📄 তওবা কিভাবে করবে
উমর রা. বলেছেন: অপবাদ আরোপকারীর তওবা তখনই গ্রহণযোগ্য হবে। যখন সে শাস্তিযোগ্য নয়, এমন অপবাদে নিজেকে মিথ্যুক বলে স্বীকার করবে।
মুগিরার বিরুদ্ধে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদেরকে তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজেকে মিথ্যুক বলে স্বীকার করবে, তাকে ভবিষ্যতে সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি দেবো। আর যে তা না করবে তাকেও সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি দেবো। শিবল বিন মা'বাদ ও নাফে ইবনুল হারেস নিজেদেরকে মিথ্যুক বলে স্বীকার করলো এবং তওবা করলো। আর আবু বকর সেটা করলো না। ফলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হতো। এটাই শাফেয়ি মাযহাবের অনুসৃত মত এবং মদিনাবাসীরও মত। আলেমদের অন্য একটি দল বলেছেন: নিজেকে মিথ্যুক বলে স্বীকার না করলেও চলবে। কেবল নিজেকে সংশোধন, নিজের কার্যকলাপ পরিবর্তন। মিথ্যা অপবাদ আরোপের জন্য অনুতাপ, ক্ষমা প্রার্থনা ও ঐ অন্যায় কাজটির আর কখনো পুনরাবৃত্তি না করাই যথেষ্ট এবং এভাবেই তাকে তওবা করতে হবে। এটা ইমাম মালেক ও ইবনে জরীরেরও মত।
📄 পিতামাতা কর্তৃক সন্তানের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ
আবুস্ সাওর ও ইবনুল মুনযির বলেছেন: পিতা বা মাতা যদি তার ছেলের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করে, তাহলে কুরআনের প্রত্যক্ষ উক্তির আলোকে তার উপরও হদ্ কার্যকর করা হবে। কেননা অপবাদ আরোপকারীদের মধ্যে ভেদাভেদ করার কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু হানাফি ও শাফেয়িদের মতে হল্ কার্যকর করা হবেনা। কেননা অপবাদ আরোপকারী যার প্রতি অপবাদ আরোপ করা হয়েছে তার পিতা বা মাতা না হওয়া শর্ত। এর কারণ হলো, পিতা বা মাতা সন্তানকে খুন করলে তার বদলায় তাকে খুন করা হয়না। সুতরাং খুনের চেয়ে অনেক ছোট অপরাধ হওয়ায় অপবাদের জন্য তার উপর হল্ কার্যকর না করা অধিকতর সমীচীন। তবে তারা এই পিতা বা মাতাকে তাযীর করার পক্ষে। কেননা অপবাদ একটা কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর কাজ।
📄 একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারংবার অপবাদ আরোপ
যখন কেউ একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার অপবাদ আরোপ করে এবং একটির জন্যও তার উপর হদ কার্যকর করা হয়নি, তখন তার উপর একটা হদই কার্যকর করা হবে। আর যদি একবার হদ কার্যকর করার পরও সে পুনরায় অপবাদ আরোপ করে, তাহলে দ্বিতীয়বার তার উপর হদ কার্যকর করা হবে। আর যদি দ্বিতীয়বার হদ কার্যকর করার পর পুনরায় অপবাদ আরোপ করে, তাহলে তার উপর তৃতীয়বার হদ কার্যকর করা হবে। এভাবেই অপবাদ আরোপকারীকে প্রত্যেক অপবাদের জন্য শাস্তি দেয়া হবে।
📄 দলীয় পর্যায়ে অপবাদ আরোপ
কোনো অপবাদ আরোপকারী যখন এক দল লোককে ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত করে, তখন তার সম্পর্কে ফকিহদের তিন রকমের মতামত রয়েছে:
১. প্রথম মত: তার উপর একটি হদই কার্যকর করা হবে। এ মতটি ইমাম আবু হানিফা, মালেক, আহমদ ও সাওরির।
২. দ্বিতীয় মত: প্রত্যেক অপবাদের জন্য তার উপর একটি করে হদ কার্যকর করতে হবে। এ মতটি শাফেয়ির।
৩. তৃতীয় মত: সে যদি সবাইকে একই শব্দ দ্বারা অপবাদ দেয় যেমন বলে, “হে ব্যভিচারীর দল", তাহলে তার উপর একটি মাত্র হদ কার্যকর করা হবে। আর যদি প্রত্যেককে "হে ব্যভিচারী" বলে পৃথক পৃথকভাবে অপবাদ আরোপ করে, তাহলে যতজনকে সে একথা বলেছে, ততবার তার উর হদ কার্যকর করা হবে।
ইবনে রুশদ বলেছেন: একটি দলের প্রতি অপবাদ আরোপাকারীদের উপর একটি মাত্র হদ কার্যকরী করার স্বপক্ষে সর্বোত্তম প্রমাণ হলো আনাস রা. এর বর্ণিত হাদিস। আনাস রা. বর্ণনা করেছেন, হিলাল ইবনে উমাইয়া তার স্ত্রীকে শুরাইক বিন সামহার সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছিলেন। তৎক্ষণাত বিষয়টি রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে 'লিয়ান' (অভিশাপের আদান প্রদান) করালেন। কিন্তু শুরাইককে ব্যভিচারের শাস্তি দিলেননা। কেউ যখন নিজের স্ত্রীকে অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তখন এটাই সর্বসম্মত কর্মপন্থা। আর ফকিহদের মধ্যে যারা মনে করেন যে প্রত্যেকের জন্যই 'হদ' কার্যকর করতে হবে, তাদের সর্বাপেক্ষা জোরদার যুক্তি এই যে, এটা হচ্ছে মানুষের হক। তাই যারা অপবাদের শিকার হয়েছে, তাদের কেউ কেউ যদি ক্ষমা করে দেয় এবং সবাই ক্ষমা না করে, তাহলে 'হদ' রহিত হবেনা, আর যারা এক শব্দে অপবাদ দেয়া ও একাধিক শব্দে অপবাদ দেয়ার মধ্যে পার্থক্য করেন এবং যারা একই বৈঠকে অপবাদ দেয়া ও একাধিক বৈঠকে অপবাদ দেয়ার মধ্যে পার্থক্য করেন, তাদের যুক্তি এই যে, অপবাদ সংখ্যায় যে ক'টি হবে, 'হদ'ও সেই ক'টি হবে। কারণ অপবাদের শিকারের সংখ্যাটি ও অপবাদের সংখ্যাধিক্য যখন একত্রিত হবে, তখন হদের সংখ্যা একাধিক হবে।