📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে প্রহারের নিয়ম

📄 বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে প্রহারের নিয়ম


আবু হানিফা ও শাফেয়ির মতে মুখমণ্ডল ও লজ্জাস্থান ব্যতীত সমুদয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে প্রহারের আওতায় আনা হবে। আবু হানিফার মতে, মাথাও বাদ দেয়া হবে। ইমাম মালেক বলেন: সকল হদের প্রহারে পুরুষ অপরাধীর প্রহারাধীন অঙ্গ থেকে পোশাক খুলে নিতে হবে। শাফেয়ি ও আবু হানিফার মতে, অপবাদের শাস্তি ছাড়া অন্যান্য শাস্তিতে পোশাক খোলা হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদে বলা হয়েছে: বসিয়ে প্রহার করা হবে, দাঁড় করিয়ে নয়। ইমাম নববী বলেছেন: যে বেত দিয়ে প্রহার করা হবে তা মধ্যম আকারের হতে হবে। ছড়ি ও লাঠির মধ্যবর্তী আকারের হতে হবে। গাছের ডাল দিয়ে প্রহার করলে ডাল কাঁচা ও শুকনার মাঝামাঝি ধরনের হওয়া চাই। আর প্রহারও হওয়া চাই দুই চরম ধরনের প্রহারের মধ্যবর্তী ধরনের- অতি জোরদারও নয়, অতি হালকাও নয়। প্রহারকারী নিজের হাত মাথার উপর পর্যন্ত তুলবেনা, আবার শুধু চাবুকটা অপরাধীর গায়ের উপর রেখে দিয়েই ক্ষান্ত হবেনা, বরঞ্চ তার বাহু মধ্যম পরিমাণ উপরে তুলবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অবিবাহিত ব্যক্তিকে অবকাশ দান

📄 অবিবাহিত ব্যক্তিকে অবকাশ দান


অবিবাহিত মহিলাকে শীত ও গ্রীষ্মের প্রবলতা হ্রাস পাওয়া পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হবে। যে রুগ্ন অপরাধীর রোগ নিরাময়ের আশা আছে, তাকেও নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হবে। কিন্তু যদি নিরাময়ের আশা না থাকে, তাহলে শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী তাকে খেজুর গাছের ডাল দিয়ে তার সহনীয় মাত্রায় প্রহার করবে। আবু দাউদ আনসারের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, সে দীর্ঘ রোগে ভুগে একেবারেই হাড্ডিসার হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় অন্য এক আনসারীর যুবতী দাসী তার কক্ষে এলে সে খুব পুলকিত হলো এবং তাকে ধর্ষণ করলো। পরে যখন তার গোত্রের লোকেরা তাকে দেখতে এলো, তখন তাদেরকে সে এই ঘটনা জানালো এবং বললো, তোমরা আমার সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করো। কারণ জনৈকা দাসী আমার কক্ষে এলে আমি তার সাথে ব্যভিচার করেছি। লোকেরা ঘটনাটা রসূলুল্লাহ সা. কে জানালো। তারা বললো: তার মতো রোগক্লিষ্ট মানুষ আমরা আর দেখিনি। তাকে যদি আমরা আপনার নিকট নিয়ে আসতাম, তবে তার হাড্ডিগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যেতো। তার শরীরে চামড়া আর হাড্ডি ছাড়া আর কিছু নেই। তখন রসূলুল্লাহ সা. গাছের একশোটা চিকন ও নরম ডাল সংগ্রহ করে তা দিয়ে তাকে একবার প্রহার করার আদেশ দিলেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বেত্রাঘাতের ফলে অপরাধী মারা গেলে দিয়ত দিতে হবে কি

📄 বেত্রাঘাতের ফলে অপরাধী মারা গেলে দিয়ত দিতে হবে কি


বেত্রাঘাত প্রাপ্ত অপরাধী (প্রহার সহ্য করতে না পেরে) মারা গেলে তার জন্য কোনো দিয়ত রক্তমূল্য দেয়া লাগবেনা। মুসলিমের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন: "আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত, যার উপর হদ ওয়াজিব হয়েছে, অতপর শাসক বা তার নিযুক্ত প্রতিনিধি তার উপর শরয়ি 'হদ' কার্যকর করার দরুন মারা গেলো, তার জন্য শাসক বা প্রতিনিধির উপর কোনো দিয়ত আরোপিত হবেনা। বাইতুল মাল থেকেও দিয়ত দেয়া লাগবেনা।
এ পর্যন্ত ব্যভিচারের বিধান আলোচিত হলো। আরো কয়েকটা অপরাধের বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। এবার সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছি:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পুরুষকে সমকাম বা পুং মৈথুন

📄 পুরুষকে সমকাম বা পুং মৈথুন


পুরুষে পুরুষে সমকাম অতি জঘন্য অপরাধ। এটা এমন একটা অশ্লীল কাজ, যা শুধু চরিত্রই ধ্বংস করেনা, বরং স্বভাব প্রকৃতি, ধর্ম, দুনিয়া ও গোটা জীবনকেই ধ্বংস করে। আল্লাহ এর জন্য নিষ্ঠুরতম শাস্তি দিয়েছেন। দূত আ. এর জাতিকে গোটা দেশ ধ্বসিয়ে দিয়ে এবং তাদের উপর আকাশ থেকে কংকর জাতীয় পাথর বর্ষণ করে ধ্বংস করে দিয়ে তাদের এই নিকৃষ্ট নোংরা অপরাধের শাস্তি দিয়েছিলেন। আর এই ঘটনাকে পবিত্র কুরআনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাতে তা কেয়ামত পর্যন্ত পঠিত হতে থাকে ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা হতে থাকে। সূরা আ'রাফের ৮০ থেকে ৮৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন: وَلُوْطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنَ الْعَلَمِينَ الْكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَمْوَةٌ مِّنْ دُونِ النِّسَاءِ مَا بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوهُمْ مِنْ قَرْيَتِكُمْ : إِنَّهُمْ أَنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ فَانْجَيْنَهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْعَبِرِينَ وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا ۖ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ অর্থ: আমি দূতকে পাঠিয়েছিলাম, সে তার জাতিকে বলেছিল, 'তোমরা এমন কুকর্ম করছো, যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি। তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষের নিকট গমন করো, তোমরা তো সীমালজ্জনকারী সম্প্রদায়। উত্তরে তার জাতির লোকেরা শুধু বললো: এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বহিষ্কৃত করো, এরা তো এমন লোক যারা অতি পবিত্র হতে চায়।' অতপর আমি তাকে ও তার স্ত্রী ব্যতীত পরিজনবর্গকে উদ্ধার করেছিলাম, তার স্ত্রী ছিলো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল তা লক্ষ্য করো।"
সূরা হূদের ৭৭ থেকে ৮২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন: وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوْطًا سِيَّ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَذَا يَوْمٌ عَصِيْبٌ وَجَاءَهُ قَوْمَهُ يُهْرَعُوْنَ إِلَيْهِ ، وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّاتِ طَ قَالَ يُقَوْمِ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِي طَ أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رَّشِيدٌ طَ قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنْتِكَ مِنْ حَقَّ : وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا تُرِيدُهُ قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةٌ أَوْ أُوِى إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٌ طَ قَالُوا يَلُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يُصِلُوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ وَ إِنَّهُ مُصِيْبُهَا مَا أَصَابَهُمْ ، إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ ، أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سَعِيلٍ مَنْضُودٍ مُسَوَّمَةٌ عِنْدَ رَبِّكَ طَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّلِمِينَ بِبَعِيدِ অর্থ: যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ দূতের নিকট এলো যখন তাদের আগমনে সে বিষণ্ণ হলো এবং নিজেকে তাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করলো। তারা বললো, এটা একটা নিদারুণ দিন। তার সম্প্রদায় তার নিকট উদভ্রান্ত হয়ে ছুটে এলো এবং তারা আগে থেকেই কুকর্মে লিপ্ত ছিলো। সে বললো, হে আমার সম্প্রদায়, এরা আমার কন্যা, এদের বিয়ে করো তোমাদের জন্য এরা অধিকতর পবিত্র। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার মেহমানদের প্রতি অন্যায় আচরণ করে আমাকে হেয় করোনা। তোমাদের মধ্যে কি একজনও ভালো মানুষ নেই? তারা বললো: তুমি তো জানো, তোমার কন্যাদেরকে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা কি চাই তা তো তুমি জানোই। সে বললো: 'তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকতো অথবা যদি আমি কোনো শক্তিশালী আশ্রয় নিতে পারতাম!' তারা বললো, হে দূত, আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত ফিরিশতা। ওরা কখনো তোমার নিকট পৌঁছুতে পারবেনা। সুতরাং তুমি রাতের কোনো এক সময়ে তোমার পরিবারবর্গসহ বেরিয়ে পড়ো এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন পেছনের দিকে না তাকায় তোমার স্ত্রী ব্যতীত। তাদের যা ঘটবে, তারও তাই ঘটবে। প্রভাত হচ্ছে তাদের জন্য নির্ধারিত সময়। প্রভাত কি নিকটবর্তী নয়? অতপর যখন আমার আদেশ এলো তখন আমি গোটা জনপদকে উল্টিয়ে দিলাম এবং তাদের উপর ক্রমাগত পাথর কংকর বর্ষণ করলাম, যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিলো। এটা যালিমদের থেকে দূরে নয়।"
রসূলুল্লাহ সা. সমকামীকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন এবং তাকে অভিশাপ দিয়েছেন। আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যখন তোমরা কাউকে লূত আ.-এর সম্প্রদায়ের কুকর্মে লিপ্ত পাবে, তখন যে ব্যক্তি একাজ করে এবং যার সাথে করে, উভয়কে হত্যা করবে।" নাসায়ীর ভাষা হলো: যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের কুকর্মে লিপ্ত হয় আল্লাহ তার উপর অভিসম্পাত বর্ষণ করেন। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের কুকর্মে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তার উপর অভিসম্পাত করান। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের কুকর্ম করে, আল্লাহ তার উপর অভিসম্পাত করান।"
ইমাম শওকানি বলেন: এই জঘন্য অপরাধ যারা করে, তারা এমন শাস্তির উপযুক্ত, যা সকলের জন্য দৃষ্টান্ত ও শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে, তাদেরকে এমন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা উচিত যা খোদাদ্রোহী ফাসেকদের কামাবেগকে দমন করবে। কুরআনের ভাষায় এটি এমন একটি অশ্লীল কাজ, যা দূতের জাতির পূর্বে পৃথিবীতে আর কেউ করেনি। তাই এদের কুকর্ম যে করে, তার শাস্তিও হওয়া উচিত দূতের জাতির শাস্তির মতোই কঠোর ও ভয়ঙ্কর। আল্লাহ তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দিয়েছেন। সেই শাস্তিতে তাদের সকলেই সমূলে ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসলাম এই অপরাধের শাস্তিকে এতো কঠিন ও ভয়াবহ করেছে শুধু এজন্য যে, ব্যক্তি ও সমাজের উপর এর খারাপ প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত মারাত্মক এবং বিপুল। "ইসলাম ও চিকিৎসা বিজ্ঞান' (আল ইসলাম ওয়াতিব্বুত্তিব্বি) নামক গ্রন্থ থেকে এই ক্ষয়ক্ষতিগুলো নিম্নে উদ্ধৃত করছি:
নারীর প্রতি বিতৃষ্ণা : সমকাম পুরুষদেরকে নারীর প্রতি বিরাগী ও বিতৃষ্ণ করে তোলে, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে তা পুরুষকে স্ত্রী সহবাসেও অক্ষম করে দেয়। এভাবে বিয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য নস্যাৎ হয়ে যায়। সেটি হচ্ছে বংশবিস্তার। এ ধরনের কোনো পুরুষ যদি ঘটনাক্রমে বিয়ে করেও, তবে তার স্ত্রী হবে চরম হতভাগী। সুখ, শান্তি, প্রেম, ভালোবাসা, আদর সোহাগ যা দাম্পত্য জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ এবং স্বাভাবিক প্রাপ্তি, তা থেকে সে বঞ্চিত থাকতে বাধ্য। ফলে সে সীমাহীন মানসিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে একটা অনিশ্চিত ও ঝুলন্ত জীবন কাটায় মাত্র। এ ধরনের পুরুষের স্ত্রী বিবাহিত স্ত্রীর মর্যাদা নিয়েও থাকেনা। আবার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মতোও নয়।
স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি : এই বদভ্যাস অপরাধীর মনের উপর নিরন্তর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় এবং তার স্নায়ুর উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের ফলে সে এমন এক ধরনের বিরল মানসিক ব্যাধিতে ভোগে, যা তার অন্তরে এই ধারণা বদ্ধমূল করে দেয় যে, সে পুরুষ হিসেবে সৃষ্টি হয়নি। ফলে সে তারই সমলিংগের প্রতি আকৃষ্ট হয়, নারীর প্রতি কোনো মোহ ও আকর্ষণ অনুভব করেনা। সমকামী শুধু যে বিরল ধরনের মানসিক ব্যাধিতেই আক্রান্ত হয় তা নয়, বরং সে নানা ধরনের স্নায়বিক রোগেও ভোগে, যা তাকে জীবনের স্বাভাবিক সুখ ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে এবং তার মানবিক ও পুরুষোচিত গুণাবলী কেড়ে নেয়। এই মানসিক ও স্নায়বিক রোগ থেকে এক সময়ে তার মধ্যে নানা রকমের দুরারোগ্য শারীরিক ব্যাধিও জন্ম নেয়।
মস্তিষ্কের ভারসাম্যহীনতা : এ ছাড়াও সমকাম মানুষের মস্তিষ্কের ভারসাম্যে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। তার চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত, ধ্যান ধারণাকে স্থবির, বোধ শক্তিকে নির্জীব ও ইচ্ছা শক্তিকে দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর ফলে মানব দেহের অভ্যন্তরের অনালগ্রন্থি, কিডনির উপরিভাগের গ্রন্থি ও অন্যান্য গ্রন্থিগুলোর স্বভাবসুলভ বর্জ্য নিঃসরণ তৎপরতা হ্রাস পায় এবং এ সবের কর্মক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। একজন সমকামির সাথে স্নায়ু প্রদাহের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ফলে তার মধ্যে নির্বুদ্ধিতা, সিদ্ধান্তহীনতা, চিন্তার বিক্ষিপ্ততা এবং সঠিক উপলব্ধির অভাব দেখা দেয়।
বিষণ্ণতা : সমকাম বিষণ্ণতার প্রত্যক্ষ কারণ অথবা তার উৎপত্তির শক্তিশালী উপকরণ হয়ে থাকে। বিষণ্ণতা নামক ব্যাধিতে যারা আগে থেকেই আক্রান্ত, সমকাম তাদের এই রোগকে দ্বিগুণ করে দেয়।
সমকামির কামাবেগ অতৃপ্ত থাকে : সমকাম কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার একটা অস্বাভাবিক, বিরল ও অপর্যাপ্ত পদ্ধতি। এতে পুরুষের কামাবেগ অতৃপ্ত ও অপূর্ণ থাকে। কারণ এটা স্বাভাবিক মিলন নয়। তাই গোটা স্নায়ুতন্ত্রকে তৃপ্তি দিতে ব্যর্থ হয় মাংসপেশীর চাহিদাকে ভীষণভাবে পদদলিত করে এবং সামগ্রিকভাবে গোটা দেহের উপর খারাপ প্রভাব বিস্তার করে। নর নারীর স্বাভাবিক যৌন সংগমের দৈহিক প্রকৃতি ও সংগমকালে উভয়ের জননেন্দ্রিয় যে স্বভাবসুলভ ভূমিকা পালন করে, তার প্রতি যদি আমরা দৃষ্টি দেই, অতপর সমকামে যা হয়, তার সাথে যদি এর তুলনা করি, তবে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক ও সুদূর প্রসারী পার্থক্য দেখতে পাই। উপরন্তু যে স্থানটিতে এ কাজটি করা হয় তা যে এ কাজের আদৌ উপযোগী নয়, তাতো বলাই বাহুল্য।
মলদ্বারের মাংসপেশী ঢিলা হয়ে যাওয়া ও ছিন্ন ভিন্ন হওয়া: অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে সমকামকে দেখলে দেখা যাবে ওটা মলদ্বারের ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাওয়া। তার মাংসপেশী ঢিলা হওয়া এবং মল ধরে রাখায় অক্ষমতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে এই পাপিষ্ঠদের খোঁজ নিলেই জানা যাবে, তারা ঘৃণিত বর্জ্য দ্বারা সব সময়ই নোংরা থাকে এবং তা তাদের মলদ্বার থেকে অসাড়ে বেরুতে থাকে।
নৈতিকতা ও সমকাম: সমকাম একটা মারাত্মক চারিত্রিক বিকৃতি ও মানসিক ব্যাধি। এই দোষে দুষ্ট প্রতিটি লোকই চরম দুশ্চরিত্র ও বিকৃত স্বভাব বিশিষ্ট হয়ে থাকে। ন্যায় অন্যায়ের বাছ বিচারের ক্ষমতাও তাদের লুপ্ত প্রায় হয়ে যায়। তাদের ইচ্ছা শক্তি দুর্বল থাকে। তাদের না থাকে কোনো নৈতিক চেতনা, যা তাদেরকে খারাপ কাজে ধিক্কার দেবে, না থাকে কোনো বিবেক, যা তাদেরকে তিরস্কার করে অন্যায় থেকে ফেরাবে। এমনকি শিশু কিশোরদের উপর চড়াও হওয়া থেকেও তাদের কেউ স্বেচ্ছায় বিরত হয়না এবং তাদের বিকৃত ও নিকৃষ্ট যৌন চাহিদা মেটাতে কঠোর ও সহিংস পন্থা অবলম্বনেও তারা কুণ্ঠিত হয়না।
স্বাস্থ্যের সাথে সমকামের সম্পর্ক: এ পর্যন্ত যা যা উল্লেখ করেছি, তা ছাড়াও সমকামিরা হৃদরোগেও আক্রান্ত হয় এবং তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে তারা প্রায়ই নানা ধরনের রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
জননেন্দ্রিয়গুলোর উপর এর প্রভাব: সমকাম পুরুষের দেহের প্রধান বীর্যপাত কেন্দ্রগুলোকে দুর্বল করে দেয়, এই কেন্দ্রে বীর্যের শক্তি তৈরির প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দেয় এবং বীর্যের উপাদানসহ নির্মাণকে ব্যাহত করে। এর অল্প কিছুকাল পরে বংশ বৃদ্ধির ক্ষমতা লোপ পায় ও বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। এভাবে সমকামিরা ক্রমশ নির্বংশ ও বিলীন হবার দিকে এগিয়ে যায়।
টাইফয়েড ও আমাশয়: সমকামের অনিবার্য পরিণামস্বরূপ যেসব সংক্রামক ব্যাধি সৃষ্টির কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করছি, তাছাড়া মলদ্বার থেকে নির্গত বর্জ্যজাত জীবাণুর মাধ্যমে টাইফয়েড জ্বর, আমাশয় ও অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধিরও বিস্তার ঘটে।
সমকামীদের অন্যান্য রোগসমূহ: এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, ব্যভিচার দ্বারা যেসব রোগ বিস্তার লাভ করে, সেসব রোগ সমকামের ফলেও ছড়িয়ে পড়ে। এসব রোগ সবচেয়ে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে খোদ সমকামিদেরকে, তাদের দেহকে করে জরাজীর্ণ, তারপর তাদের প্রাণ পর্যন্ত সংহার করে।
এ পর্যন্ত যেসব ক্ষয়ক্ষতির উল্লেখ করা হলো, তা থেকে আমরা স্পষ্টভাবে জানতে পারি ইসলামী আইনে সমকামকে হারাম ঘোষণা করার যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, জানতে পারি এই অপরাধের হোতাদের উপর চরম শাস্তি প্রয়োগের আদেশের যথার্থতা এবং তাদেরকে খতম করে বিশ্বকে তাদের অকল্যাণ ও অমঙ্গল থেকে মুক্ত করার বিধানের উপকারিতা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00