📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যভিচার কিভাবে প্রমাণিত হবে

📄 ব্যভিচার কিভাবে প্রমাণিত হবে


ব্যভিচার স্বীকারোক্তি অথবা সাক্ষী দ্বারা প্রমাণিত হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তি দ্বারা ব্যভিচার প্রমাণিত হওয়া

📄 স্বীকারোক্তি দ্বারা ব্যভিচার প্রমাণিত হওয়া


স্বীকারোক্তিকে বলা হয়ে থাকে 'শ্রেষ্ঠ প্রমাণ'। মায়েয ও গামেদির স্বীকারোক্তিকে রসূলুল্লাহ সা. গ্রহণ করেছিলেন। এ বিষয়ে কোনো ইমাম দ্বিমত করেননি। তবে কয়বার স্বীকারোক্তি দিলে 'হদ' অপরিহার্য হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
মালেক, শাফেয়ি, দাউদ, তাবারি ও আবুস্ সাওর বলেন: একবার স্বীকারোক্তি দিলেই হদ কার্যকর করা হবে। কেননা আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদিসে উনাইসকে রসূলুল্লাহ সা. যে মহিলার স্বীকারোক্তি নিতে বলেছিলেন, সে ক্ষেত্রে সংখ্যা উল্লেখ করেননি। হানাফিদের মতে পৃথক পৃথক স্থানে চারবার স্বীকারোক্তি নিতে হবে। আহমদ ও ইসহাকের মতে, চারবার নিতে হবে, তবে পৃথক পৃথক স্থান শর্ত নয়। অবশ্য প্রথমোক্ত মতটিই অগ্রগণ্য।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে শাস্তি রহিত হবে

📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে শাস্তি রহিত হবে


শাফেয়ি মাযহাব, হানাফি মাযহাব ও ইমাম আহমদের মতে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে হদ রহিত হবে। কেননা আহমদ ও তিরমিযি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: মায়েয যখন পাথরের আঘাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লো, তখন ছুটে পালাতে লাগলো। পালানোর সময় এক ব্যক্তির কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে নিজের কাছে থাকা উটের হাড় দিয়ে তাকে পিটালো। আশপাশের লোকজনও তাকে প্রহার করলো। ফলে সে মারা গেলো। পরে লোকেরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট একথা জানালে তিনি বললেন: তোমরা ওকে ছেড়ে দিলেই পারতে। আবু দাউদ ও নাসায়ী জাবের রা. থেকেও অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে অতিরিক্ত একথাও রয়েছে: "মায়েয পাথরের আঘাতে অস্থির হয়ে চিৎকার করে বললো: তোমরা আমাকে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট ফেরত পাঠাও। আমার গোত্র আমার সর্বনাশ করেছে এবং আমাকে প্রতারণা করে বলেছে যে, রসূলুল্লাহ সা. আমাকে হত্যা করবেন না। কিন্তু আমরা তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত তার কাছ থেকে পৃথক হইনি। পরে যখন আমরা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে ফিরে গেলাম এবং মায়েযের ঘটনা তাকে জানালাম, তখন তিনি বললেন: তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে না কেন এবং আমার কাছে নিয়ে এলেনা কেন?

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কোনো মহিলার সাথে ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করে এবং মহিলা অস্বীকার করে

📄 কোনো মহিলার সাথে ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করে এবং মহিলা অস্বীকার করে


কোনো ব্যক্তি যখন কোনো নির্দিষ্ট মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছে মর্মে স্বীকারোক্তি করে এবং ঐ মহিলা তা অস্বীকার করে, তখন শুধু পুরুষটির উপর হদ কার্যকর করা হবে, মহিলার উপর নয়। কেননা আহমদ ও আবু দাউদ সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন : এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট এলো এবং জনৈকা মহিলার নামোল্লেখ করে তার সাথে ব্যভিচার করেছে বলে জানালো। তৎক্ষণাৎ রসূলুল্লাহ সা. দূত পাঠিয়ে ঐ মহিলাকে ডাকলেন। মহিলা এলে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। সে অস্বীকার করলো। রসূলুল্লাহ সা. মহিলাকে ছেড়ে দিলেন এবং পুরুষটির উপর হদ কার্যকর করলেন। এটা ছিলো তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ব্যভিচারের শাস্তি। ইমাম মালেক ও শাফেয়ির মত অনুযায়ী অপবাদ আরোপের শাস্তি নয়। আওযায়ি ও আবু হানিফা বলেছেন: তাকে শুধু অপবাদের জন্য শাস্তি দেয়া হবে। কেননা মহিলার অস্বীকৃতি সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। এই মতটির উপর আপত্তি তুলে বলা হয়েছে যে, মহিলার অস্বীকৃতি পুরুষের স্বীকারোক্তিকে বাতিল করেনা। হাদাবি, মুহাম্মদ ও শাফেয়ির মতে তাকে ব্যভিচার ও অপবাদ উভয়টার জন্য শাস্তি দেয়া হবে। কেননা আবু দাউদ ও নাসায়ী ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: বকর গোত্রের এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে জনৈক মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছে মর্মে চারবার স্বীকারোক্তি করলো। লোকটি ছিলো অবিবাহিত। তিনি তাকে একশো বেত্রাঘাত করলেন। এরপর তিনি তাকে মহিলা সম্পর্কে সাক্ষী উপস্থাপন করতে বললেন। তখন মহিলা বললো: হে রসূলুল্লাহ সা. এই ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে। তখন তিনি তার উপর অপবাদের শাস্তি ৮০ বেত্রাঘাতও কার্যকর করলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00