📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 লি'আন কে প্রথমে করবে?

📄 লি'আন কে প্রথমে করবে?


আলেমদের সর্বসম্মত মত হলো, লি'আনে স্ত্রীর আগে পুরুষের সাক্ষ্য দেয়া সুন্নত। কিন্তু এটা ওয়াজিব কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। শাফেয়ি প্রমুখের মতে, এটা ওয়াজিব। স্বামীর আগে স্ত্রী লি'আন করলে তা গৃহিত হবেনা। তার যুক্তি এই যে, শরিয়তে লি'আনের প্রচলন হয়েছেই পুরুষের উপর থেকে শাস্তি রহিত করার জন্য। স্ত্রীকে দিয়ে এটা শুরু হলে যা রহিত হয়, তা রহিত হবার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আবু হানিফা ও মালেকের মতে, স্ত্রীকে দিয়ে শুরু করা হলে তা শুদ্ধ ও গৃহিত হবে। তাদের যুক্তি এই যে, আল্লাহ কুরআনে স্বামী ও স্ত্রীর লি'আনকো, (এবং) দ্বারা যুক্ত করেছেন, যা ধারাবাহিকতার দাবি করেনা, বরং দু'জনেরই লি'আন করতে হবে এটাই শুধু বুঝায়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 লি'আন থেকে নিবৃত্ত থাকা বা পিছু হটা

📄 লি'আন থেকে নিবৃত্ত থাকা বা পিছু হটা


লি'আন থেকে স্বামী অথবা স্ত্রী যে কোনো একজন পিছু হটতে পারে। স্বামী যদি পিছু হটে, তবে তার উপর "ইদ্দুল কাযাফ" তথা অপবাদের শাস্তি আরোপিত হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন: "যারা তাদের স্ত্রীদের উপর ব্যভিচারের অভিযোগ আরোপ করে, অথচ তারা নিজেরা ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই, তাহলে তাদের একজনের সাক্ষ্যই হবে আল্লাহর নামে শপথপূর্বক চারবার এই বলে সাক্ষ্য দেয়া যে, সে যা বলছে সত্য বলছে।" (সূরা নূর, আয়াত ৬) এ থেকে প্রমাণিত হলো যে, সে যখন শপথপূর্বক চারবার অনুরূপ সাক্ষ্য দিলনা, তখন সে অপবাদ দেয়ার ব্যাপারে একজন তৃতীয় ব্যক্তির মতো। ইতিপূর্বে রসূল সা.-এর এ হাদিস উদ্ধৃত করা হয়েছে: হয় সাক্ষী আনো, নয়তো তোমার পিঠে শাস্তি পড়বে। (অর্থাৎ অপবাদের শাস্তি ৮০ ঘা বেত) এ হচ্ছে তিন ইমামের মাযহাব। কিন্তু আবু হানিফা বলেন: স্বামীকে অপবাদের শাস্তি দেয়া হবেনা, তবে যতোক্ষণ সে লি'আন না করে অথবা নিজেকে মিথ্যুক না বলে, ততোক্ষণ তাকে আটক রাখা হবে। নিজেকে মিথ্যুক বলে স্বীকার করলে তাকে অপবাদের শাস্তি দেয়া হবে। আর স্ত্রী যখন লি'আন থেকে পিছু হটে, তখন মালেক ও শাফেয়ির মতানুসারে তার ওপর ব্যভিচারের শাস্তি কার্যকর করা হবে। আবু হানিফা বলেন: শুধু পিছু হটলেই ব্যভিচারের শাস্তি দেয়া যাবেনা, বরং তাকে বন্দী করা হবে, যতোক্ষণ লি'আন কিংবা স্বামীর অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার- এই দুটোর একটা না করবে। যদি স্বীকার করে, তবে ব্যাভিচারের শাস্তি দেয়া হবে।
আবু হানিফার প্রমাণ হলো, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তিনটি অপরাধের যে কোনো একটা করা ব্যতীত কোনো মুসলমানের রক্তপাত হালাল নয়: "বিয়ের পর ব্যভিচার, ঈমানের পর কুফরী, হত্যার দায়ে দোষী হওয়া ব্যতিত কাউকে হত্যা করা।" তাছাড়া নিছক কসম খেতে অস্বীকার করার কারণে রক্তপাত করা শরিয়তে অনুমোদন করেনা। যেহেতু বহু সংখ্যক ফকিহ শপথ করতে অস্বীকার করার কারণে কাউকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা জরুরি মনে করেননা। তাই ঐ কারণে রক্তপাতের তো প্রশ্নই উঠেনা।
ইবনে রুশদ বলেন: মোটকথা, শরিয়তে রক্তপাতের মূলনীতির ভিত্তি হলো, অকাট্য প্রমাণ অথবা স্বীকারোক্তি ব্যতিত কারো রক্তপাত বৈধ নয়। কাজেই এই বিধিতে আবু হানিফাই সঠিক মত দিয়েছেন এবং আল বুরহান গ্রন্থে এই বিধিতে আবু হানিফার মতের শক্তিমত্তার প্রতি ইমাম শাফেয়িও স্বীকৃতি দিয়েছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 লি'আনকারী স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ

📄 লি'আনকারী স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ


স্বামী স্ত্রী উভয়ে যখন লি'আন করে, তখন তাদের মাঝে চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ সংঘটিত হয়। কোনো অবস্থায়ই তাদের এই বিচ্ছেদের অবসান ঘটেনা। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: লি'আনকারী স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সংঘটিত হওয়ার পর তারা আর কখনো একত্রিত হতে পারবেনা। আলী ও ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন: লি'আনকারী স্বামী স্ত্রী আর কখনো একত্রিত হবেনা- এ সুন্নতই প্রচলিত হয়ে আসছে। -দার কুতনি।
তাছাড়া যেহেতু তাদের মধ্যে এমন ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়ে গেছে, যা তাদের উভয়ের মধ্যে চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ অনিবার্য করে তুলেছে এবং পারস্পরিক মমত্ব, ভালোবাসা ও শান্তি, যা দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত, তা ধ্বংস হয়ে গেছে, তাই শরিয়ত তাদের উভয়কে চিরবিচ্ছেদের শাস্তি দিয়েছে। স্বামী যদি পরবর্তীতে নিজেকে মিত্যাবাদী বলে স্বীকারোক্তি দেয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে, তাদের মধ্যে আর কখনো মিলন হতে পারবেনা। ইতিপূর্বে উদ্ধৃত হাদিসগুলোও এর সমর্থক। আবু হানিফা বলেন: সে যদি মিথ্যা বলেছে বলে স্বীকার করে, তাহলে তাকে অপবাদের শাস্তি হিসেবে বেত্রদণ্ড দেয়া হবে। তবে নতুন করে ঐ স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারবে। আবু হানিফার যুক্তি হলো, সে যখন নিজেকে মিথ্যুক বলে স্বীকার করেছে, তখন লি'আন বাতিল হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সে সন্তানের পিতা হিসেবেও স্বীকৃত হবে এবং স্ত্রীকেও তার নিকট ফেরত দেয়া হবে। কেননা নিষিদ্ধ হওয়ার মূল কারণ ছিলো দু'জনের একজন সত্যবাদী ও অপরজন মিথ্যাবাদী বলে নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে একটা অজ্ঞতার সৃষ্টি হওয়া। কিন্তু যখন প্রকৃত ব্যাপার জানা গেলো, তখন আর কেউ কারো জন্য নিষিদ্ধ রইলনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিচ্ছেদ কখন সূচিত হবে?

📄 বিচ্ছেদ কখন সূচিত হবে?


ইমাম মালেকের মতে, স্বামী স্ত্রী যে মুহূর্তে পরস্পরের প্রতি লি'আন সম্পন্ন করবে, সেই মুহূর্তেই বিচ্ছেদ ঘটে যাবে। শাফেয়ির মতে, স্বামী লি'আন সম্পন্ন করা মাত্রই বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। কিন্তু আবু হানিফা আহমদ ও সাওরির মতে, যখন শাসক বিচ্ছেদের ফায়সালা করবেন তখনই বিচ্ছেদ ঘটবে, তার আগে নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00