📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হদ কার্যকর করার ক্ষমতা ও দায়িত্ব কার?

📄 হদ কার্যকর করার ক্ষমতা ও দায়িত্ব কার?


ফকিহগণ একমত যে, শাসক বা তার প্রতিনিধিই হদ কার্যকরি করার ক্ষমতা ও অধিকার রাখে। নাগরিকগণ নিজ নিজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ কাজ করার অধিকার ও ক্ষমতা রাখেনা।
তাহাবি মুসলিম বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন: জনৈক সাহাবী বলতেন: “যাকাত, হুদুদ, কর খাজনা ও জুমার নামায শাসকের হাতে ন্যস্ত।" তাহাবি বলেন: কোনো সাহাবী তার এই উক্তির বিরোধিতা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। বায়হাকি বর্ণনা করেন, মদিনাবাসী বলতেন: "শাসক ব্যতীত অন্য কারো হুদুদ কার্যকর করার অধিকার নেই। তবে দাসদাসীর উপর ব্যভিচারের হদ কার্যকর করার ক্ষমতা মনিবের রয়েছে।" শাফেয়িসহ প্রাচীন মনীষীদের একটি দলের মত হলো, মনিব তার দাসদাসীর উপর হদ কার্যকর করবে। তাদের প্রমাণ এই যে, আলী রা. বলেন: রসূলুল্লাহ সা.-এর জনৈক গৃহ পরিচারিকা একটি সন্তান প্রসব করলো। রসূলুল্লাহ সা. আমাকে তার উপর হদ কার্যকর করার আদেশ দিলেন। আমি তার নিকট গেলাম। দেখলাম, তার রক্তস্রাব বন্ধ হয়নি। অতপর আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট ফিরে গিয়ে ব্যাপারটা অবহিত করলাম। তিনি বললেন: তার রক্তস্রাব যখন বন্ধ হবে, তখন তার উপর হদ কার্যকর করো। তোমরা তোমাদের দাসদাসীদের উপর হুদুদ কার্যকর করো।" (আহমদ, আবু দাউদ, মুসলিম, বায়হাকি ও হাকেম)
কিন্তু ইমাম আবু হানিফার মতে, মনিব নিজে কার্যকরি করবেনা। বরং শাসকের নিকট অভিযোগ পৌঁছাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হুদের ক্ষেত্রে অপরাধীকে আড়াল করার বৈধতা

📄 হুদের ক্ষেত্রে অপরাধীকে আড়াল করার বৈধতা


অপরাধ ও পাপাচারে লিপ্তদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ গোপন করা কখনো কখনো তাদের জন্য খুবই উপকারী চিকিৎসা সাব্যস্ত হয়ে থাকে। গোপন করার ফলে কখনো কখনো তারা অপরাধ করার পরও স্বউদ্যোগে খালেস তওবা করে এবং নতুন করে পরিপূর্ণ জীবন যাপন শুরু করে। এ কারণে ইসলাম অপরাধীদের আড়াল করা ও তাদের অপরাধের কথা ফাঁস করে দেয়ার জন্য তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছে।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন, আমি শুনেছি, বনু আসলাম গোত্রের হাযযাল নামক এক ব্যক্তি, সূরা নূরের ব্যভিচারের শাস্তি ২নং আয়াত নাযিল হওয়ার আগে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ দায়ের করলো। রসূলুল্লাহ সা. তাকে বললো, ওহে হাযযাল, তোমার চাদরের নিচে যদি তাকে লুকিয়ে রাখতে, তাহলে তোমার জন্য ভালো হতো। হাযযালের পৌত্র ইয়াযীদ পরবর্তীকালে তার দাদার এই উক্তি সত্য বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ইবনে আব্বাস থেকে ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষ ফাঁস করবে, আল্লাহ তার দোষ ফাঁস করে দেবেন, এমনকি তাকে তার পরিবারের সামনেই অপমানিত করবেন।” বস্তুতঃ দোষ আড়াল করে রাখা যখন মুস্তাহাব, তখন সেই দোষ সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়াটাও বাঞ্ছনীয় হওয়ার কথা নয়। এটা মাকরূহ তানযিহী। অবশ্য এই আড়াল করাটা সেই ব্যক্তির বেলায় প্রযোজ্য, যে ব্যভিচারে অভ্যস্ত নয় এবং নিজে তা প্রকাশ করেনা। কিন্তু পরিস্থিতি যখন এতদূর গড়ায় যে, সে নিজেই তার গোপনীয়তা রক্ষায় সচেষ্ট নয়, বরং তা প্রকাশ ও ফাঁস করে, তখন তার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া না দেয়ার চেয়ে ভালো। কেননা শরিয়তের অভিপ্রায় হলো পৃথিবীকে পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র করা। অপরাধী ও পাপাচারীরা যখন তা থেকে তওবা করে এবং তার জন্য তাদেরকে তিরস্কার ও শাস্তি দেয়া হয়, তখন পাপাচার থেকে পৃথিবীকে পবিত্রকরণের প্রক্রিয়া চালু ও কার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু যখন ব্যভিচারীর এতটা ধৃষ্টতা প্রকাশ পায় যে, ব্যভিচার করেও তা গোপন করার পরোয়া করেনা, বরং তা প্রকাশিত হওয়াতেও কুণ্ঠিত হয়না, তখন পৃথিবীকে তওবার মাধ্যমে পাপাচারমুক্ত করার আর কোনো নিশ্চয়তা থাকেনা। কাজেই এ ধরনের ধৃষ্টতা ও বেপরোয়াভাব যার মধ্যে দেখা যাবে, তার পাপাচার দূর করার জন্য দ্বিতীয় উপায় অবলম্বন করার আর কোনো বিকল্প থাকবেনা। এই দ্বিতীয় উপায়টি হলো হুদুদ বা শাস্তি। পক্ষান্তরে যে বক্তি অতি সংগোপনে ও অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে ব্যভিচার করে এবং প্রতিবার করার পর অনুতপ্ত হয় সে এক বা একাধিকবার করলেও তা প্রত্যক্ষকারী কর্তৃক লুকিয়ে রাখা মুস্তাহাব।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুসলমানের নিজের দোষ নিজে লুকানো

📄 মুসলমানের নিজের দোষ নিজে লুকানো


বরং প্রত্যেক মুসলমানের নিজের দোষ লুকিয়ে রাখা এবং তা শাসকের নিকট স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে শাস্তি ভোগ করা ও অপমানিত হওয়া থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। ইমাম মালেক মুয়াত্তার বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : হে মানব সকল, এখন সময় এসেছে যেন তোমরা আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাকো। যে কেউ এই নিকৃষ্ট অপরাধের কোনোটিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে, সে যেন আল্লাহর গোপনীয়তার সুযোগ গ্রহণ করে, নিজেকে লুকিয়ে রাখে। তবে যার অপরাধ আমাদের সামনে প্রকাশিত হবে, আমরা তার উপর আল্লাহর কিতাবকে কার্যকরি করবো।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হুদূদকৃত গুনাহের কাফফারা

📄 হুদূদকৃত গুনাহের কাফফারা


অধিকাংশ আলেমের মতে, যখন অপরাধীর উপর হুদুদ কার্যকর করা হবে, তখন তা তার কৃত গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে এবং আখেরাতে তাকে আর শাস্তি দেয়া হবেনা। কেননা উবাদা ইবনে সামেত থেকে বুখারি বর্ণনা করেন : আমরা একটা বৈঠকে রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে ছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন : তোমরা আমার সাথে প্রতীজ্ঞাবদ্ধ হবে যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবেনা, ব্যভিচার করবেনা, চুরি করবেনা এবং ন্যাসঙ্গতভাবে ব্যতীত আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণ বধ করবেনা। যে ব্যক্তি এ প্রতীজ্ঞা পালন করবে, তার প্রতিদান সে আল্লাহর কাছে পাবে। আর যে ব্যক্তি এসব গুনাহের কোনো একটিতে লিপ্ত হবে এবং তার শাস্তি ভোগ করবে, সেটা তার জন্য কাফফারা (গুনাহ মোচনকারী) হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এসব গুনাহের কোনো একটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ তা আড়াল করে রাখবেন (অর্থাৎ বিচার ও শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন) তার বিষয় টা আল্লাহর বিবেচনাধীন। তিনি চাইলে তাকে মাফ করবেন, নচেত শাস্তি দেবেন।"
হদ কার্যকরকরণ একদিকে গুনাহর কাফফারা অপরদিকে একই সাথে তা অন্যদের জন্য হুঁশিয়ারিও। এটা একাধারে পাপ মোচনকারীও, পাপ থেকে সতর্ককারীও।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00