📄 স্বামীর বন্দী থাকার কারণে তালাক দেয়া
স্বামীর বন্দী থাকার কারণে তালাক দেয়া:
ইমাম মালেক ও আহমদের মতে, স্বামীর গ্রেফতার ও বন্দী থাকার কারণে স্ত্রীর তালাক প্রার্থনার অধিকার রয়েছে। কেননা তার কাছ থেকে স্বামীর দূরে থাকার ফলে তার ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে। তিন বছর বা তার চেয়ে বেশি দিনের জন্য কারাদণ্ড চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হলে, তা স্বামীর উপর কার্যকর হলে এবং কার্যকর হওয়ার দিন থেকে এক বছর অতিবাহিত হলে স্ত্রীর তালাক প্রার্থনা করে আদালতে আবেদন করার অধিকার থাকবে। কেননা সে স্বামীর কাছ থেকে দূরে থাকার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এটা প্রমাণিত হবার পর আদালত স্ত্রীকে একটি তালাক দেবে। এটি ইমাম মালেকের নিকট বায়েন তালাক এবং আহমদের নিকট বিচ্ছেদ। ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: বন্দী বা অনুরূপ এমন কোনো ব্যক্তির স্ত্রী, যার স্বামীর কাছ থেকে উপকৃত হবার কোনোই সুযোগ নেই এবং নিরুদ্দেশ ব্যক্তির স্ত্রীর বিধান সর্বসম্মতভাবে একই রকম। আইনের ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে: "স্বামী যখন গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই এক বছর বা তার চেয়ে বেশি অনুপস্থিত থাকে, এবং স্ত্রী তার কাছ থেকে দূরে থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন স্বামীর সম্পত্তি থেকে খোরপোষ গ্রহণের সুযোগ স্ত্রীর যতোই থাকুক, তার আদালতে একটি বায়েন তালাক প্রার্থনা করার অধিকার থাকবে।
ধারা ১৩: নিরুদ্দেশ স্বামীর কাছে চিঠি পৌঁছার সম্ভাবনা থাকলে আদালত তাকে একটা সময় বেঁধে দিয়ে নোটিশ দেবে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সাথে থাকার জন্য উপস্থিত না হলে বা তাকে নিজের কাছে নিয়ে না গেলে বা তালাক না দিলে আদালত স্বয়ং তার স্ত্রীর উপর তালাক কার্যকর করবে। বেঁধে দেয়া মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও স্বামী এর কোনো একটি কাজও না করলে এবং সেজন্য কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ না দর্শালে আদালত একটি বায়েন তালাক কার্যকর করে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবে। আর নিরুদ্দেশ স্বামীর কাছে চিঠি পৌঁছানো সম্ভব না হলে আদালত কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের অবকাশ প্রদান ও নোটিশ প্রদান ছাড়াই স্ত্রীকে তালাক দেবে।
ধারা ১৪ : চূড়ান্তভাবে তিন বছর বা তার বেশি সময়ের কারাদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির স্ত্রী স্বামীর কারাভোগ শুরু হওয়া থেকে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর নিজের ক্ষতির প্রতিকারার্থে আদালতের নিকট বায়েন তালাক প্রার্থনাপূর্বক আবেদন পেশ করতে পারবে। চাই স্বামীর সম্পত্তি থেকে খোরপোষ গ্রহণের সুযোগ তার থাক বা না থাক। স্বামীর মধ্যে অন্য কোনো দোষ বা খুঁত থাকলে সে সম্পর্কে শরিয়তের বিধান ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।