📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তালাকের ক্ষমতা অর্पणे শর্তহীন ও শর্তযুক্ত ভাষা ব্যবহার

📄 তালাকের ক্ষমতা অর্पणे শর্তহীন ও শর্তযুক্ত ভাষা ব্যবহার


তালাকের ক্ষমতা অর্पणे শর্তহীন ও শর্তযুক্ত ভাষা ব্যবহার:
এ সকল ভাষা কখনো শর্তহীন হয়। যেমন স্ত্রীকে বাড়তি কোনো কিছু উল্লেখ না করেই শুধু তালাকের ক্ষমতা দেয়া অথবা স্ত্রীর নিজেকে স্বাধীন ক্ষমতাসম্পন্না বলে গ্রহণ করা। এরূপ পরিস্থিতিতে স্ত্রী শুধু তাৎক্ষণিকভাবে ও ক্ষমতা অর্পণের বৈঠকেই নিজেকে তালাক দিতে পারবেন, যদি সে সেখানে উপস্থিত থাকে। আর যদি উপস্থিত না থাকে, তবে যে বৈঠকে বসে জানতে পারবে যে তাকে তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, শুধু সেই বৈঠকেই তালাক দিতে পারবে। ক্ষমতা অর্পণের বৈঠক অথবা ক্ষমতা অর্পণের কথা জানতে পারার বৈঠক যদি তালাক প্রয়োগ ছাড়াই শেষ হয়ে যায় বা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তাহলে এরপর আর তার এই অধিকার থাকবেনা। কেননা ক্ষমতা অর্পণের ভাষাটা ছিলো শর্তহীন, তাই তা সংশ্লিষ্ট বৈঠককে ঘিরেই আবর্তিত হবে। বৈঠক না থাকলে ক্ষমতা থাকবেনা। এই বিধি সেই অবস্থায় প্রযোজ্য, যখন ক্ষমতা অর্পণের ভাষা শর্তহীন ছিলো একথা জানার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময় যদি ক্ষমতা অর্পিত হয়ে থাকে, তাহলে এরূপ হবে। কেননা ক্ষমতা অর্পণকারী বিয়েরে মজলিসেই স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেবে, এটা বোধগম্য নয়। কাজেই এক্ষেত্রে কোনো শাব্দিক প্রমাণ দ্বারা নয়, বরং পরিবেশগত প্রমাণ দ্বারাই বুঝা যায় যে, ক্ষমতা অর্পণের ভাষাটা ছিলো শর্তহীন।

কোনো কোনো মিশরীয় নিম্ন আদালত থেকে এই মর্মে রায় দেয়া হয়েছে যে, বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময়ই যদি শর্তহীনভাবে তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়, তবে তা বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা। স্ত্রী যখন খুশি নিজেকে তালাক দিতে পারবে। নচেত ক্ষমতা অর্পণের কোনো সার্থকতা থাকবেনা। আপিল দ্বারাও এ রায় সমর্থিত হয়েছে। এই ভাষা কখনো কখনো শর্তহীন হয়ে থাকে। যেমন স্বামী স্ত্রীকে বলবে, "তুমি যখন খুশি নিজেকে স্বাধীন বলে গ্রহণ করতে পারো" অথবা "তুমি যখন চাও তালাক দেয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারো।" এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী যখন চাইবে, নিজেকে তালাক দিতে পারবে। কেননা সে স্ত্রীকে শর্তহীনভাবে তালাকের ক্ষমতা দিয়েছে। তাই সে এ ক্ষমতা যে কোনো সময় ব্যবহার করে নিজেকে তালাক দিতে পারবে। আবার কখনো তালাকের ক্ষমতা অর্পণের ভাষা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত হতে পারে। যেমন স্ত্রীকে এক বছরের মধ্যে নিজেকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা দেয় হলো। এরূপ ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই সে নিজেকে তালাক দিতে পারবে। এই মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পর স্ত্রীর নিজেকে তালাক দেয়ার কোনো ক্ষমতা থাকবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সময় ও তার পরে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ

📄 যে সময় ও তার পরে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ


যে সময় ও তার পরে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ:
বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময়ও স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়া যায় পরেও দেয়া যায়। তবে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী আকদের সময়ে ক্ষমতা অর্পনের শর্ত হলো, স্ত্রীকেই এর উদ্যোক্তা হতে হবে। যেমন স্ত্রী স্বামীকে বলবে, আমি তোমাকে বিয়ে করেছি এই শর্তে যে, আমার হাতে ক্ষমতা থাকবে, যখন চাইবে তালাক নিয়ে নেব। আর এর জবাবে স্বামী বলবে, আমি মেনে নিলাম। এই মেনে নেয়া দ্বারাই বিয়ের আকদ সম্পন্ন হবে, তালাক শুদ্ধ হবে এবং স্ত্রীর অধিকার থাকবে যখনই চাইবে তালাক নিতে পারবে। কেননা স্বামীর সম্মতি দান দ্বারা বিয়ে সম্পন্ন এবং বিয়ে সম্পন্ন হওয়া দ্বারা স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু যখন বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময়েই তালাকের ক্ষমতা অর্পনের উদ্যোক্তা হবে স্বামী, যেমন সে তার স্ত্রীকে বলবে, তোমাকে এই শর্তে বিয়ে করলাম যে, তোমার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তোমার হাতে থাকবে, তুমি যখনই চাইবে নিজেকে তালাক দিতে পারবে। আর এর জবাবে স্ত্রী বলবে, আমি কবুল করলাম। তখন এ দ্বারা বিয়ে সম্পন্ন হবে, কিন্তু তালাকের ক্ষমতা অর্পণ শুদ্ধ হবেনা এবং স্ত্রী নিজেকে তালাক দিতে পারবেনা। উক্ত দুই অবস্থার পার্থক্য হলো, প্রথম অবস্থায় স্বামী আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর তালাকের ক্ষমতা অর্পণে সম্মতি দিয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ালো, বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে স্বামী তালাকের অধিকারী হয়েছে, অতপর সেই অধিকার স্ত্রীকে দিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় অবস্থায় স্বামী নিজে তালাকের ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার আগে তা স্ত্রীকে অর্পন করেছে। কেননা সে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার আগে উক্ত অধিকার অর্পন করেছে। কারণ তখন পর্যন্ত কেবল ইজাব সম্পন্ন হয়েছে, কবুল সম্পন্ন হয়নি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে

📄 যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে


যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে:
১৯২০ ও ১৯২৯ সালের মিশরীয় আইনে সেসব পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে, যে সকল পরিস্থিতিতে আদালত তালাক দিতে পারে। এগুলো কেবল ফকিহদের ইজতিহাদের আলোকে গৃহীত হয়েছে। কেননা কুরআন বা হাদিসে এ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। এতে জনগণের সুবিধা ও তাদেরকে জটিলতা থেকে পরিত্রাণ দানের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং ইসলামের উদার নীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা হয়েছে।

১৯২০ সালের ২৫ নং আইনে স্বামী কর্তৃক খোরপোষ না দেয়া ও স্বামীর গুরুতর খুঁতের জন্য তালাক দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতির জন্য, বিনা ওজরে স্বামীর অনির্দিষ্টকাল অনুপস্থিতির জন্য এবং তার বন্দীদশার জন্য তালাকের বিধান রাখা হয়েছে ১৯২৯ সারের ২৫ নং আইনে। নিম্নে এ আইনের কয়েকটি জরুরি বিধি উল্লেখ করা যাচ্ছে:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খোরপোষ না দেয়ার কারণে তালাক দেয়া

📄 খোরপোষ না দেয়ার কারণে তালাক দেয়া


খোরপোষ না দেয়ার কারণে তালাক দেয়া:
স্বামী যখন স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেয় না এবং তার কোনো জ্ঞাত সম্পত্তিও নেই, তখন স্ত্রী দাবি জানালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো জায়েয বলে মত দিয়েছেন মালেক, শাফেয়ি ও আহমদ। [ভরণপোষণ দ্বারা অত্যাবশ্যকীয় ও ন্যূনতম মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী বুঝায়, যেমন খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান। ভরণপোষণ না দেয়ার অর্থ বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভরণপোষণ। অতীত কালে ভরণপোষণ না দেয়া হয়ে থাকলে সেজন্য বিচ্ছেদ দাবি করা যায়না এবং এজন্য স্ত্রীর দাবি মানা যাবেনা। তবে অতীতের না দেয়া ভরণপোষণ স্বামীর ঘাড়ে ঋণ হিসেবে থাকবে এবং সে অভাবী হলে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দিতে হবে। আর স্বামীর কোনো সম্মত্তি থাকলে স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে ঐ সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ আদায় করা হবে]

মালেক, শাফেয়ি ও আহমদের মতের স্বপক্ষে প্রমাণ নিম্নরূপ: স্বামীকে শরিয়ত আদেশ দিয়েছে যেন স্ত্রীকে হয় ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখবে, নচেত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিদায় করবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, হয় ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখতে হবে, নচেত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিদায় করে দিতে হবে। খোরপোষ না দেয়া যে ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখার পরিপন্থি, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আল্লাহ বলেছেন: وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ مِرَارًا لِتَعْتَدُوا . "তাদের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে তাদের রেখে দিওনা যাতে তাদের উপর বাড়াবাড়ি করতে পারো।” আর রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "কারো ক্ষতিও করা চলবেনা, নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া চলবেনা।” একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, স্ত্রীকে খোরপোষ না দেয়ার চেয়েও বড় যুলুম ও ক্ষতি সাধন আর কিছু হতে পারেনা। এই ক্ষতি ও যুলুম দূর করা আদালতের কর্তব্য। এটা যখন সর্ববাদী সম্মত, স্বামীর মধ্যে কোনো গুরুতর খুঁত থাকলে সেজন্য স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কচ্ছেদ করা আদালতের দায়িত্ব, তখন স্ত্রীকে খোরপোষ না দেয়া স্বামীর অন্য যে কোনো দোষত্রুটির চেয়ে খোরপোষ না দেয়ার কারণে বিচ্ছেদ ঘটানো অধিকতর ন্যায়সংগত।

হানাফিদের মতে, খোপোষ না দেয়ার কারণে স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানো জায়েয নয়, চাই শুধু না দেয়াটাই এর কারণ হোক অথবা অভাব ও অক্ষমতা। তাদের প্রমাণ لِيُنْفِقْ ذُوْسَعَةٍ مِّنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ ، لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا ، سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا . অর্থ: সচ্ছল ব্যক্তির কর্তব্য তার সচ্ছলতা অনুপাতের খোরপোষ দেয়া। আর যে ব্যক্তি জীবিকার অনটনে রয়েছে, তার আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন, তা থেকেই খোরপোষ দেয়া উচিত। আল্লাহ কাউেেক এমন কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেননা, যার সামর্থ্য আল্লাহ তাকে দেননি। আল্লাহ অচিরেই কষ্টের পর সুখ দেবেন। (সূরা তালাক: আয়াত ৭)

স্ত্রীকে খোরপোষ দিতে অক্ষম এক ব্যক্তি সম্পর্কে ইমাম যুহরিকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে কি? তিনি বলেছেন, স্বামীর ব্যাপারে ধীরে চলার নীতি অবলম্বন করা হবে, সম্পর্ক ছিন্ন করা হবেনা। অতপর উপরোক্ত আয়াত পাঠ করলেন।

২. সাহাবিদের মধ্যে অভাবী ও সচ্ছল উভয় প্রকারের লোক ছিলেন। অভাবের দরুন খোরপোষ না দিতে পারার কারণে রসূল সা. তাদের কারো দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন বলে জানা যায়না।

৩. রসূল সা.-এর স্ত্রীগণ তার কাছে এমন জিনিস চেয়েছিলেন, যা তার কাছে ছিলনা। এজন্য তিনি একমাস তাদের কাছ থেকে দূরে থেকে তাদেরকে শাস্তি দেন। স্বামীর কাছে যা নেই বা যা দেয়ার ক্ষমতা নেই, তা চাওয়া যখন শাস্তিযোগ্য, তখন অভাবের কারণে বিচ্ছেদ দাবি করা অবশ্যই যুলুম বিবেচিত হবে এবং এ দাবির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করারই প্রয়োজন নেই।

তারা আরো বলেছেন: খোরপোষ দেয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও না দেয়া যখন যুলুম, তখন এই যুলুমের প্রতিকারের উপায় হলো, খোরপোষ আদায় করার জন্য তার সম্পত্তি বিক্রি করা অথবা খোরপোষ দিতে বাদ্য করার জন্য তাকে বন্দী করা। অন্যান্য উপায় থাকা সত্ত্বেও সম্পর্কচ্ছেদ ঘটানোকে একমাত্র উপায় হিসেবে গ্রহণ করার কোনো বৈধতা নেই। সুতরাং আদালত এ কারণে তাদের বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করবেনা। কেননা দাম্পত্য বন্ধন ছিন্ন করা হালাল হলেও স্বামীর চাইতে স্বয়ং আল্লাহর নিকট অধিকতর অপ্রিয় বস্তু। এমতাবস্থায় এটাই যখন যুলুম প্রতিকারের একমাত্র উপায় নয়, তখন আদালত কিভাবে এর আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে? এ অবস্থা তখন প্রযোজ্য। যখন স্বামী খোরপোষ দেয়ার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু এ সামর্থ্য যার নেই, তার পক্ষ হতে কোনো যুলুম হয়নি। কারণ আল্লাহ কোনো মানুষের উপর শুধু সেই দায়িত্বই অর্পণ করেন, যা বহনের সামর্থ্য তাকে তিনি দিয়েছেন। অপরদিকে ১৯২০ সালের আইনের ৪নং ধারায় বলা হয়েছে: “স্বামী যখন স্ত্রীর খোরপোষ দেয়া থেকে বিরত থাকে, তখন তার কোনো জ্ঞাত সম্পত্তি থাকলে তা থেকে খোরপোষ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জ্ঞাত সম্পত্তি না থাকলে এবং সে সচ্ছল না অসচ্ছল তাও ব্যক্ত না করে কেবল খোরপোশ না দেয়ার ব্যাপারে অনড় থাকলে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে স্বামীর উপর তালাক কার্যকর করবে। আর যদি সে নিজের অসামর্থ্য দাবি করে এবং তা প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বামীর উপর তালাক কার্যকর করবে। আর যদি প্রমাণ করতে পারে তবে তাকে সর্বোচ্চ একমাস সময় দেবে। এক মাসের মধ্যেও খোরপোষ না দিলে তারপরে তালাক কার্যকর করবে।”

ধারা ৫: “স্বামী যখন নিকটেই কোথাও প্রবাসী হয়, তখন তার কোনো জ্ঞাত সম্পত্তি থেকে থাকলে আদালত তা থেকে খোরপোষ আদায়ের আদেশ জারি ও কার্যকর করবে। আর যদি জ্ঞাত কোনো সম্পত্তি না থাকে, তবে আদালত ন্যায়সংগতভাবে তার ওযর আপত্তি বিবেচনা করবে এবং তাকে একটা মেয়াদ বেঁধে দেবে। এই মেয়াদের মধ্যে যদি সে স্ত্রীর খোরপোষ না পাঠায়, অথবা খোরপোষের ব্যবস্থা করতে নিজে উপস্থিত না হয়, তাহলে আদালত নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তার উপর তালাক কার্যকর করবে। আর যদি সে এমন সুদূরের প্রবাসী হয়, যেখানে তার নাগাল পাওয়া দুষ্কর, অথবা তার থাকার জায়গা অজ্ঞাত অথবা সে একেবারেই নিরুদ্দেশ হয়, এবং প্রমাণিত হয় যে, তার এমন কোনো সম্পত্তি নেই, যা থেকে স্ত্রী নিজের খোরপোষ গ্রহণ করতে পারে, তাহলে আদালত তার উপর তালাক কার্যকর করবে। খোরপোষ দিতে অসমর্থ কারাবন্দীর উপরও এই ধারা প্রযোজ্য হবে।

ধারা ৬: খোরপোষ না দেয়ার কারণে আদালত কর্তৃক যে তালাক দেয়া হয় তা রজয়ি তালাক। ইদ্দতের মধ্যে যদি সে সচ্ছল হয়েছে প্রমাণিত হয় এবং খোরপোষ দিতে প্রস্তুত হয়, তাহলে সে তালাক প্রত্যাহার করতে পারবে। সচ্ছলতা প্রমাণিত নাহলে ও খোরপোষ দিতে প্রস্তুত না হলে তালাক প্রত্যাহার বৈধ হবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00