📄 লি'আন কখন করতে হয়?
দুই অবস্থায় লি'আন জরুরি হয়ে থাকে:
১. যখন স্বামী স্ত্রীকে ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত করবে এবং তার অভিযোগের পক্ষে স্বামী নিজে ছাড়া প্রয়োজনীয় চারজন সাক্ষী না থাকবে।
২. যখন স্বামী স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তানকে নিজের ঔরসজাত বলে স্বীকার করবেনা।
প্রথম অবস্থায় লি'আন তখনই বিধিসম্মত হবে যখন স্বামী স্ত্রী ব্যভিচার করেছে মর্মে নিশ্চিত হবে। যেমন, তাকে ব্যভিচার করতে দেখেছে, অথবা স্ত্রী ব্যভিচার করেছে বলে স্বীকার করেছে এবং স্বামীর মনে এর সত্যতা সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে। এরূপ ক্ষেত্রে লি'আন না করে শুধু তালাক দেয়াই উত্তম। কিন্তু ব্যভিচারের ব্যাপারে নিশ্চিত না হলে স্ত্রীকে ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত করা জায়েয নয়। গর্ভ অস্বীকার করলে লি'আন জায়েয হবে তখনই, যখন স্বামী দাবি করবে যে, বিয়ের পর সে একবারও স্ত্রীসঙ্গম করেনি, অথবা এই মর্মে দাবি করবে যে, স্ত্রী সংগমের পর ছয় মাসের পূর্বে কিংবা এক বছরের চেয়ে বেশি সময় পরে সন্তান প্রসব করেছে।
📄 সরকারি বা স্বীকৃত বিচারকই লি'আনের সিদ্ধান্ত দেবে
লি'আনে শাসকের প্রতিনিধির উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। তার আগে স্ত্রীকে কিছু সদুপদেশ দেয়া তার কর্তব্য। প্রতিনিধির উপদেশ হওয়া চাই আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজায় বর্ণিত এ হাদিসটির মতো: "যে মহিলা কোনো পরিবারে এমন সন্তান এনে ঢুকাবে, যে সন্তান ঐ পরিবারের বংশধর নয়। তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবেনা এবং আল্লাহ কখনো তাকে জান্নাতে প্রবেশ করবেননা। আর যে পুরুষ তার সন্তানকে অস্বীকার করবে অথচ সে নিশ্চিত যে, সে তারই ঔরসজাত সন্তান, (কেয়ামতের দিন) আল্লাহ তার কাছ থেকে আড়ালে থাকবেন এবং তাকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সামনে অপমানিত করবেন।"
📄 লি'আনের শর্ত
লি'আনে শাসকের বা তার প্রতিনিধির উপস্থিতির ন্যায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়াও শর্ত। এটি ফকিহদের সর্বসম্মত মত।
📄 সাক্ষী পাওয়ার পর লি'আন চলবে কিনা?
স্বামী যদি ব্যভিচারের উপর সাক্ষী হাজির করে, তাহলে আবু হানিফা ও দাউদের মত লি'আন জায়েয হবেনা। কেননা লি'আন সাক্ষীর বিকল্প। কারণ আল্লাহ বলেছেন: "যারা তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ আনে, অথচ তারা ছাড়া আর কোনো সাক্ষী থাকে না....।" ইমাম মালেক ও শাফেয়ির মতে লি'আন চলবে। কেননা বিছানা দ্বারা সন্তানের বংশ পরিচয়ের স্বত্বসিদ্ধতার উপর সাক্ষীর কোনো প্রভাব পড়েনা।