📄 সন্তান পালনের মজুরি
সন্তান পালনের মজুরির বিধি দুধ খাওয়ানোর মজুরির বিধির মতোই। মা যতক্ষণ স্ত্রী কিংবা ইদ্দত পালনরত থাকে, ততদিন এজন্য মজুরির হকদার হয়না। কেননা তখন তো সে দাম্পত্য জীবনের অথবা ইদ্দতকালীন খোরপোষ পায়। আল্লাহ বলেছেন:
وَالْوَالِدَتِ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ ، وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ .
অর্থ: মায়েরা পুরো দুই বছর দুধ পান করাবে তাদের সন্তানদেরকে, যদি পূর্ণ মেয়াদ দুধ পান করাতে চায়। আর পিতার কর্তব্য হলো মায়েদের যথারীতি ভরণ পোষণ করা। (সূরা আল বাকারা: আয়াত ২৩৩)
এ আয়াত থেকেই প্রমাণিত হয়, স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বহাল থাকাকালে ও ইদ্দতকালে সন্তান পালনের জন্য মজুরি প্রাপ্য হয়না। তবে ইদ্দতের পরে মজুরি প্রাপ্য হয়, যেমন প্রাপ্য হয় দুধ পান করানোর জন্য। আল্লাহ বলেছেন:
فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ، فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ ، وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ ، وَإِنْ تَعَاسَرْتُمْ فَسَتُرْضِعُ لَهُ أُخْرَى
অর্থ: যতোদিন তারা সন্তান প্রসব না করে, ততোদিন তাদের খোরপোষ দাও। তারপর তারা যদি তোমাদের অনুকূলে সন্তানকে দুধ পান করায় তবে তাদেরকে তাদের মজুরি দাও। এ ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে যথোচিতভাবে পরামর্শ করবে। তবে এতে যদি তোমরা কষ্ট বোধ করো, তাহলে অন্য কোনো নারী দুধ পান করাবে। (সূরা তালাক : আয়াত ৬)
মা ব্যতিত অন্য যে কোনো মহিলা সন্তান পালনে মজুরি পাওয়ার হকদার, যেমন শিশুকে দুধ পান করানোর জন্য ভাড়াকৃত ধাত্রী মজুরির হকদার হয়ে থাকে। মায়ের যদি নিজস্ব মালিকানাভুক্ত কোনো বাসস্থান না থাকে, যেখানে সে সন্তানের লালন পালন করবে, তাহলে সন্তান পালনের মজুরি ও দুধপান করানোর মজুরির মতো বাসস্থানের ব্যবস্থা করা বা ভাড়ার অর্থ প্রদান করাও পিতার দায়িত্ব। একইভাবে মার যদি কোনো ভৃত্যের প্রয়োজন হয় এবং পিতা সচ্ছল হয়, তবে ভৃত্যের মজুরি দেয়া বা ভৃত্য সরবরাহ করাও পিতার কর্তব্য। শিশুর জন্য বিশেষভাবে যে অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র যথা খাদ্য, বস্ত্র, বিছানা, ওষুধ ইত্যাদি যা না হলে চলেইনা, সেগুলোর কথা স্বতন্ত্র। কেননা সেগুলো সর্বাবস্থায় পিতার সরবরাহ করা কর্তব্য। আর লালন পালনের মজুরি লালন পালনের কাজ যখন শুরু হবে, তখন থেকেই পিতার কাছে প্রাপ্য হবে। পরিশোধ করা বা পাওনাদার কর্তৃক অব্যাহতি দেয়া ব্যতিত এটা কখনো রহিত হবেনা।
📄 বিনা মজুরিতে সন্তান পালন
সন্তানের আপনজনদের মধ্যে এমন কেউ যদি থাকে, যে সন্তান পালনের হকদারও, তদুপরি সে বিনা মজুরিতে তাকে লালন পালনে আগ্রহীও, অথচ তার মা মজুরি ছাড়া লালন পালনে অপারগতা জ্ঞাপন করে, তাহলে দেখতে হবে পিতা সচ্ছল না অসচ্ছল। যদি সচ্ছল হয়, তবে তাকে বাধ্য করা হবে যেন সন্তানের মাকে মজুরি দিয়ে তার লালন পালনের কাজে নিযুক্ত করে এবং শিশুকে বিনা মজুরিতে পালনে আগ্রহী মহিলার নিকট সমর্পণ না করে, বরঞ্চ শিশুকে তার মায়ের কাছেই রাখবে। কেননা পিতা যখন মজুরি দিতে সক্ষম তখন মায়ের লালন পালনই শিশুর জন্য অধিকতর উপযোগী ও উপকারী। পক্ষান্তরে পিতা যদি অস্বচ্ছল হয়। তাহলে সে নিজের অস্বচ্ছলতার কারণে বিনা-মজুরীতে লালন পালনে ইচ্ছুক মহিলার কাছেই শিশুকে সমর্পণ করবে। কেননা সেই মহিলা শিশুর লালন পালনের অধিকার সম্পন্ন নিকটাত্মীয়দেরই একজন।
এই বিধি তখন প্রযোজ্য, যখন পিতার উপর শিশুর খোরপোষ দেয়া ওয়াজিব। কিন্তু যখন শিশুর নিজস্ব কোনো সম্পত্তি থাকে, যা থেকে তার পেছনে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যায়, তখন শিশুকে বিনা মজুরিতে পালনে ইচ্ছুক মহিলার কাছেই সমর্পণ করা হবে। কেননা এতে তার সম্পত্তির সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে। আর পিতা যখন স্বচ্ছল, শিশুর কোনো সম্পত্তিও নেই, তার মা বিনা মজুরিতে তার লালন পালনে অনিচ্ছুক এবং শিশুর মাহরাম আত্মীয়দের মধ্যে বিনা মজুরিতে লালন পালনে ইচ্ছুক কেউ নেই, তখন তার মাকে লালন পালনের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হবে এবং এই মজুরি পিতার উপর ঋণ হিসেবে থাকবে, যা পরিশোধ অথবা অব্যাহতি প্রদান ব্যতিত রহিত হবেনা।
📄 সন্তান পালনের মেয়াদ পূর্ণি
সন্তান লালনের মেয়াদ পূর্ণ হবে তখনই, যখন শিশু মহিলাদের সেবা যত্নের মুখাপেক্ষী থাকবেনা, তার মধ্যে স্বাতন্ত্র্যের চেতনা ও ভালো মন্দ বাছবিচারের ক্ষমতা তৈরি হবে এবং শিশু একা একাই নিজের অত্যাবশ্যকীয় কাজ সমাধা করতে পারবে, যেমন একা একা খাওয়া, একা একা কাপড় পরা এবং একা একাই নিজেকে পরিষ্কার করা ইত্যাদি। এসব কাজের ক্ষমতা কখন তৈরি হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায়না। তাই সন্তান পালনের মেয়াদও কখন পূর্ণ হবে বলা যায়না। প্রকৃতপক্ষে শিশুর ভালো মন্দ বাছবিছারের ক্ষমতা হওয়া ও মহিলাদের সেবা যত্নের অবসান ঘটাই এই মেয়াদপূর্তির সীমা নির্ধারক। শিশু যখন ভালো মন্দ বাছবিচারে সক্ষম হবে, নারীর সেবা যত্নের মুখাপেক্ষী থাকবেনা এবং একা একা নিজের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারবে, তখনই তার লালন পালনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। হানাফি মাযহাবের ফতোয়া হলো, বালকের বয়স যখন সাত বছর এবং বালিকার বয়স নয় বছর পূর্ণ হবে তখনই তার লালন পালনের মেয়াদ সমাপ্ত হবে। বালিকার ক্ষেত্রে তারা দু'বছর বাড়ানো সমীচীন মনে করেছেন এজন্য যেন সে তার পালনকারিণীর কাছ থেকে নারীসুলভ জীবন যাপনের নিয়মাবলী রপ্ত করে নেয়ার সুযোগ পায়। ১৯২৯ সালের মিশরীরা আইনের ২৫ নং আইনের ২০ নং ধারায় সন্তান পালনের বয়স নির্ধারণ নিম্নোক্ত ভাবে করা হয়েছে:
"মহিলাদের দ্বারা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে শিশু পালনের মেয়াদ আদালত সাত থেকে নয় বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ে শিশুর মেয়াদ নয় থেকে এগারো পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটাই শিশুর স্বার্থের দাবি।" কাজেই শিশুর কিসে ভালো হবে, তা নির্ধারণের ভার আদালতের উপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এই আইনের এই ধারাটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: "এখন পর্যন্ত যে কার্যধারা চালু রয়েছে, তা হলো সন্তান পালনের অধিকার ছেলে শিশুর বেলায় সাত বছর বয়সে এবং মেয়ে শিশুর বেলায় নয় বছর বয়সে শেষ হয়।” আসলে এটাই সেই বয়স, যার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এ বয়স পর্যন্ত ছেলে শিশু ও মেয়ে শিশু কোনো না কোনো পালনকারিণীর মুখাপেক্ষী থাকে।
এ বয়স পর্যন্ত মহিলা পালনকারিণীর পরিবর্তে কোনো পুরুষ পালনকারীর নিকট ছেলে শিশু ও মেয়ে শিশু সোপর্দ করা উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে থাকে, বিশেষত যখন তাদের বাবা তাদের মা ব্যতিত অন্য কোনা মহিলাকে বিয়ে করে। তাই এ সময়ে সন্তানদেরকে কেড়ে নেয়ার বিরুদ্ধে মহিলাদেরকে অত্যধিক অভিযোগ করতে দেয়া যায়। হানাফি মযহাবের নীতি নির্ধারণী কথা হলো, ছেলে শিশু যখন মহিলা পালনকারিণীর সেবার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে এবং মেয়ে শিশু যখন যৌবনে উপনীত হবে তখনই তাদেরকে তাদের পিতার হাতে সমর্পণ করা হবে। কিন্তু শিশু কত বছর বয়সে। এই মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত হবে তা নির্ধারণে ফকিহগণ নানাবিধ মত অবলম্বন করেছেন। কারো মতে, মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত হয় সাত বছর বয়সে, কারো মতে নয় বছর বয়সে আবার কেউ বলেন, যৌবনে উপনীত হয় নয় বছর বয়সে, কেউ বলেন, এগারো বছর বয়সে।
পক্ষান্তরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতে, সাত বছর বয়সের পর ছেলে শিশুর এবং নয় বছর বয়সের পর মেয়ে শিশুর স্বার্থ কিভাবে রক্ষিত হবে, সেটা বিবেচনা করার এখতিয়ার আদালতের নিকট অর্পণ করা মঙ্গলজনক। আদালত যদি মনে করে, এ বয়সের পরও তাদের মহিলা পালনকারিণীর অধীন থাকা কল্যাণকর, তাহলে ছেলে শিশুকে আরো দু'বছর বাড়িয়ে নয় বছর পর্যন্ত এবং মেয়ে শিশুকে আরো দু'বছরে বাড়িয়ে এগারো বছর পর্যন্ত মহিলা পালনকারিণীর নিকট রাখার ফায়সালা দিতে পারে। আর যদি আদালত তাদের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা কল্যাণকর মনে করে, তবে উভয়কে কোনো পুরুষ অভিভাবকের নিকট সোপর্দ করতে পারে।” মুসলিম পরিবার আইনের ১৭৫ নং ধারায় রয়েছে যে, পালনকারিণী নারী হলে আদালতও সেক্ষেত্রে অনুরূপ দু'বছর করে সম্প্রসারিত করতে পারে। আদালত ছেলে ও মেয়ে উভয়কে মা বা নানীর কাছে পনেরো বছর বয়স পর্যন্ত থাকার অনুমতিও দিতে পারে। তবে আমাদের মতে, ২৯ সালের ২৫ নং আইনের ২০ নং ধারা অনুসরণ করাই কল্যাণকর, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। -ড. মুহাম্মদ ইউসুফ মূসা।
📄 মুসাদানের আইন
ড. মুহাম্মদ ইউসুফ মূসা উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৩২ সালের ৩৪ নং আইন জারি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সুদানের ইসলামী আদালতে এই বিধি চালু ছিলো যে, ছেলে শিশুর লালন পালনের সর্বশেষ বয়স সাত বছর এবং মেয়ে শিশুর বয়স নয় বছর। পরে ১৯৩২ সালের আইনের প্রথম ধারায় বলা হলো: "আদালত ছেলে শিশুকে সাত বছর থেকে যৌবন পর্যন্ত এবং মেয়ে শিশুকে নয় বছর থেকে স্বামীর বাসর হওয়া পর্যন্ত মহিলা পালনকারিণীর কাছে লালিত পালিত হওয়ার অনুমতি দিতে পারে, যদি জানা যায় যে, তাতেই তার মঙ্গল নিশ্চিত। তবে পালনকারিণীর নিকট পালিত হওয়ার সময়ে পিতা ও অন্য সকল গুরুজন তাকে বিদ্যা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে পারে।" তারপর দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে: “ছেলে শিশুর সাত বছর ও মেয়ে শিশুর নয় বছর বয়সের পর লালন পালনের জন্য কোনো মজুরি দিতে হবেনা।” তৃতীয় ধারায় রয়েছে: "পিতা যদি মেয়েকে লালন পালনের দায়িত্ব থেকে পালনকারিণীকে অব্যাহতি দেয়ার উদ্দেশ্যে বিয়ে দেয়, তবে স্বামীর বাসরে যাওয়া মাত্রই লালন পালনের দায়িত্ব রহিত হবেনা, যতোক্ষণ পালনকারিণী লালন পালনে সক্ষম থাকবে।"
১৯৪২ সালে খারতুম থেকে প্রকাশিত বিধিমালায় যা পাওয়া যায়, তার সংক্ষিপ্ত সার হচ্ছে:
১. ৩৪ নং শরয়ী বিধি বালকের লালন পালনের বয়স যৌবন প্রাপ্তি পর্যন্ত এবং বালিকার লালন পালনের বয়স বাসরে যাওয়া পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এটা আবু হানিফার মতের পরিপন্থী। এটা মালেকি মাযহাবের মতো।
এটা একটা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা অতিক্রম করতে নিম্নোক্ত ব্যবস্থাবলী নেয়া আবশ্যক:
১. আদালত কেবল তখনই লালন পালনের মেয়াদ সম্প্রসারিত করবে, যখন পালনকারিণী আদালতের নিকট পালিত শিশুকে তার নিকট রাখার অনুমতি প্রার্থনা করবে। অনুমতি প্রার্থনার সাথে এটাও উল্লেখ করবে যে, এতেই শিশুর কল্যাণ নিহিত রয়েছে সেই সাথে প্রত্যাশিত কল্যাণের বিবরণও দেবে। অথবা একই কারণে সে যে শিশুকে পালন করছে, তাকে তার পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়ের নিকট সোপর্দ করতে অস্বীকার করবে। পিতৃপক্ষীয় আত্মীয় যখন পালিত শিশুকে তার পালনকারিণীর নিকট রাখতে সম্মত হবেনা, তখন পালনকারিণীকে তার প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে বলা হবে, অথবা আদালত স্বয়ং উক্ত বালক বা বালিকার স্বার্থ ও কল্যাণ কিসে নিহিত, তা তদন্ত করবে। পালনকারিণী যদি প্রমাণাদি উপস্থাপন না করে, অথবা উপস্থাপন করে কিন্তু তা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট হয়না, আর আদালতের নিকটও স্পষ্ট হয়না যে, শিশুকে তার পালনকারিণীর কাছে রাখা কল্যাণকর, তাহলে পালনকারিণী দাবি জানালে আদালত পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়ের কাছ থেকে এই মর্মে শপথ নেবে যে, শিশুকে পালনকারিণীর কাছে রেখে দিলে তার কল্যাণ নিশ্চিত হবেনা সে যদি এভাবে শপথ করে, তাহলে আদালত শিশুকে তার নিকট সমর্পণের ফায়সালা করবে। আর যদি শপথ করতে অস্বীকার করে, তাহলে তার আবেদন অগ্রাহ্য করবে।
২. যদি পালনকারিণী শিশুকে তার পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়ের নিকট সমর্পণের বিরোধিতা না করে, অথবা আদৌ আদালতে হাজির না হয়, তাহলে ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের বিধি অনুসরণ করা আদালতের কর্তব্য। এই বিধি অনুযায়ী লালন পালনের বয়স সীমা অতিক্রান্ত শিশুকে উপযুক্ত বিবেচিত পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়ের নিকট সমর্পণ করা হবে এবং এটা শিশুর স্বার্থের চাহিদা হিসেবেই করা উচিত একথা প্রমাণ করার প্রয়োজন হবেনা।
৩. পালনকারিণী যদি শিশুকে পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়ের নিকট হস্তান্তরের সময় অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সে আদালতের রায়ের বিরোধিতা করতে পারবে এবং শিশুকে তার নিকট রাখার দাবি জানাতে পারবে। সেরূপ ক্ষেত্রে যে পালনকারিণী উপস্থিত থাকে, তার সাথে আদালত যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে, অবিকল সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
৪. আদালত যদি শিশুর কল্যাণের খাতিরে তাকে মহিলাদের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, অতপর কোনো কারণে কল্যাণের পথ পরিবধির্ত হয়ে যায় এবং কিসে তার কল্যাণ হবে, তা নিয়ে পুনরায় বিতর্ক দেখা দেয়, তাহলে পালনকারিণীর কাছে থাকায় শিশুর কোনো কল্যাণ নেই এই মর্মে নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত শিশুকে তার কাছ থেকে নিয়ে পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়ের নিকট হস্তান্তর করার অনুমতি দেবে। (ড. মুহাম্মদ ইউসুফ মূসা: মুসলিম পারিবারিক আইন পৃ. ৫১৬)