📄 ইদ্দতের সংজ্ঞা
ইদ্দত শব্দটি আদদ অর্থাৎ সংখ্যা ও গণনা থেকে এসেছে। নারী যে সকল দিন ও হায়েয গণনা করে তাই ইদ্দত। ইদ্দত সেই সময়ের নাম, যার অতিবাহিত হওয়ার জন্য স্ত্রী অপেক্ষায় থাকে এবং তার স্বামীর মৃত্যু বা স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর যে সময়ে অন্য স্বামীকে বিয়ে করা থেকে সে বিরত থাকে। এই ইদ্দত শুরু হয় তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর সময় থেকে। ইদ্দত জাহেলি যুগেও প্রচলিত ছিলো। তারা প্রায় সকলেই এটা মেনে চলতো। ইসলাম এসে এটিকে বহাল রাখে। কারণ এতে অনেক কল্যাণ ও উপকারিতা রয়েছে। আলেমগণ নিম্নোক্ত আয়াতের আলোকে এটিকে ওয়াজিব বলে আখ্যায়িত করেছেন: وَالْمُطَلَّقَت يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلْثَةَ قُرُوءٍ . "তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীগণ তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।” (আল বাকারা, ২২৮) তাছাড়া রসূলুল্লাহ সা. তালাকপ্রাপ্ত ফাতেমা বিনতে কায়েসকে বলেছিলেন: "তুমি উম্মে মাকতুমের বাড়িতে ইদ্দত পালন করো।"
📄 শরিয়তে ইদ্দতের যৌক্তিকতা
ক. জরায়ু ভ্রূণমুক্ত কিনা তা জ্ঞাত হওয়া, যাতে করে সন্তানের বংশ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তে না যায়। খ. স্বামী স্ত্রী যদি নিজেদের বৃহত্তর কল্যাণের খাতিরে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্বহাল করতে চায়, তবে সেজন্য তাদেরক সুযোগ দেয়া। গ. এরূপ ধারণা দেয়া যে, বিয়ে একটা মর্যাদাসম্পন্ন বিষয়, যা সংঘটিত করাও কঠিন এবং ভাংতেও দীর্ঘ সময় লাগে। এ রকম না হলে এটা একটা ছেলে খেলায় পর্যবসিত হতো, যা মুহূর্তেই জোড়া লাগে, আবার মুহূর্তেই বিচ্ছিন্ন হয়। ঘ. স্বামী স্ত্রী উভয়ে এ আকদকে স্থায়ী করতে দৃঢ় সংকল্প না হলে বিয়ের সার্থকতা থাকেনা। তবে এমন কিছু যদি ঘটেই যায়, যা দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ অনিবার্য করে তোলে, তাহলেও মোটামুটিভাবে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার জন্য অপেক্ষমান থাকার একটা মেয়াদ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সেই সময়টা স্ত্রীর জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করে অপেক্ষমান থাকতে হয়। (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা)
📄 ইদ্দতের শ্রেণীবিভাগ
ইদ্দত কয়েক প্রকারের: ১. হায়েযধারী মহিলার ইদ্দত এবং এটা তিন হায়েয পর্যন্ত। ২. হায়েযের বয়স পেরিয়ে যাওয়া মহিলার ইদ্দত এবং এটা তিন মাস। ৩. স্বামী মারা যাওয়া মহিলার ইদ্দত। এটা চার মাস দশ দিন, যদি গর্ভবতী না হয়। ৪. গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত। এটা সন্তান প্রসব পর্যন্ত।
📄 যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হয়নি তার ইদ্দত
যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হয়নি, তাকে তালাক দেয়া হলে তার কোনো ইদ্দত পালন করতে হবেনা। আল্লাহ বলেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُونَهَا অর্থ: "হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিয়ে করবে, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেবে, তখন তাদেরকে তোমাদের জন্যে কোনো ইদ্দত পালন করতে হবেনা।” (সূরা আহযাব: আয়াত ৪৯)
আর যদি সহবাস করা হয়নি এমন স্ত্রীর স্বামী মারা যায়, তাহলে তাকে সহবাস করা হয়েছে এমন স্ত্রীর মতোই ইদ্দত পালন করতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন: وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يتربص بِأَنْفُسِمِنْ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا . "যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীর চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করতে হবে।” স্বামীর সহবাস ব্যতীত তার উপর ইদ্দত পালন বাধ্যতামূলক হওয়ার উদ্দেশ্য হলো মৃত স্বামীর প্রতি আনুগত্য ও মমত্ব প্রদর্শন এবং তার হক আদায় করা। (চার মাস দশ দিন ইদ্দত নির্ধারণের আরো কারণ হলো, এই সময়ে সন্তানের সৃষ্টি পূর্ণতা লাভ করে এবং ১২০ দিন পর তার ভেতরে রূহ সঞ্চালিত হয়। দশ দিন বাড়নোর কারণ হলো, চাঁদ মাস কমও হয়ে থাকে। তাই সাবধানতাবশত এই দশ দিন বাড়িয়ে রাখা হয়, যাতে কমতি পূর্ণ হয়।)