📄 মদের কয়েকটি প্রসিদ্ধ শ্রেণী
বাজারে বিভিন্ন নামের মদ পাওয়া যায়। এলকোহলের মাত্রা কম বা বেশি হওয়া সাপেক্ষে এগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। যেমন ব্রান্ডি, হুইসকি, রোম, লিকের ইত্যাদি। এগুলোতে এলকোহলের মাত্রা শতকরা ৪০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত হয়ে থাকে। অপরদিকে জিন, হল্যান্ডি, জেনেভা প্রভৃতিতে এলকোহলের মাত্রা থাকে শতকরা ৩৩ ভাগ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত। পোর্ট, শেরি, ম্যাডেরা প্রভৃতিতে ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত এলকোহল থাকে। আর ততোধিক হালকা মদ ক্লার্ট, হুক, শ্যাম্পেল, বার্গেন্ডী প্রভৃতিতে থাকে ১০ থেকে ১৫ ভাগ। আরো হাল্কা বেয়ার যথা এইল, বোর্টার, এটুট, মিডনিখ প্রভৃতিতে ২ থেকে ৯ ভাগ পর্যন্ত এলকোহল থাকে। শেষোক্ত ধরনের স্বল্প মাত্রার মদ হিসেবে বৃযা, কাসাব প্রভৃতির নামও উল্লেখযোগ্য।
📄 মদ ও সংরক্ষিত নির্যাস পান
ঝাঁজ ও ফেনাযুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ফলের রস বা নির্যাস পান করা জায়েয। কেননা আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজায় আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি জানতে পারলাম রসূলুল্লাহ সা. রোযা রেখেছেন। তাই আমি লাউয়ের ডুগায় সংরক্ষিত ফলের রস নিয়ে তার ইফতারির জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। তারপর তা নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। তখন দেখলাম, তাতে ফেনা এসে গেছে। তা দেখে রসূলুল্লাহ সা. বললেন : ওটা এই দেয়ালের উপর ছুড়ে ফেলো। কেননা এটা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করেনা, তার পানীয়।” আহমদ বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর নির্যাস সম্পর্কে বললেন: এ জিনিসটাকে যতদিন তার শয়তান আক্রান্ত না করে ততদিন পান করো। জিজ্ঞাসা করা হলো: কতদিনে তাকে শয়তান আক্রান্ত করে? তিনি বললেন: তিন দিনে। মুসলিম প্রমুখ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (ইবনে আব্বাস) রসূলুল্লাহ সা.-এর জন্য কিসমিস পানিতে ভিজাতেন। তিনি সেই পানি ঐদিন, পরের দিন ও তারপরের দিনের বিকাল পর্যন্ত পান করতেন। তারপর তা পরিচারককে পান করাতেন কিংবা ফেলে দিতেন। আবু দাউদ বলেন: পরিচারককে পান করানো অর্থ হলো, তাতে বিকৃতির লক্ষণ পরিদৃষ্ট হতো। আর এ অবস্থার সৃষ্টি হতো তিন দিনের পর। মুসলিম বর্ণনা করেন: আয়েশা রা. রসূলুল্লাহ সা.-এর জন্য সকালে ফলের নির্যাস করে রাখতেন। রাতের খাবারের পর তা পান করাতেন। যদি কিছু উদ্বৃত্ত থাকতো তবে তা ঢেলে ফেলতেন অথবা পাত্রটা খালি করতেন। তারপর রাতে পুনরায় নির্যাস তৈরি করতেন। সকাল বেলায় সকালের খাবারের পর তা পান করতেন। আর সকালে ও বিকালে মশক ধোয়া হতো। এ হাদিস ইবনে আব্বাসের হাদিসের বিরোধী নয় যে, তিনি তৃতীয় দিন বিকাল পর্যন্ত নির্যাস পান করতেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, রসূলুল্লাহর জীবনী থেকে এ কথা সুবিদিত যে, তিনি কখনো মদ পান করেননি। নবুয়্যতের আগেও নয়, পরেও নয়। তিনি কেবল এমন নির্যাস পান করতেন, যা তখনো মদে পরিণত হয়নি।
📄 মদ যখন সিরকায় পরিণত হয়
আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, মদ যখন আপনা থেকে সির্কায় রূপান্তরিত হয়, তখন তা পান করা জায়েয। আর যখন তাকে সির্কায় রূপান্তরের ইচ্ছা করা হয়, তখন ফকিহদের তিন রকমের অভিমত পাওয়া গেছে: ১. হারাম ২. মাকরূহ ৩. মুবাহ (বৈধ)। শেষোক্ত মতটি উমর ইবনুল খাত্তাব, শাফেয়ি, আহমদ, সুফিয়ান সাওরি, ইবনুল মুবারক, আতা ইবনে আবি রাবাহ, উমর ইবনে আবদুল আযীয ও আবু হানিফার। হাদিসের সাথে কেয়াসের অর্থাৎ যুক্তির বিরোধ ও হাদিসের ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধই এই মৃতভেদের কারণ। কেননা আবু দাউদ, মুসলিম ও তিরমিযি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন : "আবু তালহা রসূলুল্লাহ সা.কে জিজ্ঞাসা করলেন: কতিপয় ইয়াতিম উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু মদের মালিকানা লাভ করেছে। এমতাবস্থায় ঐ মদ কী করা হবে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: ওটা ফেলে দাও। আবু তালহা বললেন: আমি কি মদটাকে সির্কায় পরিণত করতে পারিনা? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: না।"
এখন যে ব্যক্তি বুঝেছেন যে, এ হাদিসে হারামের পথ বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি এ হাদিস থেকে সির্কায় পরিণত করার ইচ্ছা করাকে মাকরূহ সাব্যস্ত করেছেন। আর যিনি দেখতে পেয়েছেন যে, কোনো কারণের উল্লেখ ব্যতিরেকেই এতে মদকে সির্কায় পরিণত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি এ দ্বারা উক্ত কাজকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। একইভাবে এ হাদিস থেকে এ সিদ্ধান্তেও আসা যায় যে, যারা কোনো নিষিদ্ধ বস্তু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসেনা বলে মনে করেন, তারা সির্কায় রূপান্তরিত মদকে হারাম মনে করোনা। খাত্তাবি বলেছেন : এ হাদিসে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, মদকে সির্কায় রূপান্তরের চেষ্টা করা অবৈধ। তা যদি বৈধ হতো, তবে ইয়াতিমের সম্পত্তিকে এভাবে হালাল বস্তুতে রূপান্তরিত করে সংরক্ষণ করা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাড়ানোর চেষ্টা অধিকতর মহৎ কাজে পরিগণিত হতো। কেননা ইয়াতিমের সম্পত্তি সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। তাছাড়া রসূলুল্লাহ সা. যে কোনো সম্পত্তি বিনষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। মদকে ফেলে দেয়া যে তা নষ্ট করারই শামিল, তা বলাই বাহুল্য। কাজেই বুঝা গেলো, মদকে কোনো রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পবিত্র করা ও সাধারণ সম্পত্তিতে পরিণত করা সম্ভব নয়।
সির্কাকে হারাম প্রতিপন্নকরণের বিরুদ্ধে যে কেয়াস বা যুক্তি প্রদর্শন করা হয় তা হলো, শরিয়তের এ মূলনীতি সুবিদিত যে, শরিয়তের বিভিন্ন বিধান বিভিন্ন জিনিসের উপর প্রযোজ্য। মদ ও সির্কা দুটো ভিন্ন ভিন্ন জিনিস। মদ সর্বসম্মতভাবে হারাম, আর সির্কা সর্বসম্মতভাবে হালাল। আর মদ যখন সির্কায় রূপান্তরিত হয়েছে, তখন তা অবশ্যই হালাল হয়েছে, চাই তা যে উপায়েই রূপান্তরিত হয়ে থাকনা কেন।
📄 মাদকদ্রব্যসমূহ
এ পর্যন্ত যা কিছু উল্লেখ করা হলো, তা ছিলো খাম্ বা মদ নামক পানীয় সম্পর্কে আল্লাহর বিধান। কিন্তু যে সকল বস্তু পানীয় নয়, অথচ মদের মতোই বুদ্ধির বিলুপ্তি ঘটায়, যেমন ভাং, গাঁজা, আফিম ইত্যাদি, সে সকল বস্তুও সম্পূর্ণরূপে হারাম। কেননা তা নেশাকর ও মাতালকারী। ইতিপূর্বে আমরা মুসলিম থেকে বর্ণিত হাদিস উদ্ধৃত করেছি যে, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "সকল মাদকদ্রব্য মদ এবং সকল মদ হারাম।"
মিশরের মুফতি শেখ আবদুল মজীদ সালিমকে (রহ.) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত শরিয়তের বিধান জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। প্রশ্নগুলো ছিলো নিম্নরূপ: ১. মাদকদ্রব্য সেবন করা জায়েয কিনা? ২. মাদক দ্রব্যের ব্যবসা করা ও তাকে বাণিজ্যিক মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয কিনা? ৩. ভাং ও আফিম বিক্রি করা ও তা থেকে মাদকদ্রব্য তৈরি করা, তার চাষ করা, সেবন করা ও ব্যবসা করা জায়েয কিনা? ৪. মাদকদ্রব্য বিক্রয় থেকে অর্জিত মুনাফা হালাল না হারাম? এর জবাবে তিনি বলেন :