📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অভুক্তকে নিষ্পাপ প্রমাণিত করে এমন আলামত পাওয়া গেলে হদ রহিত হবে

📄 অভুক্তকে নিষ্পাপ প্রমাণিত করে এমন আলামত পাওয়া গেলে হদ রহিত হবে


ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত নারী বা পুরুষের মধ্যে যখন এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়, যা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, তাদের কারো দ্বারা ব্যভিচার সংগঠিত হয়নি, তখন হদ রহিত হবে। যেমন কুমারী মেয়ের কুমারিত্ব অক্ষুণ্ণ থাকা, কিংবা যোনিদ্বার বন্ধ থাকা, অথবা পুরুষের নপুংসকত্ব বা পুরুষাংগ কর্তিত থাকা। রসূলুল্লাহ সা. আলী রা.কে এমন এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করতে পাঠিয়েছিলেন, যে জনৈক মহিলার কাছে যাতায়াত করতো। আলী রা. গিয়ে দেখলেন, সে পুকুরে গোসল করছে। তিনি তাকে স্বহস্তে পাকড়াও করলেন এবং পানি থেকে টেনে বের করলেন। দেখলেন, তার পুরুষাংগ কর্তিত। অগত্যা তাকে রেখে তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট ফিরে গেলেন এবং তাকে বিষয়টি জানালেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হদ মাসে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে

📄 হদ মাসে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে


বিবাহিত মহিলা যদি বিয়ের ছয় মাস পর সন্তান প্রসব করে তবে তার উপর হদ কার্যকরী করা হবেনা। ইমাম মালেক বলেন : আমি জানতে পেরেছি, উসমান রা. এর নিকট বিয়ের ছয় মাস পর সন্তান প্রসবকারিণী জনৈক মহিলাকে আনা হলে তিনি তাকে রজম করার আদেশ দিলেন। আলী রা. এর বিরোধিতা করে বললেন : এই মহিলার উপর রজম কার্যকর হবেনা। কেননা আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবে বলেছেন:
وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًاه
"তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও স্তন্য ছাড়াতে ত্রিশ মাস লাগে।" আল্লাহ আরো বলেন:
وَالْوَالِدت يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ .
"যে ব্যক্তি স্তন্যদানের মেয়াদ পূর্ণ করতে ইচ্ছুক, তার জন্য জননীগণ তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু'বছর স্তন্য পান করাবে।" এ থেকে প্রমাণিত হয়, ছয় মাসে সন্তান হওয়া সম্ভব। কাজেই তার উপর রজম কার্যকর করা চলেনা।" একথা শুনে উসমান ঐ মহিলার কাছে দূত পাঠালেন। কিন্তু দূত দেখলো, মহিলাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করা হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হদ কার্যকর করার সময়

📄 হদ কার্যকর করার সময়


বিদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: অধিকাংশ ফকিহর মতে প্রচণ্ড গরমে, শীতকালে ও অভিযুক্তের রোগাক্রান্ত থাকাকালে হদ কার্যকর করা হবেনা। ইমাম আহমদ ও ইসহাকের মতে হদ কার্যকর করা হবে। তারা প্রমাণ দর্শান যে, উমর রা. কুদামার উপর তার রুগ্নাবস্থায় হদ কার্যকর করেছিলেন। এই মতভেদের কারণ হলো হলো 'হদ' এর তাৎপর্য সম্পর্কে যাহেরি মাযহাবের ফকিহদের বিরোধিতা। তারা বলেন: হদ এমন অবস্থায় কার্যকর করা হবেনা, যখন 'হদ' প্রয়োগকারীদের মনে এরূপ ধারণা প্রবল হবে যে, হদ কার্যকর করা হলে অপরাধী মারা যাবে। যারা মনে করেন যে, হদ কার্যকর করার আদেশটি শর্তহীন ও ব্যতিক্রমবিহীন, তারা বলেন, রুগ্নাবস্থায়ও হদ কার্যকর করা হবে। আর যারা হদের তাৎপর্যের দিকে দৃষ্টি দেন তারা বলেন: রোগী রোগমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে শাস্তি দেয়া হবেনা। অনুরূপ প্রচণ্ড গরমে এবং ঠাণ্ডায়ও শাস্তি দেয়া হবেনা। শওকানি বলেন: এটা সর্বসম্মত মত যে, শীত ও গরমের তীব্রতা হ্রাস পাওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত অপরাধীর হদ কার্যকর করা স্থগিত থাকবে। কিন্তু যদি সে আশা না থাকে, তাহলে শাফেয়ি মাযহাব মতে, রুগ্ন অপরাধীর জন্য সহনীয় হলে খেজুরের কাঁদির থোকা দিয়ে তাকে প্রহার করা হবে। নাসের ও মুয়াইয়িদ বিল্লাহ বলেন: রোগমুক্তির আশা না থাকলেও রুগ্নাবস্থায় হদ কার্যকর করা হবেনা। তবে প্রথমোক্ত মতটিই অগ্রগণ্য। আবু উমামার হাদিস এর প্রমাণ। উপরোক্ত মতামত ছিলো বেত্রদণ্ড নিয়ে। পক্ষান্তরে রজমযোগ্য অপরাধী যদি রুগ্ন হয় বা অনুরূপ অন্য কোনো অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, তাহলে শাফেয়ি, হানাফি ও মালেকের মতে, রোগ বা অন্য কোনো কারণে রজম স্থগিত থাকবেনা। কারণ তাকে নিপাত করাই অভিপ্রেত।
মারুযী বলেছেন: অপরাধ অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমাণিত হোক বা সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হোক, শীত বা গরমের তীব্রতা বা অসুস্থতার কারণে রজম স্থগিত থাকবে। ইসফারাইনি বলেছেন: শুধুমাত্র অসুস্থতার কারণে রজম স্থগিত করা হবে। আর গর্ভবতীকে ততক্ষণ পর্যন্ত রজম করা হবে না, যতক্ষণ সে সন্তান প্রসব এবং তার ধাত্রী না পাওয়া গেলে তাকে স্তন্য পান না করায়। আলী রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. এর জনৈক দাসী ব্যভিচার করেছিল। তিনি আমাকে আদেশ দিলেন যেন তাকে বেত্রাঘাত করি। যখন তার নিকট গেলাম, দেখলাম তার সবেমাত্র নেফাস (প্রসবোত্তর স্রাব) শুরু হয়েছে। আমার আশংকা হলো, তাকে বেত্রাঘাত করলে সে মারা যাবে। রসূলুল্লাহ সা.কে জানালাম। তিনি বললেন: “বেশ করেছ। সে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে অব্যাহতি দাও।" -আহমদ, মুসলিম, তিরমিযি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকে রজম করা হবে তার জন্য গর্ত খুঁড়তে হবে কিনা

📄 যাকে রজম করা হবে তার জন্য গর্ত খুঁড়তে হবে কিনা


যাকে রজম করা হবে, তার জন্য গর্ত খোঁড়া লাগবে কিনা সে সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বিভিন্ন রকম বর্ণনা এসেছে। কতক হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তার জন্য গর্ত খুড়তে হবে। অন্যান্য হাদিসে এ বিষয়ে স্পস্ট করে কিছু বলা হয়নি। ইমাম আহমদ বলেছেন: অধিকাংশ হাদিস অনুসারে গর্ত খোঁড়া লাগবেনা। হাদিসের এই বিভিন্নতার কারণে ফকিহদের মধ্যেও মতভেদ হয়েছে। ইমাম মালেক ও আবু হানিফার মতে গর্ত খোঁড়া হবেনা। আবুস্ সাওর বলেন: খুঁড়তে হবে। আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে, আলী রা.কে যখন শুরাহা হামদানিয়া নাম্মী মহিলাকে রজম করার আদেশ দেয়া হলো, তখন তিনি তাকে বাইরে নিয়ে এলেন, তার জন্য একটা গর্ত খোঁড়া হলো, তাকে তার মধ্যে প্রবেশ করানো হলো এবং জনগণ তার উপর পাথর নিক্ষেপের দৃশ্য দেখতে লাগলো। শাফেয়ির মতে, গর্ত খোঁড়া ও নাখোঁড়া দু'টোই জায়েয। তবে ইমাম শাফেয়ির মতে, বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য গর্ত খোঁড়া লাগবে। পুরুষের নাভি ও মহিলার স্তন পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া মুস্তাহাব। মহিলার পোশাক এমনভাবে গুটিয়ে বেঁধে দেয়া হবে, যাতে গর্তে না ঢুকিয়ে নিলে তার অস্থিরতার দরুন শরীরের গোপনীয় স্থানগুলো খুলে না যায়। আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, নারীকে বসিয়ে রজম করা হবে। পুরুষকে অধিকাংশের মতে দাঁড় করিয়ে ও মালেকের মতে বসিয়ে রজম করা হবে। অন্যদের মত এই যে, এ ব্যাপারে শাসকের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00