📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দলীয় পর্যায়ে অপবাদ আরোপ

📄 দলীয় পর্যায়ে অপবাদ আরোপ


কোনো অপবাদ আরোপকারী যখন এক দল লোককে ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত করে, তখন তার সম্পর্কে ফকিহদের তিন রকমের মতামত রয়েছে:
১. প্রথম মত: তার উপর একটি হদই কার্যকর করা হবে। এ মতটি ইমাম আবু হানিফা, মালেক, আহমদ ও সাওরির।
২. দ্বিতীয় মত: প্রত্যেক অপবাদের জন্য তার উপর একটি করে হদ কার্যকর করতে হবে। এ মতটি শাফেয়ির।
৩. তৃতীয় মত: সে যদি সবাইকে একই শব্দ দ্বারা অপবাদ দেয় যেমন বলে, “হে ব্যভিচারীর দল", তাহলে তার উপর একটি মাত্র হদ কার্যকর করা হবে। আর যদি প্রত্যেককে "হে ব্যভিচারী" বলে পৃথক পৃথকভাবে অপবাদ আরোপ করে, তাহলে যতজনকে সে একথা বলেছে, ততবার তার উর হদ কার্যকর করা হবে।
ইবনে রুশদ বলেছেন: একটি দলের প্রতি অপবাদ আরোপাকারীদের উপর একটি মাত্র হদ কার্যকরী করার স্বপক্ষে সর্বোত্তম প্রমাণ হলো আনাস রা. এর বর্ণিত হাদিস। আনাস রা. বর্ণনা করেছেন, হিলাল ইবনে উমাইয়া তার স্ত্রীকে শুরাইক বিন সামহার সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছিলেন। তৎক্ষণাত বিষয়টি রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে 'লিয়ান' (অভিশাপের আদান প্রদান) করালেন। কিন্তু শুরাইককে ব্যভিচারের শাস্তি দিলেননা। কেউ যখন নিজের স্ত্রীকে অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তখন এটাই সর্বসম্মত কর্মপন্থা। আর ফকিহদের মধ্যে যারা মনে করেন যে প্রত্যেকের জন্যই 'হদ' কার্যকর করতে হবে, তাদের সর্বাপেক্ষা জোরদার যুক্তি এই যে, এটা হচ্ছে মানুষের হক। তাই যারা অপবাদের শিকার হয়েছে, তাদের কেউ কেউ যদি ক্ষমা করে দেয় এবং সবাই ক্ষমা না করে, তাহলে 'হদ' রহিত হবেনা, আর যারা এক শব্দে অপবাদ দেয়া ও একাধিক শব্দে অপবাদ দেয়ার মধ্যে পার্থক্য করেন এবং যারা একই বৈঠকে অপবাদ দেয়া ও একাধিক বৈঠকে অপবাদ দেয়ার মধ্যে পার্থক্য করেন, তাদের যুক্তি এই যে, অপবাদ সংখ্যায় যে ক'টি হবে, 'হদ'ও সেই ক'টি হবে। কারণ অপবাদের শিকারের সংখ্যাটি ও অপবাদের সংখ্যাধিক্য যখন একত্রিত হবে, তখন হদের সংখ্যা একাধিক হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হদ আল্লাহ্র হক, না মানুষের হক?

📄 হদ আল্লাহ্র হক, না মানুষের হক?


ইমাম আবু হানিফার মতে অপবাদের শাস্তি বা 'হদ্দুল কাযাফ' আল্লাহর হক। এর অর্থ দাঁড়ায়, শাসকের গোচারিভূত হলে তা কার্যকর করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যায়, চাই অপবাদের শিকার ব্যক্তি তার শাস্তির দাবি করুক বা না করুক। সে ক্ষমা করলেও শাস্তি রহিত হবেনা। অপবাদ আরোপকারী তওবা করলে তা তার আখেরাতে উপকারে আসবে এবং এ উপকার আল্লাহ ও তার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর ব্যভিচারের মতো অপবাদের শাস্তিও গোলাম বাদীর জন্য অর্ধেক হবে। পক্ষান্তরে ইমাম শাফেয়ির মতে এটা মানুষের হক। তাই অপবাদের শিকার ব্যক্তি শাস্তি দাবি না করলে শাসক তা কার্যকর করতে পারেনা। অপবাদের শিকার ব্যক্তি মাফ করে দিলে শাস্তি রহিত হবে, মাফ না করলে তার উত্তরাধিকারীরা এর দাবি জানাতে পারবে, আর উত্তরাধিকারী মাফ করলে রহিত হয়ে যাবে। অপবাদের শিকার ব্যক্তি ক্ষমা না করলে অপবাদ আরোপকারীর তওবায় কোনো লাভ হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপবাদের শাস্তি কখন রহিত হয়

📄 অপবাদের শাস্তি কখন রহিত হয়


অপবাদ আরোপকারী চারজন সাক্ষী আনতে পারলে অপবাদের শাস্তি রহিত হবে। কেননা সাক্ষীরা সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করে যে, সে এমন কোনো মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেনি, যার জন্য তার শাস্তি প্রাপ্য হবে। তারা বরঞ্চ তাদের সাক্ষ্য দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হয়েছে এটাই প্রমাণ করে। তাই এক্ষেত্রে অভিযুক্তের উপর ব্যভিচারের হদ কার্যকর হবে। কেননা তার ব্যভিচার প্রমাণিত। অভিযুক্ত যদি তার ব্যভিচারের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে, তাহলেও অপবাদের শাস্তি রহিত হবে। স্ত্রী যদি স্বামীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে স্ত্রীর উপর হদ কার্যকর করা হবে। পক্ষান্তরে স্বামী যদি স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় এবং সাক্ষী উপস্থিত না করে, তাহলে স্বামীর উপর অপবাদের শাস্তি প্রযোজ্য হবেনা। বরং স্বামী ও স্ত্রীকে 'লিয়ান' করানো হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00