📄 স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া জিনিসের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু দিয়ে খুলা করা
অধিকাংশ ফকিহ্র মতে, খুলার বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে ইতিপূর্বে স্ত্রীকে যা কিছু দিয়েছিল তার চেয়ে বেশি জিনিস আদায় করতে পারবে। কেননা আল্লাহ বলেছেনঃ فَلاَ يَحِلُّ لَهٗ اَنْ يَّاْخُذَ مِمَّآ اٰتٰـهُنَّ شَيْـًٔا “স্ত্রী মুক্তিপণ হিসেবে যা কিছুই দেয়, তার ভিত্তিতে খুলা করা দম্পতির জন্য বৈধ।” (আল বাকারা, ২২৯) এখানে ‘যা কিছু’ শব্দ ব্যাপক অর্থবোধক। কম বা বেশি যাই হোক এর আওতাভুক্ত। বায়হাক্বি আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেন : “আমার বোন জনৈকা আনসারী স্ত্রী ছিলো। একদিন উভয়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এলো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার স্বামীর দেয়া বাগানটা কি তাকে ফেরত দেবে? সে বললো: জি। আরো কিছু বেশি দেবো। অতঃপর সে তার বাগান ও অতিরিক্ত কিছু দিলো। (হাদিস বিশারদগণ এ হাদিসকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন)
কিছু সংখ্যক আলেমের মতে, স্বামী স্ত্রীকে যা কিছু দিয়েছিল তার চেয়ে বেশি আদায় করা তার জন্য বৈধ নয়। কেননা দার কুতনিতে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে: “আবূ যুবাইর বললেন: আমি ওকে (স্ত্রীকে) একটা বাগান মোহর হিসেবে দিয়েছিলাম। রসূলুল্লাহ সা. তার স্ত্রীকে বললেন: তোমাকে যে বাগানটি সে দিয়েছিল তা কি তুমি তাকে ফেরত দেবে? সে বললো: হ্যাঁ, আরো বেশি দেবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: বেশি দিতে হবেনা। তবে ওর বাগানটা দিয়ে দাও। মহিলা বললো: ঠিক আছে। এই বিধিতে মতভেদের মূল কারণ হলো, একজন বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিস দ্বারা কুরআনের ব্যাপক অর্থবোধক শব্দকে নির্দিষ্ট বা সীমিত অর্থবোধক করা যাবে কিনা তা নিয়ে মতবিরোধ। যিনি মনে করেন যাবে, তিনি এই হাদিসের আলোকে বলেন, বেশি নেয়া যাবেনা। আর যিনি মনে করেন যাবেনা, তার মতে, বেশি নেয়া জায়েয। “বিদায়াতুল মুজতাহিদ” গ্রন্থে বলা হয়েছে: “যিনি খুলার বিনিময়কে অন্য সমস্ত লেনদেনের বিনিময়ের মতোই মনে করেন, তিনি মনে করেন, বিনিময়ের পরিমাণটা দু’পক্ষের সম্মতিক্রমে স্থির হবে। আর যিনি হাদিসটিকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করেন, তার মতে একটুও বেশি নেয়া বৈধ নয়। তার দৃষ্টিতে এটা হবে অবৈধভাবে অন্যের মাল গ্রহণ।
📄 বিনা কারণে খুলা
খুলা শুধু তখনই জায়েয, যখন কোনো সংগত কারণে তার দাবি জানাবে। যেমন স্বামীর মধ্যে কোনো দৈহিক খুঁত থাকা, চারিত্রিক দোষ থাকা, স্ত্রীকে তার হক বা অধিকার না দেয়া, স্ত্রীর মনে এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হওয়া যে, সে হয়তো আল্লাহর সীমা রক্ষা করতে তথা আল্লাহর বিধান অনুসারে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারবেনা, যেমন স্বামীর সাথে যে ধরনের সদাচারের সাথে বসবাস করা তার কর্তব্য, তা পারবেনা, যেমনটি আয়াতে থেকে জানা যাচ্ছে। এ ধরনের কোনো কারণ না থাকলে খুলা নিষিদ্ধ। কেননা আহমদ ও নাসায়ী আবূ হুরায়রা থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন: “কত্রিমভাবে খুলা গ্রহণকারী মহিলারা মুনাফিক।” আলেমগণ বিনা কারণে খুলা গ্রহণ করাকে মাকরূহ বলেছেন।
📄 স্বামী স্ত্রীর সম্মতিক্রমে খুলা
স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের সম্মতিতেই খুলা হওয়া উচিত। কিন্তু স্বামী সম্মত না হলে আদালত তাকে বাধ্য করতে পারবে। কেননা সাবেত ও তার স্ত্রী যখন রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে তাদের বিরোধ মিমাংসার জন্য গিয়েছিলেন, তখন রসূল সা. সাবেতকে বাগান গ্রহণপূর্বক তালাক দিতে বাধ্য করেছিলেন।
📄 খুলাতে স্ত্রীর বিক্ষুব্ধ হওয়াই যথেষ্ট
শওকানি বলেছেন: খুলা সম্পর্কে যে সকল হাদিস রয়েছে, তা থেকে সামগ্রিকভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, শুধুমাত্র স্ত্রীর বিক্ষোভ ও অসন্তোষ খুলার জন্য যথেষ্ট। ইবনুল মুনযিরের মতে, উভয়ের ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছাড়া খুলা জায়েয হবেনা। তিনি আয়াতের প্রকাশ্য ও আক্ষরিক অর্থই গ্রহণ করেছেন। তাউস, শাবি ও তাবেয়িদের একটি দল এই মতের সমর্থক। তাবারী প্রমুখসহ তাবেয়িদের আরেকটি দল এর জবাবে বলেন: আয়াতের তাৎপর্য হলো, স্ত্রী যখন স্বামীর অধিকার দেয়না, তখন সেটা তার প্রতি স্বামীর বিক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ কারণে বিক্ষোভটিকে স্ত্রীর বিক্ষোভ বলে উল্লেখ করা হয়। সাবেতের স্ত্রী যখন স্বামীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলো, তখন স্ত্রীর প্রতি সাবেতের কোনো ক্ষোভ আছে কিনা, এ কথা রসূল সা.-এর জিজ্ঞাসা না করা থেকে প্রতীয়মান হয়, স্বামীর ক্ষোভ এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নয়।