম বলেন: রসূলুল্লাহ সা. গাছ থেকে ফল চুরির জন্য হাত কাটা রহিত ও সংরক্ষিত স্থান থেকে চুরির জন্য হাত কাটা কার্যকর করেছেন।
আবু হানিফা রহ. এর মতে, গাছের ফল চুরিতে হাত না কাটার। কারণ গাছের ফলমূল পচনশীল হওয়ার কারণে তার মূল্য কমে যায়। বস্তুত প্রত্যেক পচনশীল জিনিসের ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য। তবে অধিকাংশ ফকিহর মতই সঠিক। কেননা রসূলুল্লাহ সা. গাছের ফলের তিনটে অবস্থা নির্দেশ কেরছেন। এক, কেউ ফল পেড়ে খেয়ে গেলে কোনো শাস্তি নেই। দুই, গাছ থেকে পেড়ে বা ছিড়ে ফল নিয়ে চলে গেলে দ্বিগুণ জরিমানা আদায় ও মারপিট করা হবে, কিন্তু হাত কাটা হবেনা। তিন, ফল শুকানো ও সংরক্ষণের জায়গা থেকে চুরি করলে হাত কাটা হবে, চাই তা পুরো শুকিয়ে থাকুক বা না শুকিয়ে থাকুক। সুতরাং গুরুত্ব হলো সংরক্ষণের ও সংরক্ষণের স্থানের। ফল শুকনো না কাঁচা তার কোনো গুরুত্ব নেই। এর প্রমাণ হলো, রসূলুল্লাহ সা. চারণক্ষেত্র থেকে ছাগল চুরির দায়ে হাত কাটার রহিত করেছেন। গোয়াল বা খোয়াড় থেকে চুরির জন্য হাত কাটা হবে। কেননা ওটা একটা সংরক্ষিত স্থান। অধিকাংশ ফকিহর মতে হাত কাটার জন্য সংরক্ষিত স্থান থেকে চুরি হওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু তা শর্ত নয়। এই ফকিহদের মধ্যে রয়েছেন আহমদ, ইসহাক, যুফার ও যাহেরি মাযহাব। কেননা “পুরুষ ও মহিলা যে-ই চুরি করুক, তার হাত কেটে দাও” এ আয়াতে হাত কাটা কোনো শর্তের আওতাভুক্ত নয়। আর আমর বিন শুয়াইবের হাদিসগুলো বিতর্কিত হওয়ার কারণে কোনো শর্ত আরোপের অযোগ্য।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সম্পদকে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্নতা

📄 সম্পদকে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্নতা


সম্পদের বিভিন্নতার কারণে সংরক্ষণ ব্যবস্থাও ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। প্রচলিত রীতি নীতিই এর চূড়ান্ত মানদণ্ড। বস্তুত: একই জিনিস কখনো সংরক্ষিত গণ্য হয়, আবার কখনো হয়না। যেমন বাড়ি তার ভেতরকার ফার্নিচার ইত্যাদির জন্য সুরক্ষিত স্থান, সুরক্ষিত ঘর ফলমূলের জন্য সুরক্ষিত স্থান, আস্তাবল পশুর জন্য সুরক্ষিত স্থান এবং খোয়াড় ছাগল ভেড়ার জন্য সুরক্ষিত স্থান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00