📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে

📄 যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে


যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে:
১৯২০ ও ১৯২৯ সালের মিশরীয় আইনে সেসব পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে, যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে। এগুলো কেবল ফকিহদের ইজতিহাদের আলোকে গৃহীত হয়েছে। কেননা কুরআন বা হাদিসে এ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। এতে জনগণের সুবিধা ও তাদেরকে জটিলতা থেকে পরিত্রাণ দানের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং ইসলামের উদার নীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা হয়েছে।

১৯২০ সালের ২৫ নং আইনে স্বামী কর্তৃক খোরপোষ না দেয়া ও স্বামীর গুরুতর খুঁতের জন্য তালাক দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতির জন্য, বিনা ওজরে স্বামীর অনির্দিষ্টকাল অনুপস্থিতির জন্য এবং তার বন্দীদশার জন্য তালাকের বিধান রাখা হয়েছে ১৯২৯ সারের ২৫ নং আইনে। নিম্নে এ আইনের কয়েকটি জরুরি বিধি উল্লেখ করা যাচ্ছে:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খোরপোষ না দেয়ার কারণে তালাক দেয়া

📄 খোরপোষ না দেয়ার কারণে তালাক দেয়া


খোরপোষ না দেয়ার কারণে তালাক দেয়া:
স্বামী যখন স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেয় না এবং তার কোনো জ্ঞাত সম্পত্তিও নেই, তখন স্ত্রী দাবি জানালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো জায়েয বলে মত দিয়েছেন মালেক, শাফেয়ি ও আহমদ। [ভরণপোষণ দ্বারা অত্যাবশ্যকীয় ও ন্যূনতম মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী বুঝায়, যেমন খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান। ভরণপোষণ না দেয়ার অর্থ বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভরণপোষণ। অতীত কালে ভরণপোষণ না দেয়া হয়ে থাকলে সেজন্য বিচ্ছেদ দাবি করা যায়না এবং এজন্য স্ত্রীর দাবি মানা যাবেনা। তবে অতীতের না দেয়া ভরণপোষণ স্বামীর ঘাড়ে ঋণ হিসেবে থাকবে এবং সে অভাবী হলে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দিতে হবে। আর স্বামীর কোনো সম্মত্তি থাকলে স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে ঐ সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ আদায় করা হবে]

মালেক, শাফেয়ি ও আহমদের মতের স্বপক্ষে প্রমাণ নিম্নরূপ: স্বামীকে শরিয়ত আদেশ দিয়েছে যেন স্ত্রীকে হয় ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখবে, নচেত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিদায় করবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, হয় ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখতে হবে, নচেত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিদায় করে দিতে হবে। খোরপোষ না দেয়া যে ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখার পরিপন্থি, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আল্লাহ বলেছেন: وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ مِرَارًا لِتَعْتَدُوا . "তাদের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে তাদের রেখে দিওনা যাতে তাদের উপর বাড়াবাড়ি করতে পারো।” আর রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "কারো ক্ষতিও করা চলবেনা, নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া চলবেনা।” একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, স্ত্রীকে খোরপোষ না দেয়ার চেয়েও বড় যুলুম ও ক্ষতি সাধন আর কিছু হতে পারেনা। এই ক্ষতি ও যুলুম দূর করা আদালতের কর্তব্য। এটা যখন সর্ববাদী সম্মত, স্বামীর মধ্যে কোনো গুরুতর খুঁত থাকলে সেজন্য স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কচ্ছেদ করা আদালতের দায়িত্ব, তখন স্ত্রীকে খোরপোষ না দেয়া স্বামীর অন্য যে কোনো দোষত্রুটির চেয়ে খোরপোষ না দেয়ার কারণে বিচ্ছেদ ঘটানো অধিকতর ন্যায়সংগত।

হানাফিদের মতে, খোপোষ না দেয়ার কারণে স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানো জায়েয নয়, চাই শুধু না দেয়াটাই এর কারণ হোক অথবা অভাব ও অক্ষমতা। তাদের প্রমাণ لِيُنْفِقْ ذُوْسَعَةٍ مِّنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ ، لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا ، سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا . অর্থ: সচ্ছল ব্যক্তির কর্তব্য তার সচ্ছলতা অনুপাতের খোরপোষ দেয়া। আর যে ব্যক্তি জীবিকার অনটনে রয়েছে, তার আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন, তা থেকেই খোরপোষ দেয়া উচিত। আল্লাহ কাউেেক এমন কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেননা, যার সামর্থ্য আল্লাহ তাকে দেননি। আল্লাহ অচিরেই কষ্টের পর সুখ দেবেন। (সূরা তালাক: আয়াত ৭)

স্ত্রীকে খোরপোষ দিতে অক্ষম এক ব্যক্তি সম্পর্কে ইমাম যুহরিকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে কি? তিনি বলেছেন, স্বামীর ব্যাপারে ধীরে চলার নীতি অবলম্বন করা হবে, সম্পর্ক ছিন্ন করা হবেনা। অতপর উপরোক্ত আয়াত পাঠ করলেন।

২. সাহাবিদের মধ্যে অভাবী ও সচ্ছল উভয় প্রকারের লোক ছিলেন। অভাবের দরুন খোরপোষ না দিতে পারার কারণে রসূল সা. তাদের কারো দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন বলে জানা যায়না।

৩. রসূল সা.-এর স্ত্রীগণ তার কাছে এমন জিনিস চেয়েছিলেন, যা তার কাছে ছিলনা। এজন্য তিনি একমাস তাদের কাছ থেকে দূরে থেকে তাদেরকে শাস্তি দেন। স্বামীর কাছে যা নেই বা যা দেয়ার ক্ষমতা নেই, তা চাওয়া যখন শাস্তিযোগ্য, তখন অভাবের কারণে বিচ্ছেদ দাবি করা অবশ্যই যুলুম বিবেচিত হবে এবং এ দাবির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করারই প্রয়োজন নেই।

তারা আরো বলেছেন: খোরপোষ দেয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও না দেয়া যখন যুলুম, তখন এই যুলুমের প্রতিকারের উপায় হলো, খোরপোষ আদায় করার জন্য তার সম্পত্তি বিক্রি করা অথবা খোরপোষ দিতে বাদ্য করার জন্য তাকে বন্দী করা। অন্যান্য উপায় থাকা সত্ত্বেও সম্পর্কচ্ছেদ ঘটানোকে একমাত্র উপায় হিসেবে গ্রহণ করার কোনো বৈধতা নেই। সুতরাং আদালত এ কারণে তাদের বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করবেনা। কেননা দাম্পত্য বন্ধন ছিন্ন করা হালাল হলেও স্বামীর চাইতে স্বয়ং আল্লাহর নিকট অধিকতর অপ্রিয় বস্তু। এমতাবস্থায় এটাই যখন যুলুম প্রতিকারের একমাত্র উপায় নয়, তখন আদালত কিভাবে এর আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে? এ অবস্থা তখন প্রযোজ্য। যখন স্বামী খোরপোষ দেয়ার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু এ সামর্থ্য যার নেই, তার পক্ষ হতে কোনো যুলুম হয়নি। কারণ আল্লাহ কোনো মানুষের উপর শুধু সেই দায়িত্বই অর্পণ করেন, যা বহনের সামর্থ্য তাকে তিনি দিয়েছেন। অপরদিকে ১৯২০ সালের আইনের ৪নং ধারায় বলা হয়েছে: “স্বামী যখন স্ত্রীর খোরপোষ দেয়া থেকে বিরত থাকে, তখন তার কোনো জ্ঞাত সম্পত্তি থাকলে তা থেকে খোরপোষ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জ্ঞাত সম্পত্তি না থাকলে এবং সে সচ্ছল না অসচ্ছল তাও ব্যক্ত না করে কেবল খোরপোশ না দেয়ার ব্যাপারে অনড় থাকলে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে স্বামীর উপর তালাক কার্যকর করবে। আর যদি সে নিজের অসামর্থ্য দাবি করে এবং তা প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বামীর উপর তালাক কার্যকর করবে। আর যদি প্রমাণ করতে পারে তবে তাকে সর্বোচ্চ একমাস সময় দেবে। এক মাসের মধ্যেও খোরপোষ না দিলে তারপরে তালাক কার্যকর করবে।”

ধারা ৫: “স্বামী যখন নিকটেই কোথাও প্রবাসী হয়, তখন তার কোনো জ্ঞাত সম্পত্তি থেকে থাকলে আদালত তা থেকে খোরপোষ আদায়ের আদেশ জারি ও কার্যকর করবে। আর যদি জ্ঞাত কোনো সম্পত্তি না থাকে, তবে আদালত ন্যায়সংগতভাবে তার ওযর আপত্তি বিবেচনা করবে এবং তাকে একটা মেয়াদ বেঁধে দেবে। এই মেয়াদের মধ্যে যদি সে স্ত্রীর খোরপোষ না পাঠায়, অথবা খোরপোষের ব্যবস্থা করতে নিজে উপস্থিত না হয়, তাহলে আদালত নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তার উপর তালাক কার্যকর করবে। আর যদি সে এমন সুদূরের প্রবাসী হয়, যেখানে তার নাগাল পাওয়া দুষ্কর, অথবা তার থাকার জায়গা অজ্ঞাত অথবা সে একেবারেই নিরুদ্দেশ হয়, এবং প্রমাণিত হয় যে, তার এমন কোনো সম্পত্তি নেই, যা থেকে স্ত্রী নিজের খোরপোষ গ্রহণ করতে পারে, তাহলে আদালত তার উপর তালাক কার্যকর করবে। খোরপোষ দিতে অসমর্থ কারাবন্দীর উপরও এই ধারা প্রযোজ্য হবে।

ধারা ৬: খোরপোষ না দেয়ার কারণে আদালত কর্তৃক যে তালাক দেয়া হয় তা রজয়ি তালাক। ইদ্দতের মধ্যে যদি সে সচ্ছল হয়েছে প্রমাণিত হয় এবং খোরপোষ দিতে প্রস্তুত হয়, তাহলে সে তালাক প্রত্যাহার করতে পারবে। সচ্ছলতা প্রমাণিত নাহলে ও খোরপোষ দিতে প্রস্তুত না হলে তালাক প্রত্যাহার বৈধ হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ক্ষতি ও নির্যাতনের কারণে তালাক

📄 ক্ষতি ও নির্যাতনের কারণে তালাক


ক্ষতি ও নির্যাতনের কারণে তালাক:
ইমাম মালেক ও আহমদের মতে, স্ত্রী যদি অভিযোগ করে যে স্বামী তার উপর এমন নির্যাতন চালাচ্ছে, যার বর্তমানে তাদের উভয়ের দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যেমন মারপিট, গালিগালাজ কিংবা অন্য কোনো পন্থায় কোনো অসহনীয় নিপীড়ন কিংবা তাকে অন্যায় ও অনৈতিক কাজ করতে বা কথা বলতে বাধ্য করা, তাহলে এই অভিযোগের প্রতিকারের জন্য স্ত্রী বিচ্ছেদ প্রার্থনা করতে পারে। এই অভিযোগ যখন স্ত্রীর সাক্ষ্য প্রমাণ বা স্বামীর স্বীকারোক্তি দ্বারা সত্য প্রমাণিত হয় এবং নিপীড়ন এই পর্যায়ের হয় যে, তার বর্তমানে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অসম্ভব এবং আদালত তাদের উভয়ের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করতে অক্ষম হয়, তাহলে স্ত্রীর উপর একটা বায়েন তালাক কার্যকর করবে। আর যদি স্ত্রী প্রমাণ উপস্থাপনে অক্ষম হয় কিংবা স্বামী স্বীকারোক্তি না দেয়, তাহলে আদালত তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু যদি স্ত্রী বারবার অভিযোগ আনতে থাকে, বিচ্ছেদ প্রার্থনা করে এবং তার অভিযোগের সত্যতা আদালতের নিকট প্রমাণিত না হয়, তাহলে আদালত এমন দু'জন ন্যায়পরায়ন পুরুষকে সালিশ নিয়োগ করবে, যাদের ঐ দম্পতি সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তাদেরকে শুধরানোর ক্ষমতাও রয়েছে। সালিশদ্বয়কে যদি দম্পতির পরিবারের মধ্য থেকে যোগাড় করা সম্ভব হয়, তাহলে ভালো হয়। নচেত যেখান থেকেই পাওয়া যায় নিতে হবে। এই দুই সালিশের কর্তব্য হলো, দম্পতির মতবিরোধের কারণ সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং সাধ্যমত তাদেরকে শুধরে দেয়া। তারা দু'জন যদি দম্পতিকে শুধরাতে অক্ষম হয়, আর সম্পর্কের অবনতির জন্য যদি স্বামী স্ত্রী উভয়ে অথবা স্বামী দায়ী হয়। অথবা কে দায়ী তা স্পষ্ট না হয়, তখন সালিশদ্বয় একটা বায়েন তালাকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেবে। আর যদি স্ত্রী দায়ী হয়, তাহলে তালাকের মাধ্যমে নয় বরং 'খুলা'র মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে।

আবু হানিফা, আহমদ ও শাফেয়ির মতে, স্বামী তালাকের ক্ষমতা অর্পণ না করলে সালিশদ্বয়ের তালাক দেয়ার অধিকার নেই। শাফেয়ি ও মালেকের মতে কোনো বিনিময় দ্বারা বা বিনিময় ছাড়া যদি বিবাদ মেটানো তারা উভয়ে সমীচীন মনে করে, তবে তা করতে পারবে। আর 'খুলা' করানো সমীচীন মনে করলে তা করাতে পারবে। আর স্বামীর পক্ষ থেকে আগত সালিশ যদি তালাক সমীচীন মনে করে, তবে তালাক দেবে। এ ব্যাপারে স্বামীর অনুমতি নিতে তারা বাধ্য নয়। কেননা তারা সালিশ, উকিল নয়। উকিল হলে এ ক্ষমতা তাদের থাকবেনা।

আর যদি সালিশদ্বয় কোনো বিষয়ে একমত না হয়, তবে আদালত তাদের দু'জনকে নতুন করে তদন্ত ও অনুসন্ধান চালানোর আদেশ দেবে। তারপরও যদি তারা একমত হতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত তাদেরকে অপসারণ করে নতুন করে দু'জন সালিশ নিয়োগ করবে। সালিশদ্বয়ের কর্তব্য নিজ নিজ অভিমত আদালতের নিকট উপস্থাপন করা। আর তাদের রায় কার্যকর করা আদালতের কর্তব্য। কেননা আল্লাহ বলেছেন:

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا ، إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا .

"যদি তোমরা তাদের সম্পর্কচ্ছেদের আশংকা করো, তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ পাঠাও। স্বামী ও স্ত্রী যদি সংশোধন চায় তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে আপোষ করিয়ে দেবেন।" (আননিসা, ৩৫) আল্লাহ আরো বলেছেন: فَإِمْسَاكَ بِمَعْرُوفِ أَوْ تَسْرِيع بِإِحْسَانٍ . "হয় সংগতভাবে পুনর্বহাল করতে হবে, নচেত সৌহার্দপূর্ণভাবে বিদায় করতে হবে।" যেহেতু পুনর্বহালের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাই সৌহার্দপূর্ণভাবে বিদায় করার পথটাই খোলা রয়েছে। রসূল সা. বলেছেন : لَاضَرَرَ وَلَاضِرَارَ "কেউ নিজেও ক্ষতির শিকার হবেনা, অন্যের ক্ষতিসাধনও করবেনা।"

১৯২৯ সালের ২৫ নং আইনে বলা হয়েছে
ধারা ৬: স্ত্রী যখন অভিযোগ করে যে, স্বামী তার ওপর এত নির্যাতন চালায়, যার কারণে উভয়ের সহাবস্থান সম্ভব নয়, তখন সে আদালতের কাছ থেকে বিয়ে বিচ্ছেদ প্রার্থনা করতে পারে। নির্যাতন প্রমাণিত হলে ও আপোষ করতে ব্যর্থ হলে আদালত স্ত্রীকে একটা বায়েন তালাক দেবে। আদালত যদি স্ত্রীর প্রার্থনা অগ্রাহ্য করে, তারপর অভিযোগ পুনঃ পুনঃ আসতে থাকে এবং নির্যাতন প্রমাণিত না হয়, তবে আদালত দু'জন সালিশ পাঠাবে এবং ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১১ ধারা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবে।

ধারা ৭: সালিশ নিয়োগে শর্ত এই যে, তারা উভয়ে দু'জন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ হবে, সম্ভব হলে দুই পরিবার থেকে দুইজন হবে, নচেত পরিবারের বাইরে থেকে হবে এবং ঐ দম্পতি সম্পর্কে আগে থেকে জ্ঞাত ও তাদের শুধরাতে সক্ষম হতে হবে।

ধারা ৮: সালিশদ্বয়ের দায়িত্ব হলো, স্বামী স্ত্রীর বিরোধের কারণ অবহিত হবে এবং তা নিষ্পত্তিকরণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। কোনো নির্দিষ্ট পন্থায় সম্ভব হলে নিষ্পত্তি করবে।

ধারা ৯: উভয় সালিশ বিরোধ নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হলে এবং স্বামী বা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে এজন্য দায়ী হলে অথবা প্রকৃত অবস্থা অজানা থেকে গেলে তারা একটা বায়েন তালাক দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটাবে।

ধারা ১০ : সালিশদ্বয়ের মধ্যে যখন মতভেদ সৃষ্টি হবে, তখন আদালত তাদেরকে পুনরায় তদন্ত চালানোর আদেশ দেবে। এরপরও যদি মতভেদ অব্যাহত থাকে, তবে তাদের বাদ দিয়ে অন্য দু'জনকে সালিশ নিয়োগ করবে।

ধারা ১১: সালিশদ্বয় যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তা হুবহু আদালতে উপস্থাপন করবে এবং আদালত তদনুযায়ী রায় দেবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে তালাক

📄 স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে তালাক


স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে তালাক :
ইমাম মালেক ও আহমদের মতে স্ত্রীর ক্ষতির প্রতিকারের উদ্দেশ্যে স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির জন্য তালাক কার্যকর করা যাবে। স্বামীর যদি এমন কোনো সম্পত্তিও স্ত্রীর নাগালে থাকে যা থেকে সে খোরপোষ নিতে পারে, তথাপি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে স্ত্রী স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে বিচ্ছেদের দাবি জানাতে পারবে। বিচ্ছেদ সংঘটিত হলে মালেকের মতে, তা হবে একটি বায়েন তালাক। আহমদের মতে, তা হবে বিয়ে বিচ্ছেদ।

শর্তাবলী: ১. স্বামীর অনুপস্থিতির যদি কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ না থাকে। ২. তার অনুপস্থিতির দরুন যদি স্ত্রীর ক্ষতি হয়। ৩. যে শহরে স্ত্রী বাস করে, স্বামী যদি তা থেকে ভিন্ন শহরে অবস্থান করে। ৪. স্বামীর অনুপস্থিতি যদি এক চন্দ্রবর্ষ প্রলম্বিত হয়, যাতে স্ত্রীর ক্ষতি প্রমাণিত হয়।

যদি গ্রহণযোগ্য কারণে স্বামী অনুপস্থিত থাকে, যথা বিদ্যা অর্জনের উদ্দেশ্যে অনুপস্থিত থাকা, অথবা বাণিজ্য উপলক্ষে অথবা চাকুরি উপলক্ষে, তাহলে এক্ষেত্রে বিচ্ছেদ দাবি করা বৈধ হবেনা। অনুরূপ, স্ত্রী যে শহরে বাস করে, স্বামীও যদি সেই শহরেই থাকে, তবে সে ক্ষেত্রেও বিচ্ছেদ দাবি করা জায়েয হবেনা। পক্ষান্তরে স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ছাড়াও স্ত্রীর কাছ থেকে নাতিদীর্ঘ সময় দূরে অবস্থানের কারণেও যদি স্ত্রীর ক্ষতি হয়, তবে সে ক্ষেত্রেও স্ত্রীর বিচ্ছেদ দাবি করার অধিকার থাকবে। অনুপস্থিতির মেয়াদ এক চন্দ্রবর্ষ পরিমাণ দীর্ঘ হওয়া জরুরি, যাতে স্ত্রীর ক্ষতি অনিবার্য হয়ে ওঠে, সে ভীতিপ্রদ নির্জনতা ও নিঃসঙ্গতা অনুভব করে এবং আল্লাহ যেসব জিনিস নিষিদ্ধ ও হারাম করেছেন, তার কোনোটায় পতিত হবার আশংকা বোধ করে। এক চন্দ্রবর্ষকে অনুপস্থিতির মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন ইমাম মালেক। অন্যদের মতে, তিন মাস। আহমদের মতে, বিচ্ছেদ দাবি করার উপযুক্ত ন্যূনতম মেয়াদ ছয় মাস। কেননা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে এবং উমরের অনুসন্ধান ও উম্মুল মুমিনীন হাফসার ফতোয়া থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর ধৈর্য ধারণের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ছয় মাস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00