📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাদুকর কি হত্যাযোগ্য?

📄 যাদুকর কি হত্যাযোগ্য?


যে জাদুর ব্যাপারে আলেমগণ একমত : জাদুর কার্যকর প্রভাব রয়েছে। জাদু হারাম এবং জাদুকে হালাল বলে বিশ্বাসকারী কাফের। তবে জাদু কোনো বাস্তব জিনিস, না কাল্পনিক এবং জাদু করা কুফরী কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এই মতভেদের সূত্র ধরে জাদুকর কাফের কিনা তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে।
আবু হানিফা ও মালেক বলেছেন, জাদু শেখা মাত্রই জাদুকর হত্যাযোগ্য হয়ে যায়। অতপর জাদু দ্বারা কাজ করলে তো সে হত্যাযোগ্য হবেই। তাকে তওবার আহ্বান জানানো শর্ত নয়। শাফেয়ি ও যাহেরি মাযহাবের মতে, যে কথা ও কাজ দ্বারা সে জাদু করে, তা যদি কুফরী কালাম ও কুফরী কাজ হয়, তাহলে জাদুকর মুরতাদ এবং তওবা না করলে তার উপর মুরতাদের যাবতীয় হুকুম কার্যকর হবে। আর তার কথা ও কাজ যদি কুফরী সূচক না হয়, তবে তাকে হত্যা করা হবেনা। কেননা সে কাফের নয়। সে শুধু গুনাহগার।
একথা সুবিদিত যে, জাদু একটা কবীরা গুনাহ। জাদুকরকে তার জাদুর জন্য হত্যা করা হবেনা। কেবল যখন সে জাদুকে হালাল বলে বিশ্বাস করবে, তখন তাকে হত্যা করা হবে। কেননা হারামকে হালাল গণ্য করার কারণে সে মুরতাদ বলে হত্যাযোগ্য হয়েছে, জাদুর কারণে নয়। রসূলুল্লাহ সা. যে সাতটি গুনাহকে ধ্বংসকারী মহাপাপ বলে আখ্যায়িত করেছেন, তার মধ্যে জাদু অন্যতম।*
যারা জাদুকরকে কাফের মনে করে ও তাকে হত্যাযোগ্য বলে, তাদের যুক্তিপ্রমাণ পর্যালোচনার পর ইবনে হাযম বলেন, বিশুদ্ধ মত এই যে, জাদু কুফরী নয়। আর কুফরী যখন নয়, তখন জাদুকরকে হত্যা করা বৈধ হতে পারেনা। কেননা রসূলুল্লাহ সা. মুসলমান হওয়ার পর কাফের হওয়া, বিয়ে করার পর ব্যভিচার করা ও নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা ব্যতীত কাউকে হত্যা করা অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার আলোকে জাদুকর কাফেরও নয়, হত্যাকারীও নয় এবং বিয়ে করার পর ব্যভিচারের দায়েও অভিযুক্ত নয় এবং কুরআন ও হাদিসের কোথাও তাকে হত্যা করার আদেশও দেয়া হয়নি যে, উক্ত তিনটি কারণের উপর এটিও সংযোজন করা হবে। যেমন রাষ্ট্রদ্রোহীকে সংযোজন করা হয়। কাজেই নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, জাদুকরকে হত্যা করা অবৈধ। শিয়ারা অবশ্য জাদুকরকে মুরতাদ ও হত্যার যোগ্য মনে করে।

টিকা:
*. এখানে মনে রাখা দরকার, জাদু হলো সেই জিনিস যা মানুষের ক্ষতি সাধনের জন্যে বা কারো উপর প্রভাব বিস্তার করার জন্যে বিশেষ ধরণের মন্ত্র তন্ত্র দ্বারা করা হয়। জাদু আর ম্যাজিক এক জিনিস নয়। ম্যাজিক হলো একটা কৌশল। জাদু নিষিদ্ধ, ম্যাজিক নয়। -সম্পাদক

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জ্যোতিষী ও গণক-এর শাস্তি

📄 জ্যোতিষী ও গণক-এর শাস্তি


যে ব্যক্তি জিনদের মধ্য থেকে গোয়েন্দা লালন করে, যে তাকে সাধারণ মানুষের অজানা বিভিন্ন খবর জানায়, তাকে জ্যোতিষী বা কাহেন বলা হয়। আর যে ব্যক্তি আন্দায অনুমানের ভিত্তিতে বিভিন্ন খবর জানায় এবং গায়েব বা অদৃশ্য তথ্য জানে বলে দাবি করে, তাকে গণক বলা হয়। ইমাম আবু হানিফার মতে, গণক ও জ্যোতিষী উভয়ে হত্যারযোগ্য। কেননা উমর রা. বলেছেন, "প্রত্যেক জাদুকর ও জ্যোতিষীকে হত্যা কর।" অন্য এক বর্ণনা মতে উমর রা. বলেছেন, "এ দুজন তওবা করলে তাদেরকে হত্যা করোনা।" প্রাচীন হানাফি ফকিহদের মতে, গণক ও জ্যোতিষী যদি বিশ্বাস করে যে, শয়তানেরা তার জন্য যা চায় তাই করতে পারে। তবে তারা কাফের। আর যদি বিশ্বাস করে যে, এসব কল্পনা মাত্র, এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, তাহলে কাফের নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00