📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খুলা কারিণীর ইদ্দত

📄 খুলা কারিণীর ইদ্দত


সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত, খুলার ইদ্দত এক হায়েয। সাবেতের ঘটনায় রসূল সা. তাকে বললেন: “তোমার কাছে তোমার স্ত্রীর যা প্রাপ্য, তা তুমি নিয়ে নাও এবং ওকে মুক্ত করে দাও।” সাবেত বললেন, ঠিক আছে। অতপর রসূল সা. তার স্ত্রীকে এক হায়েয ইদ্দত পালনের পর বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার আদেশ দিলেন। (নাসায়ী)
এটা উসমান, ইবনে আব্বাস, আহমদ, ইসহাক বিন রাহওয়াই ও ইবনে তাইমিয়ার মত। ইবনে তাইমিয়া বলেন: “যে ব্যক্তি এ বক্তব্য নিয়ে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে, এটাই শরিয়ত সম্মত। কেননা ইদ্দত করা হয়েছে তিন হায়েয, যাতে প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘ সময় পাওয়া যায়। স্বামী চিন্তাভাবনা করে ইদ্দতের মধ্যে প্রত্যাহার করতে পারবে। যদি প্রত্যাহার না হয়, তবে এর উদ্দেশ্য জরায়ুকে ভ্রূণ থেকে মুক্ত করা। সে ক্ষেত্রে একটা হায়েযই ইদ্দত হিসেবে যথেষ্ট।"
ইবনুল কাইয়েম বলেছেন: এটা আমীরুল মুমিনীন উসমান, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, রুবাঈ বিনতে মুয়াওয়ায ও তার চাচা, যিনি একজন বিশিষ্ট সাহাবি, এদের সকলের মত। এই চারজন সাহাবির সাথে কেউ ভিন্নমত পোষণ করেছেন বলে জানা যায়না। যেমন নাফে থেকে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন রুবাঈ বিন মুওয়ায আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে জানিয়েছেন, তিনি অর্থাৎ রুবাঈ উসমান বিন আফফানের আমলে স্বামীর কাছ থেকে খুলা করেছিলেন। এরপর তার চাচা উসমান রা.-এর নিকট এলেন। তাকে বললেন: মুওয়াবেযের মেয়ে আজ তার স্বামীর কাছ থেকে খুলা করেছে। সে কি স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসবে? উসমান (রা) বললেন: অবশ্যই চলে আসবে। উপরন্তু তাদের কেউ কারো উত্তরাধিকারী হবেনা এবং স্ত্রীর ইদ্দতও পালন করতে হবেনা। তবে একটা হায়েয অতিবাহিত না করে সে বিয়ে করতে পারবেনা। কেননা তার গর্ভে সন্তান থাকতে পারে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এরপর বললেন: উসমান রা. আমাদের সবার চেয়ে উত্তম ও সবার চেয়ে জ্ঞানী। "আন নাসেখ ওয়াল মানসুখ" নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটা সাহাবিদের সর্বসম্মত মত। কিন্তু অধিকাংশ আলেমের মতে, খুলাকারিণী যদি হায়েযের বয়সী হয় তবে তার ইদ্দত তিন হায়েয।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামীর রূঢ় আচরণ

📄 স্বামীর রূঢ় আচরণ


স্ত্রী যখন নিজের রোগব্যাধি, বার্ধক্য কিংবা কুৎসিত চেহারার কারণে স্বামীর অসদাচরণ বা উপেক্ষার আশংকা করে, তাহলে তারা উভয়ে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে একটা আপোস করে নিলে কোনো দোষ নেই। এ ধরনের আপোসে যদি স্ত্রীকে নিজের কিছু অধিকার ছেড়ে দিতে হয়, তবে তাও দেয়া যেতে পারে। কেননা আল্লাহ বলেন: وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا طَ وَالصُّلْحُ خَيْرٌ অর্থ: যদি কোনো মহিলা তার স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ বা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে তারা উভয়ে নিজেদের মধ্যে একটা আপোস করে নিলে তাতে কোনো পাপ নেই। বরঞ্চ আপোসই ভালো।" (সূরা নিসা: আয়াত ১২৮)
বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা রা. এ আয়াত সম্পর্কে বলেন: “এ হচ্ছে সেই মহিলা, যে স্বামীর নিকট অবস্থান করে, স্বামী তার কাছে বেশি সঙ্গ আশা করেনা, অতপর তালাক দিতে চায় এবং তার বর্তমানে অন্য বিয়ে করতে চায়, তখন স্ত্রী বলে, আমাকে বহাল রাখো, তালাক দিওনা, আমার বর্তমানে আরেকজনকে বিয়ে করো। আমার খোরপোষ ও আমার কাছে থাকার পালা তুমি যেভাবে চাও বণ্টন করো।” আবু দাউদ আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেন: উম্মুল মুমিনীন সওদা বিনতে যাময়া যখন বুড়ি হয়ে গেলেন এবং আশংকা করলেন যে, রসূল (সা) তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন, তখন বললেন: “হে রসূলুল্লাহ, আমার দিনটি আয়েশার জন্য।" এ প্রস্তাব রসূলুল্লাহ সা. গ্রহণ করলেন। আয়েশা রা. বলেন, এ ঘটনা প্রসঙ্গেই আল্লাহ নাযিল করলেন, "যদি কোনো মহিলা তার স্বামীর পক্ষ থেকে উপেক্ষার আশংকা করে--"
আল মুগনিতে বলা হয়েছে: স্ত্রী যখন নিজের খোরপোষ বা পালার কোনো অংশ বা পুরোপুরি ত্যাগ করে স্বামীর সাথে আপোষে করে, তখন তা জায়েয। পরে সে যদি একে প্রত্যাহার করে, তবে তাও সে করতে পারে।
স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে অবস্থান করে এমন স্বামী সম্পর্কে আহমদ বলেন, স্বামী যদি তাকে বলে, তুমি যদি আমার এই অনুপস্থিতি মেনে নাও, তবে ভালো। নচেত তুমি কী করবে, তা তুমিই ভালো জানো।" তখন স্ত্রী যদি বলে, আমি এটা মেনে নিলাম, তবে এটা জায়েয। এরপর স্ত্রী যদি তার এই সম্মতি প্রত্যাহার করে, তবে তাও করতে পারে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামী স্ত্রীর অবনিবনা

📄 স্বামী স্ত্রীর অবনিবনা


স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যখন অবনিবনা হয়, বৈরিতা প্রবল হয়। বিচ্ছেদ ঘটানোর আশংকা দেখা দেয় এবং দাম্পত্য জীবন ভাঙ্গনের সম্মুখীন হয়, তখন সংশ্লিষ্ট শাসক তাদের অবস্থা পরিদর্শন করতে দু'জন সালিশ পাঠাবেন। তাদের দাম্পত্য জীবন বহাল রাখা মঙ্গলজনক হলে তারা তাই করবে। আর বিচ্ছেদ ঘটানো মঙ্গলজনক হলে তাই করবে। আল্লাহ বলেন: وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا جِ "তোমরা যদি তাদের মধ্যে অবনবিনার আশংকা করো, তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিশ এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ পাঠাও।" সালিশ দু'জনের সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, ন্যায়পরায়ণ ও মুসলমান হওয়া শর্ত। তবে তাদের উভয়ের পরিবারের সদস্য হওয়া জরুরি নয়। দুই পরিবারের বাহির থেকে হলেও তা বৈধ হবে। আয়াতে আদেশের ভংগীতে যা বলা হয়েছে তা আসলে মুস্তাহাব বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে। কারণ পরিবারের সদস্য চলমান ঘটনাবলী সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞাত ও সংশ্লিষ্ট দম্পতির প্রতি অধিকতর সহানুভূতিশীল হয়ে থাকে। দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল রাখা অথবা ভেঙ্গে দেয়া এ দুটির মধ্যে সালিশদ্বয় যেটি কল্যাণকর বিবেচনা করবেন, দম্পতির সম্মতি বা ক্ষমতাদানের অপেক্ষা না করেই তা করতে পারবেন। এ মত আলি, ইবনে আব্বাস, আবু সালমা, শা'বি, নাখয়ি, সাঈদ বিন জুবাইর, মালেক, আওযায়ি, ইসহাক ও ইবনুল মুনযিরের। (স্ত্রীর অসদাচরণ সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00