📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 যাকে রজম করা হবে তার জন্য গর্ত খুঁড়তে হবে কিনা

📄 যাকে রজম করা হবে তার জন্য গর্ত খুঁড়তে হবে কিনা


যাকে রজম করা হবে, তার জন্য গর্ত খোঁড়া লাগবে কিনা সে সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বিভিন্ন রকম বর্ণনা এসেছে। কতক হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তার জন্য গর্ত খুড়তে হবে। অন্যান্য হাদিসে এ বিষয়ে স্পস্ট করে কিছু বলা হয়নি। ইমাম আহমদ বলেছেন: অধিকাংশ হাদিস অনুসারে গর্ত খোঁড়া লাগবেনা। হাদিসের এই বিভিন্নতার কারণে ফকিহদের মধ্যেও মতভেদ হয়েছে। ইমাম মালেক ও আবু হানিফার মতে গর্ত খোঁড়া হবেনা। আবুস্ সাওর বলেন: খুঁড়তে হবে। আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে, আলী রা.কে যখন শুরাহা হামদানিয়া নাম্মী মহিলাকে রজম করার আদেশ দেয়া হলো, তখন তিনি তাকে বাইরে নিয়ে এলেন, তার জন্য একটা গর্ত খোঁড়া হলো, তাকে তার মধ্যে প্রবেশ করানো হলো এবং জনগণ তার উপর পাথর নিক্ষেপের দৃশ্য দেখতে লাগলো। শাফেয়ির মতে, গর্ত খোঁড়া ও নাখোঁড়া দু'টোই জায়েয। তবে ইমাম শাফেয়ির মতে, বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য গর্ত খোঁড়া লাগবে। পুরুষের নাভি ও মহিলার স্তন পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া মুস্তাহাব। মহিলার পোশাক এমনভাবে গুটিয়ে বেঁধে দেয়া হবে, যাতে গর্তে না ঢুকিয়ে নিলে তার অস্থিরতার দরুন শরীরের গোপনীয় স্থানগুলো খুলে না যায়। আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, নারীকে বসিয়ে রজম করা হবে। পুরুষকে অধিকাংশের মতে দাঁড় করিয়ে ও মালেকের মতে বসিয়ে রজম করা হবে। অন্যদের মত এই যে, এ ব্যাপারে শাসকের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 শাসক ও সাক্ষীদের রজমে উপস্থিত থাকা

📄 শাসক ও সাক্ষীদের রজমে উপস্থিত থাকা


ইমাম আবু হানিফার মতে, হদ যখন সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হয়, তখন বিবাহিত ব্যভিচারীর উপর প্রথম পাথর নিক্ষেপ করবে সাক্ষী এবং এজন্য শাসক সাক্ষীকে বাধ্য করবে। এতে শরিয়তের বিধানের প্রতি শৈথিল্য প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সতর্কতা ও সচেতনতার সৃষ্টি হবে এবং শরিয়তের শাস্তি কার্যকর করার উপর দৃঢ়তার জন্ম নেবে। তবে যদি স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হদ প্রমাণিত হয়, তাহলে শাসক বা তার প্রতিনিধির উপর রজম শুরু করার দায়িত্ব বর্তাবে।
নাইলুল আওতারে বলা হয়েছে: ইমাম শাফেয়ির মতে রজমে শাসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। এটা সঠিক মত। কেননা এটা বাধ্যতামূলক সাব্যস্ত করে এমন কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া ইতিপূর্বে উদ্ধৃত হাদিসে জানা গেছে যে, রসূলুল্লাহ সা. মায়েযকে রজম করার আদেশ দিলেন। কিন্তু নিজে জনতার সাথে মাঠে বের হননি। অথচ তার স্বীকারোক্তি দ্বারাই ব্যভিচার প্রমাণিত হয়েছিল। তিনি গামেদীর রজমেও উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়। তালখীস নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে: উভয় হাদিসের কোনোটি থেকেই জানা যায়না যে, তিনি উপস্থিত থেকেছেন। বরং কোনো বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি উপস্থিত থাকেননি। ইমাম শাফেয়ি একথা দৃঢ়তার সাথে বলেছেন। তিনি বলেছেন: গামেদী সম্পর্কে সুনান আবু দাউদ ইত্যাদিতে বলা হয়েছে, তিনি উপস্থিত থাকেননি। সুতরাং এদ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সাক্ষী বা শাসকের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ফকিহগণ মনে করেন, স্বীকারোক্তি দ্বারা ব্যভিচার প্রমাণিত হলে শাসকের হাত দিয়ে রজম শুরু হওয়া মুস্তাহাব আর সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হলে সাক্ষীদের উপস্থিতি মুস্তাহাব।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 হদ কার্যকর করার সময় একদল মুসলমানের উপস্থিতি

📄 হদ কার্যকর করার সময় একদল মুসলমানের উপস্থিতি


আল্লাহতায়ালা সূরা নূরের ২নং আয়াতে বলেন:
الزَّنِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِلٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذَكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ . অর্থ: ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী- এদের প্রত্যেককে একশো কষাঘাত করবে; আল্লাহর বিধান কার্যকরী করণে ওদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও; মুমিনদের একটি দল যেনো ওদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।" এ আয়াত থেকে আলেমগণ প্রমাণ দর্শান যে, একদল মুসলমান কর্তৃক 'হদ' কার্যকরীকরণ প্রত্যক্ষ করা মুস্তাহাব। তবে এই দলে কতজন লোক থাকা বাঞ্ছনীয় সে ব্যাপারে তাদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। কেউ বলেন চারজন, কেউ বলেন তিনজন, কেউ বলেন দু'জন, কেউ বলেন সাতজন বা তার চেয়ে বেশি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে প্রহারের নিয়ম

📄 বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে প্রহারের নিয়ম


আবু হানিফা ও শাফেয়ির মতে মুখমণ্ডল ও লজ্জাস্থান ব্যতীত সমুদয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে প্রহারের আওতায় আনা হবে। আবু হানিফার মতে, মাথাও বাদ দেয়া হবে। ইমাম মালেক বলেন: সকল হদের প্রহারে পুরুষ অপরাধীর প্রহারাধীন অঙ্গ থেকে পোশাক খুলে নিতে হবে। শাফেয়ি ও আবু হানিফার মতে, অপবাদের শাস্তি ছাড়া অন্যান্য শাস্তিতে পোশাক খোলা হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদে বলা হয়েছে: বসিয়ে প্রহার করা হবে, দাঁড় করিয়ে নয়। ইমাম নববী বলেছেন: যে বেত দিয়ে প্রহার করা হবে তা মধ্যম আকারের হতে হবে। ছড়ি ও লাঠির মধ্যবর্তী আকারের হতে হবে। গাছের ডাল দিয়ে প্রহার করলে ডাল কাঁচা ও শুকনার মাঝামাঝি ধরনের হওয়া চাই। আর প্রহারও হওয়া চাই দুই চরম ধরনের প্রহারের মধ্যবর্তী ধরনের- অতি জোরদারও নয়, অতি হালকাও নয়। প্রহারকারী নিজের হাত মাথার উপর পর্যন্ত তুলবেনা, আবার শুধু চাবুকটা অপরাধীর গায়ের উপর রেখে দিয়েই ক্ষান্ত হবেনা, বরঞ্চ তার বাহু মধ্যম পরিমাণ উপরে তুলবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية