📄 বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের একত্রিকরণ
ফকিহগণ যদিও বেত্রাঘাতের অপরিহার্যতা সম্পর্কে একমত হয়েছেন, কিন্তু তারা এর সাথে নির্বাসন দণ্ডের সংযোজন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন: ১. শাফেয়ি ও আহমদ বলেছেন: একশকোটি বেত্রাঘাতের সাথে এক বছরের নির্বাসনও দিতে হবে। কেননা বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত:
"জনৈক বেদুইন রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এলো এবং বললো: হে রসূলুল্লাহ, আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আমার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দিন। তার অপর প্রতিপক্ষ তার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ ছিলো। সে বললো: জ্বি হা, আমারও একই কথা। আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে ঘটনার বিবরণ বলার অনুমতি দিন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: বলো। সে বললো: আমার ছেলে এই ব্যক্তির বাড়িতে মজুর খাটতো। সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে। আমি শুনেছি, আমার ছেলের 'রজম' এর শাস্তি প্রাপ্য। তাকে সে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আমি একশো ছাগল ও একজন ক্রীতদাসী মুক্তিপণ হিসেবে এনেছি। পরে জ্ঞানীজনদেরকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম, আমার ছেলের প্রাপ্য শাস্তি রজম নয়, একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। আর এই ব্যক্তির স্ত্রীর প্রাপ্য রজম। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: আমি অবশ্যই তোমাদের দু'জনের ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবো। ছাগলের পাল ও ক্রীতদাসী তুমি ফেরত পাবে। আর তোমার ছেলে পাবে একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। আর বনু আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বললেন: "হে উজাইস, তুমি এই ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যাও, সে যদি ব্যভিচারের কথা স্বীকার করে, তবে তাকে রজম করো। লোকটি তার স্ত্রীর কাছে গেলো এবং সে স্বীকারোক্তি করলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ সা. তাকে রজম করার আদেশ দিলেন এবং রজম করা হলো।"
বুখারি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন: "রসূলুল্লাহ সা. অবিবাহিত ব্যভিচারীকে এক বছরের জন্য নির্বাসন ও তার উপর 'হদ' (বেত্রাঘাত) কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।"
খুলাফায়ে রাশেদীনের সকলেই নির্বাসন দণ্ড কার্যকর করেছেন। কেউ এর বিরোধিতা করেনি। আবু বকর সিদ্দীক রা. ফিদিক অঞ্চলে, উমার ফারুক রা. সিরিয়ায়, উসমান রা. মিশরে ও আলী রা. বসরায় নির্বাসিত করতেন। বেত্রদণ্ড ও নির্বাসন দণ্ড এ দুটির কোন্টি আগে ও কোন্টি পরে কার্যকর করা হবে, সে ব্যাপারে শাফেয়িরা কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম মানা জরুরি মনে করেন না। যে কোনোটা আগে বা পরে করা যায়। তবে নির্বাসনের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপিত হয়েছে যে, নামায কসর করা যায় এতটা দূরত্বে করা চাই। কেননা এর উদ্দেশ্য হলো, তার নিজ আবাসিক এলাকা ও আপনজনদের থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দেয়া। নামাযের কসর হয়না এমন দূরত্বকে নিজের আবাসিক এলাকা গণ্য করা হয়। শাসক যদি তাকে আরো বেশি দূরত্বে নির্বাসন করা ভালো মনে করেন, তবে করতে পারেন। মহিলাকে নির্বাসিত করতে হলে স্বামী কিংবা মুহাররম ব্যক্তিকে তার সাথে পাঠাতে হবে। যদি সে মজুরি ব্যতীত যেতে না চায়, তবে মজুরি দেয়া বাধ্যতামূলক হবে এবং তা মহিলার সম্পদ থেকে আদায় করে দেয়া হবে।
২. ইমাম মালেক ও আওযায়ি বলেছেন: অবিবাহিত স্বাধীন পুরুষ ব্যভিচারীকে নির্বাসন দেয়া ওয়াজিব, অবিবাহিত স্বাধীন নারী ব্যভিচারিণীকে নয়। নারীকে নির্বাসিত করা হবেনা। কেননা নারী পর্দার বিধানের অধীন। (অজানা বিদেশ ভূমিতে পর্দা মেনে চলার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।)
৩. আবু হানিফা র. বলেছেন: নারীর ক্ষেত্রে বেত্রদণ্ডের সাথে নির্বাসন দণ্ড যুক্ত করা হবেনা। অবশ্য শাসক এটাকে ভালো মনে করলে যত দূরত্বে পাঠানো ভালো মনে করেন পাঠাতে পারেন।
📄 বিবাহিত ব্যক্তির হদ
বিবাহিত ব্যক্তির ব্যাপারে ফকিহগণ একমত, সে ব্যভিচার করলে তাকে 'রজম' (পাথর নিক্ষেপ) করে হত্যা করা ওয়াজিব, চাই সে পুরুষ হোক বা স্ত্রী হোক। এর প্রমাণ হিসাবে তারা উল্লেখ করেন:
১. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. মসজিদে নববীতে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ, আমি ব্যভিচার করেছি। রসূলুল্লাহ সা. তার কথা উপেক্ষা করলেন। সে চারবার তার কথা পুনরাবৃত্তি করলো। সে যখন চারবার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলো, তখন রসূলুল্লাহ সা. তাকে কাছে ডাকলেন এবং বললেন: তুমি কি পাগল? সে বললো: না। তিনি আবার বললেন: তুমি কি বিবাহিত? সে বললো: হাঁ। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমরা ওকে নিয়ে যাও এবং রজম করো। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ বলেছেন: এই লোকটিকে যারা রজম করেছিল, আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম। আমরা তাকে ঈদের নামাযের মাঠে রজম করছিলাম। পাথরের আঘাতে জর্জরিত হয়ে এক সময়ে সে দৌড়ে পালাতে লাগলো। আমরা তাকে হাররাতে ধরে ফেললাম এবং রজম করে হত্যা করলাম। (বুখারি ও মুসলিম)। এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, একবার স্বীকারোক্তি করলেই বিবাহিত হওয়া প্রমাণিত হয় এবং 'হাঁ' বলা দ্বারাই স্বীকারোক্তি করা হয়।
২. ইবনে আব্বাস রা. বলেন: উমর রা. ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহ মুহাম্মদ সা.কে সত্য দীন সহকারে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব নাযিল করেছেন। তাঁর উপর যা কিছু নাযিল হয়েছে, তার মধ্যে রজমের আয়াত ছিলো। আমরা সে আয়াত পড়েছি এবং অনুধাবন ও মুখস্থ করেছি। রসূলুল্লাহ সা. রজম কার্যকর করেছেন, আমরাও করেছি। আমার আশংকা হয়, দীর্ঘকাল পেরিয়ে গেলে কেউ বলে বসে কিনা: "আল্লাহর কিতাবে তো আমরা রজম পাইনা।" তারপর তারা আল্লাহর নাযিলকৃত একটা ফরয কাজ পরিত্যাগ করে বিপথগামী হয়ে না যায়! নারী বা পুরুষ যেই হোক, সে যদি বিবাহিত হয় ও ব্যভিচার করে এবং যদি তার বিরুদ্ধে সাক্ষী, স্বীকারোক্তি অথবা গর্ভ পাওয়া যায়, তবে তার উপর রজম কার্যকর করা অপরিহার্য। আল্লাহর কসম, এ আশংকা যদি না থাকতো যে, জনগণ বলবে, উমর আল্লাহর কিতাবে একটি আয়াত সংযোজন করেছে, তাহলে আমি এ আয়াতটা লিখে দিতাম।"-বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী।
নাইলুল আওতারে বলা হয়েছে: রজম এমন একটি বিষয় যার উপর ইজমা (সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত) হয়েছে। কেবল খারেজীদের সম্পর্কে জানা যায়, তারা এটিকে নিষ্প্রয়োজন মনে করতো। কিছু কিছু মুতাযেলীও একটি নিষ্প্রয়োজন মনে করতো। তবে "কুরআনে এর উল্লেখ নেই" বলা ছাড়া এর স্বপক্ষে আর কোনো যুক্তি প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। অথচ এই যুক্তি বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। কেননা সর্বস্বীকৃত মুতাওয়াতির হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত। কেননা উমর রা. বিপুল সংখ্যক লোকের সামনে বলেছেন: "রসূলুল্লাহ সা. এর উপর নাযিলকৃত ওহির মধ্যে রজমের আয়াতও ছিলো, আমরা সেটি পড়েছি এবং মুখস্থও করেছি। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও রজম কার্যকর করেছেন, আর তাঁর পরবর্তী সময়ে আমরাও এটি কার্যকর করেছি।"
কোনো আয়াতের তেলাওয়াত রহিত হলেই তার বিধিও রহিত হবে, এটা অপরিহার্য নয়। আবু দাউদ ইবনে আব্বাস রা. থেকে এ উক্তি বর্ণনা করেছেন। আহমদ ও তাবরানি বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআনে এ আয়াতটি ছিলো: الشَّيْعُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَلَيَا فَارْجُمُوهُمَا البَتَّةَ بِمَا قَضَيَا مِنَ اللَّهِ . Ο “কোনো বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা যখন ব্যভিচার করে, তখন তারা যে আনন্দ উপভোগ করেছে অদ্ররূপ তাদের উভয়কে অবশ্যই রজম করবে।" আর ইবনে হাব্বান উবাই বিন কা'ব এর এ উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: "সূরা আহযাব ইতিপূর্বে সূরা বাকারার মতো বড় ছিলো এবং তাতে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা সংক্রান্ত আয়াতটি ছিলো।
📄 রজমের শর্তাবলি
বিবাহিত ব্যভিচারীর উপর রজম কার্যকর করতে নিম্নলিখিত শর্তাসমূহ পূরণ জরুরি:
১. ব্যভিচারকারীর প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক হওয়া চাই। পাগল ও অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে 'হদ' নয়, তাযীর (অপেক্ষাকৃত হাল্কা যে কোনো শাস্তি) কার্যকর করতে হবে।
📄 ব্যভিচারের শাস্তিতে মুসলমান ও অমুসলমান সমান
ব্যভিচার প্রমাণিত হলে মুসলমানের উপর যেমন 'হদ' কার্যকর করতে হবে, তেমনি অমুসলিম বা ইসলাম ত্যাগীর উপরও। কেননা মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকও দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ সা. দু'জন ইহুদী বিবাহিত ব্যভিচারীকে রজম করেছেন। ইসলাম ত্যাগীর (মুরতাদ) উপর ইসলামের আইন কানুন কার্যকর হবে। তার মুরতাদ হওয়ার কারণে সে আইন কানুনের দায়মুক্ত নয় এবং তার কার্যকরিতা থেকে সে অব্যাহতি পাবেনা।
ইবনে উমর রা. থেকে বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন: ইহুদীরা তাদের মধ্য থেকে দু'জন ব্যভিচারী নারী ও পুরুষকে নিয়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট এলো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমাদের কিতাবে কী আছে? তারা বললো: উভয়ের মুখে কালি মেখে অপমাণিত করা হবে। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমরা মিথ্যা বলেছ। নিশ্চয়ই তাতে রজম রয়েছে। যাও, তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো, যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো। তারা নিজেদের মধ্য থেকে একজন পাঠকও নিয়ে এলো। সে পাঠ করলো। একটা জায়গায় এলে সে তার উপর হাত রাখলো। তাকে বলা হলো তোমার হাত উঠাও। সে হাত উঠালে জায়গাটিতে যা লেখা ছিলো বেরিয়ে পড়লো। সে বললো: হে মুহাম্মদ, এখানে রজম রয়েছে। তবে আমরা এটিকে নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে রাখতাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সা.-এর আদেশে উভয়কে রজম করা হলো। ইবনে উমর রা. বলেন: পুরুষটিকে আমি দেখলাম মহিলাটির উপর কুজো হয়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
জাবের বিন আবদুল্লাহ বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. বনু আসলাম গোত্রের একজনকে ও ইহুদীদের একজনকে রজম করেছেন।-আহমদ ও মুসলিম।
বারা ইবনে আযেব রা. বলেন: রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছ দিয়ে জনৈক বেত্রাঘাতপ্রাপ্ত ও মুখে কালি মাখানো ইহুদীকে নিয়ে যাওয়া হলো। রসূলুল্লাহ সা. তাদেরকে ডেকে বললেন : তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারের শাস্তি এ রকমই পাও? তারা বললো: হাঁ। রসূলুল্লাহ সা. তাদের মধ্য থেকে একজন আলেমকে ডাকলেন। তারপর তাকে বললেন: যে আল্লাহ মূসা আ. এর উপর তাওরাত নাযিল করেছেন, তার কসম দিয়ে তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি: তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি এ রকমই পাও? সে বললো: না। আপনি যদি কসম দিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা না করতেন, তবে আপনাকে রজমের শাস্তি সম্পর্কে জানাতামনা। কিন্তু আমাদের অভিজাত লোকদের মধ্যে এটা ব্যাপক হয়ে পড়েছে যে, যখন আমরা কোনো অভিজাত ব্যক্তিকে ধরতাম, তাকে ছেড়ে দিতাম। আর দুর্বলকে পেলে তার উপর শাস্তি কার্যকর করতাম। অবশেষে আমরা বললাম : এসো, আমরা এমন একটি জিনিসের উপর একমত হই, যা কুলীন ও অকুলীন উভয়ের উপর কার্যকর করতে পারবো। অতপর আমরা মুখে কালি মাখানো ও বেত্রাঘাতকে রজমের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করলাম। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: “হে আল্লাহ, ওরা যখন তোমার বিধানকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছিল, তখন আমিই সর্বপ্রথম তা পুনরুজ্জীবিত করলাম।" অতপর সেই ব্যক্তিকে রজম করার নির্দেশ দিলেন এবং রজম করা হলো। তখন এ আয়াত নাযিল হলো:
يَأَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِن مِنْ قُلُوبُهُمْ .
“হে রাসূল, তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়- যারা মুখে বলে "ঈমান এনেছি”, অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনা এবং ইহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর, তোমার নিকট আসেনা এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে। শব্দগুলো যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরেও তারা সেগুলোর অর্থ বিকৃত করে; তারা বলে: এই রকম বিধান দিলে গ্রহণ করো এবং তা না দিলে বর্জন করো।” অর্থাৎ তারা বলে: (ব্যভিচারীর বিচারের জন্য) মুহাম্মদের নিকট এসো। মুহাম্মদ সা. যদি তোমাদেরকে মুখে কালি লেপন ও বেত্রদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয় তবে তা মেনে নিও, আর যদি রজম করার আদেশ দেয় তবে তা বর্জন করো। এই পর্যায়ে আল্লাহ নাযিল করলেন:
وَمَنْ لَمْ يَحْكُمُ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَفِرُونَ ، وَمَن لَمْ يَحْكُمُ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفُسِقُونَ
(যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেনা, সে কাফের। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেনা সে যালেম। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেনা সে ফাসেক।) ইবনে উমর রা. বলেন: এটা সকল কাফেরের বেলায়ই প্রযোজ্য। (আহমদ, আবু দাউদ ও মুসলিম) ইমাম নববী বলেন : ইহুদীদ্বয়কে রজম করা হয়েছিল তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে। রজম সম্পর্কে তাওরাতে যেসব উক্তি রয়েছে তার কিছু উদ্ধৃতি: "যখন কোনো পুরুষকে অন্য কোনো পুরুষের স্ত্রীর সাথে শায়িত দেখা যাবে, তখন দু'জনকেই হত্যা করা হবে। তাহলে ইসরাইলের অমংগল দূরীভূত হবে। আর যখন কারো বাগদত্তা কুমারী যুবতীকে শহরে একাকিনী পেয়ে কোনো ব্যক্তি তার সাথে শয়ন করে, তখন তাদের উভয়কে শহরের বাইরে নিয়ে যাও ও পাথর মেরে হত্যা করো। যুবতীকে এজন্য যে সে চিৎকার করে শহরবাসীর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেনি। আর পুরুষকে এজন্য যে, সে তার বন্ধুর বাগদত্তাকে অপমানিত করেছে। তাদেরকে শান্তি দিলে শহর থেকে দুর্বৃত্তপনা দূর হয়ে যাবে।" এটা তাওরাতের বাণী। বাইবেলে এই বাণীর বিরোধী কিছু নেই। তাই এটা মান্য করা খৃস্টানদের জন্যও জরুরি।)