📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হদ কার্যকর করার সময় একদল মুসলমানের উপস্থিতি

📄 হদ কার্যকর করার সময় একদল মুসলমানের উপস্থিতি


আল্লাহতায়ালা সূরা নূরের ২নং আয়াতে বলেন:
الزَّنِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِلٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذَكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ . অর্থ: ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী- এদের প্রত্যেককে একশো কষাঘাত করবে; আল্লাহর বিধান কার্যকরী করণে ওদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও; মুমিনদের একটি দল যেনো ওদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।" এ আয়াত থেকে আলেমগণ প্রমাণ দর্শান যে, একদল মুসলমান কর্তৃক 'হদ' কার্যকরীকরণ প্রত্যক্ষ করা মুস্তাহাব। তবে এই দলে কতজন লোক থাকা বাঞ্ছনীয় সে ব্যাপারে তাদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। কেউ বলেন চারজন, কেউ বলেন তিনজন, কেউ বলেন দু'জন, কেউ বলেন সাতজন বা তার চেয়ে বেশি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে প্রহারের নিয়ম

📄 বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে প্রহারের নিয়ম


আবু হানিফা ও শাফেয়ির মতে মুখমণ্ডল ও লজ্জাস্থান ব্যতীত সমুদয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে প্রহারের আওতায় আনা হবে। আবু হানিফার মতে, মাথাও বাদ দেয়া হবে। ইমাম মালেক বলেন: সকল হদের প্রহারে পুরুষ অপরাধীর প্রহারাধীন অঙ্গ থেকে পোশাক খুলে নিতে হবে। শাফেয়ি ও আবু হানিফার মতে, অপবাদের শাস্তি ছাড়া অন্যান্য শাস্তিতে পোশাক খোলা হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদে বলা হয়েছে: বসিয়ে প্রহার করা হবে, দাঁড় করিয়ে নয়। ইমাম নববী বলেছেন: যে বেত দিয়ে প্রহার করা হবে তা মধ্যম আকারের হতে হবে। ছড়ি ও লাঠির মধ্যবর্তী আকারের হতে হবে। গাছের ডাল দিয়ে প্রহার করলে ডাল কাঁচা ও শুকনার মাঝামাঝি ধরনের হওয়া চাই। আর প্রহারও হওয়া চাই দুই চরম ধরনের প্রহারের মধ্যবর্তী ধরনের- অতি জোরদারও নয়, অতি হালকাও নয়। প্রহারকারী নিজের হাত মাথার উপর পর্যন্ত তুলবেনা, আবার শুধু চাবুকটা অপরাধীর গায়ের উপর রেখে দিয়েই ক্ষান্ত হবেনা, বরঞ্চ তার বাহু মধ্যম পরিমাণ উপরে তুলবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অবিবাহিত ব্যক্তিকে অবকাশ দান

📄 অবিবাহিত ব্যক্তিকে অবকাশ দান


অবিবাহিত মহিলাকে শীত ও গ্রীষ্মের প্রবলতা হ্রাস পাওয়া পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হবে। যে রুগ্ন অপরাধীর রোগ নিরাময়ের আশা আছে, তাকেও নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হবে। কিন্তু যদি নিরাময়ের আশা না থাকে, তাহলে শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী তাকে খেজুর গাছের ডাল দিয়ে তার সহনীয় মাত্রায় প্রহার করবে। আবু দাউদ আনসারের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, সে দীর্ঘ রোগে ভুগে একেবারেই হাড্ডিসার হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় অন্য এক আনসারীর যুবতী দাসী তার কক্ষে এলে সে খুব পুলকিত হলো এবং তাকে ধর্ষণ করলো। পরে যখন তার গোত্রের লোকেরা তাকে দেখতে এলো, তখন তাদেরকে সে এই ঘটনা জানালো এবং বললো, তোমরা আমার সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করো। কারণ জনৈকা দাসী আমার কক্ষে এলে আমি তার সাথে ব্যভিচার করেছি। লোকেরা ঘটনাটা রসূলুল্লাহ সা. কে জানালো। তারা বললো: তার মতো রোগক্লিষ্ট মানুষ আমরা আর দেখিনি। তাকে যদি আমরা আপনার নিকট নিয়ে আসতাম, তবে তার হাড্ডিগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যেতো। তার শরীরে চামড়া আর হাড্ডি ছাড়া আর কিছু নেই। তখন রসূলুল্লাহ সা. গাছের একশোটা চিকন ও নরম ডাল সংগ্রহ করে তা দিয়ে তাকে একবার প্রহার করার আদেশ দিলেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বেত্রাঘাতের ফলে অপরাধী মারা গেলে দিয়ত দিতে হবে কি

📄 বেত্রাঘাতের ফলে অপরাধী মারা গেলে দিয়ত দিতে হবে কি


বেত্রাঘাত প্রাপ্ত অপরাধী (প্রহার সহ্য করতে না পেরে) মারা গেলে তার জন্য কোনো দিয়ত রক্তমূল্য দেয়া লাগবেনা। মুসলিমের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন: "আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত, যার উপর হদ ওয়াজিব হয়েছে, অতপর শাসক বা তার নিযুক্ত প্রতিনিধি তার উপর শরয়ি 'হদ' কার্যকর করার দরুন মারা গেলো, তার জন্য শাসক বা প্রতিনিধির উপর কোনো দিয়ত আরোপিত হবেনা। বাইতুল মাল থেকেও দিয়ত দেয়া লাগবেনা।
এ পর্যন্ত ব্যভিচারের বিধান আলোচিত হলো। আরো কয়েকটা অপরাধের বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। এবার সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছি:

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00