📄 পশুর সাথে ব্যভিচার
পশুর সাথে সহবাস হারাম হওয়ার ব্যাপারেও আলেমগণ একমত। তবে অপরাধীর শাস্তি নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। জাবের বিন যায়দ থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি পশুর সাথে সহবাস করবে, তার উপর 'হদ' কার্যকর করা হবে। আলি রা. বলেছেন: সে বিবাহিত হলে তাকে রজম করা হবে। হাসান বলেছেন: এ কাজ ব্যভিচারের শামিল। আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ি, মুয়াইয়িদ বিল্লাহ, নাসের ও ইমাম ইয়াহিয়ার মতে, পশুর সাথে সহবাসের জন্য তাযীর করা যথেষ্ট এবং ওয়াজিব। কেননা এটা ব্যভিচার নয়। অন্য বর্ণনা অনুসারে ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: তাকে হত্যা করা হবে। কেননা আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিযি ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : “যে ব্যক্তি কোনো পশুর সাথে সহবাস করবে, তাকে ও উক্ত পশুকে হত্যা করো।"
ইবনে আব্বাস থেকে ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : “যে ব্যক্তি কোনো মুহাররম (চির নিষিদ্ধ) নারীর সাথে ব্যভিচার করবে, তাকে হত্যা করো, যে ব্যক্তি কোনো পশুর সাথে সহবাস করবে, তাকে হত্যা করো।"
ইমাম শওকানি বলেছেন : “এ হাদিস দ্বারা পশুকে হত্যা করা উচিত এটা প্রমাণিত হয়। এর কারণ সম্পকে আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেন : ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, পশুটার অপরাধ কী? তিনি বলেন : “আমার মনে হয়না, রসূলুল্লাহ সা. একথা বলেছেন। তবে এ পশুর গোশত খাওয়া যে মাকরূহ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা তার সাথে সেই জঘন্য কাজটি করা হয়েছে।”
আলী রা. ও ইমাম শাফেয়ির মতে, ধর্ষিত পশুর গোশত খাওয়া হারাম এবং তাকে যবাই করা হবে। কাসেমি, অন্য বর্ণনা মোতাবেক শাফেয়ি, আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ এ পশুর গোশত খাওয়া মাকরূহ তানযিহি বলেছেন। বাহরের লেখক বলেছেন : পশুটি যদি নিষিদ্ধও হয়ে থাকে, তবু তাকে হত্যা করে ফেলতে হবে যাতে তার পেটে কোনো বিকৃত শাবক না জন্মে। কেননা কথিত আছে, জনৈক রাখাল একটি পশুকে ধর্ষণ করার ফলে তার পেটে বিকৃত শাবক জন্মেছিল।
📄 ধর্ষণ বা বলাৎকার
যখন কোনো নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ তথা ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়, তখন সেই নারীর উপর কোনো 'হদ' কার্যকর করা হবেনা। কেননা আল্লাহ সূরা বাকারার ১৭৩ নং আয়াতে বলেন : “যে ব্যক্তি অনন্যোপায়, কিন্তু নাফরমান কিংবা সীমা লঙ্ঘনকারী নয়, তার কোনো পাপ পাপ নাই।” আর রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : “আমার উম্মতের উপর থেকে ভুলক্রমে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ও বাধ্য হয়ে কৃত যাবতীয় কাজের দায় রহিত করা হয়েছে।” রসূলুল্লাহ সা.-এর আমলে জনৈক মহিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়েছিল, তাই তিনি তার হদ রহিত করেছিলেন।
ব্যভিচারে বাধ্য করা দু'ভাবে হতে পারে : শারীরিকভাবে নারীর উপর চড়াও হয়ে জোরপূর্বক সংগম করা তথা ধর্ষণ করা, আর নারীকে ভয় দেখিয়ে তাকে সম্মত করে সংগম করা। এই দুটোই সমান এবং বলাৎকারের পর্যায়ে পড়ে। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনোই মতভেদ নেই। মতভেদ হয়েছে শুধু ব্যভিচারে বাধ্যকৃত নারীকে মহর দেয়া লাগবে কিনা তাই নিয়ে। ইমাম মালেক ও শাফেয়ির মতে মহর দেয়া লাগবে। ইমাম মালেক মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ান (উমাইয়া শাসক) জনৈক ধর্ষিত মহিলাকে মহর দিতে ধর্ষণকারীকে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা বলেছেন : ঐ মহিলা কোনো মহর পাবেনা। 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ' গ্রন্থে বলা হয়েছে : মতভেদের মূল কারণ হলো, মহর কি শুধু যৌন সংগমের বিনিময়, না স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দান, এই বিষয় নিয়ে মতভেদ। যারা বলে, এটা শুধু যৌন সংগমের বিনিময়, তাদের দৃষ্টিতে মহর হালাল সঙ্গম ও হারাম সঙ্গম উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর যারা বলেন, এটা শুধু স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দান, যা আল্লাহ শুধু বিবাহিত দম্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তাদের দৃষ্টিতে এটি ব্যভিচারীর উপর ওয়াজিব নয়। তবে এ বিষয়ে আবু হানিফার মতই সঠিক।
📄 চুল সংগম
যখন কোনো পুরুষের বাসর ঘরে তার স্ত্রী ব্যতীত অন্য কাউকে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং তাকে বলা হয়, "এই যে তোমার স্ত্রী" অথবা সে নিজের বিছানায় কোনো মহিলাকে পায়, যাকে সে নিজের স্ত্রী ভেবে সহবাস করে, অথবা নিজের স্ত্রীকে ডাকলো, কিন্তু অন্য কেউ এলো এবং সে ভাবলো, সে-ই তার স্ত্রী, অতপর তার সাথে সহবাস করলো, তখন এই লোকটির উপর কোনো হদ প্রযোজ্য হবেনা। এভাবে বৈধ ভেবে ভুলক্রমে কৃত যে কোনো অবৈধ সহবাসের জন্য কোনো হদ প্রযোজ্য হবেনা। কিন্তু অবৈধ সহবাসে ভুল করলেও হদ প্রযোজ্য হবে। যেমন কোনো মহিলাকে নিষিদ্ধ জেনেও তাকে আহ্বান করার পর অন্য মহিলা এলো এবং তাকে কাঙ্ক্ষিত মহিলাকে ভেবে সহবাস করলো। এ ক্ষেত্রে সহবাসকারীর উপর হদ প্রযোজ্য হবে। আর যদি সে কোনো নিষিদ্ধ মহিলাকে আহ্বান করার পর তার স্ত্রী আসে এবং তাকে কাঙ্ক্ষিত নিষিদ্ধ মহিলা ভেবে সহবাস করে, তবে হদ প্রযোজ্য হবেনা, যদিও তার ধারণার জন্য তার গুনাহ হবে।
📄 কুমারিত্ব বহাল থাকা
কোনো মহিলার বিরুদ্ধে যখন চার ব্যক্তি ব্যভিচারের সাক্ষ্য দেয় এবং কিছু সংখ্যক বিশ্বস্ত মহিলা সাক্ষ্য দেয় যে, ঐ মহিলা এখনো কুমারী, তখন ঐ মহিলার উপর হদ কার্যকর করা হবেনা। কেননা অভিযোগটি সন্দেহযুক্ত হয়ে পড়েছে। এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষীদের উপরও মিথ্যা অপবাদের শাস্তি প্রযোজ্য হবেনা। মতটি আবু হানিফার, শাফেয়ির, আহমদের ও যায়দি শীয়াদের।