📄 চুল সংগম
যখন কোনো পুরুষের বাসর ঘরে তার স্ত্রী ব্যতীত অন্য কাউকে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং তাকে বলা হয়, "এই যে তোমার স্ত্রী" অথবা সে নিজের বিছানায় কোনো মহিলাকে পায়, যাকে সে নিজের স্ত্রী ভেবে সহবাস করে, অথবা নিজের স্ত্রীকে ডাকলো, কিন্তু অন্য কেউ এলো এবং সে ভাবলো, সে-ই তার স্ত্রী, অতপর তার সাথে সহবাস করলো, তখন এই লোকটির উপর কোনো হদ প্রযোজ্য হবেনা। এভাবে বৈধ ভেবে ভুলক্রমে কৃত যে কোনো অবৈধ সহবাসের জন্য কোনো হদ প্রযোজ্য হবেনা। কিন্তু অবৈধ সহবাসে ভুল করলেও হদ প্রযোজ্য হবে। যেমন কোনো মহিলাকে নিষিদ্ধ জেনেও তাকে আহ্বান করার পর অন্য মহিলা এলো এবং তাকে কাঙ্ক্ষিত মহিলাকে ভেবে সহবাস করলো। এ ক্ষেত্রে সহবাসকারীর উপর হদ প্রযোজ্য হবে। আর যদি সে কোনো নিষিদ্ধ মহিলাকে আহ্বান করার পর তার স্ত্রী আসে এবং তাকে কাঙ্ক্ষিত নিষিদ্ধ মহিলা ভেবে সহবাস করে, তবে হদ প্রযোজ্য হবেনা, যদিও তার ধারণার জন্য তার গুনাহ হবে।
📄 কুমারিত্ব বহাল থাকা
কোনো মহিলার বিরুদ্ধে যখন চার ব্যক্তি ব্যভিচারের সাক্ষ্য দেয় এবং কিছু সংখ্যক বিশ্বস্ত মহিলা সাক্ষ্য দেয় যে, ঐ মহিলা এখনো কুমারী, তখন ঐ মহিলার উপর হদ কার্যকর করা হবেনা। কেননা অভিযোগটি সন্দেহযুক্ত হয়ে পড়েছে। এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষীদের উপরও মিথ্যা অপবাদের শাস্তি প্রযোজ্য হবেনা। মতটি আবু হানিফার, শাফেয়ির, আহমদের ও যায়দি শীয়াদের।
📄 মৃতদেহ যুক্ত বিয়েতে সহবাস
যে বিয়ের বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, সে বিয়েতে সহবাসের জন্য কোনো হদ প্রযোজ্য হবেনা, যেমন মুতয়া বিয়ে, শিগার বিয়ে, হিল্লা বিয়ে, গুলি ও সাক্ষীবিহীন বিয়ে, বায়েন তালাকের ইদ্দতকালে স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করা এবং চতুর্থ স্ত্রী বায়েন তালাকপ্রাপ্ত হয়ে ইদ্দত পালনরত থাকা অবস্থায় পঞ্চম বিয়ে করা। কেননা এই বিয়েগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে, তা সহবাসের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে। আর সন্দেহের কারণে হদ রহিত করে। তবে যাহেরি মাযহাব মতে, এ ক্ষেত্রে হদ প্রযোজ্য। কেননা অশুদ্ধ বিয়ের ভিত্তিতে সংঘটিত প্রত্যেক সহবাসে তারা হদ প্রযোজ্য মনে করেন।
📄 বাড়ির বিয়েতে সহবাস
যে বিয়ের বাতিল হওয়া সম্পর্কে ঐক্যমত রয়েছে যেমন চার স্ত্রী বহাল থাকা অবস্থায় পঞ্চম বিয়ে, বিবাহিত ও ইদ্দত পালনরত মহিলার বিয়ে, তিন তালাকপ্রাপ্ত মহিলার অন্যত্র বিয়ে ছাড়াই বিয়ে করা। এসব বিয়েতে সহবাস করা হলে তা ব্যভিচার গণ্য হবে এবং হদ প্রযোজ্য হবে। আকদ থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য হবেনা।