📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামী স্ত্রীর সম্মতিক্রমে খুলা

📄 স্বামী স্ত্রীর সম্মতিক্রমে খুলা


স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের সম্মতিতেই খুলা হওয়া উচিত। কিন্তু স্বামী সম্মত না হলে আদালত তাকে বাধ্য করতে পারবে। কেননা সাবেত ও তার স্ত্রী যখন রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে তাদের বিরোধ মিমাংসার জন্য গিয়েছিলেন, তখন রসূল সা. সাবেতকে বাগান গ্রহণপূর্বক তালাক দিতে বাধ্য করেছিলেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খুলাতে স্ত্রীর বিক্ষুব্ধ হওয়াই যথেষ্ট

📄 খুলাতে স্ত্রীর বিক্ষুব্ধ হওয়াই যথেষ্ট


শওকানি বলেছেন: খুলা সম্পর্কে যে সকল হাদিস রয়েছে, তা থেকে সামগ্রিকভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, শুধুমাত্র স্ত্রীর বিক্ষোভ ও অসন্তোষ খুলার জন্য যথেষ্ট। ইবনুল মুনযিরের মতে, উভয়ের ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছাড়া খুলা জায়েয হবেনা। তিনি আয়াতের প্রকাশ্য ও আক্ষরিক অর্থই গ্রহণ করেছেন। তাউস, শাবি ও তাবেয়িদের একটি দল এই মতের সমর্থক। তাবারী প্রমুখসহ তাবেয়িদের আরেকটি দল এর জবাবে বলেন: আয়াতের তাৎপর্য হলো, স্ত্রী যখন স্বামীর অধিকার দেয়না, তখন সেটা তার প্রতি স্বামীর বিক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ কারণে বিক্ষোভটিকে স্ত্রীর বিক্ষোভ বলে উল্লেখ করা হয়। সাবেতের স্ত্রী যখন স্বামীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলো, তখন স্ত্রীর প্রতি সাবেতের কোনো ক্ষোভ আছে কিনা, এ কথা রসূল সা.-এর জিজ্ঞাসা না করা থেকে প্রতীয়মান হয়, স্বামীর ক্ষোভ এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খুলা নিতে বাধ্য করার জন্য স্ত্রীর প্রতি দুর্ব্যবহার করা হারাম

📄 খুলা নিতে বাধ্য করার জন্য স্ত্রীর প্রতি দুর্ব্যবহার করা হারাম


স্ত্রীর কিছু কিছু অধিকার দিতে অস্বীকার করে তাকে কষ্ট দেয়া ও নির্যাতন করা, যাতে সে উত্যক্ত ও দিশেহারা হয়ে খুলা করতে বাধ্য হয়, স্বামীর উপর হারাম। এমন কাজ করলে খুলা বাতিল হবে এবং প্রদত্ত বিনিময় ফেরত দিতে হবে। এমন কি আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে দিয়ে থাকলেও ফেরত দিতে হবে। এটা হারাম করা হয়েছে এজন্য, যেন স্ত্রীর উপর একই সাথে স্বামীহারা হওয়া ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া- এই দ্বিবিধ বিপদ একত্রিত না হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْمًا ، وَ لَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضٍ مَا أَتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ : ج অর্থ: হে মুমিনগণ, জবরদস্তিমূলকভাবে নারীদেরকে উত্তরাধিকার গণ্য করা তোমাদের জন্য হালাল নয়। আর তাদেরকে তোমরা যা কিছু ইতিপূর্বে দিয়েছ, তা ফেরত নেয়ার উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখোনা ও নিপীড়ন করোনা।" (সূরা নিসা : আয়াত ১১)
وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ لا و أَتَيْتُمْ إِحْدهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا ، أَتَأْخُذُولَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًاه অর্থ: আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে চাও এবং তাদের একজনকে প্রচুর অর্থও দিয়ে থাকো, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করোনা। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য অন্যায়ের মাধ্যমে তা গ্রহণ করবে?"
কতক আলেমের মতে, আটক রাখা ও নির্যাতন করা হারাম হলেও খুলা এ ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে ইমাম মালেকের মতে খুলা কার্যকর হবে তালাক হিসেবে। আর স্ত্রীর কাছ থেকে গৃহীত বিনিময় ফেরত দেয়া স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পবিত্রাবস্থায় ও হায়েয চলাকালে খুলা জায়েয

📄 পবিত্রাবস্থায় ও হায়েয চলাকালে খুলা জায়েয


পবিত্রাবস্থা ও হায়েয উভয় অবস্থায় খুলা জায়েয। এর জন্য কোনো ধরা বাঁধা সময় নির্দিষ্ট নেই। কেননা আল্লাহ এর জন্য কোনো সময় নির্দিষ্ট করেননি। তিনি বলেছেন: "স্ত্রী যা কিছু মুক্তিপণ দেয়, তার বিনিময়ে খুলা করা দম্পতির জন্য বৈধ।" তাছাড়া, রসূলুল্লাহ সা. সাবেতের স্ত্রীর জন্য যখন খুলার ফায়সালা দিলেন, তখন স্ত্রীর অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেননি। অথচ মহিলাদের যে কোনো সময় হায়েয থাকা কোনো বিরল ব্যাপার নয়।
ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: "পরিস্থিতির বিভিন্নতার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা যাচাই বাছাই এর কোনো উদ্যোগ না নেয়া থেকে বুঝা যায় যে, খুলা সকল অবস্থায়ই হতে পারে। রসূল সা. জানতে চাননি মহিলা হায়েয অবস্থায় রয়েছে কিনা। বস্তুত হায়েয অবস্থায় যা নিষিদ্ধ তা হলো তালাক, যাতে স্ত্রীর ইদ্দতকাল প্রলম্বিত না হয়। অথচ খুলা ঠিক তার বিপরীত ব্যাপার। এখানে স্ত্রীই বিচ্ছেদ প্রার্থনা করে, খুলা চায় এবং স্বেচ্ছায় দীর্ঘ বিচ্ছেদে সম্মত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00