📄 'কুরু' তথা হায়েয ও পবিত্রবস্থায় উভয়টি দ্বারা ইদ্দত পালনের নূন্যতম সময়
শাফেয়ি মাযহাবের মতে, একজন স্বাধীন মহিলা হায়েয ও পবিত্রাবস্থা উভয়ের সম্মিলনে ন্যূনতম যে মেয়াদ ইদ্দত পালন করতে পারে, তা হচ্ছে বত্রিশ দিন এক ঘণ্টা। সেটি এভাবে যে, স্বামী পবিত্রাবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেবে এবং তালাকের পর পবিত্রাবস্থার এক ঘণ্টা সময় অবশিষ্ট থাকবে। সেই এক ঘণ্টা হবে পবিত্রবস্থা। তারপর একদিন হায়েয হবে, তারপর পনেরো দিন পবিত্র থাকবে। এটা তার দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থা। তারপর পুনরায় একদিন হায়েয হবে। অতপর পনেরো দিন পবিত্র থাকবে। এটা তার তৃতীয় পবিত্রাবস্থা। এরপর যখন সে তৃতীয় হায়েযে প্রবেশ করবে, তখন তার ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে।
পক্ষান্তরে আবু হানিফার মতে, ন্যূনতম মেয়াদ ষাট দিন। আর তাঁর দুই শিষ্যের নিকট ঊনচল্লিশ দিন। ইমাম আবু হানিফার মতানুসারে সে দশ দিনব্যাপী হায়েয দিয়ে ইদ্দত পালন শুরু করবে, যা হায়েযের সর্বাধিক মেয়াদ। তারপর পনেরো দিনের পবিত্রতা, পুনরায় দশ দিনের হায়েয, অতপর পুনরায় পনেরো দিনের পবিত্রতা। অতপর তৃতীয় হায়েয, যার মেয়াদ দশ দিন। এভাবে মোট ইদ্দত দাঁড়ালো ষাট দিন। এই মেয়াদ যখন শেষ হলো এবং স্ত্রী দাবি করলো যে, তার ইদ্দত শেষ হয়েছে, তখন সে অন্য স্বামীর জন্য হালাল হবে।
পক্ষান্তরে আবু হানিফার শিষ্যদ্বয় প্রত্যেক হায়েয বাবদ তিন দিন গণনা করেন, যা তার, ন্যূনতম মেয়াদ, আর তিন হায়েযের মধ্যবর্তী দুটি পবিত্রাবস্থার প্রত্যেকটির জন্য পনেরো দিন গণনা করেন। এভাবে মোট ইদ্দত দাঁড়ায় ৩৯ দিন।
📄 ঋতুবতীর (যার হায়েয এখনো হয়নি) ইদ্দত
স্ত্রী যদি অঋতুবতী হয় তবে তার ইদ্দt তিন মাস। এটা অপ্রাপ্তবয়স্কা বালিকা এবং মাসিক স্রাবের বয়স পেরিয়ে যাওয়া বৃদ্ধা উভয়ের বেলায় প্রযোজ্য, চাই তার আদৌ মাসিক স্রাব না হয়ে থাকুক, অথবা মাসিক স্রাব হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকুক। এর প্রমাণ ইতিপূর্বে উল্লিখিত সূরা তালাকের ৪ নং আয়াত দ্রষ্টব্য।
ইবনে আবি হাশেম তার তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে, উবাই বিন কা'ব বলেন: আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, কুরআনে আল্লাহ অপ্রাপ্তবয়স্কা, বৃদ্ধা ও গর্ভবতী মহিলাদের ইদ্দত সম্পর্কে কিছু না বলায় মদিনার কিছু লোক নানা কথা বলে। তখন আল্লাহ সূরা তালাকের ৪নং আয়াত নাযিল করলেন। ঐ আয়াতে বলা হয়েছে, গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত তার সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যখন প্রসব করবে, তখন তার ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে।
জারিরের বর্ণনার ভাষা এরকম: "আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, মহিলাদের ইদ্দত সম্পর্কে সূরা বাকারার আয়াত নাযিল হওয়ার পর মদিনার কিছু লোক বললো: কুরআনে কিছু সংখ্যক মহিলার ইদ্দত উল্লেখ করা হয়নি। তারা হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্কা, হায়েযের বয়স পেরিয়ে যাওয়া বৃদ্ধা এবং গর্ভবতী নারীগণ। তখন আল্লাহ সূরা তালাকের ৪নং আয়াত নাযিল করলেন।
📄 ঋতুবতী মহিলার যখন ঋতু হয় না তখন কী করবে?
পবিত্রাবস্থায় বিরাজমান মহিলা যখন তালাকপ্রাপ্ত হয় অথচ সে যথানিয়মে হায়েয দেখতে পায় না এবং তার কারণও তার জানা নেই। তখন সে এক বছর ইদ্দত পালন করবে। প্রথমে নয় মাস অপেক্ষা করবে, যাতে তার জরায়ু ভ্রূণমুক্ত আছে কিনা জানতে পারে। কেননা এটাই প্রধানতঃ গর্ভের মেয়াদ। এর মধ্যে যখন গর্ভ প্রকাশ পেলনা, তখন তার জরায়ু ভ্রূণমুক্ত আছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো। এরপর সে মাসিক স্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বৃদ্ধা মহিলাদের ইদ্দত তিন মাস পালন করবে। এটা ছিলো উমর রা.-এর ফায়সালা। ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: এটা ছিলো মুহাজির ও আনসারদের মাঝে উমর রা.-এর ফায়সালা। কেউ এটা অস্বীকার করেছে বলে আমাদের জানা নেই।
📄 বার্ধক্যহেতু হায়েয বন্ধ হওয়ার বয়স
এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন: বার্ধক্যহেতু হায়েয বন্ধ হওয়ার বয়স হচ্ছে পঞ্চাশ বছর। কেউ বলেন: ষাট বছর। তবে প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এটা বিভিন্ন মহিলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: “ঋতু বন্ধ হওয়ার বয়স এক এক মহিলার এক এক রকম। সকল মহিলা একমত হবে, কোনো বয়সসীমা এর জন্য নির্দিষ্ট নেই। সূরা তালাকের ৪নং আয়াতের মর্মার্থ হলো, প্রত্যেক মহিলা নিজেই বুঝতে পারে তার মাসিক স্রাব বন্ধ হয়েছে কিনা। কোনো মহিলা যখন মনে করে, তার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে এবং আর হবেনা, তখন তাকে 'বার্ধক্যজনিত হায়েয বন্ধ' মহিলাদের শ্রেণীভুক্ত করা যাবে, চাই তার বয়স চল্লিশ হোক বা তার কাছাকাছি হোক। কিন্তু অনেকে পঞ্চাশ বছর হলও বন্ধ হয়ে গেছে এবং আর হবেনা, এমন মনে করেনা।