📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বাহ্য বিষয়ের অপ্রাপ্ত বয়স্কার খুলা

📄 বাহ্য বিষয়ের অপ্রাপ্ত বয়স্কার খুলা


বাছবিচারের ক্ষমতাহীন অপ্রাপ্তবয়স্কা স্ত্রীর খুলা আদৌ তালাক হিসেবে কার্যকর হয়না। কেননা তালাক গ্রহণের যোগ্যতা রাখে এমন ব্যক্তি একে গ্রহণ করেনি। অথচ এই গ্রহণ করার উপর তালাক নির্ভরশীল।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দেনদেনের অধিকার রহিত স্ত্রীর খুলা

📄 দেনদেনের অধিকার রহিত স্ত্রীর খুলা


ফকিহগণ বলেছেন, যখন নির্বুদ্ধিতার কারণে স্ত্রীর লেনদেনের অধিকার রহিত হয়, তখন যদি তার স্বামী অর্থের বিনিময়ে তার সাথে খুলা করে এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তাহলে ঐ অর্থ দিতে স্ত্রী বাধ্য থাকবেনা এবং তার উপর রজয়ি তালাক কার্যকর হবে। কেননা অর্থ দানের যোগ্যতা না থাকার দিক দিয়ে সে ভালোমন্দ বাছবিচারের ক্ষমতাসম্পন্না অপ্রাপ্তবয়স্কা স্ত্রীর মতো। তবে সে গ্রহণ করার যোগ্য।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপ্রাপ্ত বয়স্কা স্ত্রীর অভিভাবক ও তার স্বামীর মধ্যে খুলা

📄 অপ্রাপ্ত বয়স্কা স্ত্রীর অভিভাবক ও তার স্বামীর মধ্যে খুলা


অপ্রাপ্তবয়স্কা স্ত্রীর স্বামী ও অভিভাবকের মধ্যে যখন খুলা হবে, তখন তার উপর তালাক পড়ে যাবে, তবে অর্থ দান তার জন্যও বাধ্যতামূলক নয়, তার অভিভাবকের জন্যও নয়। এর উদাহরণ এ রকম : অপ্রাপ্তবয়স্কা মেয়ের পিতাকে তার স্বামী বললো, আপনার মেয়ের সাথে তার মোহরের বিনিময়ে কিংবা স্ত্রীর সম্মতি থেকে একশ' পাউন্ডের বিনিময়ে খুলা করছি। এক্ষেত্রে পিতা বিনিময় দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ না করেই বলেছে, গ্রহণ করলাম।
এখানে তালাক কার্যকর হবে এজন্য যে, শতযুক্ত তালাক শর্তপূরণ হলেই কার্যকর হয়। পিতা বা অভিভাবকের পক্ষ থেকে গ্রহণ করাটাই ছিলো এখানে শর্ত, যা পূর্ণ হয়েছে। পক্ষান্তরে অর্থ প্রদানে স্ত্রী বাধ্য না হওয়ার কারণ হলো, সে অর্থ দান করার যোগ্য নয়। পিতার বাধ্য না হওয়ার কারণ হলো, তিনি এই বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেননি। গ্রহণ করা ছাড়া এ বাধ্যতবাধকতা আরোপিত হয়না। তবে তিনি গ্রহণ করলে ও নিশ্চয়তা দিলে দিতে বাধ্য হবেন। কেউ কেউ বলেন, এক্ষেত্রে তালাক পড়বেনা। কেননা এর জন্য শর্ত হলো, বিনিময় গ্রহণ করা, যা বাস্তবে ঘটেনি। এ উক্তি বাহ্যত সঠিক। কিন্তু প্রথমোক্ত মতই অনুসৃত হয়ে আসছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 রোগিণীর খুলা

📄 রোগিণীর খুলা


মৃত্যুমুখি রোগিণীর খুলা যে বৈধ, সে ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। সে সুস্থের মতই স্বামীর সাথে খুলা করতে পারে। তবে কী পরিমাণ বিনিময় স্বামীকে দিতে পারবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ স্বামীর মন রক্ষা করতে গিয়ে উত্তরাধিকারীদের ক্ষতিসাধন করা থেকে তাকে বিরতে থাকতে হবে। ইমাম মালেক বলেছেন, এই বিনিময়টা স্ত্রীর পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে স্বামীর প্রাপ্য উত্তরাধিকারের চেয়ে বেশি হতে পারবেনা। বেশি হলে তা ফেরত দিতে হবে এবং তালাক কার্যকর হবে। আর স্বামী সুস্থ থাকা অবস্থায় উভয়ের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকার লেনদেন হবেনা। হাম্বলীদের মত মালেকীদের মতোই। উত্তরাধিকারের চেয়ে বেশি বিনিময় দিলে তা বাতিল হবে। শাফেয়ি বলেছেন, মহরে মিসলের সমপরিমাণ বিনিময় দিয়ে খুলা করলে জায়েয হবে। তার চেয়ে বেশি দিলে উত্তরাধিকারের এক তৃতীয়াংশ থেকে দিতে হবে এবং তা ঐচ্ছিক দান গণ্য হবে। হানাফিগণ স্ত্রীর মালিকানাধীন সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের বেশি বিনিময় না দেয়ার শর্তে খুলা জায়েয বলেছেন। তাদের মতে, এটা ঐচ্ছিক দান গণ্য হবে। মৃত্যুমুখি ব্যক্তির রোগশয্যা থেকে দান ওসিয়ত গণ্য হয়ে থাকে। আর ওসিয়ত কোনো তৃতীয় ব্যক্তির জন্য করলে তা এক তৃতীয়াংশ থেকেই করতে হবে। নচেত কার্যকর হবেনা। খুলার কারণে স্বামী তৃতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়। তারা বলেন, ইদ্দতকালে খুলাকারী রোগিণী যদি মারা যায়, তবে নিম্নোক্ত জিনিসগুলোর মধ্যে যেটি ন্যূনতম, তা তার স্বামীর প্রাপ্য হয়: খুলার বদলা বা বিনিময়, স্ত্রীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ এবং স্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্য স্বামীর মোট উত্তরাধিকার। কেননা স্ত্রীর মৃত্যুমুখি অসুস্থতার সময়ে স্বামীর প্রতি প্রায়ই অনুরক্ত হয়ে যায় এবং তার জন্য মোটা অংকের অর্থ খুলার বিনিময় হিসেবে দিতে রাজি হয়, যা তার পাওনা উত্তরাধিকারের চেয়ে বেশি। কাজেই স্ত্রীর উত্তরাধিকারীদের পাওনা রক্ষার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের খাতিরে এবং স্বামীর মন রক্ষার উদ্দেশ্যে আমরা বলেছি যে, স্ত্রী যদি ইদ্দতের মধ্যে মারা যায় তাহলে স্বামী উক্ত তিনটির মধ্যে যেটি সর্বনিম্নে, তা পাবে। আর যদি ঐ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে এবং মারা না যায়, তাহলে নির্ধারিত বিনিময়ের পুরোটাই স্বামী পাবে। কেননা তার ঐ কাজটা যে মরণব্যাধির সময়ে হয়নি, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু সে যদি ইদ্দত শেষ হবার পর মারা যায়, তাহলে স্বামী উভয়ের সম্মতিতে নির্ধারিত খুলার বিনিময় পাবে। কিন্তু শর্ত এই যে, তা যেন তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের বেশি না হয়। কেননা এটা ওসিয়তের সমপর্যায়ের।
বর্তমানে মিশরে ১৯৪৬ সালের আইন চালু হওয়ার পর আদালতে যে ব্যবস্থা চলছে, তা হলো, স্বামী খুলার বিনিময় ও স্ত্রীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ এই দুটির যেটি ন্যূনতম, সেটি পায়, চাই স্ত্রী ইদ্দতের মধ্যে মারা যাক বা ইদ্দতের পরে মারা যাক। কেননা এই আইন উত্তরাধিকারী ও অনুত্তরাধিকারী উভয়ের জন্য ওসিয়ত বৈধ করেছে। এ আইনে অনূর্ধ এক তৃতীয়াংশের মধ্য থেকে ওসিয়ত কার্যকর হবে এবং তা কারো অনুমতি সাপেক্ষ হবেনা। এ কারণে স্বামীর প্রাপ্য বিনিময়ের চেয়ে বেশি দিয়ে স্বামীর প্রতি অনুরাগ প্রদর্শন করতে স্ত্রীকে বাধা দেয়ার ও বিরত রাখার প্রয়োজন পড়েনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00