📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিয়ে ভঙ্গ না হলেও ইদ্দত পালন জরুরি

📄 বিয়ে ভঙ্গ না হলেও ইদ্দত পালন জরুরি


যে ব্যক্তি সন্দেহের বশে কোনো মহিলার সাথে সহবাস করেছে, সেই মহিলারও ইদ্দত পালন করতে হবে। কেননা সন্তানের বংশ পরিচয়ের ব্যাপারে সন্দেহপূর্ণ সহবাস ও বিয়েজনিত সহবাস একই পর্যায়ের। ইদ্দত পালনও উভয় ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। অবৈধ বিয়েতেও সহবাস সংঘটিত হলে ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। তবে যদি কেউ কোনো মহিলার সাথে ব্যভিচার করে, সে মহিলার উপর ইদ্দত পালন বাধ্যতামূলক নয়। কেননা ইদ্দত বংশ পরিচয় সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট। অথচ ব্যভিচার দ্বারা বংশ পরিচয় সংরক্ষিত হয়না। এটা হানাফি, শাফেয়ি ও সাওরির মত। এটা আবু বকর এবং উমরেরও মত। ইমাম মালেক ও আহমদ বলেন, তার উপরও ইদ্দত পালন ওয়াজিব। তবে তার ইদ্দত তিন হায়েয, না জরায়ু অবমুক্ত হয় এমন এক হায়েয? ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি মতের একটিতে তিন হায়েয এবং অপরটিতে এক হায়েয বলা হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হায়েযের হিসাবে ইদ্দত পালন কখন মাস হিসাবে ইদ্দত পালনে রূপান্তরিত হবে

📄 হায়েযের হিসাবে ইদ্দত পালন কখন মাস হিসাবে ইদ্দত পালনে রূপান্তরিত হবে


হায়েয চালু রয়েছে এমন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ইদ্দতের মধ্যে স্বামী মারা গেলে তালাক রজয়ি কিনা দেখতে হবে। যদি রজয়ি হয়, তাহলে তাকে বিধবার ইদ্দত চার মাস দশ দিন পালন করতে হবে। কেননা সে তখনো তার স্ত্রী এবং রজয়ি তালাক দাম্পত্য সম্পর্ককে নষ্ট করেনা। এজন্য ইদ্দতের মধ্যে দু'জনের মধ্যে যে জনই মারা যাক, উভয়ের মধ্যে পরস্পরের উত্তরাধিকার বণ্টিত হবে।
আর যদি বায়েন তালাক হয়, তবে স্ত্রী হায়েযের হিসাবে তালাকের ইদ্দত পালন করবে। এক্ষেত্রে ইদ্দত বিধবার ইদ্দতে রূপান্তরিত হবেনা। কেননা তালাকের সময় থেকেই দম্পতির দাম্পত্য বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে। বায়েন তালাক দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটায়। তাই স্বামীর যখন মৃত্যু হয়েছে, তখন সে স্বামী ছিলোনা। তাই দু'জনের একজন ইদ্দতের মধ্যে মারা গেলে একজন অপরজনের উত্তরাধিকারী হবেনা। তবে স্বামী যদি পলাতক গণ্য হয়, তাহলে ব্যাপারটা অন্য রকম হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পলাতকের তালাক

📄 পলাতকের তালাক


পলায়নকারীর তালাক বলা হয় সেই বায়েন তালাককে, যা কোনো ব্যক্তি নিজের মৃত্যুশয্যা থেকে স্ত্রীকে তার সন্তুষ্টি ছাড়া দেয়, অতপর সে ইদ্দতে থাকা অবস্থায় স্বামী মারা যায়। এ অবস্থায় উক্ত স্বামীকে পলায়নকারী বলা হয়। কেননা সে তার উত্তাধিকার থেকে পলায়ন করে। এজন্য ইমাম মালেক বলেছেন: স্বামী যদি স্ত্রীর ইদ্দতের পরে এবং অন্য স্বামীকে বিয়ে করার পরও মারা যায়, তবুও এ স্ত্রী তার উত্তরাধিকারী হবে। কেননা সে স্ত্রীকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিল এবং তার এই অন্যায় ইচ্ছার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই স্ত্রীকে উত্তরাধিকার দেয়া হবে।
আবু হানিফা ও মুহাম্মদের মতে এক্ষেত্রে ইদ্দতের বিধি পাল্টে যাবে। তার ইদ্দত হবে তালাকের ইদ্দত ও বৈধব্যের ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর সেটি, যাতে স্ত্রী স্বামীর সেই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, যা স্বামী তালাক দেয়ার মাধ্যমে না দিয়ে পালাতে চেয়েছিল। আবু ইউসুফের মতে, স্ত্রী এক্ষেত্রে তালাকের ইদ্দত পালন করবে। শাফেয়ির মতে, স্ত্রী উত্তরাধিকার পাবেনা যেমন সুস্থাবস্থায় বায়েন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী পায়না। তার যুক্তি হলো, মৃত্যুর পূর্বে তালাক দেয়ার মাধ্যমে দাম্পত্য বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে। কাজেই উত্তরাধিকার লাভের কারণ দূর হয়ে গেছে। পালাতে চেয়েছিল এই ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা শরিয়তের বিধিসমূহ প্রকাশ্য কার্যকারণের সাথে সংশ্লিষ্ট, গোপন নিয়তের সাথে নয়। তবে এ ব্যাপারে সবাই একমত যে, স্বামী যদি তার রুগ্নাবস্থায় স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেয়। অতপর স্ত্রী মারা যায়, তাহলে স্বামী মৃত স্ত্রীর উত্তরাধিকার পাবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মাস থেকে হায়েযের হিসাব ইদ্দতের রূপান্তর

📄 মাস থেকে হায়েযের হিসাব ইদ্দতের রূপান্তর


স্ত্রী যখন অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার কারণে কিংবা বার্ধক্যজনিত হায়েয বন্ধ হওয়ার বয়সে উপনীত হওয়ার কারণে মাস হিসাবে ইদ্দত গণনা শুরু করে, অতপর মাসিক স্রাব শুরু হয়ে যায়, তখন তার জন্য হায়েযের হিসাবে ইদ্দতের রূপান্তর অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কেননা মাসগুলো হায়েযের বিকল্প। মূল হায়েয যখন বন্ধ হয়নি, তখন বিকল্প দিয়ে ইদ্দত পালন জায়েয হবেনা। আর যদি মাসের হিসাবে ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তারপর হায়েয শুরু হয়। তাহলে পুনরায় হায়েয ও পবিত্রতার সমন্বয়ে ইদ্দত গণনা করা জরুরি হবেনা। কেননা এটা সংঘটিত হয়েছে ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর হয়েছে। আর যদি মাস কিংবা হায়েয ও পবিত্রতাবস্থার সমন্বয়ে ইদ্দত গণনা শুরু করে, তারপর সে টের পায় যে, স্বামী দ্বারা সে গর্ভবতী, তাহলে ইদ্দত সন্তান প্রসব পর্যন্ত মেয়াদে রূপান্তরিত হবে। কেননা সন্তান প্রসবই হলো নিশ্চিতভাবে জরায়ু অবমুক্ত হওয়ার অকাট্য প্রমাণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00