📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বার্ধক্যহেতু হায়েয বন্ধ হওয়ার বয়স

📄 বার্ধক্যহেতু হায়েয বন্ধ হওয়ার বয়স


এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন: বার্ধক্যহেতু হায়েয বন্ধ হওয়ার বয়স হচ্ছে পঞ্চাশ বছর। কেউ বলেন: ষাট বছর। তবে প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এটা বিভিন্ন মহিলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: “ঋতু বন্ধ হওয়ার বয়স এক এক মহিলার এক এক রকম। সকল মহিলা একমত হবে, কোনো বয়সসীমা এর জন্য নির্দিষ্ট নেই। সূরা তালাকের ৪নং আয়াতের মর্মার্থ হলো, প্রত্যেক মহিলা নিজেই বুঝতে পারে তার মাসিক স্রাব বন্ধ হয়েছে কিনা। কোনো মহিলা যখন মনে করে, তার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে এবং আর হবেনা, তখন তাকে 'বার্ধক্যজনিত হায়েয বন্ধ' মহিলাদের শ্রেণীভুক্ত করা যাবে, চাই তার বয়স চল্লিশ হোক বা তার কাছাকাছি হোক। কিন্তু অনেকে পঞ্চাশ বছর হলও বন্ধ হয়ে গেছে এবং আর হবেনা, এমন মনে করেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গর্ভবতীর ইদ্দত

📄 গর্ভবতীর ইদ্দত


গর্ভবতীর ইদ্দত সন্তান প্রসবের সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়, চাই সে তালাকপ্রাপ্ত হোক কিংবা বিধবা হোক। কেননা আল্লাহ বলেন:
وَأولاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ .
"গর্ভবতীদের ইদ্দত তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত।” (তালাক, আয়াত ৪)
'যাদুল মায়াদ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সূরা তালাকের ৪নং আয়াতের উপরোক্ত অংশ থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী যখন গর্ভে যমজ সন্তান ধারণ করে, তখন উভয় সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত তার ইদ্দত শেষ হবেনা। তাছাড়া সন্তান জীবিত বা মৃত, অসম্পূর্ণ বা সম্পূর্ণ, প্রাণ সঞ্চালিত বা অসঞ্চালিত, যে রকমই হোক না কেন, সর্বাবস্থায় সন্তান প্রসব মাত্রই ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে।
সুরাইয়া আসলামিয়া রা. বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সা'দ বিন খাওয়ালার স্ত্রী ছিলেন। অতপর তিনি গর্ভবতী থাকা অবস্থায় বিদায় হজ্জের সময় সা'দ মারা গেলেন। তার মৃত্যুর কিছু দিন পর সুবাইয়া সন্তান প্রসব করলেন। তারপর প্রসবোত্তর স্রাব 'নিফাস' থেকে পবিত্র হওয়ার পর তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার উদ্দেশ্যে সাজগোজ করতে আরম্ভ করলেন। এ সময়ে বনু আবদুদ দারের আবুস সানাবিল নামক এক ব্যক্তি তার কাছে গেলো। সে বললো: কী ব্যাপার? আপনাকে সাজগোজ করতে দেখছি যে। আপনি বোধ হয় বিয়ের আশা করেন? আল্লাহর কসম, আপনি চার মাস দশ দিন অতিবাহিত না করে বিয়ে করতে পারবেননা। সুরাইয়া বলেন: একথা শুনে আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে গেলাম এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সন্তান প্রসব করা মাত্রই আমি হালাল হয়ে গিয়েছি এবং আমি ইচ্ছে করলে বিয়ে করার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিলেন।" ইবনে শিহাব বলেন: সন্তান প্রসবের সাথে সাথেই স্ত্রীর বিয়ে করায় কোনো বাধা দেখিনা, এমনকি প্রসবোত্তর স্রাবের ভেতরেও নয়। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্বামী তার কাছে যেতে পারবে না। -বুখারি, মুসলিম, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ।
সূরা বাকারার ২৩৪ নং আয়াতে যে ইদ্দতের (চার মাস দশ দিন) উল্লেখ রয়েছে, আলেমগণ তাকে অগর্ভবতী বিধবার জন্য এবং সূরা তালাকের ৪নং আয়াতের ইদ্দতকে (সন্তান প্রসব পর্যন্ত যার মেয়াদ) গর্ভবতীদের ইদ্দত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং দ্বিতীয় আয়াত প্রথম আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিধবার ইদ্দত

📄 বিধবার ইদ্দত


যে মহিলার স্বামী মারা গেছে, তার ইদ্দত চার মাস দশদিন, যদি সে গর্ভবতী না হয়। কেননা সূরা বাকারার ২৩৪ নং আয়াতে সুস্পষ্টভাবে একথা বলা হয়েছে। স্বামী যদি তাকে রজয়ি তালাক দিয়ে ইদ্দতের মধ্যে মারা গিয়ে থাকে, তবে সে বিধবার ইদ্দত পালন করবে। কেননা স্বামী যখন মারা গেছে, তখন ঐ মহিলা তার স্ত্রী ছিলো।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইস্তাহাযা রোগিণীর ইদ্দত

📄 ইস্তাহাযা রোগিণীর ইদ্দত


যে মহিলার ইস্তিহাযা রোগ রয়েছে, সে হায়েয অনুযায়ী ইদ্দত পালন করবে। তার যদি কোনো নিয়ম বা অভ্যাস থেকে থাকে, তবে স্রাব ও পবিত্রতা উভয় ব্যাপারে তার নিয়ম পালন করা জরুরি। এভাবে তিন হায়েয অতিবাহিত হওয়ার পর তার ইদ্দত শেষ হবে। আর যদি বার্ধক্যজনিত কারণে হায়েয বন্ধ থাকে, তবে তার ইদ্দত তিন মাস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00