📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ডাকাতি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার ব্যাপারে শাসক ও সমাজের করণীয়

📄 ডাকাতি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার ব্যাপারে শাসক ও সমাজের করণীয়


শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা, ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রাণ, সম্পদ ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য শাসক ও সমাজ উভয়েই দায়িত্বশীল। যখন একটি গোষ্ঠী সমাজ ও রাষ্ট্রের অবাধ্য হয়ে ত্রাস ছড়ায় ও ডাকাতি করে এবং মানুষের জীবনে বিভীষিকাময় অরাজকতা ও অস্থিরতার সৃষ্টি করে, তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা শাসকের কর্তব্য, ঠিক যেমন রসূলুল্লাহ সা. বুজায়লা গোত্রের ‘উরনী’ বিদ্রোহীদের সাথে করেছিলেন এবং তাঁর পরে খলিফাগণ যেমন করেছিলেন। সর্বস্তরের মুসলমানদেরও কর্তব্য তাদের দাপট খর্ব করতেও মূলোৎপাটন করতে শাসককে সহযোগিতা করা, যতক্ষণ না জনগণের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং প্রত্যেকটি মানুষ নিজের, পরিবারের ও সমাজের কল্যাণার্থে সর্বাত্মক চেষ্টা সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে সক্ষম হয়। কোনো হত্যা ও লুণ্ঠন সংঘটিত করার আগেই যদি এসব সন্ত্রাসী রণে ভঙ্গ দেয়, ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের দাপট চূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে আর তাদের পিছু ধাওয়া করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তাদের অপতৎপরতা যদি খুন ও রাহাজানির পর্যায়ে উপনীত হয়, তাহলে তাদেরকে পুরোপুরি পর্যুদস্ত না করা পর্যন্ত তাদেরকে পাকড়াও করার জন্য সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে এবং তাদের উপর ডাকাতি রাহাজানির শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নাগালে পাওয়ার আগেই যদি সন্ত্রাসী ও ডাকাতরা তওবা করে

📄 নাগালে পাওয়ার আগেই যদি সন্ত্রাসী ও ডাকাতরা তওবা করে


সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ডাকাতি রাহাজানিতে লিপ্তরা যদি ধরা পড়ার আগে তওবা করে এবং শাসক তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়, তাহলে আল্লাহই তাদের অতীতের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেবেন এবং তাদের পার্থিব শাস্তিও রহিত করে দেবেন। আল্লাহ বলেন : ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ "দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্ছনা। উপরন্তু পরকালে তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। তবে তোমাদের আয়ত্তাধীন আসবার আগে যারা তওবা করবে, তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
এর কারণ হলো, ধরা পড়া ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসার আগে তওবা করা থেকে প্রমাণিত হয়, তাদের বিবেক জেগে উঠেছে এবং নৈরাজ্য ছড়ানো ও আল্লাহ ও রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মনোভাব পরিত্যাগ করে নতুন করে পবিত্র ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনে তারা বদ্ধপরিকর হয়েছে। তাই ইতিপূর্বে তারা যদি আল্লাহর হক সংক্রান্ত কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেও থাকে, তবে তারা আল্লাহর ক্ষমা লাভ করবে। তবে মানুষের অধিকার হরণ করে থাকলে তা ক্ষমা করা হবেনা। সেক্ষেত্রে রক্তপাতজনিত অপরাধের শাস্তি ডাকাতি ও সন্ত্রাসের মামলার প্রক্রিয়ায় হবে না, বরং কিসাসের প্রক্রিয়ায় হবে। তখন ব্যাপারটা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের মর্জির উপর ন্যস্ত হবে, শাসকের বিবেচনার উপর নয়। তারা যদি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে, তবে হত্যার বদলে হত্যার বাধ্যবাধকতা থাকবেনা, নিহতের অভিভাবক ও উত্তরাধিকারীর হত্যার বদলে হত্যার অধিকারও থাকবে, রক্তপণ বা দিয়াত নিয়ে ক্ষমা করার অধিকারও থাকবে। আর যদি তারা হত্যা ও লুঠতরাজ দুটোই করে থাকে, তাহলে শূলে চড়ানো ও হত্যার বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে কিসাস ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ অবশিষ্ট থাকবে। আর যদি শুধু সম্পদ লুণ্ঠন করে থাকে, তবে হাত পা কাটা রহিত হবে, কিন্তু লুণ্ঠিত সামগ্রী তাদের হাতে থেকে থাকলে তা নিয়ে নেয়া হবে, আর পুরোপুরি বা আংশিক খরচ করে থাকলে তার মূল্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। কেননা এটা অনধিকার জবর দখলের পর্যায়ভুক্ত। কাজেই এভাবে উপার্জিত সম্পদের মালিক হওয়া তাদের জন্য বৈধ নয়। ঐ সম্পদ তার মালিকদেরকে ফেরত দেয়া হবে। প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া পর্যন্ত তা শাসকের কাছে থাকবে। লুণ্ঠিত সম্পদ মালিকের নিকট ফেরত না দেয়া পর্যন্ত তাদের তওবাও শুদ্ধ হবেনা। আর যদি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে শাসক নৈরাজ্যবাদীদের উপর থেকে কোনো আর্থিক দাবি রহিত করা উচিত মনে করেন, তাহলে মালিককে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ইবনে রুশদ বিদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থে আলেমদের এ সংক্রান্ত মতামতের সারাংশ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন: তওবা দ্বারা কোন্ কোন্ দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে চারটি মত পাওয়া যায়:
১. একটি হলো, কেবলমাত্র ডাকাতি, রাহাজানির শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। এছাড়া আল্লাহর ও মানুষের আর যত হক রয়েছে, তার সব কিছুর জন্যই তাকে দায়ী করা হবে। এটা ইমাম মালেকের মত।
২. দ্বিতীয় মত হলো, ডাকাতি রাহাজানি, ব্যভিচার, মদপান ও চুরির দায়ে হাত কাটার শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবে। কিন্তু আর্থিক ও রক্তপাতজনিত মানবাধিকার নষ্ট করে থাকলে তার দায় থেকে সে অব্যাহতি পাবেনা। কেবল নিহতের অভিভাবকরা ক্ষমা করলেই অব্যাহতি পাবে। (আমাদের নিকট এটাই সর্বাপেক্ষা ন্যায়সংগত মত। ইতিপূর্বে আমরা এ মতটি উল্লেখ করেছি।)
৩. তৃতীয় মতটি হলো, তওবা দ্বারা আল্লাহর হক সংক্রান্ত সমস্ত অপরাধ মাফ হয়ে যায়। কেবল রক্তপাত, লুণ্ঠন ও অপহরণের জন্য দায়ী থাকবে। লুণ্ঠিত মালের মধ্য থেকে যেটুকু অবিকৃত ও অক্ষত অবস্থায় অবশিষ্ট আছে, তা আদায় করে নেয়া হবে।
৪. চতুর্থ মত হলো, তওবা দ্বারা আর্থিক ও দৈহিক যাবতীয় ক্ষতি থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। কেবল লুণ্ঠিত সম্পদের যেটুকু অক্ষত থাকে, তা ফেরত দিতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তওবার শর্তাবলি

📄 তওবার শর্তাবলি


তওবার দুটি রূপ আছে: প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য। ফিকহ শাস্ত্র প্রকাশ্য রূপটিই বিবেচনা করে, অপ্রকাশ্য রূপটি নয়। কেননা অপ্রকাশ্যটি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা। কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী বা সন্ত্রাসী যদি গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করে তবে তার তওবা গৃহীত হবে এবং তওবার যাবতীয় সুফলও কার্যকর হবে। কোনো কোনো ফকিহ তওবাকারীর জন্য শর্ত আরোপ করেছেন যে, তাকে শাসকের কাছ থেকে নিরাপত্তা চেয়ে নিতে হবে এবং শাসক কর্তৃক নিরাপত্তাপ্রাপ্ত হতে হবে। অন্যরা বলেন, এটা শর্ত নয়। বরং প্রত্যেক তওবাকারীর তওবার প্রতি স্বীকৃতি দেয়া শাসকের দায়িত্ব। কেউ কেউ বলেন, শাসকের কাছে না গিয়েও কেউ যদি অস্ত্র ফেলে দেয়, অপরাধমূলক তৎপরতা ত্যাগ করে ও জনগণকে আশ্বস্ত করে, তাহলে সেটা যথেষ্ট হবে।
ইবনে জারির বলেন, মূসা মাদানি বর্ণনা করেছেন যে, আলি আসাদ বিদ্রোহী তৎপরতায় লিপ্ত হয়, সন্ত্রাস ছড়ায় এবং হত্যা ও লুণ্ঠন সংঘটিত করে। ফলে শাসক ও জনগণ তার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কিন্তু সে আত্মরক্ষায় সফল হলো। কেউ তাকে গ্রেফতার করতে পারলো না। অবশেষে একদিন সে এক ব্যক্তিকে সূরা যুমারের ৫৪ নং আয়াতঞ্জ:
قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ، إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "বলো, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো, আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না, আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন, তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" পড়তে শুনলো। শুনে সে ঐ ব্যক্তির নিকট থমকে দাঁড়ালো এবং তাকে বললো: হে আল্লাহর বান্দা, আয়াটি আবার পড়ো। সে পুনরায় পড়লো। তৎক্ষণাত আলি আসাদি তরবারি কোষবদ্ধ করলো এবং তওবা করে শেষ রাতে মদিনায় এলো। মদিনায় এসে গোসল করে মসজিদে নববীতে উপস্থিত হলো এবং ফজরের নামায পড়লো। তারপর বহু সংখ্যক সাহাবির সাথে আবু হুরায়রার নিকট বসলো। ভোর হলো জনগণ তাকে চিনে ফেললো। অমনি সকলে তাকে ধরার জন্য তার দিকে এগিয়ে গেলো। সে জনতাকে বললো, আমাকে পাকড়াও করার কোনো অধিকার তোমাদের নেই। তোমরা আমাকে নাগালে পাওয়ার আগেই আমি তওবা করে হাজির হয়েছি। আবু হুরায়রা রা. বললেন, সে সত্য বলেছে। অতপর তার হাত ধরে আমীর মুয়াবিয়ার অধীনস্থ মদিনার শাসক মারওয়ান ইবনুল হাকামের নিকট নিয়ে গেলেন। তাকে গিয়ে বললেন, এই আলি তওবা করে চলে এসেছে। তোমাদের তাকে গ্রেফতার করা বা হত্যা করার অধিকার নেই। মারওয়ান তাকে তার সকল অপরাধ থেকে অব্যাহতি দিলো। এরপর আলি আল্লাহর পথে জেহাদ করতে সমুদ্র পথে রওনা হলেন। পথিমধ্যে রোমক বাহিনীর সম্মুখীন হলেন। রোমকদের জাহাজের সাথে তার জাহারে টক্কর হলো। এক পর্যায়ে তিনি রোমকদের জাহাজে উঠে পড়লে রোমকদের সৈন্যরা তার ভয়ে জাহাজের অপর কিনারে চলে গেলো। এতে জাহাজ কাত হয়ে গেলো এবং তাকে ও রোমকদের নিয়ে ডুবে গেলো।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপরাধীকে শাসকের নিকট নেয়ার আগে তওবা করলে শাস্তি মাফ

📄 অপরাধীকে শাসকের নিকট নেয়ার আগে তওবা করলে শাস্তি মাফ


ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রদ্রোহী বা ডাকাত গ্রেফতার হওয়ার আগে তওবা করলে তাকে ডাকাতি বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। কেননা সূরা মায়েদার ৩৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে:
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ "তবে তোমাদের আয়ত্তাধীন আসবার আগে যারা তওবা করবে, তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" এই অব্যাহতি শুধু ডাকাত বা বিদ্রোহীর জন্য নির্দিষ্ট নয়, রবং এটা সকল শাস্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যে ব্যক্তি কোনো 'হদ' যোগ্য অপরাধ করে এবং ধরা পড়ে শাসকের নিকট নীত হওয়ার আগে তওবা করে, তার হদ রহিত হবে। কেননা ডাকাত, সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রদ্রোহীর হদ যদি রহিত হয়, তাহলে অন্যদের হদ রহিত হওয়া অধিকতর অগ্রগণ্য। কেননা তারা এদের চেয়ে অনেক হালকা অপরাধের জন্য দায়ী। ইবনে তাইমিয়াও একই ধরনের মত ব্যক্ত করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার আগে ব্যভিচার, চুরি ও মদপান থেকে তওবা করে, তার হদ রহিত হবে। যেমন গ্রেফতার হওয়ার আগে তওবা করলে বিদ্রোহী ও ডাকাতের হদও সর্বসম্মতক্রমে রহিত হয়।" কুরতুবি বলেন, মদখোর, ব্যভিচারী ও চোর যখন তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে এবং এই তওবার কথা জানাজানি হয়ে যায়, অতপর ধরা পড়ে শাসকের নিকট নীত হয়, তার উপর হদ কার্যকর করা সমীচীন নয়। আর শাসকের কাছে নীত হওয়ার পর সে যদি বলে, আমি তওবা করেছি, তবে তাকে ছাড়া হবেনা। এ অবস্থায় সে সেই বিদ্রোহীর মতো যে পরাজিত হয়েছে।
এই মতভেদটি খোলাসা করে ইবনে কুদামা বলেছেন, শাস্তিযোগ্য ডাকাত বা রাষ্ট্রদ্রোহী যদি তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে, তবে তার সম্পর্কে দুটো রেওয়ায়াত রয়েছে: এক, তার শাস্তি রহিত হবে। কেননা আল্লাহ সূরা নিসার ১৬ নং আয়াতে বলেন:
وَالَّذِينَ يَأْتِينِهَا مِنْكُمْ فَآذُوهُمَا ، فَإِنْ تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا "তোমাদের মধ্যে যে দুজন ব্যভিচারে লিপ্ত হবে, তাদেরকে শাসন করো, যদি তারা তওবা করে ও নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তবে তাদেরকে রেহাই দেবে।" আর চোরের শাস্তির উল্লেখ করার পর আল্লাহ সূরা মায়েদায় বলেন:
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ وَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ "যে ব্যক্তি নিজের উপর অবিচার করার পর তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তার জন্য আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
আর রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, গুনাহ থেকে তওবাকারী যার কোনো গুনাহ নেই তার মতো।" আর যার গুনাহ নেই, তার কোনো হদও নেই।
রজমের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মায়েয রা. ছুটে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন শুনে রসূলুল্লাহ সা. বলেছিলেন, তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে না কেন? তাহলে সে তওবা করতো এবং আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতেন। তাছাড়া যেহেতু এটা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হক, তাই তওবা দ্বারা এর শাস্তি রহিত হয়ে যায় যেমন ডাকাতি ও সন্ত্রাসের অপরাধে তওবা দ্বারা শাস্তি রহিত হয়।
দুই. তার শাস্তি রহিত হবেনা। এটা মালেকও আবু হানিফার মত এবং শাফেয়ির দুটি মতের একটি। আল্লাহ যে বলেছেন, "ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারীকে একশ'টি কশাঘাত করো" এটা তওবাকারী ও অতওবাকারী উভয়ের জন্য। অনুরূপ পুরুষ চোর ও নারী চোরের হাত কেটে দেয়ার আদেশ যে আয়াতে দিয়েছেন তাও তওবার শর্তমুক্ত। তাছাড়া রসূলুল্লাহ সা. মায়েয ও গামেদি গোত্রের মহিলাকে এবং আরো একজনকে চুরির স্বীকারোক্তি করা সত্ত্বেও শাস্তি দিয়েছিলেন। অথচ তারা সবাই তওবা করে এসেছিল এবং নিজেদের উপর হদ কার্যকরী করিয়ে নিজেদেরকে পবিত্র করার ইচ্ছা নিয়ে এসেছিল। রসূলুল্লাহ সা. তাদের কাজকে তওবা আখ্যা দিয়েছিলেন। গামেদি মহিলা সম্পর্কে তিনি মন্ত্রব্য করেছিলেন যে, "সে এমন তওবা করেছে যা মদিনার সত্তরজন অধিবাসীর মধ্যে বণ্টন করলেও তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে।" আমর ইবনে সামুরা রা. রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এসে বললো, হে রসূলুল্লাহ সা., আমি অমুক গোত্রের উট চুরি করেছি, আমাকে পবিত্র করে দিন।” তখন রসূলুল্লাহ সা. তার উপর হদ কার্যকর করলেন। তাছাড়া যেহেতু হদ হচ্ছে কাফফারা। তাই কাফফারা রহিত হয়না। উপরন্তু সে আয়ত্তাধীন। তাই তার হদ রহিত হবেনা যেমন ডাকাত ও সন্ত্রাসীর হদ ধরা পড়ার পর রহিত হয়না। এখন আমরা যদি তওবা করলে হd রহিত হবে, এই মতটি গ্রহণ করি, তাহলে প্রশ্ন দেখা দেয় যে, সেক্ষেত্রে শুধু তওবাই কি যথেষ্ট, না তওবার সাথে সাথে নিজেকে সংশোধন করতে হবে? এ ব্যাপারে দুটো মত রয়েছে। একটি হলো, শুধু তওবা করলেই হd রহিত হবে। এটাই আমাদের ইমামদের অধিকাংশের মত। কেননা এটা হd রহিতকারী তওবা। তাই ডাকাত, সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীর ধরা পড়ার আগে তওবা করার সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে। দ্বিতীয় মতটি হলো, তওবাকারীর চরিত্রে সংশোধনও জরুরি। কেননা আল্লাহ বলেছেন, তারা যদি তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে নয়, তাহলে তাদেরকে অব্যাহতি দাও। এমত অনুসারে অপরাধীর তওবা সঠিক কিনা ও তার নিয়ত আন্তরিক কিনা তা জানার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা দরকার। তবে এর জন্য কোনো মেয়াদ নির্দিষ্ট নেই। শাফেয়ি মাযহাবের কিছু আলেম এক বছর মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন। তবে এ মেয়াদ নির্ধারণ অনধিকার চর্চা ও অবৈধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00