📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইদ্দতের শ্রেণীবিভাগ

📄 ইদ্দতের শ্রেণীবিভাগ


ইদ্দত কয়েক প্রকারের: ১. হায়েযধারী মহিলার ইদ্দত এবং এটা তিন হায়েয পর্যন্ত। ২. হায়েযের বয়স পেরিয়ে যাওয়া মহিলার ইদ্দত এবং এটা তিন মাস। ৩. স্বামী মারা যাওয়া মহিলার ইদ্দত। এটা চার মাস দশ দিন, যদি গর্ভবতী না হয়। ৪. গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত। এটা সন্তান প্রসব পর্যন্ত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হয়নি তার ইদ্দত

📄 যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হয়নি তার ইদ্দত


যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হয়নি, তাকে তালাক দেয়া হলে তার কোনো ইদ্দত পালন করতে হবেনা। আল্লাহ বলেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُونَهَا অর্থ: "হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিয়ে করবে, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেবে, তখন তাদেরকে তোমাদের জন্যে কোনো ইদ্দত পালন করতে হবেনা।” (সূরা আহযাব: আয়াত ৪৯)
আর যদি সহবাস করা হয়নি এমন স্ত্রীর স্বামী মারা যায়, তাহলে তাকে সহবাস করা হয়েছে এমন স্ত্রীর মতোই ইদ্দত পালন করতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন: وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يتربص بِأَنْفُسِمِنْ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا . "যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীর চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করতে হবে।” স্বামীর সহবাস ব্যতীত তার উপর ইদ্দত পালন বাধ্যতামূলক হওয়ার উদ্দেশ্য হলো মৃত স্বামীর প্রতি আনুগত্য ও মমত্ব প্রদর্শন এবং তার হক আদায় করা। (চার মাস দশ দিন ইদ্দত নির্ধারণের আরো কারণ হলো, এই সময়ে সন্তানের সৃষ্টি পূর্ণতা লাভ করে এবং ১২০ দিন পর তার ভেতরে রূহ সঞ্চালিত হয়। দশ দিন বাড়নোর কারণ হলো, চাঁদ মাস কমও হয়ে থাকে। তাই সাবধানতাবশত এই দশ দিন বাড়িয়ে রাখা হয়, যাতে কমতি পূর্ণ হয়।)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সহবাস করা হয়েছে এমন স্ত্রীর ইদ্দত

📄 সহবাস করা হয়েছে এমন স্ত্রীর ইদ্দত


হানাফি, হাম্বলী ও খুলাফায়ে রাশেদীনের মতে, নিভৃতে স্বামীর সাথে একত্রিত হয়েছে এমন স্ত্রীকেও সহবাসকৃত স্ত্রী গণ্য করা হবে এবং তার উপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব হবে। কিন্তু শাফেয়ির নতুন মত অনুসারে তার উপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব হবেনা। সহবাস করা হয়েছে এমন স্ত্রী আবার দুই প্রকারের: হায়েযধারী, অ-হায়েযধারী।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হায়েযধারীর ইদ্দত

📄 হায়েযধারীর ইদ্দত


হায়েযধারীর ইদ্দত তিন হায়েয পর্যন্ত। কেননা আল্লাহ বলেছেন: "তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীরা তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।" আয়াতে যে قروء 'কুরু' শব্দটি রয়েছে। তা 'কুরউন'-এর বহুবচন, অর্থাৎ হায়েয। (যদিও এর অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে) কিন্তু ইবনুল কাইয়েমের মতে, এর অর্থ হায়েযই অগ্রগণ্য। কুরআন ও হাদিসের কোথাও এটি পবিত্রতা অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। তাই এর যে অর্থটি সুপরিচিত, সেটা গ্রহণ করাই উত্তম বরং অপরিহার্য। কেননা রসূলুল্লাহ সা. ইস্তিহাজা রোগিণীকে বলেছিলেন: "তোমার হায়েযের দিনগুলোতে নামায পড়োনা।" রসূলুল্লাহ সা. আল্লাহর ভাষাই ব্যবহার করতেন এবং তার জাতির ভাষায়ই কুরআন নাযিল হয়েছে। কাজেই তিনি যখন তার হাদিসের কোনো এক জায়গায় কোনো দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করে তার দুই অর্থের একটি বুঝান, তখন তার অন্যান্য হাদিসেও সেই শব্দ দ্বারা ঐ অর্থটাই গ্রহণ করতে হবে। যতোক্ষণ তার কোনো হাদিসেই অন্য কোনো অর্থ বুঝিয়েছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়না, এরূপ ক্ষেত্রে ঐ শব্দটি কুরআনের ভাষায় পরিণত হবে যদিও কুরআন ব্যতিত অন্য কোনো ভাষায় ঐ শব্দের অন্য কোনো অর্থ থেকেও থাকে। যখন প্রমাণিত হলো যে, শরিয়তের ভাষায় 'কুরউন' শব্দের অর্থ হায়েয, তখন জানা গেলো যে, এটাই শরিয়তের ভাষা। কাজেই শরিয়তের সর্বত্র এই শব্দের ঐ অর্থই গ্রহণ করা হবে। আয়াতের পরবর্তী বাক্যে আল্লাহর উক্তি :
وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِن
"স্ত্রীদের জন্য বৈধ নয় যে, তাদের জরায়ুতে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা তারা গোপন করবে।” অধিকাংশ মুফাসসিরের নিকট এ জিনিসটা হলো হায়েয ও ভ্রূণ। বস্তুত জরায়ুতে যে ভ্রূণ সৃষ্ট হয় তা হচ্ছে আকৃতি বিশিষ্ট হায়েয। প্রাচীন ও সাম্প্রতিককালের মনিষীগণ এ কথাই বলেছেন। কেউ বলেননি যে, এটা 'তুর' বা পবিত্রাবস্থা। তাছাড়া মহান আল্লাহ সূরা তালাকের ৪নং আয়াতে বলেছেন:
وَاللَّى يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلْثَةُ أَشْهُرٍ وَالَّتِي لَمْ يَعِضُنَ ، وأولاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِ يُسْراه
অর্থ: তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের হায়েয হওয়ারর আর সম্ভাবনা নেই, তাদের ব্যাপারে তোমাদের সন্দেহ থাকলে তাদের ইদ্দত তিন মাস। আর এখনো যাদের হায়েয হয়নি, তাদেরও ইদ্দত তিন মাস। আর গর্ভবতীদের ইদ্দত সন্তান প্রসব পর্যন্ত।” (তালাক: ৪)
কাজেই দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ এক এক হায়েযের বাবদ এক এক মাস নির্ধারণ করেছেন এবং হায়েয না হওয়ার উপর বিধি ঝুলন্ত রেখেছেন, হায়েয ও পবিত্রাবস্থা উভয়টি না হওয়ার উপর নয়। অন্যত্র বলেছেন:
فَطَلِقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِن
"তাদের ইদ্দতের জন্য তাদেরকে তালাক দাও।” অর্থাৎ তাদের ইদ্দতকে সামনে রেখে, ইদ্দতের মধ্যে নয়। বস্তুত যে ইদ্দতের জন্য স্ত্রীদেরকে তালাক দেয়া হয়, তা যখন তালাকের পরে তাদের সামনে আসে, তখন তালাকের পর যেটা আসে, সেটা হায়েয ছাড়া অন্য কিছু নয়। একজন পবিত্র নারী পবিত্রাবস্থার মুখোমুখি হয়না। বরং পবিত্রাবস্থার মধ্যেই থাকে। সে যে পবিত্রাবস্থায় রয়েছে, সেটার পরই সে হায়েযের মুখোমুখি হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00