📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যিহারের ফলাফল

📄 যিহারের ফলাফল


স্বামী যখন বিধিসম্মতভাবে স্ত্রীর সাথে যিহার করে, তখন তার দু'টো ফল দেখা দেয়। প্রথমত: যিহারের কাফফারা না দেয়া পর্যন্ত স্ত্রী সহবাস হারাম। কেননা আল্লাহ বলেছেন: “উভয়ের মিলন হওয়ার পূর্বেই কাফফারা দিতে হবে।” আর যেহেতু সহবাস নিষিদ্ধ, তাই যেসব কাজ সহবাসে উদ্বুদ্ধ করে, যেমন চুম্বন, আলিঙ্গন ইত্যাদি, তাও নিষিদ্ধ। এটা অধিকাংশ আলেমের অভিমত। সাওরি ও শাফেয়ির মতে, কেবল সহবাস নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয়ত: যিহার প্রত্যাহার করতে হলে কাফফারা ওয়াজিব হবে। এই প্রত্যাহারের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কাতাদাহ, সাঈদ বিন জুবাইর, আবু হানিফা ও তার শিষ্যগণ বলেন: যিহার দ্বারা নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া স্ত্রীর সাথে সহবাসের ইচ্ছা করাই যিহার প্রত্যাহার। কেননা সে এই ইচ্ছা করা মাত্রই তার যিহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এবং সহবাস করতে চেয়েছে। চাই তা কার্যতঃ করুক বা না করুক।
শাফেয়ি বলেন: যিহারের পর স্ত্রীকে এতটা সময় বহাল রাখা, যে সময়ে তালাক দেয়া যায়। অথচ তালাক না দেয়া- এটাই প্রত্যাহার। কেননা স্ত্রীকে মায়ের সদৃশ বলার দাবিই হলো, তাকে চির বিদায় করা। তাকে বহাল রাখা যিহারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাই তাকে যখন বহাল রেখেছে, তখন সে যা বলেছে, তা থেকে ফিরে এসেছে ধরে নেয়া যায়। কেননা কোনো কথা প্রত্যাহার করার অর্থই হলো, তার বিরোধিতা করা। ইমাম মালেক ও আহমদ বলেন: এই প্রত্যাহারের অর্থ সহবাস করার ইচ্ছা করা। চাই করুক বা না করুক।
দাউদ, শু'বা ও যাহেরি মাযহাবের ইমামগণ বলেছেন: প্রথমবার যিহারে কাফফারা দিতে হয়না। দ্বিতীয়বার যিহার করলেই কাফফারা দিতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কাফফারা দেয়ার আগে স্ত্রী সহবাস

📄 কাফফারা দেয়ার আগে স্ত্রী সহবাস


কাফফারা দেয়ার আগে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম। কাফফারা কখনো রহিতও হয়না, বৃদ্ধিও পায়না। বরং একটা কাফফারা হিসেবেই তা বহাল থাকে। সালত বিন দিনার বলেছেন: আমি দশজন ফকিহকে জিজ্ঞাসা করেছি যিহারকারী কাফফারা দেয়ার আগে সহবাস করলে কী হবে। তারা বলেছেন: একটা কাফফারাই দিতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যিহারের কাফফারা

📄 যিহারের কাফফারা


যিহারের কাফফারা হলো, একজন গোলামকে স্বাধীন করা, অন্যথায় বিরতিহীনভাবে দু'মাস রোযা রাখা, নচেত ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ানো। কেননা আল্লাহ বলেছেন:
وَالَّذِينَ يُظْهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِّنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا ، ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ ، وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا ، فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَاطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ،
অর্থ: যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে, তারপর তা থেকে ফিরে আসতে চায়, তারা যেন সহবাসের পূর্বে একজন গোলাম মুক্ত করে। এটা তোমাদের জন্য সদুপদেশ। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত রয়েছেন। যে ব্যক্তি এটা করতে অক্ষম, সে যেন সহবাসের পূর্বে বিরতিহীনভাবে দু'মাস রোযা রাখে। যে ব্যক্তি এটাও পারেনা, সে যেন ষাটজন দরিদ্রকে আহার করায়। (সূরা মুজাদালাহ, ৩-৪)
যিহারের কাফফারায় কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য দাম্পত্য সম্পর্কের হেফাজত এবং স্ত্রীর উপর যুলুম প্রতিরোধ। কারণ স্বামী যখন দেখবে যে, কাফফারা দেয়া তার জন্য কঠিন, তখন দাম্পত্য সম্পর্ককে সম্মান দেখাবে ও স্ত্রীর উপর যুলুম করবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00