📄 মানুষের আত্মরক্ষা ও অন্যের জানমাল রক্ষার লড়াই
যখন কোনো আক্রমণকারী হত্যা করার লক্ষ্যে কারো উপর আক্রমণ চালায়, অথবা তার সম্পদ হরণ বা তার পরিবারের মহিলাদের সম্ভ্রম হানির অপচেষ্টা চালায়, তখন নিজের জান, মাল ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে আগ্রাসীর বিরুদ্ধে লড়াই করার অধিকার আক্রান্ত ব্যক্তির রয়েছে। সে সহজতর উপায়ে প্রতিরোধ শুরু করে ক্রমান্বয়ে কঠোরতর উপায় অবলম্বন করতে পারে। যেমন প্রথমে কথা তারপর চিৎকার, তারপর মানুষের সাহায্য নিতে হবে। এর কোনোটিতে প্রতিহত না হলে প্রহারে কাজ হয় কিনা দেখার জন্য প্রহার করতে হবে, তাতেও যদি কাজ না হয় এবং হত্যা ছাড়া যদি প্রতিহত করা না যায় তবে তাকে হত্যা করতে হবে। এমতাবস্থায় হত্যাকারীর উপর কোনো কিসাস আরোপিত হবেনা, কোনো কাফফারাও নয়। নিহত ব্যক্তির কোনো দিয়াতও প্রাপ্য হবেনা। কেননা সে হত্যাকারী ও আগ্রাসী। আগ্রাসী অত্যাচারীর রক্ত হালাল। এর জন্য কোনো ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই। এই আত্মরক্ষার লড়াই এ যদি আক্রান্ত ব্যক্তি নিহত হয় তবে সে শহীদ হবে।
আল্লাহ বলেন: وَلَمَنِ انْتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ فَأُولَئِكَ مَا عَلَيْهِمْ مِنْ سَبِيلِ . "যে ব্যক্তি অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।" (সূরা শূরা: আয়াত ৪১)
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সা.এর নিকট এসে বললো, হে রসূলুল্লাহ সা., যদি কেউ আমার সম্পদ কেড়ে নিতে আসে তাহলে আমি কী করবো? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাকে তোমার সম্পদ দেবেনা। সে বললো, লোকটি যদি আমার সাথে যুদ্ধ করতে উদ্যত হয়? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাহলে তুমি তার সাথে যুদ্ধ করবে। সে বললো, সে যদি আমাকে হত্যা করে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাহলে তুমি শহীদ। সে বললো, আর যদি আমি তাকে হত্যা করি? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাহলে সে দোযখবাসী হবে।
বুখারি বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ। আর যে ব্যক্তি নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ।
বর্ণিত আছে, জনৈক মহিলা কাঠ আহরণ করতে গেলে এক ব্যক্তি খারাপ মতলব নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হলো। তখন ঐ মহিলা পাথর নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করলো। পরে ঘটনাটা উমর রা. এর নিকট ব্যক্ত করা হলে তিনি বললেন, সে আল্লাহর হাতে নিহত। আল্লাহ কখনো তাকে দিয়াত দেবেন না (অর্থাৎ সে দিয়ত পাবেনা)। নিজের জানমাল ও সম্ভ্রম আক্রান্ত হলে তা রক্ষার জন্য চেষ্টা করা কর্তব্য। তবে শর্ত হলো, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখে তা করতে হবে। কেননা অন্যের জানমালও সম্ভ্রম রক্ষার চেষ্টা, অন্যায় প্রতিরোধ ও অন্যের হক রক্ষার দায়িত্বের আওতাভুক্ত। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ অন্যায় দেখলে তা হাত দিয়ে প্রতিহত করো, তা না পারলে মুখ দিয়ে প্রতিহত করো, তা না পারলে মন দিয়ে ঘৃণা করো। আর মন দিয়ে ঘৃণা করা সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের কাজ।” বস্তুত এটা অন্যায় প্রতিহত করার শামিল।