📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ধার নিয়ে অস্বীকার করা

📄 ধার নিয়ে অস্বীকার করা


ধার নিয়ে তা অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে অপরাধ। তবে তা হাত কাটার উপযুক্ত চুরি কিনা, তা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ফকিহর মতে, ধার নিয়ে অস্বীকারকারীর হাত কাটা হবেনা। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ চোরের হাত কাটার আদেশ দিয়েছে। অথচ ধার নিয়ে অস্বীকারকারী চোর নয়। পক্ষান্তরে আহমদ, ইসহাক, যুফার, খারেজী ও যাহেরি মাযহাবের মতে হাত কাটতে হবে। কেননা আহমদ, মুসলিম ও নাসায়ী আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, "বনু মাখযুম গোত্রের জনৈক মহিলা বিভিন্ন সামগ্রী ধার নিতো ও পরে তা অস্বীকার করতো। তাই রসূলুল্লাহ সা. তার হাত কেটে দেয়ার আদেশ দিলেন। তখন তার পরিবার উসামা বিন যায়দের নিকট এসে তাকে রসূলুল্লাহ সা. নিকট সুপারিশ করার অনুরোধ জনালো। উসামা মহিলাকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য রসূলুল্লাহ সা.কে সুপারিশ করলেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: “হে উসামা, আল্লাহর নির্ধারিত একটি শাস্তির ব্যাপারে তুমি সুপারিশ করবে, এটা আমি দেখতে চাইনা।" তারপর রসূলুল্লাহ সা. ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। দাঁড়িয়ে তিনি বললেন: "তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা শুধু এজন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে অভিজাত শ্রেণীর কেউ যদি চুরি করতো, তাকে তারা ছেড়ে দিতো। আর দুর্বল শ্রেণীর কেউ চুরি করলে তার হাত কাটতো। আল্লাহর কসম, এই মহিলা যদি মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমা হতো তাহলেও আমি তার হাত কেটে দিতাম।" অতপর তিনি বনু মাখযুম গোত্রের মহিলাটির হাত কেটে দিলেন।"
ইবনুল কাইয়েম এই মতটির সমর্থন করেছেন। তিনি ধার গ্রহণ করার পর তা অস্বীকারকারীকে শরিয়তের দাবি মোতাবেক চোর গণ্য করেছেন। যাদুল মায়াদ গ্রন্থে তিনি বলেন: “রসূলুল্লাহ সা. যেভাবে সকল ধরনের মাদককে মদ হিসেবে গণ্য করেছেন, ঠিক সেভাবেই ধার অস্বীকারকারীকে চোর হিসেবে গণ্য করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এভাবেই তিনি উম্মতকে আল্লাহর কথার তাৎপর্য বুঝিয়েছেন।" আররওযাতুন নাদিয়া গ্রন্থের মন্তব্য: "ধার অস্বীকারকারী যদি অভিধানিক অর্থে চোর নাও হয়, তথাপি সে শরিয়তের পরিভাষায় অবশ্যই চোর। আর শরিয়ত সব সময় অভিধানের উপর অগ্রগণ্য। ইবনুল কাইয়েম 'ইলামুল মুকেঈন' গ্রন্থে বলেছেন, ধার গ্রহণ করার পর তা অস্বীকার করাকে চুরি হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা ও সার্থকতা খুবই স্পষ্ট। কেননা ধারের লেনদেন সব মানুষের জন্য একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে তেমনি অপরিহার্যও। ধার গ্রহণকারীর প্রয়োজন ও ঠেকার সময়ে এটা অনিবার্য হয়ে দেখা দেয়, চাই তা ভাড়ার বিনিময়ে হোক কিংবা কোনো বিনিময় ছাড়াই হোক। আর সব সময় অন্যান্যদের পক্ষে ধারের সাক্ষী হওয়া যেমন সম্ভবপর হয়না, তেমনি সতর্কতার খাতিরে ধারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়াও শরিয়ত বা প্রচলিত রীতিপ্রথা-কোনোটার দৃষ্টিতেই সম্ভব হয় না। কার্যত সেই দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনোই পার্থক্য নেই, যাদের একজন চুরির মাধ্যমে অন্যের জিনিস হরণ করে এবং অপরজন ধারে নিয়ে অস্বীকার করার মাধ্যমে অন্যের দ্রব্যসামগ্রী আত্মসাত করে। কিন্তু আমানত হিসেবে কোনো দ্রব্য বা নগদ অর্থ গ্রহণ করার পর তা অস্বীকার করাকে শরিয়তের ভাষায় চুরি বলা যায়না। কেননা দ্রবের মালিক নিজেই দ্রব্যটি নিজের হাতছাড়া করে অন্য একজনকে তা হস্তগত করার অবকাশ দিয়েছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কাফন চোর

📄 কাফন চোর


যে কারণে ধারের জিনিস অস্বীকার করে আত্মসাত করাকে চুরি হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে যে মতভেদ রয়েছে, সেই মতভেদ কাফন চোরের বেলায়ও প্রযোজ্য। অধিকাংশ ফকিহর মতে, হাত কেটে দেয়াই কাফন চোরের শাস্তি। কেননা সে যথার্থই চোর। কারণ কবর একটা সুরক্ষিত স্থান এবং সেখান থেকে গোপনে কাফন সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যথার্থই চুরি। কিন্তু আবু হানিফা, মুহাম্মদ, আওযায়ি ও সাওরির মতে তার শাস্তি হাত কাটা নয়, তার চেয়ে লঘু কোনো শাস্তি তথা তাযীর। কেননা সে এমন একটা বস্তু নিয়েছে, যার কোনো মালিক নেই। মৃত ব্যক্তি কোনো জিনিসের মালিক থাকেনা। তাছাড়া কবর তাদের মতে সুরক্ষিত স্থান নয়, অরক্ষিত স্থান।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চুরির শাস্তির জন্য পালনীয় শর্তাবলি

📄 চুরির শাস্তির জন্য পালনীয় শর্তাবলি


ইতিপূর্বে চুরির যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, চোরের চোরাইকৃত মালের ও চুরির স্থানের কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার উপস্থিতি চুরির অপরাধটির শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডের যোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার জন্য অপরিহার্য। এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে দণ্ড প্রয়োগের শর্তাবলিও বলা যেতে পারে। নিম্নে এই শর্তাবলির উল্লেখ করা হলো:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চুরির শাস্তিযোগ্য হওয়ার জন্য চোরের মধ্যে যে শর্তাবলি জরুরি

📄 চুরির শাস্তিযোগ্য হওয়ার জন্য চোরের মধ্যে যে শর্তাবলি জরুরি


১. চোরের সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া জরুরি। সুতরাং পাগল এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও বালক-বালিকা দণ্ডের (হাত কাটা) যোগ্য নয়। কেননা তাদের উপর শরিয়তের বিধান বলবত হয়নি। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক চুরি করলে তাকে লঘু শাস্তি দিতে হবে। হদের জন্য চোরের মুসলমান হওয়া শর্ত নয়। কাজেই অমুসলিম ও মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগকারী) যখন চুরি করে, তখন তার হাত কাটা হবে। অনুরূপ, কোনো মুসলমান যখন অমুসলমানের সম্পদ চুরি করে, তখন তারও হাত কাটা হবে।
২. স্বাধীন ক্ষমতার অধিকারী হওয়া চাই। অন্য কথায়, চৌর্য কর্মটি চোরের স্বাধীন ইচ্ছার ভিত্তিতে সংঘটিত হওয়া জরুরি। কাউকে যদি চুরি করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে তাকে চোর বলে গণ্য করা হবেনা। কেননা যখনই তাকে বাধ্য করা হয়, তখনই তার স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়। আর স্বাধীনতা যার থাকেনা, তার উপর শরিয়তের বিধান বলবত হয় না।
৩. চোরাই মালের মালিকানা সম্পর্কে চোরের মনে কোনো সন্দেহ না থাকা চাই। কোনো সন্দেহ থাকলে তার হাত কাটা হবেনা। যেমন ছেলের মাল চুরি করার জন্য পিতা বা মাতার হাত কাটা হবেনা। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তুমি ও তোমার যাবতীয় সম্পত্তি তোমার পিতার।" অনুরূপ, মা-বাবার বা তাদের কোনো একজনের সম্পত্তি চুরি করার দায়ে সন্তানের হাত কাটা যাবেনা। কেননা সন্তান সাধারণত তার মা-বাবার সম্পত্তি খরচ করার অধিকার রাখে বলে মনে করে। অনুরূপ দাদা ও দাদার দাদা এবং পৌত্র ও প্রপৌত্রের হাত কাটা যাবেনা।
এরপর আসে রক্ত সম্পর্কীয় মাহরাম আত্মীয়দের প্রসঙ্গ, যেমন খালা, ফুফু, বোন, চাচা, মামা ও ভাই। আবু হানিফা ও সাওরির মতে, এই শ্রেণীর কারও হাত কাটা হবেনা। কেননা তাদের হাত কাটার পরিণামে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে, যা আল্লাহ বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন। তাছাড়া যেহেতু বাড়িতে প্রবেশে তাদের অধিকার রয়েছে, তাই তারা বাড়ির মালিকের বন্ধু। এ কারণে তাদের হাত থেকে বাড়ির দ্রব্যসামগ্রী পুরোপুরি সংরক্ষিত নয়। এক্ষেত্রে এই আত্মীয়তা বাড়িতে আগত অতিথির মতো, যাকে বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ কারণেই অতিথি চুরি করলে তার হাত কাটা যায়না।
মালেক, শাফেয়ি, আহমদ ও ইসহাক বলেন, এদের মধ্য থেকে কেউ চুরি করলে তার হাত কাটা হবে। কেননা চুরিকৃত মালের মালিকানায় কোনো সন্দেহ নেই। আর স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জিনিস চুরি করলে তাদের হাত কাটা হবেনা। কারণ তাদের পারস্পরিক মেলামেশা ও একত্র অবস্থানের কারণে তাদের দ্রব্যসামগ্রী একদিকে যেমন পুরোপুরি সংরক্ষিত নয় এবং অনিবার্যভাবে দ্রব্যাদির মালিকানায় সন্দেহের সৃষ্টি করে। তাই হাত কাটা রহিত হবে। এটা আবু হানিফার মাযহাব। এক বর্ণনা অনুযায়ী এটা শাফেয়ি ও আহমদেরও মাযহাব। কিন্তু মালেক ও সাওরির মত এবং আহমদ ও শাফেয়ির দুটি মতের একটি অনুসারে, স্বামী ও স্ত্রীর যদি আলাদা আলাদা ঘর থাকে এবং নিজ নিজ ঘরে উভয়ের জিনিসপত্র সংরক্ষিত থাকে, তাহলে দু'জনের যে কেউ অপরজনের দ্রব্য চুরি করলে তার হাত কাটা হবে। কেননা এখানে দ্রব্যগুলো পুরোপুরি সংরক্ষিত এবং স্বামী স্ত্রীর প্রত্যেকের অবস্থান স্বতন্ত্র। যে ভৃত্য স্বয়ং মনিবের সেবা করে, সে চুরি করলে তার হাত কাটা হবেনা। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি তার এক ভৃত্যকে নিয়ে উমর রা. এর কাছে এসে বললেন, এর হাত কাটুন। এ আমার স্ত্রীর আয়না চুরি করেছে। তখন উমর রা. বললেন, না, ওর হাত কাটা হবেনা। সে তোমাদের সেবক হিসেবে তোমাদের জিনিস নিয়েছে। এটা উমর রা. ও ইবনে মাসউদের মত হলেও কোনো সাহাবী তাদের মতের বিরোধিতা করেনি। কোনো মুসলমান সরকারের কোষাগার থেকে চুরি করলে তার হাত কাটা যাবেনা। কেননা বর্ণিত আছে যে, উমর রা. এর অধীনস্থ কোনো এক কর্মকর্তা তার কাছে চিঠি লিখে জানতে চাইলেন বাইতুল মাল (সরকারি কোষাগার) থেকে কেউ চুরি করলে তার কি করা হবে। তিনি বললেন, তার হাত কেটনা। কেননা প্রত্যেক মুসলমানেরই বাইতুল মালে হক রয়েছে। শাবি বর্ণনা করেছেন: এক ব্যক্তি বাইতুল মাল থেকে চুরি করেছে শুনে আলী রা. মন্ত্রব্য করলেন, ওরও তো বাইতুল মালে অংশ রয়েছে। তিনি তার হাত কাটলেন না। এখানে আলী রা. ও উমর রা. এর কথার মধ্যে বাইতুল মাল থেকে চুরি করার কারণে হাত না কাটার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। কারণটি হলো, বাইতুল মালে সবার অংশ থাকায় কিছুটা সন্দেহের উদ্রেক করে এবং সেই সন্দেহটুকু দণ্ড রহিত করে। ইবনে কুদামা বলেন, কোনো সম্পত্তিতে যার অংশীদারত্ব রয়েছে, কেউ ঐ সম্পত্তি থেকে এবং গণিমতের অংশীদার কেউ গণিমত থেকে চুরি করলে তার হাত কাটা হবেনা। এটা অধিকাংশ আলেমের মত। তবে ইমাম মালেকের মতে, হাত কাটা হবে। কেননা সংশ্লিষ্ট আয়াতটিতে যে কোনো ধরনের চোরেরই হাত কাটার আদেশ রয়েছে।
ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, গনিমত হিসেবে প্রাপ্ত গোলামদের একজন গনিমতের সম্পদ চুরি করে ধরা পড়লে রসূলুল্লাহ সা. তার হাত কাটেননি। তিনি বললেন, "চোর ও চুরিকৃত সামগ্রী উভয়েই আল্লাহর সম্পদ। তারা একে অপরকে চুরি করেছে।”
ঋণ নিয়ে তা পরিশোধে টালবাহানাকারী বা ঋণ অস্বীকারকারী খাতকের সম্পদ থেকে ঋণদাতা চুরি করলে ঋণদাতার হাত কাটা হবেনা। কেননা এর মাধ্যমে ঋণ ফেরত নেয়া হয়েছে। তবে খাতক যখন ঋণ স্বীকার করে ও ঋণ ফেরত দিতে সক্ষম থাকে, তখন ঋণদাতা খাতকের সম্পদ চুরি করলে তার হাত কাটা হবে। কেননা এক্ষেত্রে তার চুরিতে কোনো সন্দেহ নেই। ধার গ্রহণকারীর নিকট থেকে ধারে নেয়া দ্রব্য চুরি হলে তাতে চোরের হাত কাটা যাবে না। কেননা ধার গ্রহণকারী ধারে নেয়া দ্রব্যের মালিক নয়, আমানতদার। আর যদি কোনো ব্যক্তি কোনো জিনিস জবর দখল করে বা চুরি করে ও নিজের কাছে সংরক্ষণ করে, অতপর তার কাছ থেকে কোনো চোর তা চুরি করে, তবে এই চোরের হাত শাফেয়ি ও আহমদের মতে কাটা হবেনা। কেননা চোরাই দ্রব্যটি এমন জায়গায় সংরক্ষিত ছিলো, যার প্রতি তার মালিক সম্মত ছিলনা। কিন্তু ইমাম মালেকের মতে হাত কাটা হবে। কেননা সে এমন দ্রব্য চুরি করেছে, যা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং সংরক্ষিত স্থান থেকে চুরি করেছে। আর যখন জনসাধারণ কোনো দুর্যাগের কবলে পড়ে এবং কোনো ব্যক্তি কোনো খাদ্য দ্রব্য চুরি করে, তবে সেই খাদ্য যদি বর্তমান থেকে থাকে, তাহলে চোরের হাত কাটা হবে। কেননা জিনিসটি চুরি করা তার জন্য জরুরি ছিলনা। আর যদি না থেকে থাকে, তবে হাত কাটা হবেনা। কেননা তার প্রয়োজন ছিলো বিধায় জিনিসটি নেয়ার অধিকার তার ছিলো। উমর রা. বলেছেন, দুর্ভিক্ষের বছর কোনো হাত কাটা হবেনা। মুয়াত্তায় ইমাম মালেক বর্ণনা করেছেন হাতেবের কতিপয় দাস মুযায়না গোত্রের এক ব্যক্তির একটি উন্নী চুরি করলো এবং তা যবাই করলো। বিষয়টি উমর রা. এর নিকট নীত হলে তিনি কুসাইয়ির ইবনুস সাল্ভকে তাদের হাত কেটে দেয়ার আদেশ দিলেন।" তারপর উমর রা. বললেন, "আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি তাদেরকে অভুক্ত রেখে কষ্ট দিয়ে থাকো।” আল্লাহর কসম, আমি তোমার উপর এমন জরিমানা আরোপ করবো, যা দিতে তুমি হিমসিম খাবে।" তারপর মুযায়না গোত্রের লোকটাকে বললেন, তোমার উটনীর দাম কত? সে বললো, আল্লাহর কসম, আমি চারশো দিরহাম দাম হলেও উটনীটা দেইনি। উমর রা. বললেন, ওকে আটশো দিরহাম দিয়ে দাও। ইবনে ওহাব বর্ণনা করেন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. চোরদের হাত কেটে দিতে কুসাইয়ির ইবনুস সাল্‌তকে আদেশ দেয়ার পর একজন দূতকে পাঠিয়ে দিলেন যেন সে দাসগুলোকে তার দরবারে নিয়ে আসে। সে যথাসময় তাদেরকে নিয়ে এলো। তখন উমর রা. হাতেবের ছেলে আব্দুর রহমানকে বললেন, আমি যদি না মনে করতাম যে, তোমরা তাদেরকে কাজে খাটাও, অথচ খাবার দাওনা, এমনকি তাদের অবস্থা এমন হয় যে, হারাম খাবার পেলেও তা খেতো, তাহলে তাদের হাত কেটে দিতাম। তবে আল্লাহর কসম, ওদেরকে যখন ছেড়ে দিয়েছি, তখন তোমার উপর এমন জরিমানা আরোপ করবো, যা তোমার জন্য কষ্টকর হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00