📄 পবিত্রাবস্থায় ও হায়েয চলাকালে খুলা জায়েয
পবিত্রাবস্থা ও হায়েয উভয় অবস্থায় খুলা জায়েয। এর জন্য কোনো ধরা বাঁধা সময় নির্দিষ্ট নেই। কেননা আল্লাহ এর জন্য কোনো সময় নির্দিষ্ট করেননি। তিনি বলেছেন: "স্ত্রী যা কিছু মুক্তিপণ দেয়, তার বিনিময়ে খুলা করা দম্পতির জন্য বৈধ।" তাছাড়া, রসূলুল্লাহ সা. সাবেতের স্ত্রীর জন্য যখন খুলার ফায়সালা দিলেন, তখন স্ত্রীর অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেননি। অথচ মহিলাদের যে কোনো সময় হায়েয থাকা কোনো বিরল ব্যাপার নয়।
ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: "পরিস্থিতির বিভিন্নতার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা যাচাই বাছাই এর কোনো উদ্যোগ না নেয়া থেকে বুঝা যায় যে, খুলা সকল অবস্থায়ই হতে পারে। রসূল সা. জানতে চাননি মহিলা হায়েয অবস্থায় রয়েছে কিনা। বস্তুত হায়েয অবস্থায় যা নিষিদ্ধ তা হলো তালাক, যাতে স্ত্রীর ইদ্দতকাল প্রলম্বিত না হয়। অথচ খুলা ঠিক তার বিপরীত ব্যাপার। এখানে স্ত্রীই বিচ্ছেদ প্রার্থনা করে, খুলা চায় এবং স্বেচ্ছায় দীর্ঘ বিচ্ছেদে সম্মত হয়।
📄 স্বামী ও তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যে খুলা
তৃতীয় কোনো ব্যক্তি যদি স্বামীর সাথে এই মর্মে একমত হয় যে, সে তার স্ত্রীর সাথে খুলা করবে এবং এই তৃতীয় ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি দেয় যে, সে স্বামীকে খুলার বিনিময় প্রদান করবে। তাহলে বিচ্ছেদ কার্যকর হবে এবং উক্ত তৃতীয় ব্যক্তি স্বামীকে প্রতিশ্রুত বিনিময় দিতে বাধ্য থাকবে। এক্ষেত্রে খুলা স্ত্রীর সম্মতির উপর নির্ভরশীল থাকবেনা। কেননা স্বামী তার স্ত্রীর সম্মতি ব্যতিরেকে স্বউদ্যোগে তালাক দেয়ার অধিকারী। বিনিময় দেয়াটা সেই ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক, যে তা দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। আবু সাওরের মতে, এটা বৈধ নয়। কেননা এটা একটা শঠতা। তৃতীয় ব্যক্তিটি এমন স্থানে বিনিময় দিচ্ছে, যার বদলায় সে কোনো মুনাফা পাবেনা। মালেকীদের কোনো কোনো ফকিহ এক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছেন যে, কোনো সদুদ্দেশ্য সাধন কিংবা কোনো অকল্যাণ প্রতিরোধ এর উদ্দেশ্য হওয়া চাই। যদি স্ত্রীর ক্ষতিসাধন এর উদ্দেশ্য হয়, তবে বৈধ হবেনা। 'মাওয়াহিবুল জলিল' নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক স্বামীকে বিনিময় দানের পশ্চাতে উক্ত তৃতীয় ব্যক্তির এমন কোনো উপকার বা কল্যাণ লাভ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্য থাকা চাই, যা দ্বারা স্ত্রীর ক্ষতিসাধন কাম্য না হয়।"
📄 খুলা নারীর কর্তৃত্ব নিজের হাতে এনে দেয়
অধিকাংশ আলেম, বিশেষত চার ইমামের অভিমত হলো, পুরুষ যখন তার স্ত্রীর সাথে খুলা করে, তখন স্ত্রীর নিজের উপর কর্তৃত্ব লাভ করে। এরপর পুরুষ আর তা প্রত্যাহার করতে পারেনা। কেননা স্ত্রী দাম্পত্য বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই অর্থ ব্যয় করেছে। স্বামীর যদি এটা প্রত্যাহার করার ক্ষমতা থাকতো তবে তার অর্থ ব্যয় করে স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হওয়ার কোনো সার্থকতা থাকতোনা। এমনকি স্বামী যদি স্ত্রীর কাছ থেকে নেয়া মুক্তিপণ ফিরিয়েও দেয় এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তথাপি স্বামী ইদ্দতের মধ্যে খুলা প্রত্যাহার করতে পারবেনা। কেননা খুলার মাধ্যমে তার উপর বায়েন তালাক পড়ে গেছে এবং সে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীর কাছ থেকে নেয়া অর্থ বা দ্রব্য ফেরত দিতে হবে এবং প্রত্যাহারের উপর সাক্ষী রাখতে হবে। তবে এক্ষেত্রে স্ত্রী সম্মত থাকলে তার ইদ্দতকালে তাকে নতুন আকদের মাধ্যমে বিয়ে করা স্বামীর জন্য জায়েয।
📄 বুদ্ধিহীনা বালিকার খুলা
হানাফিদের মতে, স্ত্রী যদি অপ্রাপ্তবয়স্কা বালিকা হয়, কিন্তু ভালোমন্দ বাছবিচারের ক্ষমতাসম্পন্না হয় তখন স্বামী তার সাথে খুলা করলে তার উপর রজয়ি তালাক পড়বে এবং স্ত্রী কোনো অর্থ দিতে বাধ্য থাকবেনা। তালাক পড়ার কারণ হলো, স্বামী তালাক সম্বলিত যে উক্তি করে, তার অর্থ স্ত্রী গ্রহণ করার উপর তালাক নির্ভরশীল। তালাক যিনি দিয়েছেন, তিনি তালাক দেয়ার যোগ্য। তাই তালাককে নির্ভরশীল করা বৈধ। আর যার উপর নির্ভরশীল, তা হলো, তা গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখে এমন ব্যক্তি কর্তৃক তা গ্রহণ করা এবং তা এখানে বিদ্যমান। কারণ গ্রহণ করার যোগ্যতা সৃষ্ট হয় ভালোমন্দ বাছবিচারের ক্ষমতা থেকে। স্ত্রী যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্কা হলেও ভালোমন্দ বাছবিচারের ক্ষমতাসম্পন্না, তাই তার গ্রহণযোগ্যতা বিদ্যমান। আর এটা বিদ্যমান বলেই এর উপর নির্ভরশীল তালাক কার্যকর হবে। স্ত্রীর উপর অর্থদানের বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণ হলো, সে অপ্রাপ্তবয়স্কা বিধায় দান করার যোগ্য নয়। কেননা দান করার যোগ্যতার জন্য প্রাপ্তবয়স্কতা বুদ্ধিমত্তা এবং রোগ বা নিবুদ্ধিতাজনিত লেনদেনের অধিকার রহিত না হওয়া শর্ত। তালাকটা রজয়ি হওয়ার কারণ হলো, অর্থ দেয়ার বাধ্যবাধকতা প্রমাণিত না হওয়ায় তালাক আর্থিক বিনিময় ছাড়াই সংঘটিত হয়েছে। আর এ ধরনের তালাক রজয়িই হয়ে থাকে।