📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুসলমান কখন মুরতাদ হয়?

📄 মুসলমান কখন মুরতাদ হয়?


কোনো মুসলমানকে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের আওতা বহির্ভূত ও মুরতাদ বলে রায় দেয়া যাবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তার হৃদয় কুফরীর জন্য উন্মুক্ত হয়ে না যায়, তার মনমস্তিষ্ক প্রশান্তি লাভ না করে এবং কার্যত কুফরিতে প্রবেশ না করে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "যার হৃদয় কুফরির জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, তার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।” আর রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "উদ্দেশ্য দ্বারাই কাজের পরিচিতি। মানুষ মন দিয়ে যা স্থির করে, তাই পায়।" যেহেতু মানুষের মনে যা থাকে, তা গায়েবী বিষয় এবং আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তা জানেন, তাই তার মন যে কুফরিতে লিপ্ত হয়েছে, এমন অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ পাওয়া অপরিহার্য, যার কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ থাকবেনা। এমনকি ইমাম মালেক বলেছেন, “যে ব্যক্তি এমন কিছু বলে বা করে, যা নিরানব্বইটি ব্যাখ্যায় কুফরি সাব্যস্ত হয় এবং মাত্র একটি ব্যাখ্যায় ঈমান সাব্যস্ত হয়, তার ঐ কাজ বা কথাকে ঈমান সাব্যস্ত করা হবে।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুফরি নির্দেশক কতিপয় আলামত

📄 কুফরি নির্দেশক কতিপয় আলামত


১. ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত জিনিসগুলোকে অস্বীকার করা: যেমন আল্লাহর এককত্বকে অর্থাৎ তিনি বিশ্বজগতের স্রষ্টা এই সত্যকে ফেরেশতাদের অস্তিত্বকে, মুহাম্মদ সা. এর নবুয়্যতকে ও শেষ নবী হিসেবে তাঁর পরিচিতিকে, আল্লাহর কাছ থেকে নাযিল হওয়া ওহি হিসেবে কুরআনকে, কেয়ামত ও পরকালকে এবং ফরয হিসেবে নামায রোযা হজ্জ ও যাকাতকে অস্বীকার করা।
২. যেসব হারাম কাজ বা জিনিসের হারাম হওয়ার উপর সমগ্র মুসলিম জাতি একমত, তাকে হালাল মনে করা, যেমন মদ, ব্যভিচার, সুদ, শুকরের গোশত খাওয়া এবং নিরপরাধ লোকদের রক্তপাত ও তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করাকে বৈধ মনে করা। (তবে কেউ যদি বিশেষ ব্যাখ্যা দিয়ে এ ধরনের কোনো কিছুকে বৈধ বলে রায় দেয়, তাকে কুফরী বলা যাবেনা। যেমন খারেজী গোষ্ঠী বিশেষ ব্যাখ্যা দিয়ে সাহাবিদেরকে হত্যা করা ও তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করাকে এবং কুদামা ইবনে মায়উন মদ পান করাকে বৈধ মনে করতো। এতদসত্ত্বেও অধিকাংশ ফকিহ তাদেরকে কাফের নয় বলে রায় দিয়েছেন।)
৩. যেসব জিনিসের হালাল হওয়া সম্পর্কে মুসলমানগণ একমত, তাকে হারাম বলে রায় দেয়া। যেমন পবিত্র ও হালাল জিনিসগুলোকে হারাম বলা।
৪. আল্লাহর নবীদের যে কোনো নবীকে গালাগাল করা বা বিদ্রুপ করা।
৫. ইসলামকে গালি দেয়া, কুরআন বা হাদিসকে কটাক্ষ করা বা নিন্দা করা। কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী বিচার ফায়সালা বর্জন করা এবং মানব রচিত আইনকে কুরআন ও সুন্নাহর উপর অগ্রাধিকার দেয়া।
৬. কারো এই মর্মে দাবি করা যে, তার উপর ওহি নাযিল হয়।
৭. কুরআন শরিফকে ও হাদীসের গ্রন্থাবলীকে অবস্থা ও তাচ্ছিল্য সহকারে বর্জ্য নিক্ষেপের জায়গায় বা আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা।
৮. আল্লাহর কোনো নামকে, তাঁর কোনো আদেশ ও নিষেধকে বা প্রতিপত্তিকে অবজ্ঞা করা ও বিদ্রূপ করা। অবশ্য কেউ সদ্য ইসলাম গ্রহণ করেছে বলে তার বিধি নিষেধ ও সীমানা জানেনা এমন হলে তাকে কাফের বলে ফতোয়া দেয়া যাবেনা। সে যদি এসবের কোনো একটি অবজ্ঞাবশত অস্বীকার করে, তবে তার বিরুদ্ধে কাফের ফতোয়া দেয়ার অবকাশ নেই।
কিছু কিছু বিধি এমন রয়েছে, যার উপর মুসলমানরা একমত, তবে বিশিষ্ট লোকেরা ব্যতীত আর কেউ তা জানেনা। তাই সেগুলোকে যারা অস্বীকার করে, তাদেরকে কাফের বলা যাবেনা। বরঞ্চ অজ্ঞতার কারণে তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে। কেননা সাধারণ মানুষের মধ্যে এর পর্যাপ্ত জ্ঞান বিস্তার লাভ করেনি যেমন এমন মহিলাকে বিয়ে করা হারাম যার খালা বা ফুফু আগে থেকেই স্ত্রী হিসেবে বহাল রয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং দাদী সম্পত্তির এক ষষ্ঠাংশের উত্তরাধিকার হয় ইত্যাদি। তবে মানুষের মনে যেসব কুচিন্তা ও কুপ্ররোচনার উদ্ভব ঘটে, সেগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আল্লাহ ওসব বিষয়ের জন্য মানুষকে দায়ী করেন না। এ সম্পর্কে মুসলিমে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আল্লাহ আমার উম্মতকে সেসব কুচিন্তা ও কুপ্ররোচনার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, যা তার মনে আপনা থেকে উদ্ভূত হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তদনুযায়ী কথা না বলে বা কাজ না করে।" মুসলিমে আবু হুরায়রা রা. থেকে আরো বর্ণিত: "রসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবিদের মধ্য থেকে কয়েকজন তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, হে রসূলুল্লাহ সা., আমাদের মনে মাঝে মাঝে এমন চিন্তা আসে, যা মুখে আনতেও আমাদের ভয় হয়। তিনি বললেন, তোমাদের কি যথার্থই এরূপ অনুভূতি হয়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটাই তো সত্যিকার ঈমান।” (অর্থাৎ সেই চিন্তাকে বিশ্বাসে পরিণত করা তো দূরের কথা, তা মুখে উচ্চারণ করতেও ভয় পাওয়া ঈমানের পূর্ণতার লক্ষণ।) মুসলিমে আবু হুরায়রা রা. থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, বেশি প্রশ্ন করতে করতে এক সময় লোকদের মনে এ প্রশ্নও জাগবে, আচ্ছা, আল্লাহ এসব সৃষ্টি করেছেন, এটা তো বুঝলাম, কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যার মনে এ ধরনের প্রশ্ন জাগবে, সে যেন বলে, আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুরতাদের শাস্তি

📄 মুরতাদের শাস্তি


মুরতাদ হওয়া এমন একটা অপরাধ, যা মুরতাদ হওয়ার পূর্বে কৃত সমস্ত সৎ কাজকে বাতিল করে দেয় এবং আখেরাতে কঠিন আযাব অবধারিত করে। মহান আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَلِدُونَ "যে ব্যক্তি তার দীনকে পরিত্যাগ করে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, দুনিয়া ও আখেরাতে তার সমস্ত কাজ নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তারা দোযখের অধিবাসী হবে। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ২১৭)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইসলাম থেকে কুফরির দিকে ফিরে যাবে, তারপর ঐ অবস্থার উপর বহাল থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত কাফের অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে, সে যত সৎকাজ করেছে, তা বাতিল ও বৃথা হয়ে যাবে এবং ইহকালে তার সুফল থেকে সে বঞ্চিত হবে। কাজেই মুসলমানদের স্বাভাবিক অধিকারসমূহ সে পাবেনা। আর সে আখেরাতের নিয়ামত থেকেও বঞ্চিত হবে। সে চিরস্থায়ীভাবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত হবে। এছাড়া ইসলাম মুরতাদের জন্য দুনিয়ার জীবনেও সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করেছে, যা আখেরাতের অবধারিত যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির অতিরিক্ত। এই শাস্তি হলো, তাকে হত্যা করা হবে। (কোনো মুসলমান তাকে নিজ উদ্যোগে হত্যা করলে সে হত্যার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবেনা। তবে শাসককে ডিঙ্গিয়ে বীরত্ব জাহির করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার দায়ে তাকে অন্য কোনো লঘুতর শাস্তি দিয়ে তাযীর (সর্তককরণ) কার্যকর করা হবে।)
বুখারি ও মুসলিম ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের ধর্মকে পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।" বুখারিতে ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তিনটি কাজের বদলায় ব্যতীত কোনো মুসলমানকে হত্যা করা হালাল নয়, মুসলমান হওয়ার পর কাফের হওয়া, বিয়ে করার পর ব্যভিচার করা এবং বিনা অপরাধে কাউকে হত্যা করা।" দার কুতনি ও বায়হাকিতে জাবের রা. থেকে বর্ণিত, উম্মে মারওয়ান নাম্নী জনৈক মহিলা মুরতাদ হয়ে গেলে রসূলুল্লাহ সা. আদেশ দিলেন যে, তার সামনে ইসলাম পেশ করা হোক, এতে যদি সেস তওবা করে, তাহলে ভালো, নচেত তাকে হত্যা করা হোক। শেষ পর্যন্ত মহিলাটি পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করলো এবং তাকে হত্যা করা হলো।" এটাও সুবিদিত যে, আবু বকর সিদ্দিক রা. আরবে যারা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল তারা ইসলামে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। আলেমদের মধ্যে মুরতাদকে হত্যা করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। কেবল মহিলা মুরতাদ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, মহিলা মুরতাদ হলে তাকে হত্যা করা হবেনা। তবে তাকে বন্দী করা হবে। তারপর প্রতিদিন তাকে বাইরে এনে তার নিকট ইসলাম পেশ করা হবে এবং তাকে তওবা করতে বলা হবে। যতদিন পর্যন্ত সে ইসলামে ফিরে না আসে অথবা মারা না যায়, ততদিন পর্যন্ত এরূপ করা হতে থাকবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. নারীকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।
কিন্তু অন্যান্য ফকিহগণ এই মতের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন, মুরতাদ মহিলার শাস্তি মুরতাদ পুরুষের মতোই। উভয়ের ক্ষেত্রে এ শাস্তি সম্পূর্ণ সমান। কেননা মুরতাদ হওয়ার ফলাফল ও ক্ষয়ক্ষতির দিক দিয়ে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাছাড়া মুয়ায বিন জাবাল বর্ণিত হাদিসে আছে, রসূলুল্লাহ সা. যখন তাকে ইয়ামানে পাঠালেন, বললেন: "যে কোনো পুরুষ যদি ইসলাম ত্যাগ করে, তবে তাকে ইসলামে ফিরে আসার দাওয়াত দাও। যদি ফিরে আসে তবে তো ভালো, নচেত তাকে হত্যা করো। আর যে কোনো মহিলা যদি ইসলাম ত্যাগ করে, তবে তাকে ফিরে আসার আহ্বান জানাও। যদি ফিরে আসে তবে তো ভালো কথা। নচেত তাকে হত্যা করো।" বিতর্কের মীমাংসায় এটি একটি সুস্পষ্ট বাণী। হাফেয বলেছেন, হাদিসটি হাাসন।
বায়হাকি ও দার কুতনি বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে কারফা নাম্নী জনৈক মহিলা ইসলাম গ্রহণ করার পর আবার কাফের হয়ে যায়। আবু বকর রা. তাকে তওবা করার আহ্বান জানালেন। কিন্তু সে তওবা করলো না। ফলে তিনি তাকে হত্যা করলেন।
যে হাদিসে নারীদের হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে, সেটা যুদ্ধাবস্থার বেলায় প্রযোজ্য। কেননা তারা দুর্বল এবং তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনা। এটাই রসূলুল্লাহ সা. কর্তৃক নারীদের হত্যা করতে নিষেধ করার কারণ। এক রেওয়ায়াতে আছে, রসূলুল্লাহ সা. জনৈক নিহত মহিলাকে দেখে বলেছিলেন, "এ তো যুদ্ধ করেনি।" তারপর নারীদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করে দিলেন।
মহিলারা যাবতীয় শাস্তিতে সমভাবে পুরুষের অংশীদার। সেক্ষেত্রে কোথাও কোনো ব্যতিক্রম নেই। কাজেই তার উপর যেমন রজম কার্যকর করা হয়, তেমনি মুরতাদ হওয়ার শাস্তিও কার্যকর করা হবে। কোনো পার্থক্য করা হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুরতাদের মৃত্যুদণ্ডের যৌক্তিকতা

📄 মুরতাদের মৃত্যুদণ্ডের যৌক্তিকতা


ইসলাম একটা পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এতে একদিকে যেমন ধর্মীয় বিধান ও রাষ্ট্রীয় বিধানের সমন্বয় ঘটেছে, তেমনি ইবাদত ও সমর পরিচালনার নীতিমালারও সমাবেশ ঘটেছে। এতে কুরআন ও তরবারির যেমন রয়েছে পাশাপাশি অবস্থান, তেমনি আধ্যাত্মিকতা ও বাস্তবতা এবং ইহকাল ও পরকালের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র। এ জীবন বিধান যুক্তি ও প্রমাণভিত্তিক। এর আকিদা বিশ্বাসে ও আইন কানুনে এমন কিছু নেই, যা মানুষের জন্মগত স্বভাব প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক কিংবা যা তার বস্তুগত ও নৈতিক পূর্ণতা অর্জনে অন্তরায়। যে ব্যক্তি ইসলামকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করে, সে এর প্রকৃত পরিচয় জানে ও স্বাদ পায়। তাই সে যখন ইসলামকে গ্রহণ ও অনুধাবন করার পর তা আবার ত্যাগ করে, সে আসলে সত্য ও যুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, দলিল ও প্রমাণকে অস্বীকার করে এবং সুস্থ বিবেক ও নির্মল স্বভাব প্রকৃতির আওতা বহির্ভূত হয়ে যায়। মানুষ যখন এই পর্যায়ে পৌঁছে, তখন সে অবনতি ও অধোপতনের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। এ ধরনের মানুষের জীবন রক্ষা করা ও তার বেঁচে থাকা নিশ্চিত করার কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা তার জীবনের কোনো উচ্চ লক্ষ্য নেই এবং কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই।
অপরদিকে ইসলাম একটা সর্বব্যাপী জীবনব্যবস্থা ও পূর্ণাঙ্গ মানবীয় আচরণ বিধির ধারক হিসেবে তার একটা নিরাপত্তা ব্যুহ ও সুরক্ষা প্রাচীর থাকা অপরিহার্য। কেননা প্রতিটি বিধান ও ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য তার রক্ষণাবেক্ষণের সুষ্ঠু ও অটুট পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। আর এক্ষেত্রে ঐ ব্যবস্থাকে তার অনুসারীদের মধ্য থেকে সৃষ্ট বিদ্রোহের কবল থেকে মুক্ত করা সবচেয়ে জরুরিও সবচেয়ে শক্তিশালী পন্থা। কেননা বিদ্রোহ তার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি এবং তার পতনের অশনি সংকেত। ইসলাম গ্রহণ ও অনুসরণের পর তা ত্যাগ করা নিঃসন্দেহে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শামিল। আর বিদ্রোহের শাস্তি সর্বকালেই সেই একই শাস্তি, যার উপর মানবরচিত আইনগুলোও একমত। পুঁজিবাদি রাষ্ট্রে হোক বা কম্যুনিস্ট রাষ্ট্রে হোক, কোনো মানুষ যখন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তখন তার সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কিছু নয়। সুতরাং ইসলাম যখন মুরতাদদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করে, তখন সে নিজের সাথেও যৌক্তিক আচরণ করে, অন্যান্য মতাদর্শের সাথেও সমন্বয় রক্ষা করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00