📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগের শর্তাবলি

📄 ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগের শর্তাবলি


ব্যভিচারের শাস্তি কার্যকর করার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ জরুরি: ১. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া ২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. স্বাধীন হওয়া ৪. ব্যভিচার হারাম একথা জানা।
সুতরাং অপ্রাপ্তবয়স্ককে ব্যভিচারের শাস্তি দেয়া হবেনা, (তবে অপেক্ষাকৃত হাল্কা দমনমূলক শাস্তি দেয়া হবে) পাগলকে শাস্তি দেয়া হবেনা এবং যাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়েছে তাঁকেও শাস্তি দেয়া হবেনা। কেননা আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তিন ব্যক্তি দায়মুক্ত: ১. ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ জাগ্রত না হয় ২. অপ্রাপ্তবয়স্ক যতক্ষণ প্রাপ্তবয়স্ক না হয় ৩. পাগল যতক্ষণ সুস্থ মস্তিষ্ক না হয়। ব্যভিচার হারাম জানা শর্ত এ জন্য যে, শরিয়ত নির্ধারিত শাস্তি বা 'হদ' হারাম কাজের জন্যই নির্দিষ্ট। অথচ সে হারাম কাজ করেনি। রসূলুল্লাহ সা. মাযেয়কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তুমি কি জানো ব্যভিচার কী? তাছাড়া বর্ণিত হয়েছে, জনৈকা নিগ্রো দাসীকে উমর রা. এর নিকট আনা হলো এবং অভিযোগ করা হলো যে, সে ব্যভিচার করেছে। উমর রা. তাকে চাবুক দিয়ে ক'টা আঘাত করে বললেন: “কোন্ ইতরর সাথে যেনা করেছিস?” সে বললো : গাউসের সাথে দুই দিরহামের বিনিময়ে। (গাউস এক ব্যক্তির নাম) উমর রা. তার পাশে থাকা আলী, উসমান ও আবদুর রহমান বিন আওফকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনারা কী মনে করেন? আলী রা. বললেন: আমি মনে করি, ওকে রজম করুন। আবদুর রহমান বললেন: আলী যা বললেন ওটাই আমার মত। উসমান রা. বললেন : আমার মনে হচ্ছে দাসীটি যা করেছে, তাকে আপনি সহজভাবে গ্রহণ করুন। কারণ সে একে দূষণীয় মনে করেনি। আল্লাহ তার জন্যই 'হদ' নির্ধারণ করেছেন, যে আল্লাহর বিধান জানে।" উমর রা. বললেন : আপনি সঠিক বলেছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যভিচার কিভাবে প্রমাণিত হবে

📄 ব্যভিচার কিভাবে প্রমাণিত হবে


ব্যভিচার স্বীকারোক্তি অথবা সাক্ষী দ্বারা প্রমাণিত হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তি দ্বারা ব্যভিচার প্রমাণিত হওয়া

📄 স্বীকারোক্তি দ্বারা ব্যভিচার প্রমাণিত হওয়া


স্বীকারোক্তিকে বলা হয়ে থাকে 'শ্রেষ্ঠ প্রমাণ'। মায়েয ও গামেদির স্বীকারোক্তিকে রসূলুল্লাহ সা. গ্রহণ করেছিলেন। এ বিষয়ে কোনো ইমাম দ্বিমত করেননি। তবে কয়বার স্বীকারোক্তি দিলে 'হদ' অপরিহার্য হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
মালেক, শাফেয়ি, দাউদ, তাবারি ও আবুস্ সাওর বলেন: একবার স্বীকারোক্তি দিলেই হদ কার্যকর করা হবে। কেননা আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদিসে উনাইসকে রসূলুল্লাহ সা. যে মহিলার স্বীকারোক্তি নিতে বলেছিলেন, সে ক্ষেত্রে সংখ্যা উল্লেখ করেননি। হানাফিদের মতে পৃথক পৃথক স্থানে চারবার স্বীকারোক্তি নিতে হবে। আহমদ ও ইসহাকের মতে, চারবার নিতে হবে, তবে পৃথক পৃথক স্থান শর্ত নয়। অবশ্য প্রথমোক্ত মতটিই অগ্রগণ্য।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে শাস্তি রহিত হবে

📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে শাস্তি রহিত হবে


শাফেয়ি মাযহাব, হানাফি মাযহাব ও ইমাম আহমদের মতে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে হদ রহিত হবে। কেননা আহমদ ও তিরমিযি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: মায়েয যখন পাথরের আঘাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লো, তখন ছুটে পালাতে লাগলো। পালানোর সময় এক ব্যক্তির কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে নিজের কাছে থাকা উটের হাড় দিয়ে তাকে পিটালো। আশপাশের লোকজনও তাকে প্রহার করলো। ফলে সে মারা গেলো। পরে লোকেরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট একথা জানালে তিনি বললেন: তোমরা ওকে ছেড়ে দিলেই পারতে। আবু দাউদ ও নাসায়ী জাবের রা. থেকেও অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে অতিরিক্ত একথাও রয়েছে: "মায়েয পাথরের আঘাতে অস্থির হয়ে চিৎকার করে বললো: তোমরা আমাকে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট ফেরত পাঠাও। আমার গোত্র আমার সর্বনাশ করেছে এবং আমাকে প্রতারণা করে বলেছে যে, রসূলুল্লাহ সা. আমাকে হত্যা করবেন না। কিন্তু আমরা তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত তার কাছ থেকে পৃথক হইনি। পরে যখন আমরা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে ফিরে গেলাম এবং মায়েযের ঘটনা তাকে জানালাম, তখন তিনি বললেন: তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে না কেন এবং আমার কাছে নিয়ে এলেনা কেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00