📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হদ আল্লাহ্র হক, না মানুষের হক?

📄 হদ আল্লাহ্র হক, না মানুষের হক?


ইমাম আবু হানিফার মতে অপবাদের শাস্তি বা 'হদ্দুল কাযাফ' আল্লাহর হক। এর অর্থ দাঁড়ায়, শাসকের গোচারিভূত হলে তা কার্যকর করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যায়, চাই অপবাদের শিকার ব্যক্তি তার শাস্তির দাবি করুক বা না করুক। সে ক্ষমা করলেও শাস্তি রহিত হবেনা। অপবাদ আরোপকারী তওবা করলে তা তার আখেরাতে উপকারে আসবে এবং এ উপকার আল্লাহ ও তার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর ব্যভিচারের মতো অপবাদের শাস্তিও গোলাম বাদীর জন্য অর্ধেক হবে। পক্ষান্তরে ইমাম শাফেয়ির মতে এটা মানুষের হক। তাই অপবাদের শিকার ব্যক্তি শাস্তি দাবি না করলে শাসক তা কার্যকর করতে পারেনা। অপবাদের শিকার ব্যক্তি মাফ করে দিলে শাস্তি রহিত হবে, মাফ না করলে তার উত্তরাধিকারীরা এর দাবি জানাতে পারবে, আর উত্তরাধিকারী মাফ করলে রহিত হয়ে যাবে। অপবাদের শিকার ব্যক্তি ক্ষমা না করলে অপবাদ আরোপকারীর তওবায় কোনো লাভ হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপবাদের শাস্তি কখন রহিত হয়

📄 অপবাদের শাস্তি কখন রহিত হয়


অপবাদ আরোপকারী চারজন সাক্ষী আনতে পারলে অপবাদের শাস্তি রহিত হবে। কেননা সাক্ষীরা সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করে যে, সে এমন কোনো মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেনি, যার জন্য তার শাস্তি প্রাপ্য হবে। তারা বরঞ্চ তাদের সাক্ষ্য দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হয়েছে এটাই প্রমাণ করে। তাই এক্ষেত্রে অভিযুক্তের উপর ব্যভিচারের হদ কার্যকর হবে। কেননা তার ব্যভিচার প্রমাণিত। অভিযুক্ত যদি তার ব্যভিচারের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে, তাহলেও অপবাদের শাস্তি রহিত হবে। স্ত্রী যদি স্বামীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে স্ত্রীর উপর হদ কার্যকর করা হবে। পক্ষান্তরে স্বামী যদি স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় এবং সাক্ষী উপস্থিত না করে, তাহলে স্বামীর উপর অপবাদের শাস্তি প্রযোজ্য হবেনা। বরং স্বামী ও স্ত্রীকে 'লিয়ান' করানো হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00