📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে তালাক

📄 স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে তালাক


স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে তালাক :
ইমাম মালেক ও আহমদের মতে স্ত্রীর ক্ষতির প্রতিকারের উদ্দেশ্যে স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির জন্য তালাক কার্যকর করা যাবে। স্বামীর যদি এমন কোনো সম্পত্তিও স্ত্রীর নাগালে থাকে যা থেকে সে খোরপোষ নিতে পারে, তথাপি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে স্ত্রী স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে বিচ্ছেদের দাবি জানাতে পারবে। বিচ্ছেদ সংঘটিত হলে মালেকের মতে, তা হবে একটি বায়েন তালাক। আহমদের মতে, তা হবে বিয়ে বিচ্ছেদ।

শর্তাবলী: ১. স্বামীর অনুপস্থিতির যদি কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ না থাকে। ২. তার অনুপস্থিতির দরুন যদি স্ত্রীর ক্ষতি হয়। ৩. যে শহরে স্ত্রী বাস করে, স্বামী যদি তা থেকে ভিন্ন শহরে অবস্থান করে। ৪. স্বামীর অনুপস্থিতি যদি এক চন্দ্রবর্ষ প্রলম্বিত হয়, যাতে স্ত্রীর ক্ষতি প্রমাণিত হয়।

যদি গ্রহণযোগ্য কারণে স্বামী অনুপস্থিত থাকে, যথা বিদ্যা অর্জনের উদ্দেশ্যে অনুপস্থিত থাকা, অথবা বাণিজ্য উপলক্ষে অথবা চাকুরি উপলক্ষে, তাহলে এক্ষেত্রে বিচ্ছেদ দাবি করা বৈধ হবেনা। অনুরূপ, স্ত্রী যে শহরে বাস করে, স্বামীও যদি সেই শহরেই থাকে, তবে সে ক্ষেত্রেও বিচ্ছেদ দাবি করা জায়েয হবেনা। পক্ষান্তরে স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ছাড়াও স্ত্রীর কাছ থেকে নাতিদীর্ঘ সময় দূরে অবস্থানের কারণেও যদি স্ত্রীর ক্ষতি হয়, তবে সে ক্ষেত্রেও স্ত্রীর বিচ্ছেদ দাবি করার অধিকার থাকবে। অনুপস্থিতির মেয়াদ এক চন্দ্রবর্ষ পরিমাণ দীর্ঘ হওয়া জরুরি, যাতে স্ত্রীর ক্ষতি অনিবার্য হয়ে ওঠে, সে ভীতিপ্রদ নির্জনতা ও নিঃসঙ্গতা অনুভব করে এবং আল্লাহ যেসব জিনিস নিষিদ্ধ ও হারাম করেছেন, তার কোনোটায় পতিত হবার আশংকা বোধ করে। এক চন্দ্রবর্ষকে অনুপস্থিতির মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন ইমাম মালেক। অন্যদের মতে, তিন মাস। আহমদের মতে, বিচ্ছেদ দাবি করার উপযুক্ত ন্যূনতম মেয়াদ ছয় মাস। কেননা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে এবং উমরের অনুসন্ধান ও উম্মুল মুমিনীন হাফসার ফতোয়া থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর ধৈর্য ধারণের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ছয় মাস।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামীর বন্দী থাকার কারণে তালাক দেয়া

📄 স্বামীর বন্দী থাকার কারণে তালাক দেয়া


স্বামীর বন্দী থাকার কারণে তালাক দেয়া:
ইমাম মালেক ও আহমদের মতে, স্বামীর গ্রেফতার ও বন্দী থাকার কারণে স্ত্রীর তালাক প্রার্থনার অধিকার রয়েছে। কেননা তার কাছ থেকে স্বামীর দূরে থাকার ফলে তার ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে। তিন বছর বা তার চেয়ে বেশি দিনের জন্য কারাদণ্ড চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হলে, তা স্বামীর উপর কার্যকর হলে এবং কার্যকর হওয়ার দিন থেকে এক বছর অতিবাহিত হলে স্ত্রীর তালাক প্রার্থনা করে আদালতে আবেদন করার অধিকার থাকবে। কেননা সে স্বামীর কাছ থেকে দূরে থাকার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এটা প্রমাণিত হবার পর আদালত স্ত্রীকে একটি তালাক দেবে। এটি ইমাম মালেকের নিকট বায়েন তালাক এবং আহমদের নিকট বিচ্ছেদ। ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: বন্দী বা অনুরূপ এমন কোনো ব্যক্তির স্ত্রী, যার স্বামীর কাছ থেকে উপকৃত হবার কোনোই সুযোগ নেই এবং নিরুদ্দেশ ব্যক্তির স্ত্রীর বিধান সর্বসম্মতভাবে একই রকম। আইনের ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে: "স্বামী যখন গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই এক বছর বা তার চেয়ে বেশি অনুপস্থিত থাকে, এবং স্ত্রী তার কাছ থেকে দূরে থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন স্বামীর সম্পত্তি থেকে খোরপোষ গ্রহণের সুযোগ স্ত্রীর যতোই থাকুক, তার আদালতে একটি বায়েন তালাক প্রার্থনা করার অধিকার থাকবে।

ধারা ১৩: নিরুদ্দেশ স্বামীর কাছে চিঠি পৌঁছার সম্ভাবনা থাকলে আদালত তাকে একটা সময় বেঁধে দিয়ে নোটিশ দেবে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সাথে থাকার জন্য উপস্থিত না হলে বা তাকে নিজের কাছে নিয়ে না গেলে বা তালাক না দিলে আদালত স্বয়ং তার স্ত্রীর উপর তালাক কার্যকর করবে। বেঁধে দেয়া মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও স্বামী এর কোনো একটি কাজও না করলে এবং সেজন্য কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ না দর্শালে আদালত একটি বায়েন তালাক কার্যকর করে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবে। আর নিরুদ্দেশ স্বামীর কাছে চিঠি পৌঁছানো সম্ভব না হলে আদালত কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের অবকাশ প্রদান ও নোটিশ প্রদান ছাড়াই স্ত্রীকে তালাক দেবে।

ধারা ১৪ : চূড়ান্তভাবে তিন বছর বা তার বেশি সময়ের কারাদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির স্ত্রী স্বামীর কারাভোগ শুরু হওয়া থেকে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর নিজের ক্ষতির প্রতিকারার্থে আদালতের নিকট বায়েন তালাক প্রার্থনাপূর্বক আবেদন পেশ করতে পারবে। চাই স্বামীর সম্পত্তি থেকে খোরপোষ গ্রহণের সুযোগ তার থাক বা না থাক। স্বামীর মধ্যে অন্য কোনো দোষ বা খুঁত থাকলে সে সম্পর্কে শরিয়তের বিধান ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00